X
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২
১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

‘রক্তের খেলা না, সন্ত্রাস না’

নাদীম কাদির
২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৫৪আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৫৪

একসময় বহু টকশো উপস্থাপনা করেছি এবং বিভিন্ন টকশোতে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু এখন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে টকশোতে যাই না। কেন যাই না? কারণ, আমার কাছে মনে হয় অযথা তর্ক আর মিথ্যার লড়াই আর ভালো লাগে না। তবে নিয়মিত কিছু টকশো দেখি ও ভাবি বাংলাদেশের রাজনীতি কোন পথে। দেশকে ভালো না বেসে মনে হয় শুধু ক্ষমতার লড়াই। আর ভালো লাগে না!

ভেবে দেখেছেন একবার কারা রক্ত দিয়েছে যুগ যুগ ধরে। ভেবে দেখেছেন ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর থেকে হত্যার রাজনীতি শুরু হয় কাদের দ্বারা? যারা দেশ স্বাধীন করার জন্য তাদের জীবন দিয়েছেন তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আর আজকের এই বাংলাদেশ কি এক? নিশ্চয়ই না। আমি আমার বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে হারানোর পর দেখেছি আমার বিধবা মায়ের জীবনযুদ্ধ। বড় ছেলে হিসেবে আমি তার চাক্ষুষ অংশীদার।

আমার ১৯৯০ সালে নার্ভ জনিত সমস্যা ধরা পড়ে আর আজ পর্যন্ত তা নিয়ে ভুগছি। কোনও আক্ষেপ নেই। যুদ্ধ করে জীবন চালাচ্ছি মায়ের মতো, কোথাও হাত না পেতে। একলা এখনকার যুদ্ধ। করোনাভাইরাসের দুই বছর খুব কঠিন ছিল। কেউ পাশে এসে দাঁড়াইনি। এমনকি যেখানে চাকরি করেছি সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ঝাণ্ডা ধরে রেখে মানুষের সামনে। খুব চাপ দিয়ে কিছু ভিক্ষা পেয়েছি। হ্যাঁ, আমার ব্যক্তিগত জীবনের কাহিনি কেন লিখছি? কারণ, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবাকে হারানোর পর কী জীবন পেয়েছি? আমার মায়ের একলা জীবনযুদ্ধ, তার সঙ্গে আমার যুদ্ধ যা আজও চলছে ৬৩ বৎসর বয়সে।

কেউ নেই পাশে, শুধু আল্লাহর মেহেরবানিতে বেঁচে আছি। টিভিতে দেখলাম ‘অগ্নিসন্ত্রাসের আর্তনাদ’ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে আগুন দিয়ে মানুষ মারা হয়েছে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত, এর আগে ২১ আগস্ট ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় বহু মানুষের জীবন তছনছ হয়ে গেছে। অদ্ভুত ব্যাপার, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করে, আর ১৯৭৫ থেকেই সব দেশবিরোধী ঘটনায় পাকিস্তানপন্থিরা আঘাত হানছে। আমরা সাধারণ মানুষ এর পরিত্রাণ চাই। প্রথমত যাদের জীবন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় তারাই বোঝে প্রিয় মানুষ হারানোর ব্যথা। শুধু সেটাই না, জীবনটা আর জীবন থাকে না। বাবা অথবা মাকে হারিয়ে বেঁচে থাকার যুদ্ধ, আমরা যারা হারিয়েছি তারাই বুঝি। তাই যারা আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে কাঁদেন তাদের কষ্ট আমি বুঝি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই শক্তিশালী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

কিছু দিন থেকে খুব ভয় লাগছে। কারণ, সবাই চিন্তিত আমরা আরেকটা ক্ষমতার লড়াইয়ের পথে, যা রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠতে পারে। হুংকার শোনা যাচ্ছে দুদিক থেকেই। যুগ যুগ ধরে দুর্নীতি হচ্ছে কম আর বেশি, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। এমনকি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয় জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য। শেষ রক্ষা হয়নি, ১৯৮১ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানে তারও মৃত্যু হয়।

বিএনপি অভিযোগ করেছিল আওয়ামী লীগ তাদের নেতাকর্মীদের গুম করেছে, যদিও প্রমাণ দিতে পারেনি আজও। কিন্তু কেন মানুষ বিধবা হবে বা সন্তানেরা এতিম হবে আর শুধু কষ্টের জীবন নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে?

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে ইউটিউবে যেসব তথ্য প্রকাশ করা  হচ্ছে তা সাধারণ মানুষকে আরও ভাবিয়ে তুলেছে। আসলে কি হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতে? কেন এই ভিডিও প্রকাশ করছে বিরোধী শিবিরের লোকজন? ক্ষমতাসীন দলের তেমন কিছুই নেই, আর তাই লোকজন ভুল তথ্যকে সঠিক ভেবে বিশ্বাস করছে।

আমি ১৯৭১ সালের যুদ্ধ দেখেছি আর দেখেছি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় রক্তাক্ত আওয়ামী লীগের সমাবেশ, যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকেই  আহত হয়। নিহত হন বহু লোক।

বন্ধ হোক রক্তক্ষয়ী রাজনীতি। আমি চাই না আর কোনও মৃত্যু। রাজনীতির নামে আমি চাই না বাবা-মায়ের সন্তানহারা আহাজারি শুনতে।

সাধারণ মানুষ কোনও ‘খেলা’ চায় না, তারা সবাই শান্তি চায়। চায় তাদের সাংবিধানিক অধিকার -খাদ্য, বাসস্থান, কর্ম আর মুক্তভাবে কথা বলতে। আমার দৃঢ়বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয় শান্তির পথ বের করবেন এবং আমাদের সামনের দিনগুলো শান্তির আর আনন্দের হবে।

আমরা কোনও ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী রাজনীতি দেখতে চাই না। যেকোনও দলকে পছন্দ করতে পারে মানুষ। মনে রাখতে হবে বাঙালির গর্বের মুক্তিযুদ্ধকে আমরা বিসর্জন না দিয়ে রাজনীতি করতে হবে। আর মনে রাখতে হবে  প্রত্যেক দলের রাজনীতিবিদেরা যেন রাজাকারদের সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতি না করে, মনে রাখতে হবে দেশকে ও মানুষকে নিয়ে খেলা যায় না। সবার জীবনের মূল্য আছে, শান্তিতে বাঁচার অধিকার সবার আছে।

“জয় হোক শান্তির,
জয় হোক মানুষের,
জয় হোক বাংলার”।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক; সভাপতি- রক্তধারা’ ৭১

 

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
হত্যার ৩২ বছর পর তিন জনের যাবজ্জীবন
হত্যার ৩২ বছর পর তিন জনের যাবজ্জীবন
জাপা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না জিএম কাদের
জাপা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না জিএম কাদের
মেয়র আনিসুল হকের সমাধিতে ডিএনসিসির শ্রদ্ধা
মেয়র আনিসুল হকের সমাধিতে ডিএনসিসির শ্রদ্ধা
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ