বাংলা ট্রিবিউনে নারীর স্বর শোনা যায়, শোনা হয়

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১১:৫৭, মে ১৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৪, মে ১৭, ২০১৬

Udisaপ্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি সংবেদনশীলতা নিয়ে কথা বলার রেওয়াজ আমাদের দেশে খুব বেশি দিনের নয়। আর বলা শুরু হলেও তা মানবে এমন পরিবেশ তৈরি করতে যে ধৈর্যের প্রয়োজন, সেটা দেখানোরও উদাহরণ খুব কম। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো লিখিত আকারে জেন্ডার নীতিমালা তৈরি করেছে বটে, কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে নানা অভিজ্ঞতাও বলে, লিখিত থাকলেই একটা সংবেদনশীল নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি নাও হতে পারে। বাংলাদেশের উচ্চ আদালত থেকে প্রতিষ্ঠানে যৌন নীপিড়নবিরোধী নীতিমালা তৈরির নির্দেশ থাকলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এখনও বিষয়টিকে আমলে নেয়নি।
অথচ অলিখিতভাবেই সংবেদনশীলতায় বাংলা ট্রিবিউন দুবছরে তার কর্মীদের এ আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। এখানে নারীর স্বর শোনা যায় যেমন, তেমন নারীর স্বর কী বলতে চায়, সেটাও কর্তৃপক্ষ শুনতে চায়। এর জন্য লিখিত নীতিমালার দরকার নেই, তা বলছি না।
অলিখিতভাবে কী কী করা সম্ভব, সেগুলোতে একটু নজর দেওয়া যেতে পারে। বাংলা ট্রিবিউন নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর বেশকিছু উদাহরণ তৈরি করতে পেরেছে।

আরও পড়তে পারেন: ৩৭টি হত্যাকাণ্ডের ৩৪টিতেই জড়িতদের গ্রেফতার করেছে সরকার: জয়
প্রতিষ্ঠানটির সেন্ট্রাল ডেস্ক, ন্যাশনাল ডেস্ক, বিদেশ ডেস্ক, রিপোর্টিং, সেলস মার্কেটিং ব্র্যান্ডিং, লাইফস্টাইল, অ্যাকাউন্টসসহ প্রতিটি বিভাগের নারীর দাপুটে উপস্থিতি আছে। কেবল কোটা পূরণের উদ্দেশ্যে নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন। সেটা তারা নিজেরা তৈরি করে নিয়েছেন যেমন, তেমনি আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় এই তৈরি হতে যে সহযোগিতাটা সহকর্মীদের পক্ষ থেকে দরকার, অফিস সেই পরিবেশটা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
দুবছর পার করা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একেবারেই ছোট কোনও বিষয় নয়। সহকর্মীর মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের ছুটি দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সেই সন্তান ও তার থাকার জায়গাসহ পুরোসময় অফিস করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত একেবারেই কম চ্যালেঞ্জিং ছিল না।   এখানে নারীকর্মীদের জন্য এই সুযোগ আছে। তারা সদ্যোজাত শিশু নিয়ে চাইলে এখানে অফিস করতে পারেন। অন্য সহকর্মীদের ভ্রুকুটির কোনও কারণ এখানে নেই। কারণ এটি আমাদের ভারপ্রাপ্ত স¤পাদক ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। বলে রাখা ভালো, এই বেড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ১৫ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থাও করেছে।

আবার ফিরি নারীর স্বরের প্রশ্নে। তথাকথিত পুরুষ সহকর্মীদের মধ্যে সাধারণত বলতে শোনা যায়, নারীরা সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায়। কিন্তু এখানকার পরিবেশে কেউ এমন কথা বলতে চাইলেও নিজেকে সংযত করে নিতে শিখেছেন। কারণ, অফিসের পরিবেশ আপনাকে অ্যালাউ করে না, এ তথ্য যদি আপনার মাথায় থাকে, তাহলে আপনি আপত্তিকর-অসংবেদনশীল কথা বলবেন না। আর এই না বলতে বলতে এক ধরনের অভ্যস্ততা থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকা অফিসে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রধান বার্তা সম্পাদক আর দশজন পুরুষ সহকর্মীর  ভেতরে যখন নারী সহকর্মীদের প্রতি আস্থা এনে কাজটির ভার নারীকে দেন, সেটি একটি অর্জন। যে অর্জনে নারীর গর্ববোধ করার বিষয় যেমন আছে, তেমনই মনে রাখারও আছে- সবাই মিলেই বাসযোগ্য সমাজ গড়া সম্ভব। কাউকে বাদ দিয়ে বা অবহেলা করে নয়। এখানে সফলতার সঙ্গে এটি করার চেষ্টায় আছে।

নারীদের বলতে পারতে হবে, তার অধিকারের কথা। আর পুরুষ সহকর্মীদের সেই কথার যৌক্তিকতা শুনতে হবে। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই তৈরি হবে আগামীর পথচলা। প্রত্যাশা অনেক, সম্ভাবনাও অনেক।

লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, বাংলা ট্রিবিউন

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ