করোনা প্রতিরোধে হার্ড ইমিউনিটি: গরিবের ‘ঘোড়ারোগ’

Send
ডা. জাহেদ উর রহমান
প্রকাশিত : ১৯:৩৪, মে ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৯, মে ১৩, ২০২০

ডা. জাহেদ উর রহমান‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সীমিত পরিসরে’ গণপরিবহন কেন খুলে দেওয়া হলো না, মাথায় ঘুরছে সেই প্রশ্নটা। এই সেক্টরে তো ৮০ থেকে ৯০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। এই সেক্টরের সঙ্গে সংযুক্ত আছে আরও অনেক ব্যবসা, যেগুলোতেও আছে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান। সব মিলিয়ে এই সেক্টরে আছে এক বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। আর দেশে যখন সামাজিক সংক্রমণ হয়ে গেছে বহু আগেই, তখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেই বা লাভ কী?
যখন সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে তখন এটুকু বন্ধ রেখে আসলে কী লাভ হলো সেই প্রশ্ন আসতেই পারে। প্রশ্ন আসতেই পারে কেন অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ও বন্ধ থাকবে? সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নগুলো অনেকে করছেন, কিন্তু আমি করছি না। কারণ, আমি জানি সরকার এটা কেন করছে।

আমি দেখছি, সরকারের সামনে দুটো পথ ছিল -

প্রথমত, খুব শক্ত একটা লকডাউন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য কারফিউ দেওয়া। এতে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে, কিন্তু খুব প্রতুল পরিমাণ সরকারি সাহায্যের কারণে কোটি কোটি মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে থাকবে, যাদের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। রাস্তা বন্ধ হবে, ভুখা মিছিল হবে।

দ্বিতীয়ত, কাগজে-কলমে একটা অঘোষিত লকডাউন রেখে লিখিত বা অলিখিতভাবে সবকিছু দ্রুত খুলে দেওয়া। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ পেয়ে খাদ্য সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, কিন্তু অসংখ্য মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবে, হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। মারা যাবে অনেক মানুষ করোনায় কিংবা ‘জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্টে’।

সরকারের হিসাব সোজা, দ্বিতীয় পরিস্থিতি অনেক সমালোচনা তৈরি করলেও অন্তত সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মতো চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না, কিন্তু প্রথমটি করবে সেটা। তাই, প্রায় সবকিছুই ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে, স্বল্প পরিসরে’ খুলে দিলো সরকার। হাতেগোনা যে দু-একটা বিষয় বাকি আছে সেগুলোও খুলে দেওয়া হবে দ্রুতই।

আমাদের মতো দেশে করোনা (কোভিড ১৯) ভাইরাসের বিরুদ্ধে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি করার চেষ্টা করা কী ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত হয়? সরকারের সবকিছু খুলে দেওয়াকে অনেকে এক ধরনের হার্ড ইমিউনিটি ডেভেলপ করার কৌশল হিসেবে বলছেন। তারা এর পক্ষে প্রপাগান্ডা চালানোর চেষ্টা করছেন যে এটাই আমাদের সামনে সঠিক পথ।

হার্ড ইমিউনিটি বিষয়টা এরইমধ্যে প্রায় সবাই জানেন। তারপরও দুটো কথা একটু বলে নেওয়া যাক। কোনও একটা জনগোষ্ঠীর অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষের মধ্যে কোনও একটা রোগের বিরুদ্ধে যদি অ্যান্টিবডি তৈরি থাকে, তাহলে সেই জনপদে সেই রোগটি আর মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে না; অ্যান্টিবডি না থাকা মানুষগুলোও  সেই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে।

দুইভাবে হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করা যায়। বিপুল জনগোষ্ঠীকে টিকা দিয়ে; যেমন, আমরা পোলিওর ক্ষেত্রে করেছি। আবার হতে পারে মানুষ কোনও রোগে ক্রমাগত ভুগতে ভুগতে প্রায় সব মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া। এখন বেসরকারিভাবে দেওয়া হলেও আমাদের ইপিআই প্রোগ্রামে জলবসন্তের টিকা নেই, কিন্তু এই রোগের বিরুদ্ধে আমাদের হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে মানুষ ক্রমাগত এই রোগে ভুগতে ভুগতে।

অতি আশাবাদীও বলছেন, করোনার টিকা আসতে এখনও এক থেকে দেড় বছর সময় বাকি। তাই করোনার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে হবে জনগণকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে দিয়ে। তাই কেউ কেউ বলছেন লকডাউন বাদ দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হোক- এতে কিছু মানুষের মৃত্যু হলেও দেশের অর্থনীতি বাঁচবে। কতটা সম্ভব আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটা? নিচের আলোচনা সেটা আমাদের বোঝাবে; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটা দেয়া আছে শেষে।

১) আমরা এরমধ্যেই জানি এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে বেশি বয়সের মানুষ, বিশেষ করে যাদের কিছু রোগ আছে, যেমন- হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস এবং এগুলো জনিত জটিলতা (যেমন, রক্তপ্রবাহ হ্রাসজনিত হৃদরোগ, ক্রনিক কিডনি ডিজিজ ইত্যাদি) এবং সিওপিডি অর্থাৎ ফুসফুসের কিছু রোগ- ক্রনিক অ্যাজমা,  ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসিমা। করোনার হার্ড ইমিউনিটি ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে এই ধরনের মানুষকে বাসায় একটা রুমে পুরো প্রক্রিয়ার কয়েক মাস আইসোলেশনের মধ্যে রাখা। বাংলাদেশের কয়টা পরিবারের পক্ষে এই বয়সের মানুষদের আলাদা একটা রুম দেওয়া সম্ভব? বাংলাদেশের স্পষ্ট হিসাব খুঁজে পাইনি, তবে ভারতের একটা হিসাব আছে। ভারতের ৮২ কোটি মানুষের (জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ) ক্ষেত্রে গড়ে ৫ সদস্যের পরিবার গাদাগাদি করে বাস করে এক বা দুই কামরার ঘরে। আমাদের পরিস্থিতি এর চাইতে ভালো হওয়ার কারণ নেই।

২০১৫ সালের একটা হিসাবে বাংলাদেশের ষাটোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ, যেটা এটা এখন আরও বেড়েছে নিশ্চয়ই। এই মানুষদের প্রায় সবার উপরে উল্লেখিত কোনও না কোনও রোগ আছে। হার্ড ইমিউনিটির নামে এদের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৮০ লাখ মানুষের জীবনকে আমরা চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছি। এরা আক্রান্ত হলে বেশিরভাগই বাঁচবেন না।

২) মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেই তার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে এমন কোনও নিশ্চয়তা এখন পর্যন্ত নেই। তার মানে তথাকথিত হার্ড ইমিউনিটি তৈরির জন্য মানুষকে রোগে ভোগানো হলো, অনেকে মারা গেল, কিন্তু মূল যে উদ্দেশ্য ছিল শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া, সেটা হবেই, এটা নিশ্চিত নয়।

৩) কারও শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও সেটা তাকে আবার করোনায় আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করবে, এই নিশ্চয়তা এখনও এই রোগের ক্ষেত্রে নেই। কিছু দিন আগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ পরিকল্পনা করছিল বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটা ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’ চালু করা হবে যেখানে কাউকে দেখাতে হবে তার শরীরে করোনার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এটা জানার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেয়, কারও শরীরে অ্যান্টিবডি থাকলে সে আবার একই সংক্রমণে সংক্রমিত হবে না এর কোনও নিশ্চয়তা নেই, তাই ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’ করা হবে অর্থহীন।

তাহলে আমরা কীসের কারণে এই তথাকথিত হার্ড ইমিউনিটির কথা ভাবছি?

৪) এরমধ্যেই আমরা অনেকে জেনে গেছি ভাইরাস তার নিজের জেনোম (এই ভাইরাস ক্ষেত্রের আরএনএ)-এর স্ট্রাকচার পাল্টে ফেলতে পারে, যাকে বলা হয় মিউটেশন। আমরা এটাও জেনেছি বর্তমান করোনাভাইরাস কোভিড ১৯-এর বহু মিউটেশন হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটা আদৌ স্পষ্ট না পৃথিবীর কোন দেশে কোন স্ট্রেইন দিয়ে ইনফেকশন হয়েছে। আমাদের দেশের নানা আক্রান্ত দেশ থেকে মানুষ এসেছে, যাদের একেক জন একেক রকম স্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন হয়তো। সেই ক্ষেত্রে একটা বিশেষ স্ট্রেইনের প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি অন্য স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে কাজ করবে না। আবার তাত্ত্বিকভাবে যদি ধরেও নিই দেশের সব একই স্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত এবং সবার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলো, কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যে সেটারই মিউটেশন হলো এই দেশে। তাহলে এই তৈরি হওয়া হার্ড ইমিউনিটি নতুন ভাইরাসের কাছে কোনও প্রভাব রাখবে না। এটা করোনার ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রেও একটা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

৫) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টায় আসা যাক এবার। হাইপথেটিক্যাললি ধরে নিই উপরে আলোচিত সব বিষয় ভুল, আসলেই হার্ড ইমিউনিটি সম্ভব; জাস্ট মানুষকে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হতে দিতে হবে।

ধরে নেওয়া যাক দেশের সবাইকে প্রায় একই সময়ে এই ভাইরাসে এক্সপোজ করে দেওয়া হলো এবং একেবারে ন্যূনতম একটা সংখ্যা, ২০ শতাংশ মানুষের শরীরে এই রোগের উপসর্গ তৈরি হলো। তার মানে ১৭ কোটি মানুষের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা হবে ৩ কোটি ৪০ লাখ; কমিয়ে একটা রাউন্ড ফিগারে আসা যাক, ৩ কোটি। আমরা এরমধ্যে জেনে গেছি, ৮০% মানুষ উপসর্গের চিকিৎসায় বাসায়ই সুস্থ হয়ে ওঠেন। বাকি ২০% মানুষকে হাসপাতালে নিতে হয়, তাহলে এই আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে নিতে হবে ৬০ লক্ষ মানুষকে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর অর্ধেকের উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা এবং অক্সিজেন দিয়েই আরোগ্য হয়ে যায়, আর বাকি অর্ধেকের (মোট আক্রান্তের ১০%) আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটর সাপোর্ট লাগে। তাহলে সেই সাপোর্টের প্রয়োজন হওয়া রোগীর সংখ্যা হবে ৩০ লক্ষ। যৌক্তিক না, তবু আলোচনার স্বার্থে ধরে নিই, আমাদের দেশে এই রোগ অর্ধেক ভয়ংকার হবে। সেই ক্ষেত্রেও হাসপাতালে ভর্তি এবং আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সাপোর্ট প্রয়োজন হওয়া রোগীর সংখ্যা হবে যথাক্রমে ৩০ এবং ১৫ লক্ষ।

সরকারি, বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশ আইসিইউর বেডের সংখ্যা ১২০০-এর কিছু বেশি। বাংলাদেশের ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলো ছাড়া আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটর সুবিধা নেই। আর হাজার হাজার রোগীর কথা বাদই দেওয়া যাক, কয়েকশ’ রোগী নিয়ে ঢাকার দুই করোনা স্পেশালাইজড হাসপাতাল কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অক্সিজেন পর্যন্ত রোগীদের ঠিকমতো দেওয়া যাচ্ছে না, এই সংবাদ আমরা জানি। তাহলে আইসিইউ বাদই দেই, শুধু অক্সিজেনের অভাবে কত রোগী মারা যেতে পারে এই দেশে? এরমধ্যেই যথেষ্ট পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবে শত শত ডাক্তার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন এবং কোয়ারান্টিনে যাচ্ছেন। গণইনফেকশন যখন শুরু হবে তখন চিকিৎসার জন্য ডাক্তার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী পাওয়া যাবে?

দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে অতি সামান্য সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কারণে এই দেশে অন্য যেকোনও জটিল রোগে ইমারজেন্সি চিকিৎসা পাওয়া একরকম অসম্ভব  ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন আগে মারা যাওয়া ড. সা'দত হুসেইনের মতো এই রাষ্ট্রের একজন এলিট পর্যায়ের ছেলে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন তার বাবা-মায়ের চিকিৎসা নিয়ে কী ভয়ংকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন তিনি। সেই স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি লিখেন, ‘নন করোনা কোন রোগের টাইম এটি না...। স্পেশালি একটু জটিল ধরনের কিছু হলে। তাই সুস্থ থাকেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান...। যাতে হাসপাতাল থেকে, ডাক্তার থেকে দূরে থাকতে পারেন শত হস্ত।’ এই যদি হয় একজন এলিটের পরিস্থিতি, হার্ড ইমিউনিটি তৈরির সময় যখন চারদিকে লক্ষ লক্ষ করোনা রোগী হবে, সাধারণ মানুষের জন্য তখন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কেমন হবে কল্পনা করতে পারছি আমরা? করোনা ছাড়া অন্য রোগে আক্রান্ত রোগী বহু হাসপাতাল ঘুরে ভর্তি হতে না পেরে মারা যাওয়ার অনেক খবর পত্রিকায় প্রায়ই আসছে। ভবিষ্যতের পরিস্থিতি তাহলে কী হবে?

শুধু শক্তভাবে লকডাউন নিশ্চিত করতে দেরি করার কারণে ইতালি, স্পেন ও আমেরিকার মতো অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ কেমন মাশুল দিয়েছে সেসব উদাহরণ আমাদের সামনে একেবারে স্পষ্ট। সেখানে অতি দুর্বল অর্থনীতি এবং তার চেয়েও আরও দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আমরা কীভাবে দূরতম কল্পনাতেও হার্ড ইমিউনিটির কথা আনি? এটা স্রেফ গরিবের ‘ঘোড়ারোগ’।

‘ছিনিমিনি খেলা’ বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সিনেমায় বহুল ব্যবহৃত শব্দ দু’টি লিখার শেষ অনুচ্ছেদে এসে মাথায় আসছে। উপরে যা আলোচনা করেছি, সরকারের নীতিনির্ধারকরা এসব না জানার কারণ নেই; তাদের না বোঝার কোনও কারণ নেই। সে কারণেই শুরুতেই বলেছি সরকার আসলে কেন এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছে। কারণ যাই হোক না কেন, এই দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন নিয়ে ‘ছিনিমিনি খেলা’ শুরু হয়েছিল করোনা প্রাদুর্ভাবের একেবারে শুরুর সময় থেকেই। এখন ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে’ সবকিছু খুলে দিয়ে যা ঘটানো হলো সেটার প্রকাশ ‘ছিনিমিনি খেলা’ শব্দ দুটো দিয়ে সঠিকভাবে হয় না। সেটা সঠিকভাবে প্রকাশ করার মতো কোন কিছু এই মুহূর্তে মাথায় আসছেও না।

লেখক: শিক্ষক ও অ্যাকটিভিস্ট

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ