X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সম্মেলন

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:০৬

হায়দার মোহাম্মদ জিতু শহর-গাঁয়ে আজও দেখা যায় কোনও ব্যক্তিকে নিমন্ত্রণ না করলে সেই ব্যক্তি রাগ করে বহু লোক নিয়ে হাজির হন। উদ্দেশ্য খাবার স্বল্পতা তৈরি হয়ে অনুষ্ঠানকারীকে বিপদে ফেলা। এর বাইরে অবশ্য আরেক শ্রেণিও আছেন, যারা ব্যক্তিত্ববোধ নিয়ে নিজেদের ধরে রাখেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গণতন্ত্র সম্মেলন নিয়ে নিমন্ত্রণ না পাওয়া বাংলাদেশ এই ব্যক্তিত্ববোধের কাতারে নিজেদের ধরে রেখেছে।

যদিও এই নিমন্ত্রণ না পাওয়া বা ডাক না পাওয়ায় অনেকেই মুখে কাপড় গুঁজে কিংবা টিপে টিপে হেসেছেন, মজা করেছেন। কিন্তু তারা হয়তো এটা জানেন না ‘ঐক্যবদ্ধ মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানোর’ আহ্বানে মুক্ত গণমাধ্যমও যুক্ত, এটিও সেই কাতারে পড়ে। সে হিসেবে ইরাক-আফগানিস্তানের স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করা জুলিয়ান আসেঞ্জকে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমা করা উচিত। সেটা কি তারা করছেন বা করবেন? আবার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারে-কাছেও নেই বাংলাদেশ।

এত গেলো বর্তমানের কথা, ইতিহাস পর্যালোচনায়ও দেখা যায়, ফ্রান্সের নেপলিয়ানের হাত থেকে বাঁচতে ব্রিটেন তার জনগণের কাছ থেকে অর্থ সহায়তার আহ্বান করেন। যা দিয়ে অস্ত্র, সৈন্য সংগ্রহ ও খাদ্য জোগাবে। ধারণা করা হয় সেই থেকেই কর প্রথার আগমন। যা পরে আমেরিকা গ্রহণ করে। মজার বিষয় হলো, এই কর প্রথা নিজেদের দেশে চালু করতে আমেরিকাকে দমন, নিপীড়ন এবং হত্যাকাণ্ড চালাতে হয়েছিল। ভিন্নভাবে বললে, এক কর প্রথা চালু করতে যেখানে তাদের লেগেছিল প্রায় ৫০ বছর, সেখানে বাংলাদেশের জন্মের বয়সই ৫০।

এর মাঝে আবার জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা, স্বৈরশাসন, দুর্নীতি প্রশ্রয় গেছে। এরপরও তলাবিহীন ঝুড়ির ভবিষ্যৎবাণীকে নস্যাৎ করে দেশ যেভাবে এগিয়েছে তাতে একে টেনে ধরতে বা প্রশ্নবিদ্ধ করতে তৎপরতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া এই সামিট ফর ডেমোক্র্যাসি বা গণতন্ত্র সম্মেলন যে রাষ্ট্রীয় মোড়কে জো বাইডেনের নির্বাচনি ইশতেহার সেটাও জানা যৌক্তিক।

তাছাড়া আমন্ত্রিত দেশের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ফ্রিডম হাউজের ২০২১ ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের মানদণ্ড অনুসরণ করার কথা বললেও কাকে কোন কাতারে ডেকেছেন কিংবা কাকে বাদ দিয়েছে সেটাও পরিষ্কার নয়। কারণ, পাকিস্তান, নেপালসহ বহু অরক্ষিত গণতান্ত্রিক দেশ এখানে ডাক পেয়েছে। কাজেই এই পুরো বিষয়টি যে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির স্বার্থসম্পন্ন ফলাফল সেটা বোঝা যায়।

তবে কেউ কেউ বিষয়গুলোকে দেশের নির্বাচনি সহিংসতা দিয়ে উসকানি গল্প এঁকে ফেলেন। তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে। ঘুমন্ত বাসের যাত্রীর ওপর কেউ যদি পেট্রোলবোমা, আগুন সন্ত্রাস চালায়, তাদের মোকাবিলা করে জনগণকে রক্ষা অন্যায় হয় কী করে? তাদের দেশে কেউ যদি নির্বাচনের নামে জনগণকে হত্যা করে তবে তারা তাদের নিয়ে কী করতেন?

তবে যুক্তরাষ্ট্র যে পুরো বিষয়টিকে কৌশলগত বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাঝে সীমাবদ্ধ রেখেছে তা বুঝতে বিশদ গবেষণার প্রয়োজন নেই। বরং তাদের তালিকায় নজর দিলে এবং পারস্পরিক বাণিজ্যের খতিয়ান দেখলেই তা স্পষ্ট হয়। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের অঙ্কে আপনাকে এত দূরের সীমানায় আপ্যায়ন করবে আর কোনও ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করবে না সেটা ভাবাও নিছক ছেলেমানুষি। সে জায়গায় বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক অংশীদার অন্যান্যের তুলনায় বড়ই সামান্য।

তবে এই আমন্ত্রণহীনতার পেছনে যে দেশের উন্নয়ন বার্তা জড়িত সেটাও বহুমুখী দৃষ্টিতে অস্বীকার করার উপায় নেই। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাঙালির শান্ত সাহস শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ খাদের কিনারা থেকে উন্নয়নের মহাসড়কে পা রেখেছে। সাহায্য আহ্বানের বদলে নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। খাদ্য, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষায় এগিয়েছে। যা ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের তালিকায় স্থান করে নেওয়ায় ইঙ্গিত।

কূটনৈতিকভাবে কারও সাথে বৈরিতা নয় সবার সাথে বন্ধুত্ব এই নীতিই বাংলাদেশের পাথেয়। কাজেই এ হিসাবে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বে এটাই স্বাভাবিক। বরং অন্য কোনও পরাশক্তির প্রতিযোগিতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নিজের ঘরে টেনে নিজেদের অগ্রযাত্রা কখনোই ব্যাহত করবে না। আর এটাই বাংলাদেশের অলিখিত কমিটমেন্ট এবং আগামীর উন্নয়ন ইশতেহার।

লেখক: প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

[email protected]

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রীকে ৩ ঘণ্টা জেরা 
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রীকে ৩ ঘণ্টা জেরা 
এনআইডির বয়স সংশোধনে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
এনআইডির বয়স সংশোধনে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও র‍্যাবের হাতাহাতি, তদন্ত কমিটি গঠন
গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও র‍্যাবের হাতাহাতি, তদন্ত কমিটি গঠন
জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান ডিএনসিসির মেয়রের
জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান ডিএনসিসির মেয়রের
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ