X
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪
২১ ফাল্গুন ১৪৩০

শুধু রাজনৈতিক নয়, হতে হবে অর্থনৈতিক কূটনীতি

সাইফুল হোসেন
০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:৫৯আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:৫৯

বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে দেশে এবং দেশের বাইরে যেসব বাংলাদেশি আছেন সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ অতীব জরুরি এ কথা আমরা সবাই বিশ্বাস করি, কে কতটা পালন করতে পারি বা করি সে প্রশ্নে এখন নাই বা গেলাম। দেশের বাইরে যারা থাকেন, কষ্ট করে দেশে ডলার পাঠান, তারা দেশের পক্ষ থেকে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য যদি না পান তবে তাদের দুর্ভাগ্য এ কথা মানতে হবে। সম্প্রতি একটি লেখা আমার নজরে এসেছে, যা আমাকে ব্যথিত করেছে। বিদেশে যারা কষ্ট করে আয় করে ডলার দেশে পাঠান তাদের কষ্ট আমাকে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু লেখাটার মাধ্যমে জেনেছি যে বিদেশে আমাদের যে দূতাবাস বা হাইকমিশনগুলো আছে তারা বিদেশ যেসব বাংলাদেশি থাকেন তাদের ঠিকমতো সেবা দেন না। অনেক ক্ষেত্রে হয়রানিমূলক কাজ করেন, যা মোটেই কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত নয়।  

রহমান মৃধা নামক এক ভদ্রলোক সুইডেন থেকে যুগান্তর পত্রিকায় ‘প্রবাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাজ কী?’ শিরোনামে লেখাটি লিখেছেন, যেখানে তিনি তার অভিজ্ঞতা ও অন্যের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন– ‘গোটা বিশ্বে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের আচরণ প্রবাসীদের ক্ষেত্রে খুবই মর্মান্তিক। বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং দূতাবাসের অমানবিক ব্যবহারের কথা জেনে আমি কষ্ট পেয়েছি’।

তার লেখাতে অনেক বিষয় এসেছে, যা এখানে উল্লেখ করা অপ্রয়োজনীয়; তবে আমরা পত্রিকার মাধ্যমে যেসব অভিযোগ পাই তা এক কথায় অনাকাঙ্ক্ষিত।

একজন রাষ্ট্রদূত (Ambassador) বেশ উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, যিনি কোনও নির্দিষ্ট দেশের সরকারের পক্ষ থেকে অন্য কোনও স্বাধীন দেশ, সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কূটনৈতিক কার্যসম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হন সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে। তাই তিনি যথাযোগ্য সম্মানও পান। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও দেশের প্রতিনিধিত্ব করে যাবতীয় রাষ্ট্রীয় কার্যাদি সম্পন্ন করার মাধ্যমে নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বতোভাবে কাজ করেন। কর্মরত দেশের সরকারের কাছে নিজ দেশের কূটনীতি সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বাস্তবায়নে সদা তৎপর থাকেন।

বর্তমানে মোট ৫৮টি দেশে বাংলাদেশের ৭৭টি মিশন (দূতাবাস /হাইকমিশন/কনস্যুলেট জেনারেল/কনস্যুলেট/উপ-হাইকমিশন/সহকারী হাইকমিশন) রয়েছে বলে আমরা জানি এবং বিশ্বাস করতে চাই যে নিযুক্ত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন।

বিদেশি দূতাবাস বা হাইকমিশনগুলোতে যারা কাজ করার সুযোগ পান, তারা অনেক যোগ্য বলে অনুমান করি এবং সেজন্য তাদের সুযোগ-সুবিধাও অনেক বেশি। তাই দেশ তাদের কাছ থেকে অতি উন্নত সেবা আশা করে, যা দেশের জন্য এবং দেশের বাইরে যারা থাকেন তাদের জন্য হবে মঙ্গলজনক। কিন্তু বাস্তবে তারা কতটুকু পালন করেন তা পত্রিকা মারফত যা জানতে পারি সেটা হলে তা অতীব বেদনার। অথচ দ্রুত বর্ধনশীল এই অর্থনীতির চাকা ঘোরার গতি কয়েকগুণ বাড়তে পারে তাদের মধ্যে উপযুক্ত কর্মচাঞ্চল্য শুরু হলে। কিন্তু তারা তো কূটনীতি নিয়ে কাজ করেন, অর্থনীতি নিয়ে নয় (!)

তবে রবিবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ-২০২৩) উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি যে কথা বলেছেন সেটার মধ্যে একটি দৃঢ় আশাবাদ আমরা দেখি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দুর্নীতি করতে আসিনি, দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি। বাবা-মা-পরিবার হারিয়ে এদেশে দুর্নীতি করতে ফিরে আসিনি। সব হারিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এসেছি। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এলে আমাদের সরকারের একটি নীতিমালা ছিল ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করা, সেটাই করেছি। তিনি আরও বলেন– আজকের কূটনীতি রাজনৈতিক কূটনীতি নয়, এটি হবে অর্থনৈতিক কূটনীতি– এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে আমাদের সব দূতাবাসকে আমরা নির্দেশ দিয়েছি, এখনকার ডিপ্লোমেসি এটা পলিটিক্যাল ডিপ্লোমেসি না ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি হবে। অর্থাৎ প্রত্যেকটি দূতাবাস ব্যবসা-বাণিজ্য, রফতানি, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, কী আমরা রফতানি করতে পারি বা কোথা থেকে আমরা বিনিয়োগ আনতে পারি, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি’।

মনে হয় এখন দূতাবাসগুলো নড়েচড়ে বসবে। তারা কাজে মনোযোগী হবে। তারা চাইলে দেশের জন্য অনেক কাজ করতে পারেন। তারা উদ্যোগী হলে দেশের রফতানি বাড়বে, বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে, বিদেশের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বাড়বে, বাইরে বেশি লোক যেতে পারবে এবং আমাদের বৈদেশিক আয় বাড়বে কয়েকগুণ। তাদের সঠিক তদারকি থাকলে বিদেশে অর্থপাচারও কমে আসবে। কিন্তু কবে থেকে সুচারুভাবে শুরু হবে সেই কাজ? এখন শুরু হবে আশা করা যায়, কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়েছেন।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে– প্রধানমন্ত্রী বলার পর কিছু হচ্ছে না হলে হচ্ছে না। এক ইঞ্চি জমি যেন পতিত না থাকে এটা প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হয়, বিদেশের দূতাবাসগুলো যে অর্থনীতি নিয়ে কাজ করবে সেটাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হয়– দুঃখটা এই এক জায়গায়। দেশে এত মেধাবী মানুষ, এত বড় বড় সরকারি কর্মকর্তা, এত এত মন্ত্রী কারও মাথায় কিছু আসে না। ওনারা দেশের টাকা বাইরে যায়, কোনও উদ্যোগ নিতে পারেন না, ব্যাংকের টাকা লোপাট হয়, কাউকে ধরতে পারেন না, বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে শত শত কোটি টাকা বের করে নিয়ে যান, কেউ কিছু করতে পারেন না, মূল্যস্ফীতি আকাশ ছুঁয়ে ফেলেন, কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেন না, বিদ্যুতের নামে, বড় বড় প্রকল্পের নামে হাজার-হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয় কেউ কিছু কূলকিনারা করতে পারেন না। এখন প্রশ্ন একটাই, যদি প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনও বড় উদ্যোগ না নেন তাহলে কী হবে এই অভাগা দেশটার?

লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
৭ তারিখের মধ্যে বেতনের দাবিতে সড়কে পোশাক শ্রমিকরা
৭ তারিখের মধ্যে বেতনের দাবিতে সড়কে পোশাক শ্রমিকরা
শেফিল্ডকে হারিয়ে যে রেকর্ড গড়লো আর্সেনাল
শেফিল্ডকে হারিয়ে যে রেকর্ড গড়লো আর্সেনাল
১৮ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছে চিনিকলে
১৮ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছে চিনিকলে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এসি চালুর আগে যে ৫ সতর্কতা জরুরি
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এসি চালুর আগে যে ৫ সতর্কতা জরুরি
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ