X
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

রক্তভেজা লন্ডন

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৭, ১৫:৫১

নাদীম কাদির জীবনে একটিবারের জন্য হলেও সবাই যেতে চায় এমন একটি শহর হলো লন্ডন। বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ শহর মনে করা হয় ব্রিটেনের এই রাজধানীকে। তবে দেশটির ‘গণতন্ত্রের কেন্দ্র’ ওয়েস্টমিনিস্টার প্যালেসের হামলার পর সেই লন্ডনের বুক থেকে এখন রক্ত ঝড়ছে।
রাজপথের রক্ত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হৃদয়ের ক্ষত থেকে যাবে বহু দিন, বহু বছর। অন্তত আমি লন্ডনের রাস্তাকে আগের মতো নিরাপদ মনে করতে পারবো না। সন্ত্রাসী হামলার আগে লন্ডন আমার কাছে অন্যতম নিরাপদ শহর ছিল। এখন আর তেমনটা রইলো না।
তবে এই মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি ব্রিটিশ নাগরিক ও সংবাদমাধ্যম দারুণ ভূমিকা পালন করছে। তারা শুধু সন্ত্রাসেরই বিরোধিতা করছেন না বরং দেশকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দিচ্ছেন। লন্ডনবাসী রাস্তায় নেমে এসেছেন, সঙ্গে অনেক পর্যটকও।
বৃহস্পতিবার ত্রাফালগার চত্বরে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। মোমবাতি জ্বালিয়ে হামলার শিকার যুক্তরাজ্যবাসীর জন্য প্রার্থনা করেন তারা। তাদের সম্মিলিত স্বর থেকে ধ্বনিত হয় মানবাত্মার বাণী: ‘মানবতা এক, আমরা জীবন ভালোবাসি, সন্ত্রাসকে নিন্দা জানাই।’
এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে লন্ডন মেট্রোপলিট্রন পুলিশ। তারা জানায়, একজন ব্যক্তি ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজে পথচারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেয় এবং একজন পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এই হামলার দায় স্বীকার করা জঙ্গি সংগঠন আইএসের দ্বারা হয়তো অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ওই হামলাকারী।
হামলাকারীর কৌশল অভিনব ছিল। হামলাকারী ছিলেন একজনই। সন্ত্রাসীরা পার্লামেন্ট পছন্দ করে না। আইএস নিয়ন্ত্রিত স্থানগুলোতে দেখা গেছে তারা গণতন্ত্র ও আইনের বিপক্ষে। তাদের জন্য এটা কোরআনের ভুল ব্যাখা। তারা প্রাচীন যুগের মতো নারীদের দাস বানিয়ে রাখতে চায়। কেবলই রক্তের নেশা তাদের।
ব্রিটেনে অনেক বাঙালির বসবাস। এদের বেশিরভাগেই মুসলিম। এই হামলা তাদের জন্যও শঙ্কার। কারণ মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু বিপথগামী তরুণ ওইসব হামলা চালাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মুসলিমদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মুসলিমদের ওই ভাবমূর্তির জন্য দায়ী জামায়াত-ই ইসলামীর মতো চরমপন্থী দলগুলোর কার্যকলাপ। অনেক মসজিদ এখন নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এক বাংলাদেশি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, `বাইরে বের হওয়ার সময় সাবধান থাকবেন। বিশেষ করে যাদের দাড়ি রয়েছে এবং হিজাব পড়েন।’
তবে হামলাকারী কিংবা হতাহতের কেউই বাংলাদেশি ছিলেন না। কিন্তু পর্যটকদের হতাহতের বিষয়টি শঙ্কা জাগানোর মতো। গুলশানের রেস্তোরায় হামলার পর যেমনটা হয়েছিলো, এবার অনেকেই লন্ডনে তাদের নির্ধারিত সূচি বাতিল করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা উন্নতি করেছি। তবে একদিনে সন্ত্রাস সমূলে উৎপাটন সম্ভব না। এর জন্য সময় প্রয়োজন।

তথ্যগত সহযোগিতা বিনিময় এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রয়াসের সমালোচনা বন্ধ করা জরুরি। সন্ত্রাস মোকাবেলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পার করার সময় দুটি ট্রাক আটক
পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পার করার সময় দুটি ট্রাক আটক
বিদ্যুতে রেশনিং চায় এফবিসিসিআই
বিদ্যুতে রেশনিং চায় এফবিসিসিআই
কমছে সব নদীর পানি
কমছে সব নদীর পানি
হেলে পড়া বিদ্যালয় ‘সোজা’ করার চেষ্টা
হেলে পড়া বিদ্যালয় ‘সোজা’ করার চেষ্টা
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ