X
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪
২১ ফাল্গুন ১৪৩০

নিজের ওপর বিনিয়োগ করবেন কীভাবে?

সাইফুল হোসেন
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৯:১১আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৯:১১

প্রত্যেক মানুষের অজন্ম লালিত স্বপ্নের মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সে ‘ওয়েলদি’ হতে চায়, ধনী হতে চায়। সে আবার সুখীও হতে চায়। মূলত মানুষের যত কার্যক্রম, যত উদ্যোগ, যত আয়োজন, তার মূল কারণ সে চায় সুখী হতে। আর সুখী হবার বড় উপাদান হচ্ছে ওয়েলদি হওয়া, ধনী হওয়া। কারণ, আপনি যদি ধনী হতে পারেন, আপনি যা চাইবেন সবকিছু থাকবে আপনার হাতের নাগালে। হয়তো বা সময়ের কিছু ব্যবধান থাকতে পারে। আপনার কাছে যদি টাকা না থাকে তখন দেখবেন, সুখ আপনার কাছে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, যদিও টাকা সুখ কিনতে পারে না বলেই আমরা জানি।

যে অল্পতে তুষ্ট সে কিন্তু সুখী। কিন্তু আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষই অল্পতে তুষ্ট হতে পারেন না। আমাদের অনেক দরকার। যার এক লাখ টাকা আছে, সে এক কোটি টাকা চায়। যার এক কোটি টাকা আছে, সে একশ’ কোটি টাকা চায়। এই দৌড়ের কোনও শেষ নেই।  

যে ধনী হতে চান তার কী করা দরকার? আপনার নিজের ওপর বিনিয়োগ করা দরকার। যদি আপনি নিজের ওপরে বিনিয়োগ করে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারেন, নিজেকে অনেক বড় মাপের দক্ষতাসম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি নিশ্চিত ধনী হতে পারবেন।

নিজের ওপরে বিনিয়োগ করা বলতে আমরা কি বুঝি? নিজের ওপরে আপনি দুটো জিনিস বিনিয়োগ করতে পারেন। একটা হচ্ছে আপনার অর্থ, আরেকটি হচ্ছে আপনার সময়। অনেক ক্ষেত্রে আপনি অধিক অর্থ ব্যয় না করে শুধু সময় ব্যয় করেও নিজেকে উন্নত করতে পারেন। আপনার হাতে যে মোবাইল সেটটা আছে সেখানে অসংখ্য তথ্য আছে। আপনি যেকোনও কিছু সার্চ দিলে গুগল থেকে একটা রেজাল্ট চলে আসে। যা আপনি শিখতে চান, ইচ্ছেমতো সেখান থেকে শিখতে পারেন, পড়তে পারেন। আপনার যে কম্পিউটার আছে সেখানেও যদি আপনি সার্চ করেন অসংখ্য জিনিস পাবেন, অসংখ্য বই পাবেন, অসংখ্য কনটেন্ট পাবেন, অসংখ্য ফ্রি কোর্স পাবেন। সেখান থেকেও নিজেকে এডুকেট করতে পারেন।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে, টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। যখন টাকা বিনিয়োগ করবেন তখনও সময় বিনিয়োগ করতে হবে। নিজের শ্রমও বিনিয়োগ করতে হবে। টাকা দিয়ে কী করতে পারবেন? বই কিনতে পারবেন, প্রয়োজন মতো বিভিন্ন ধরনের আউটসোর্সিং কাজ শিখতে পারবেন, বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। যত বেশি দক্ষতা আপনার হবে, যত বেশি জ্ঞান আপনার বাড়বে, তত আপনার প্রডাকটিভিটি বাড়বে, তত বেশি কোনও প্রতিষ্ঠানে কন্ট্রিবিউট করতে পারবেন।

ধরুন, যদি শুধু কম্পিউটারে টাইপ পারেন তাহলে আপনার দৌড় হচ্ছে লেখা পর্যন্ত। যদি একটা প্রোগ্রামিং তৈরি করতে পারেন বা ওয়বসাইট তৈরি করতে পারেন, যদি একটা আর্টিকেল লিখতে পারেন, একটা কপিরাইট করতে পারেন, কোনও একটা অ্যাপ তৈরি করতে পারেন, তাহলে যত যোগ্যতা বাড়ছে তত নিজেকে একটা ভ্যালুয়েবল অ্যাসেটে রূপান্তরিত করছেন।

আপনি নিজেকে যত ভ্যালুয়েবল অ্যাসেটে রূপান্তরিত করতে পারছেন, ততই ভ্যালু বাড়ছে। যে কাজ করবেন সেই কাজে আপনার সম্মানি বাড়বে, আপনার মজুরি বাড়বে, আপনার বেতন বাড়বে। যত কঠিন কাজ আপনি করবেন তত আপনার রেমুনেরেশন বেশি।

যে শুধু ওয়ার্ডপ্রেসে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে, সে কয়েক হাজার টাকা পায়। যে প্রোগ্রামিং করে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে, কোডিং করে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে সে কিন্তু আরও অনেক বেশি টাকা উপার্জন করতে পারে। ফলে আপনি যদি সামনে অগ্রসর হতে চান, আর্থিকভাবে স্বাধীন হতে চান, সফল হতে চান, এমনকি সুখী হতে চান, তাহলে আপনার যোগ্যতা বাড়ানোর কোনও বিকল্প নেই।

বিল গেটস একবার বলেছেন, তিনি যে এত বড় হয়েছেন তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পড়াশোনা। ওয়ারেন বাফেটের মতো ওয়ার্ল্ড বিখ্যাত একজন বিনিয়োগকারী, উনি দিনে সাত আট ঘণ্টা কেন পড়বেন? উনি এই বৃদ্ধ বয়সে এখনও পড়েন। প্রতি মুহূর্তে ওনারা নিজেদের আপডেট করেন। যারা সাকসেসফুল মানুষ, যারা বড় হচ্ছেন প্রতিনিয়ত, তারা প্রতি মুহূর্তে নিজেদের পাল্টাচ্ছেন। নিজের পুরোনো জ্ঞানকে ঝালাই করে নিচ্ছেন নতুন জ্ঞান দিয়ে। নিজের দক্ষতাকে প্রতিমুহূর্তে বৃদ্ধি করছেন। সারা বিশ্বে কি ঘটছে, উনি সেটা জানছেন। ভবিষ্যতের ব্যবসা কোন দিকে টার্ন নেবে, ভবিষ্যতে কোন পেশা মূল্যবান হবে এগুলো তারা জানেন। যখন আপনিও নিজেকে প্রশিক্ষিত করবেন, নিজের ওপর শ্রম, সময় এবং অর্থ বিনিয়োগ করে নিজের দক্ষতাগুলোকে বাড়াবেন তখন আপনিও কিন্তু ওই দক্ষ মানুষদের দলে শামিল হবেন এবং আস্তে আস্তে নিজের ভেতরে শক্তি অনুভব করবেন। তখন আপনি বেশি পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। আপনি যদি আপনার উপার্জিত টাকা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারেন, ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি যদি আপনার থাকে তাহলে দেখবেন যে সেই টাকা আপনি কয়েকগুণ বাড়িয়ে ফেলেছেন, কয়েক বছরের মধ্যে। তাই নিজের ওপরে বিনিয়োগ করার কোনও বিকল্প নেই।

আপনারা যারা আর্থিক স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হচ্ছেন বা হতে চাচ্ছেন তারা এই কাজটি আগে করুন। সেটা হচ্ছে নিজের যোগ্যতাকে বাড়ান, নিজের দক্ষতাকে বাড়ান, নিজেকে আস্তে আস্তে খুব বড় একটা অ্যাসেটে রূপান্তরিত করুন। তাহলে, আপনি অন্যান্য সম্পদকে আকর্ষণ করতে শিখবেন এবং আপনিও একজন বড় মানুষে পরিণত হবেন, আপনি একজন সফল ও ধনী মানুষে পরিণত হবেন। আপনি একজন সুখী মানুষে নিজেকে রূপান্তরিত করতে পারবেন।

মানুষ যে কত শক্তিশালী তা সে অনুভব করতে শেখে তখন, যখন সে নিজেকে উন্নত করে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে যায়। আপনার শক্তি আপনি বুঝলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়, আপনার বড় হবার পথ সুগম হয়। নিজস্ব শক্তিকে বোঝার জন্য নিজের ওপরে বিনিয়োগ করার বিকল্প কোথাও নেই।

লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক, ফাইন্যান্স ও বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট; সিইও, ফিনপাওয়ার লিডারশিপ ইন্টারন্যাশনাল।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবক নিহত
আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবক নিহত
ফলিক অ্যাসিড কেন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
ফলিক অ্যাসিড কেন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে চাকরি না পাওয়া আর্চার গ্রিনকার্ড পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে
বাংলাদেশে চাকরি না পাওয়া আর্চার গ্রিনকার্ড পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে
লাকড়ি তোলা নিয়ে বউ-শাশুড়ির ঝগড়া, মারধরে আহত যুবকের মৃত্যু
লাকড়ি তোলা নিয়ে বউ-শাশুড়ির ঝগড়া, মারধরে আহত যুবকের মৃত্যু
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ