ইউক্রেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দুই ধনকুবের। তারা হলেন মিখাইল ফ্রিডম্যান এবং ওলেগ ডেরিপাস্কা। শীর্ষস্থানীয় রুশ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তারাই প্রথম প্রতিবেশী দেশটিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
মিখাইল ফ্রিডম্যান রাশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি। দেশটির প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম লেটারওয়ান তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। এছাড়া তিনি রাশিয়ার বৃহত্তম বেসরকারি আলফা ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক মেইলে তিনি ‘রক্তপাত’ বন্ধের ব্যাপারে আওয়াজ তুলেছেন।
লেটারওয়ান-এর কর্মীদের উদ্দেশে ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত মিখাইল ফ্রিডম্যানের পাঠানো মেইলটি নিয়ে প্রথম রিপোর্ট করেছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। এতে বলা হয়েছে, ফ্রিডম্যান মেইলে লিখেছেন, ‘যুদ্ধ কখনও জবাব হতে পারে না।’
ইউক্রেনের লেভিভ শহরে নিজের শিকড়ের বর্ণনা তুলে ধরেছেন এই রুশ ধনকুবের। তার মা-বাবা এখনও সেখানে বাস করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি রাশিয়ার নাগরিক হিসেবে আমার জীবনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছি, ব্যবসা দাঁড় করিয়েছি, এটিকে আরও বড় করেছি। আমি ইউক্রেনীয় এবং রাশিয়ান জনগণের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। বর্তমান সংঘাতকে তাদের উভয়ের জন্য একটি ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখছি।’
রাশিয়ান সরকারের সঙ্গে কথিত যোগসূত্রের জন্য ২০১৮ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন রুশ ব্যবসায়ী ওলেগ ডেরিপাস্কা। ওই নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জের জন্য আইনি পদক্ষেপও নিয়েছেন তিনি। তিনিও মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শান্তি আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী ধনকুবেরদের যে তালিকা তৈরি করে ফোর্বস ২০২১ সালে, সেই তালিকায় বিশ্বের ১২৮তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে তার নাম উঠে আসে। রাশিয়ান অ্যালুমিনিয়াম জায়ান্ট রুসালের এই প্রতিষ্ঠাতা লিখেছেন, ‘শান্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
৫৭ বছরের এই ব্যবসায়ী তার চিঠিতে কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, তিনি সাধারণত রাজনৈতিক বিবৃতি দেওয়া এড়িয়ে চলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী। রাশিয়া ও ইউক্রেনে কর্মরত আমার হাজার হাজার কর্মীর প্রতি আমার দায়িত্ব রয়েছে। তবে আমি নিশ্চিত যে যুদ্ধ কখনও জবাব হতে পারে না। জীবন দিয়ে এই সংকটের মূল্য দিতে হবে। এটি দুটি জাতির ক্ষতি করবে, যারা কয়েকশ বছর ধরে ভাই ভাই ছিল।’
ওলেগ ডেরিপাস্কা বলেন, ‘যদিও সমাধান বহু দূরের বলে মনে হয়, তবে আমি শুধু তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারি, যাদের রক্তপাত অবসানের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।’
রাশিয়া ছাড়াও যুক্তরাজ্য, স্পেন, তুরস্ক, বেলারুশ ও সাইপ্রাসে ব্যবসা রয়েছে মিখাইল ফ্রিডম্যানের। তার লেটারওয়ানের আওতায় রয়েছে ইউকে হেলথ ফুড রিটেইলার হল্যান্ড অ্যান্ড ব্যারেট, স্পেনের সুপারমার্কেট চেইন ডিআইএ এবং মোবাইল ফোন পরিষেবা প্রদানকারী তুর্কসেল, যার গ্রাহক তুরস্ক, ইউক্রেন, বেলারুশ ও সাইপ্রাসে রয়েছে।
ফ্রিডম্যান এবং ডেরিপাস্কা বিশিষ্ট রাশিয়ানদের একটি ছোট দলে যোগদান করেছেন, যেখানে জনপ্রিয় অভিনেতা, সংগীতশিল্পী এবং টেলিভিশন উপস্থাপকরা রয়েছেন। তারা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও অনেক রুশ অলিগার্চ এখনও নীরব রয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দুনিয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দেশটির ধনকুবেরদের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্লোবাল ব্যাংকিং পেমেন্ট সিস্টেম সুইফট থেকে ছিটকে পড়লে সেটি রুশ ব্যাংক ব্যবস্থাকেই বিপাকে ফেলে দেবে।








