সেকশনস

কলেজ জাতীয়করণ ইস্যুতে আমরা যেন ভুল না করি

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৫৬



জিয়া আরেফিন আজাদ সম্প্রতি যেসব বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের সচেতনতা বেড়েছে, তার মধ্যে সবার আগে রাখতে হবে শিক্ষাকে। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল শিক্ষায় নিবন্ধন হার বাড়ানো। ২০১৭ সালের উপাত্ত অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিবন্ধনের হার ৯৮ শতাংশ ও স্বাক্ষরতা ৭২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শিক্ষার প্রারম্ভিক পর্যায়ে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ার পর এখন জনসাধারণের গুণগত মান নিয়ে সচেতন হচ্ছে। প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষাপদ্ধতি—ইত্যাদি বিষয় নিয়ে অভিভাবকরা তাদের অভিমত দিচ্ছেন। জনসাধারণের এই সব অভিমত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি মজবুত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে অংশীদার করতে হবে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ৫৩ হজার ৫৪ কোটি টাকা। ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বরাদ্দ নিয়ে এটি বাজেটের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত এবং এই বরাদ্দ আমাদের জিডিপির ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তবে এখনও আমরা ইউনেস্কোর Education for All  কর্মসূচির সুপারিশ থেকে পিছিয়ে রয়েছি। যে অর্থ আমরা ব্যয় করছি, তার মধ্যে অগ্রাধিকারের বিষয়টিও এসে যায়। সে কারণেই আমাদের পরীক্ষা করে দেখা উচিত, শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় নীতিগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা।

আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে নীতি-নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে কিছু অসঙ্গতি আছে। সমস্যাগুলো একদিনে সৃষ্টি হয়নি। সরকার চাইলে তা ধীরে ধীরে দূর করতে সক্ষম হবে। সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারকে আরও অনেক বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ করা যাচ্ছে, যা এখনই সুরাহা করা দরকার।

১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজ পর্যায়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার হয়েছে। প্রথম একটি দশক ভালোই চলছিল। পরবর্তী সময়ে ঢালাওভাবে স্নাতক পর্যায়ের পাঠদানের অনুমতি দেওয়ায় মানের অবনতি হয়। শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অর্থ উপার্জনের আগ্রহটা বেশি মাত্রায় দৃশ্যমান হতে থাকে। বিভিন্ন পর্যায়ে অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত কলেজগুলোকে বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার নির্দেশনা দেন। এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার মানের উন্নতি ঘটানো। অথচ বিষয়টি নিয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে রশি টানাটানি শুরু হয়। সেশন জট কমানোর নামে বোধ-বিবেচনাহীন ক্র্যাশ প্রোগ্রামে পাঠদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। পরীক্ষক ও বিশেষজ্ঞ বাছাইয়ে অনিয়ম, দ্বৈত পরীক্ষণ বাতিল ইত্যাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিক্ষা কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যস্ত করতে হলে তার জন্য বিস্তারিত সমীক্ষার প্রয়োজন ছিল।  অধ্যাপক মো. মোহাব্বত খানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটি করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। সেই কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে ১৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কলেজগুলোর অধিভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যরাও অত্যন্ত উৎসাহী হয়ে তাদের প্রস্তুতির কথা বলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত দেশসেরা কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দেখেই বোঝা যাচ্ছে এ বিষয়ে যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করা হয়নি। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রস্তুতির বিষয়ে তার পূর্বসূরির দাবিকে ভুল বলে স্বীকার করেছেন।

স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার এই অব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি বিষয়কে উপেক্ষা করা হচ্ছে। সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের অধীন চাকরিজীবী। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত। পৃথিবীর সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকারী শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সেখানে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হতো। বর্তমানে এই ধারা বন্ধ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত প্রক্রিয়ায় চলে। কেন্দ্র থেকে ভর্তি, ফরম পূরণ, পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত নানা ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কলেজগুলো যেভাবে পারে, তা পালন করছে। এসব কাজ করার মতো কাঠামো অধিকাংশ কলেজেই নেই। প্রতিটি কলেজে এডহক ব্যবস্থাই স্থায়ী রূপ পেয়েছে। বিষয়গুলোকে যৌক্তিকভাবে সুরাহা না করলে শিক্ষাদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জোড়াতালি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার পরিবর্তে সরকার ইচ্ছা করলে ক্যাডার সার্ভিস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ, পরিদর্শন ও সর্বোচ্চ নেতৃত্ব গঠন করতে পারেন। এতে পাঠদানকারী কলেজ ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যে দূরত্ব কমে যাবে, প্রশাসন গতিশীল হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে পাইলটিং করে ফল দেখা উচিত। আর ঢাকা বা মেট্রোপলিটন শহরের সেরা কলেজগুলোকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যস্ত না করে প্রান্তিক পর্যায়ের কলেজগুলো নিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এই সমস্যার পাশাপাশি সরকারি কলেজগুলোতে একটি বড় সংকট হলো জাতীয়করণ।  সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষকগণ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত। ক্যাডার সার্ভিসের কর্মপরিধি কলেজগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা বোর্ডগুলো, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর এবং এর আঞ্চলিক কার্যালয়, শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো পরিচালিত হয় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দিয়ে। শিক্ষায় রাষ্ট্রের একটি নিজস্ব এজেন্সি গঠন করাই শিক্ষা ক্যাডার গঠনের মূল উদ্দেশ্য। প্রশাসনিক সংস্কারে গঠিত ব্রিগেডিয়ার এনামুল হক খানের কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদগুলো শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখার সুপারিশ আছে। শামসুল হকের নেতৃত্বে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়গুলোকে গুচ্ছভিত্তিক ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে পেশাজীবীদের প্রজাতন্ত্রের পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু ১৯৮০ সালে শিক্ষা ক্যাডার গঠনের পর থেকে এর কাঠামোটিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। জাতীয়কৃত কলেজগুলোর শিক্ষকদের সরাসরি ক্যাডার সার্ভিসে আনার ফলে এই পেশায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ঊর্ধ্বমুখী বিকাশের পরিবর্তে এই পেশায় পশ্চাদমুখী প্রতিযোগিতার প্রবণতা দেখা গেছে। সে কারণে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সহকর্মীরা জাতীয়করণ করা কলেজগুলোর শিক্ষকদের সার্ভিসকে শিক্ষা ক্যাডার থেকে পৃথক রাখার দাবি তোলেন।

সরকার তাদের এই দাবিকে যুক্তিসঙ্গত মনে করেছে। সে জন্যই জাতীয় শিক্ষানীতিতে জাতীয়কৃত শিক্ষকদের সার্ভিসের জন্য নতুন নীতিমালা ও বিধি তৈরির কথা বলা আছে। সেই নীতিতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের স্বার্থের সুরক্ষার বিষয়টিও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা আছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, মীমাংসিত এই বিষয়টি নিয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারকে আন্দোলনে যেতে হয়। ২০১০ সালে শিক্ষানীতি প্রণয়ন হলেও এখন পর্যন্ত জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে বিধি প্রস্তুত করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বারবার নির্দেশনা দিতে হয়েছে। জাতীয় সংসদে তিনি ঘোষণা করেন, জাতীয়কৃত শিক্ষকদের বদলি করা যাবে না।  গত বছরের নভেম্বরে তিনি জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের মর্যাদা নন ক্যাডার রেখে একমাসের মধ্যে বিধি তৈরির নির্দেশনা দেন। বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর দাবি সম্পর্কে অধ্যক্ষ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সরকারের মেয়াদ শেষ মনে করে চাপ দিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না। নিয়ম-নীতির অধীন সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছয় মাস পার হলেও প্রত্যাশিত বিধিটি তৈরি হয়নি।

সম্প্রতি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের মর্যাদা নন ক্যাডার রেখে বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ক্যাডারভুক্ত করার ব্যবস্থা রেখে একটি বিধির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিটি পিএসসি ও আইন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। জাতীয়করণের নীতি প্রণয়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ. এস. মাহমুদের নেতৃত্বে ২০১৪ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি একটি সুপারিশ তৈরি করেছিল বলে জানা যায়। সেই কমিটি থাকা সত্ত্বেও ২০১৬ সালে অতিরিক্ত সচিব ড. অরুণা বিশ্বাসের নেতৃত্বে নীতিমালা তৈরির জন্য পুনরায় কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর জাতীয়করণের বিধি তৈরির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভা মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মুলতবি হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়। এতদিন এত আলোচনা, আন্দোলন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা—সবকিছু উপেক্ষা করে ক্যাডারভুক্তি করার সুযোগ রেখে খসড়া বিধি তৈরির ঘটনা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমাদের দুর্বলতাকেই চিহ্নিত করছে। জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত কলেজগুলোয় সরকারদলীয় অনেক কর্মী রয়েছেন এবং সামনে জাতীয় নির্বাচনের কাণেই ক্যাডারভুক্তি করা হচ্ছে বলে যুক্তি দেখানো হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মেধা, যোগ্যতা ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে কেউ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। গোষ্ঠীতন্ত্রের এই চর্চা যদি ক্যাডার সার্ভিস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তা হলে রাষ্ট্রযন্ত্র মারাত্মক দুর্বল হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি, নির্বাচনি ইশতেহার ইত্যাদির মধ্যে সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচি বিবৃত আছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে তেরো-চৌদ্দ হাজার ব্যক্তিকে ক্যাডার সার্ভিসের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে রাজনীতি কীভাবে শক্তিশালী হয়, তা বোধগম্য নয়! এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে মারাত্মক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই উদ্বেগ একটি পেশার সুযোগ-সুবিধা হ্রাস-বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনও বিষয় নয়। নিজ পরিমণ্ডলে থেকে রাষ্ট্রকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার জন্য একটি ক্যাডার সার্ভিসের এই প্রচেষ্টাকে গতানুগতিক পেশাজীবী আন্দোলন থেকে পৃথক করে দেখতে হবে।

প্রচলিত বিধিবিধান বাস্তবায়ন করার জন্য আন্দোলন করার ঘটনা এই পেশায় প্রথম নয়। ২০০৬ সালে একদল শিক্ষককে বিভাগীয় ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা মওকুফ করে প্রমার্জন আদেশ দেওয়ার বিরূদ্ধে বিসিএস সমিতি দীর্ঘ আন্দোলন করে। আপত্তি সত্ত্বেও তৎকালীন সরকার প্রমার্জন আদেশ জারি করে। জাতীয়করণের মাধ্যমে যে সব মানবিহীন শিক্ষক ক্যাডারভুক্ত হয়েছিলেন, তাদের সুবিধা দিতেই এই ব্যবস্থা করা হয়। প্রমার্জিত এই সব শিক্ষককেই বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পদায়ন করা হয়। সার্বিক শিক্ষা প্রশাসনে এর ফলাফল নেতিবাচক হয়েছে। এ ছাড়া একবার ক্যাডার সার্ভিসে প্রবেশ করে সিনিয়রিটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য মামলা করার ঘটনা এই পেশায় ভুরি ভুরি। এসব অভিজ্ঞতার ফলে বিসিএস সমিতি শিক্ষা ক্যাডারে যেকোনও ধরনের নিয়ম বহির্ভূত প্রবেশের বিরূদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এত কিছুর পরেও নতুন জাতীয়কৃত কলেজগুলোর শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্তি করার ফাঁক রেখে বিধি তৈরি করা হলে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আর একসঙ্গে তেরো হাজার শিক্ষক একটি সার্ভিসে প্রবেশ করলে সার্ভিসটি লক্ষ্যচ্যুত হবে, সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। শিক্ষা নিয়ে সরকারের মহৎ পরিকল্পনাগুলো যেন লক্ষ্যচ্যুত না হয়, সে বিষয়ে জনসাধারণকে সজাগ থাকতে হবে। বিষয়টিকে কেবল একটি পেশার নিজস্ব সমস্যা হিসেবে দেখলে আমরা ভুল করবো।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ।

ইমেইল: [email protected]

 

/এমএনএইচ/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীর দেখানো বন্ধুত্বের পথ ধরেই চলতে হবে

বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীর দেখানো বন্ধুত্বের পথ ধরেই চলতে হবে

সর্বশেষ

পুকুরে ডুবে যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু

পুকুরে ডুবে যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু

‘বন্দুকের নল নয় জনগণই ক্ষমতার উৎস’

‘বন্দুকের নল নয় জনগণই ক্ষমতার উৎস’

এক জালে ধরা পড়লো চার লাখ টাকার মাছ

এক জালে ধরা পড়লো চার লাখ টাকার মাছ

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলনে লেখকের ঘোষণা, কমিটি হবে ঢাকায়

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলনে লেখকের ঘোষণা, কমিটি হবে ঢাকায়

স্টার লাইন বিস্কুট কারখানায় ভয়াবহ আগুন

স্টার লাইন বিস্কুট কারখানায় ভয়াবহ আগুন

মুন্সীগঞ্জে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন

মুন্সীগঞ্জে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন

মান্নান হীরা স্মরণে ‘মরমী নাট্যমেলা’

মান্নান হীরা স্মরণে ‘মরমী নাট্যমেলা’

সাংবাদিক মুজাক্কিরকে হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন

সাংবাদিক মুজাক্কিরকে হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন

প্রযুক্তির প্রসারকে রাজনৈতিক জটিলতায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে: হুয়াওয়ের ক্যাথরিন চেন

প্রযুক্তির প্রসারকে রাজনৈতিক জটিলতায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে: হুয়াওয়ের ক্যাথরিন চেন

৩ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহতের খবরে ক্যাম্পে স্বস্তি, মিষ্টি বিতরণ 

৩ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহতের খবরে ক্যাম্পে স্বস্তি, মিষ্টি বিতরণ 

পিলখানা হত্যা দিবস আজ

পিলখানা হত্যা দিবস আজ

সাত শর্তে বাড়িতেই দুই বোনের দুই বছরের সাজা

সাত শর্তে বাড়িতেই দুই বোনের দুই বছরের সাজা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.