X
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২
১১ আষাঢ় ১৪২৯

মহিমান্বিত রাত শবে কদর

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২২, ১৭:২৭

জুলকারনাইন বিন আজাদ আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’ বা কদর রজনী, এর ফারসি হলো শবে কদর। যার অর্থ সম্মানিত মর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত, সম্ভাবনাময়, ভাগ্যনির্ধারণী রজনী।

পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস রমজান মাস, কোরআন নাজিলের রাত শবে কদর। এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার জাবালে রহমত তথা হেরা পর্বতের গুহায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে বিশ্ব নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি  মহাগ্রন্থ কোরআন কারিম অবতীর্ণের সূচনা হয়।

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সাথে ছওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে কদরের রাতে নামাযে দণ্ডায়মান থাকবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।- সহীহ মুসলিম হাদিস : ৭৬০; সহীহ বুখারি হাদিস : ২০১৪

সুতরাং এই ফজিলত লাভে সচেষ্ট হওয়া আমাদের কর্তব্য। অন্তত এশা ও ফজর নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করার জন্য সচেষ্ট হওয়া উচিত। যেন শবে কদরের ন্যূনতম ফজিলত লাভ করা যায়। কারণ এক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সাথে পড়লো সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লো।- সহীহ মুসলিম হাদিস : ৬৫৬; মুসনাদে আহমদ হাদিস : ৪০৮

শেষ দশকে ইতিকাফ:

শবে কদর লাভ করার সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো শেষ দশকে ইতিকাফ করা। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা শেষ দশকে শবে কদর অন্বেষণ করো।’ অন্য রেওয়ায়েতে আছে, ‘তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে শবে কদর তালাশ করো।’-সহীহ বুখারি হাদিস : ২০১৭; ২০২০

নির্দিষ্টভাবে সাতাশের রাতকে শবে কদর বলা ঠিক নয়। কারণ, হাদিসে শেষ দশকে শবে কদর অন্বেষণ করতে বলা হয়েছে। তাই শেষ দশকের সব রাতেই যথাসম্ভব বেশি বেশি ইবাদত করা চাই। নবী কারিম (সা.) রমজানের মাঝের দশ দিন ইতিকাফ করতেন। এক বছর এভাবে ইতিকাফ শেষ করার পর যখন রমজানের একুশতম রাত এলো তখন তিনি ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে ইতিকাফ করেছে সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে। কারণ, আমাকে শবে কদর সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল (যে তা শেষ দশকের অমুক রাতে)। এরপর তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ... সুতরাং তোমরা শেষ দশকে শবে কদর খোঁজ করো।’-সহীহ বুখারি হাদিস : ২০২৭; সহীহ মুসলিম হাদিস : ১১৬৭

সুতরাং বুঝা গেলো যে, শেষ দশকে যে ইতিকাফ করবে তার শবে কদর নসীব হবে। মাসনুন ইতিকাফ দশ দিন। যাদের দশ দিন ইতিকাফ করার সুযোগ নেই বা সাহস হয় না তারা দুই তিন দিন নফল ইতিকাফ করতে পারেন। হাদিস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন ইতিকাফ করবে আল্লাহ তাআলা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। অর্থাৎ আসমান ও জমিনের দূরত্ব থেকে অধিক দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন।-শুআবুল ইমান হাদিস ”: ৩৯৬৫

সাতাশ রমজানের রাতেই কি শবে কদর?

অনেকের মনে এই ভুল ধারণা রয়েছে যে সাতাশের রাতই হচ্ছে শবে কদর। এই ধারণা ঠিক নয়। সহীহ হাদিসে এসেছে যে রাসুলে কারীম (সা.)-কে লাইলাতুল কদর কোন রাত তা জানানো হয়েছিল। তিনি তা সাহাবীদের জানানোর জন্য আসছিলেন, কিন্তু ঘটনাক্রমে সেখানে দুই ব্যক্তি ঝগড়া করছিল। তাদের ওই ঝগড়ার কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে সে রাতের ইলম উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ কথাগুলো সাহাবিদের জানানোর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হতে পারে, এতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। এখন তোমরা এ রাত (অর্থাৎ তার বরকত ও ফজিলত) রমজানের শেষ দশকে অন্বেষণ করো। সহীহ বুখারি হাদিস নং ২০২০, সহীহ মুসলিম ১১৬৫/২০৯
অন্য হাদিসে বিশেষভাবে বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর তালাশ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদিস ১১৬৫

তাই সাতাশের রাতকেই সুনির্দিষ্টভাবে লাইলাতুল কদর বলা উচিত নয়। খুব বেশি হলে এটুকু বলা যায় যে, এ রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে। রমজানের শেষ দশকের ফজিলতই সবচেয়ে বেশি। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদিস ১১৭১

লেখক: শিক্ষক, জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ, ঢাকা।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ঈদের চেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে: হাছান মাহমুদ
ঈদের চেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে: হাছান মাহমুদ
‘পদ্মা সেতু বিশ্বকে দেখিয়ে দিলো আমরা বীরের জাতি’
‘পদ্মা সেতু বিশ্বকে দেখিয়ে দিলো আমরা বীরের জাতি’
সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
এখন ঢাকা থেকে ভোলায় গিয়ে নাশতা করাও সম্ভব: তৌসিফ মাহবুব
গৌরবের পদ্মা সেতুএখন ঢাকা থেকে ভোলায় গিয়ে নাশতা করাও সম্ভব: তৌসিফ মাহবুব
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ