ইউক্রেনে বড় ধরনের যুদ্ধের পরিণতি হবে ভয়াবহ। রাশিয়া যদি আক্রমণ করে তাহলে হাজারও মানুষের মৃত্যু হবে। আরও বেশি সংখ্যককে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে। অর্থনৈতিক মূল্য হতে পারে চড়া, মানবিক পরিণতি হবে বিপর্যয়কর। এরপরও ইউক্রেনকে ঘিরে সেনা সমাবেশ বাড়িয়ে চলেছে রাশিয়া। ইউক্রেন সীমান্তে এক পা ফেললে রাশিয়াকে কঠোর পরিণতির বিষয়ে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমারা। এমন পরিস্থিতিতে এই সংকটের কোনও শান্তিপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধান আছে কিনা- তা পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনীতিকরা একটি প্রধান সমাধানের কথা বলছেন। যে পথে সব পক্ষ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়া থেকে সরে আসবে। কিন্তু এমন পথ খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। যেকোনও সমঝোতায় কিছু ছাড় দিতে হয়। বিবিসি’র প্রতিবেদনে এমন কিছু সম্ভাব্য সমাধানের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলোতে সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত নয়, তাই রক্তাক্ত পরিণতির আশঙ্কা নেই।
পশ্চিমারা পুতিনকে পিছু হটতে রাজি করাতে পারে
এক্ষেত্রে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হামলায় লাভের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি বুঝিয়ে পশ্চিমা শক্তিরা কার্যকরভাবে ইউক্রেনে আক্রমণ ঠেকাতে পারে। তাকে বলা যেতে পারে, মানুষের প্রাণহানি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপ যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের চেয়ে ভয়াবহ হবে। তার মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে পশ্চিম ইউক্রেনে সশস্ত্র বিদ্রোহকে সমর্থন দিতে পারে পশ্চিমারা। যা তাকে কয়েক বছর ব্যয়বহুল যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।
পুতিনকে ধারণা দিতে হবে যে এসব ক্ষতি ও ব্যয়ের কারণে দেশে তার সমর্থন কমে যেতে পারে এবং নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এমন কিছুর ক্ষেত্রে পুতিন যে কূটনৈতিকভাবে জয়ী হয়েছেন সেটির অনুমোদন দিতে হবে পশ্চিমাদের।
সমস্যা হলো, পুতিন যদি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ ও ন্যাটোকে অবজ্ঞা করতে চান তাহলে খুব কম কারণ রয়েছে তার এখান থেকে পিছিয়ে আসার।
নতুন নিরাপত্তা চুক্তি করতে পারে ন্যাটো ও রাশিয়া
পশ্চিমা শক্তিগুলো স্পষ্ট করেছে যে তারা মৌলিক নীতির বিষয়ে আপস করবে না। যেমন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা, ন্যাটোর সদস্য হওয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো উভয়েই স্বীকার করেছে, বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে একটি ঐকমত্যের অবস্থান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
এর আওতায় উভয় পক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কমিয়ে আনতে একটি সমঝোতা হতে পারে। ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে আস্থা বাড়ানোর উদ্যোগও থাকতে পারে। এছাড়া সামরিক মহড়া নিয়ে স্বচ্ছতা ও ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান এবং স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা যৌথ অভিযানও এর আওতায় থাকতে পারে।
মিনস্ক চুক্তির পুনরুজ্জীবন করতে পারে ইউক্রেন ও রাশিয়া
এটি ছিল ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কতে স্বাক্ষরিত প্যাকেজ চুক্তি। এর আওতায় পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সমর্থিত বিদ্রোহী ও ইউক্রেন সরকারের যুদ্ধ অবসানের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। চুক্তিটি ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এর ফলে অস্ত্রবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়।
পশ্চিমা রাজনীতিকরা বলছেন, মিনস্ক চুক্তির পুনরুজ্জীবন এই সংকটের একটি সমাধান হতে পারে।
ফিনল্যান্ডের মতো নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারে ইউক্রেন
কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ফরাসি কর্মকর্তারা ইউক্রেনকে ফিনল্যান্ডের মতো নিরপেক্ষ দেশে পরিণত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও কর্মকর্তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। শীতল যুদ্ধের সময় ফিনল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়। এটি ছিল স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দেশটি এখনও ন্যাটো জোটের বাইরে রয়েছে।
এতে যদি ইউক্রেন আকৃষ্ট হয় তাহলে সামরিক পরিণতি এড়ানো যাবে। তাত্ত্বিকভাবে ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদান না করার ইস্যুতে সন্তুষ্ট হতে পারেন পুতিন। ন্যাটোকেও তাদের সবার জন্য দরজা উন্মুক্ত নীতি থেকে সরে আসতে হবে না।








