X
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২
১৯ আষাঢ় ১৪২৯

বিএনপি’র ভিশন ২০৩০: এক অলীক কল্পনা

আপডেট : ১৫ মে ২০১৭, ১৫:৩৭

নাদীম কাদির সংসদের বাইরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছেন। খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন ২০৩০ কেবলই এক হাস্যকর অলীক কল্পনা। শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ এর অনুকরণে এই ভিশন দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
প্রথমত, ১৯৭৫ সালের পর থেকে বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্র-ক্ষমতায় থাকার পরও বিএনপি জনগণকে ফাঁকি দিয়েছে। তারা কখনও কোনও ‘ভিশন’ উপস্থাপন করেনি। বরং বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তারা। তারা রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের গোপনে হত্যা করেছে। সমাজে ছড়িয়ে দিয়েছে দুর্নীতির ভাইরাস।
সিঙ্গাপুর থেকে শুল্কমুক্ত পণ্য এনে তা বেশি দামে বিক্রির স্বার্থে ক্রুজ জাহাজে করে শিক্ষার্থীদের ওই দেশে ভ্রমণ করানোর কথা হয়তো কেউ ভুলবে না। ওই সময় সিঙ্গাপুরের পণ্য বাংলাদেশে এনে মূল দামের চেয়ে চার গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছিল। প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজের দলে ভেড়াতে ক্রুজ শিপে করে তাদের সিঙ্গাপুর নিয়ে গিয়েছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। তরুণ মনগুলোকে কলুষিত করা হয়েছিল।
কোনও ধরনের যুক্তি-তর্ক ছাড়াই সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, বিএনপির নেওয়া ভিশন নামটি নিশ্চিতভাবে নকল। এর মধ্য দিয়ে তারা জনগণকে বোঝাতে চাইছে তাদের ভিশন শেখ হাসিনার ভিশনের মতোই কিছু। যেহেতু শেখ হাসিনা ভিশন দাঁড় করিয়ে সফলতা পেয়েছেন, এবার বিএনপিকেও একই কাজ করতে হবে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, তারা তাদের সেই ভিশন জনগণের কাছে বিক্রি করতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা বিভিন্ন মন্তব্য বিশ্লেষণ করে বোঝা গেছে জনগণ ওই ভিশনে সাড়া দেয়নি।
২৫৬টি প্রস্তাব সম্বলিত বিএনপির ভিশনে দেখা গেছে, বিএনপি দেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০০ ডলারে উন্নীত করার চেষ্টা করবে। ২০৩০ সাল নাগাদ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার দুই অঙ্কের ঘরে নিয়ে যাওয়ারও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তারা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিবেচনা করলে এগুলো অবিশ্বাস্যরকমের লক্ষ্য যা পূরণ করা একেবারেই অসম্ভব।
খালেদা জিয়া বলেছেন, ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয়ের পর তারা ভিশন বাস্তবায়ন করতে শুরু করবেন এবং ‘নিরপেক্ষ প্রশাসনের’ তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটি একরকম বোকার স্বর্গে বসবাসের মতো অবস্থা। কারণ, ‘নিরপেক্ষ প্রশাসনের’ আওতায় নির্বাচন করতে সংবিধান পরিবর্তন দরকার। এটি একটি অবাস্তব চিন্তা। এটি কেবলই তাদের অভিলাষ। কিন্তু কে না জানে, রাজনীতি অভিলাষের জায়গা নয়।

বলা হচ্ছে, ভিশন বাস্তবায়ন করতে বিএনপিকে পর পর তিন মেয়াদে নির্বাচিত হতে হবে। সেটা আরেকটি অভিলাষী চিন্তা বটে। বড় প্রশ্ন হলো, পরপর তিনটি নির্বাচনে জেতার প্রশ্ন তো দূরের কথা, সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে থাকা দলটি পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে কিনা।

তাছাড়া বিএনপির অনেক প্রস্তাব বাস্তবায়নেই সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন। তার মানে হলো: সংসদে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। কারণ সংবিধান সংশোধনের জন্য দুই তৃতীয়াংশ পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

খালেদা বলেছেন, বিএনপি সবসময় গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়। আমি এর সঙ্গে দ্বিমত করবো। কেননা এ দলটি যখন মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক সত্যকে ধরে রাখতে পারেনি। যেখানে তারা ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছে সেখানে ওই দাবি ধোপে টেকে না। 

পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিবদ্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেছেন খালেদা। অন্যদিকে তিনিই আবার বলছেন, তার দল প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জন্য ‘নীতিমালা’ অনুমোদন দেবে। তিনি বলেছেন, আইসিটি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা প্রত্যাহার করবেন। অথচ সরকার এরইমধ্যে এ ধারাটি পর্যালোচনা করছে। আমার কাছে এটি সাংবাদিকদের শান্ত রাখার একটি প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই নয়।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছে তা বিশ্বাস করাটা আমার জন্য কঠিন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশ যেভাবে চলেছে তা মিডিয়ার প্রতি দলটির কথিত সহিষ্ণুতার প্রমাণ।

কূটনীতিকদের বসে থাকতে এবং দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বক্তব্য শুনতে বাধ্য করার বিষয়টি খুব অসৌজন্যমূলক। এটা তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করার সামিল। তার (খালেদার) রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপদেষ্টারা ব্যর্থ হয়েছেন।

ভিশন ২০৩০ নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা ভুলে গেছেন খালেদা। এটি আসলে কী জিনিস; প্রেসের সামনে তা বলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। বিএনপি আসলে সংবাদমাধ্যমের এই ধারার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী!

বিএনপির জন্য সত্য বলাটাই শ্রেয়তর। তাদের উচিত ভোটারদের না ঠকানো।

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কে?
বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কে?
মাদ্রাসাছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
মাদ্রাসাছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
শিক্ষা আইন প্রণয়ন কমিটিতে যুক্ত হতে চায় হেফাজত
শিক্ষা আইন প্রণয়ন কমিটিতে যুক্ত হতে চায় হেফাজত
বেতন ৫ হাজার, থাকতে হবে বাইক: ৩০০ ‘বিস্তারক’ নিয়োগ করছে বিজেপি
বেতন ৫ হাজার, থাকতে হবে বাইক: ৩০০ ‘বিস্তারক’ নিয়োগ করছে বিজেপি
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ