X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২৩ আষাঢ় ১৪২৯

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করার চেষ্টায় চীন

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ১৬:৫৫

ফারাজী আজমল হোসেন কোয়াড ইস্যুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের ভুল (!) বাংলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক শীতল বাক্যবিনিময় হয়ে গেছে দেশটির। আর সেই সম্পর্ক উষ্ণ করতেই বাংলাদেশকে শ্রীলংকার থেকে ৫ ডলার কম মূল্যে ১০ ডলারে সিনোফার্মার টিকা বিক্রির প্রস্তাবে রাজি হয় চীন। কিন্তু সম্প্রতি টিকার মূল্য প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে যা শোনা যাচ্ছে তা হলো, এরপর আর ১০ ডলারে টিকা দেবে না চীন। আর এ বিষয়কে কেন্দ্র করে আবারও সম্পর্কে ভাটা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে চীন-বাংলাদেশের।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জনগণের অর্থ কোথায় বিনিয়োগ হচ্ছে তা জানার অধিকার রয়েছে সবার। আর সে কারণেই বাংলাদেশকে এই কঠিন শর্ত দেওয়ার আগে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা উচিত ছিল চীনের।

বাংলাদেশের চীনের টিকা স্বল্পমূল্যে দেওয়া প্রসঙ্গে শ্রীলংকার বিরোধীদলীয় নেতা ড. হারসা দে সিলভা বলেছেন, বাংলাদেশের তুলনায় শ্রীলংকা যে মূল্যে চীন থেকে টিকা নিচ্ছে, তাতে আমাদের ১৪ বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ হবে। ‘আমাদের বন্ধু হিসেবে চীন পরবর্তী চালানে টিকার মূল্য কমাতে পারে না?’– এমন প্রশ্ন করেছেন তিনি টুইটারে।

বাংলাদেশের সরকারি দফতর থেকে টিকার মূল্য নিয়ে তথ্য জানাবার পরও শ্রীলংকার বর্তমান সরকারের চীনের পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। বন্ধু রাষ্ট্রকে বাঁচাতে রাজাপাকসের সরকার দাবি করেছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন কোনও চুক্তিই হয়নি, যার প্রেক্ষাপটে ঢাকা ১০ ডলারে টিকা পাবে। এ বিষয়ক চুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি, বরং সম্পন্ন হওয়ার পথে রয়েছে। তারা সেটাই বলেছে যা কলোম্বোর চীন অ্যাম্বাসি থেকে বলা হয়েছে।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে শ্রীলংকার সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, শ্রীলংকার বন্ধু চীন এতদিন যাবৎ যা অর্থ সহায়তা করেছে তা বেশি দামে টিকা সরবরাহের মাধ্যমে উসুল করে নিচ্ছে।

অবশ্য বেইজিং শ্রীলংকায় নিজেদের কর্তৃত্বমূলক আচরণ বজায় রাখতে ৩.২ মিলিয়ন সিনোফার্মার ডোজ আগেই সরবরাহ করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির উত্তর প্রদেশে উইন্ডমিল প্রকল্প নিজেদের করে নিতে চায় চীন, যা তাদের না দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করে আসছে ভারত।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টার অংশ হিসেবে চীন স্বল্প মূল্যে (!) টিকা সরবরাহ করছে এমন তথ্য বারবার সামনে এলেও অবাক করা বিষয় হলো, চীনের সিনোফার্মার টিকার মূল্য ভারতের অ্যাস্ট্রাজেনেকার (কোভিশিল্ড) টিকার চেয়ে বেশি। যার প্রতিটি ডোজের মূল্য ৫.৫ ডলার। সেই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সিনোফার্মের টিকার থেকে অনেক বেশি কার্যকর। মধ্যপ্রাচ্যে সিনোফার্মার টিকার তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত ব্যবহার করতে হচ্ছে, যেখানে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দুই ডোজেই কাজ করছে। এ অবস্থায় সিনোফার্মার টিকার প্রকৃত ব্যয় কয়েকগুণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। সেই সঙ্গে তাদের টিকার ওপর নির্ভর করেও থাকতে হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে কলোম্বোর চীন অ্যাম্বাসি ঢাকার কাছে ১০ ডলারে টিকা বিক্রির বিষয়টিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে চালিয়েছে। কিন্তু এখন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা জানাচ্ছে যে, চীন এই তথ্য প্রকাশে বিরাগভাজন হয়েছে। আমার কাছে যে বিষয়টি আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে তা হলো, কোন প্রক্রিয়ায় চীন তার ভ্যাকসিনের মূল্য নির্ধারণ করেছে! বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা ছাড়া আর কোনও কারণেই তারা বাংলাদেশকে শ্রীলংকার তুলনায় ৫ ডলার কমে টিকা সরবরাহ করতে চেয়েছে?

এদিকে টিকার মূল্য নিয়ে খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন জানান, সিনোফার্মার টিকার মূল্য প্রকাশ হওয়ায় কিছুটা অখুশি চীন। বেসরকারি টেলিভিশনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার আমরা দুঃখিত।’

তিনি বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করতে আরও স্পষ্ট করে জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আর এই মূল্যে টিকা পাবে না চীনের কাছ থেকে। চীন বাংলাদেশকে এমন এক তথ্য গোপন রাখতে বলেছে যা গোপন রাখা সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক এক দেশের পক্ষে কষ্টকর। আর সে কারণেই এই শর্তের মাধ্যমে আসলে বাংলাদেশের সঙ্গে এক ধরনের ‘ছলনা’র আশ্রয় নিয়েছে চীন। স্বল্প মূল্যে টিকা সরবরাহে তাদের দেওয়া শর্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠা খুব অস্বাভাবিক নয়। কেননা, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করার উদ্দেশ্যেই যদি স্বল্প মূল্যে টিকা সরবরাহ করে চীন, তাহলে বিষয়টি স্পষ্ট করে তার বললেই হতো যে এই মূল্য শুধু বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু সেটি না করে লুকোচুরির মাধ্যমে টিকা সরবরাহ এক ধরনের ‘ছলনা’র আশ্রয় ছাড়া আর কী?

চীন শ্রীলংকাকে ঋণ, ব্যবসায়িক সুবিধা এবং উপহার প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। আর বিনিময়ে দেশটির একটি বন্দরকে ৯৯ বছরের জন্য নিজেদের করে নিয়েছে। শ্রীলংকা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর হাম্বানতোতা বন্দর নিজেদের করে নিয়েছে চীন। আর দেশের নিজস্ব এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে শ্রীলংকা। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ এশিয়ার ‘শিকারি’ রাষ্ট্র চীন, যারা এই অঞ্চলের সব উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে যেই ভূ-রাজনৈতিক সংকট শ্রীলংকা তাদের নিজেদের জন্য তৈরি করেছে, তা বিশ্বের কাছে অজানা নয় এবং এ কারণে চীনের সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সচেতনভাবেই নিজ পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত (আরও অনেক দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে) কোয়াড নিয়ে দারুণ দুশ্চিন্তায় রয়েছে চীন। আর সে কারণেই তার সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে জড়িত দেশগুলোকে কোয়াডে যোগ না দেওয়ার জন্য বলছে দেশটি। এমনকি কোয়াডে যোগ দিলে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলেও দেশগুলোকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

চীন তার ‘পার্ল ট্রেড’ নীতি নেপাল থেকে শুরু করে শ্রীলংকা পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যখান থেকে বাদ থাকছে ভারত। আর চীনের এই নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। কেননা, এখান থেকে আরব সাগর পর্যন্ত যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু ক্ষেত্রে দ্বিমত থাকলেও দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ আন্তরিক। আর এ বিষয়টিকে মোটেও ভালোভাবে দেখছে না চীন।

চলতি বছরের ১০ মে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশকে কোয়াডে যোগা দেওয়ার বিষয়ে সাবধান করেছেন, যা ঢাকা-চীনের শীতল সম্পর্কের সূচনা ঘটায়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী উই ফ্যাঙ্গে ঢাকা সফরের পর এই সাবধান বাণী উচ্চারণ করেন লি জিমিং। উই ফ্যাঙ্গে তার সফরে ভিন্ন অঞ্চলের সামরিক বাহিনীকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রবেশের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করার জন্য আলোচনা করেছেন। এই আলোচনা তিনি শ্রীলংকা ও নেপালেও করেছেন।

চীনের থেকে ঋণ নিতে রাজি না হওয়ার পরও বিগত এক বছরে বাংলাদেশকে দশ হাজার টেস্টিং কিট, দশ হাজার সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) এবং ১ হাজার থার্মাল স্ক্যানার প্রদান করেছে চীন। বাংলাদেশ কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই উপহার গ্রহণ করলেও বেশ কৌশলে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পকে নাকচ করেছে। বাংলাদেশে দৃঢ় নেতৃত্বের অধিকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্ত করে এমন এক বড় প্রকল্পে নিজেদের যুক্ত রাখতে চান, যা চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের মাধ্যমে সম্ভব নয়। আর সে কারণেই চীনের আর্থিক সহায়তা প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ। নেপাল, শ্রীলংকা এবং মালদ্বীপ চীনের যেই নীতির শিকারে পরিণত হয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতেই চীনের কাছ থেকে দ্রব্যসামগ্রী বা প্রযুক্তিগত সহায়তা নিলেও আর্থিক কোনও সহায়তা নিতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। বরং বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্পের কাজগুলো সম্পাদন করছে। এই জন্য বাংলাদেশ বেছে নিয়েছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কার্যক্রম।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের সময় বেশ কিছু সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চীন থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ সাবধান থেকেছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাতিলের পাশাপাশি তাদের বেশ কিছু ফার্মকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যে খবর দেশের জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

লি জিমিং তার সাবধান বাণীতে বলেছিলো, ‘বাংলাদেশের কোয়াডের মতো ছোট একটি সংগঠনের সদস্য হওয়া উচিত নয়। কেননা, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির কারণ হতে পারে।’ কিন্তু বাংলাদেশ বর্তমানে তার শক্তি সম্পর্কে জানে এবং এ কারণেই চীনের রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘সার্বভৌম হিসেবে বাংলাদেশ তার নিজ দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য পররাষ্ট্র নীতি নিজেই ঠিক করবে।’ সেই সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা বিদেশি কূটনীতিকদের ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও আচরণের মধ্যে থাকা’ এবং ‘বিষয়গুলো বিবেচনা করে মন্তব্য করার’ আহ্বান জানান তিনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হু চুনইয়াং ‘কোয়াড’ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্কশ উক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা মনে করি এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে চীনবিরোধী মনোভাব তৈরির একটি অপচেষ্টার ফসল। সুতরাং আমরা আশা করছি, আমাদের অবস্থান বেশ স্পষ্ট সবার কাছে।’ তিনি আরও জানান, চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কখনোই হস্তক্ষেপ করে না। তারা অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে বিশ্বাসী। কোয়াড বিষয়ে আমাদের থেকেও ভালো জানে ভারত, আর কোয়াড গঠনের মূল উদ্দেশ্য কী সেটাও জানে ভারত। এখানে কি শুধু চীনকে বাদ রাখা হচ্ছে, নাকি চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এটি গঠিত হচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়। এটি মূলত কোয়াডের বিরোধিতা করা এবং এ বিষয়ে সবাইকে জানানো ও সাবধান করা।

সুতরাং ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ক্ষমা চাইলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেশ স্পষ্ট করেই তার বক্তব্যের সপক্ষে নিজেদের অবস্থান এবং ভবিষ্যতে এভাবে নাক গলানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে নিয়েছে। সুতরাং কোয়াডে শ্রীলংকা যোগ দিলে তাদের ভবিষ্যৎ যে ভালো হবে না, সেই ইঙ্গিত বেশ স্পষ্ট হু চুনইয়াংয়ের বক্তব্যে। আর এখানেই বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলংকার মূল পার্থক্য।

বিপদগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের ‘ভ্যাকসিন কূটনীতি’ যেভাবে কাজ করেছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা হীতে বিপরীত হতে পারে। বাংলাদেশ বাস্তবিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে তার নীতি নির্ধারণ করছে। নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে এতদিন পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশ, যার সুফলও ভোগ করছি আমরা। ঢাকা শ্রীলংকাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে, যা স্পষ্টতই বলছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের রিজার্ভ বর্তমানে ৪৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন, যেখানে শ্রীলংকার বর্তমান রিজার্ভ মাত্র ৪ বিলিয়ন ডলার।

শ্রীলংকা চীনের এই প্রকল্প থেকে যখন মুক্তি পাবে, ততদিনে বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়ে যাবে। কারণ, ঢাকা তার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবতার নিরিখে তৈরি করে এগিয়ে গেছে। ঢাকা জানে, কোন দেশের মুঠোর মধ্যে না থেকেও উন্নয়ন করা সম্ভব। বরং শ্রীলংকার এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের থেকে কিছু শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

আর ‘কোয়াড’ নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করছে, সেই বিষয়টি বর্তমানে স্পষ্ট। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে শীতল যেই বাক্য ব্যয় হয়েছে, তা ‘টিকা রাজনীতি’র মাধ্যমেও উষ্ণ করতে ব্যর্থ হলো চীন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেলো ২ জনের
ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেলো ২ জনের
বেড়েছে লাগেজ ‘লেফট-বিহাইন্ড’, প্রবাসীদের ঈদ মাটি
বেড়েছে লাগেজ ‘লেফট-বিহাইন্ড’, প্রবাসীদের ঈদ মাটি
পুতিনের সাহায্য চাইলো শ্রীলঙ্কা
পুতিনের সাহায্য চাইলো শ্রীলঙ্কা
জেলের জালে ৩১ কেজির বাগাড়
জেলের জালে ৩১ কেজির বাগাড়
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ