জয়ের জয়যাত্রা: বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা

Send
আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন
প্রকাশিত : ১১:৩৮, অক্টোবর ২১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৪, মে ১৬, ২০১৭

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসজীব ওয়াজেদ জয়ের আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পুরস্কার প্রাপ্তি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের জয়যাত্রার প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১ তম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে এবারই প্রথম চালু হওয়া এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রাপ্তি জাতির জন্য এক বিরল সম্মান।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গৃহবন্দী শেখ হাসিনার কোল আলো করে জয়ের জন্ম লাভ। তার নানা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন, বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। এশিয়ার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের লালনভূমি। পঁচাত্তরের মধ্যে ১৫ আগস্টের নৃশংস বর্বরতা মা-বাবা, খালার সঙ্গে তাকেও ‘রিফিউজি’র জীবন যাপনে বাধ্য করেছিল। ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর অন্ধকারে নিমজ্জিত প্রিয় মাতৃভূমির প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের আপামর নেতা-কর্মীদের আকুল আহবান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা উপেক্ষা করতে পারেননি। ১০ বছর বয়সী জয় এবং সাড়ে আট বছর বয়সী কোলের শিশুকন্যা পুতুলকে বোর্ডিং স্কুলে দিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
১০ বছর বয়স থেকে একটি শিশুর একা পথ চলা। প্রাচ্য ও পাশ্চাতের স্বনামধন্য ও মর্যাদাবান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করে নিজেকে একজন গ্লোবাল বাঙালি হিসেবে গড়ে তুলতে তাকে দীর্ঘ কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। নানা ও মা’র স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও ক্ষিপ্র কর্মদক্ষতার রক্ত তার ধমনীতে প্রবাহিত। তার মানস গঠনে দেশপ্রেমিক মা জননেত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণ চিন্তার প্রভাব অপরিসীম। এ কারণেই শিক্ষাজীবন থেকেই দেশের জন্য নতুন কিছু করার চিন্তা তাকে পেয়ে বসে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের চলমান উন্নয়ন ধারা ও ট্রানজিশন তিনি গভীরভাবে অবলোকন করেন। মনোযোগী হন তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান আহরণে। অর্জিত জ্ঞান বাংলাদেশে প্রয়োগের উপযোগী করে কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশ না করেও তিনি একটি জাতিকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে উজ্জ্বীবিত করেন। স্বপ্নের প্রতি শতভাগ কমিটেড থেকে ২০০৯ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব লাভের পর প্রথম সুযোগেই তিনি ডিজিটাল দেশ গড়ার জয়যাত্রার সূচনা করেন।

আমাদের বঙ্গোপসাগরের তলদেশ দিয়ে চলে যাওয়া ফাইবার অপটিক্যাল লাইনের সংযোগ বিনে পয়সায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিএনপি সরকার দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছিল। সেই দেশে সজীব ওয়াজেদ জয়ের চিন্তায়, প্রয়োগে আজ প্রত্যন্ত ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ্য অপটিক্যাল ফাইবার লাইন বসেছে। আইসিটি খাত গত অর্থবছর ৫০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি করেছে। এ বছরের টার্গেট ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সালের টার্গেট ৫ বিলিয়ন ডলার। জয়যাত্রার লক্ষ্য স্থির করে তা অর্জনের জন্য দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বিশ্বমানের আইসিটি অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। স্বল্পতম সময়ে আইসিটি খাতের আয় বাংলাদেশের প্রধান রফতানি আয় গার্মেন্টস্ সেক্টরকে ছাড়িয়ে যাবে। কায়িক শ্রমের আয়ের পাশাপাশি বুদ্ধিভিত্তিক রফতানি আয়ের সম্ভাবনার স্বপ্ন দুয়ার উম্মোচন বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য উন্নয়ন ও মর্যাদার এক মাহেন্দ্রক্ষণ। ই-গভর্নেন্সও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি হ্রাসে আইসিটি খাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। দুর্নীতিতে ৫ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের কালিমা থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ দুর্নীতি হ্রাসে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে।

জয়ের জয়যাত্রা বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে এখন তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র রাষ্ট্র সমূহকে আগ্রহী করে তুলেছে। এখন পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র জয়যাত্রার এই মডেল বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করছে। নিঃসন্দেহে রাষ্ট্র হিসেবে এটি অনেক বড় গর্বের বিষয়। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি হ্রাসের এই মডেল সমগ্র বিশ্বে সমাদৃত হতে চলেছে।

বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়- তিন প্রজন্মের জয়যাত্রা বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে ভিক্ষুকের জাতি থেকে উন্নত, সমৃদ্ধ জাতিতে উন্নীত করছে। বঙ্গবন্ধু এ জাতিকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম আবাসভূমি এবং মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের মধ্যেই একটি আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামো, উন্নত সংবিধান এবং মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ও দর্শন দিয়ে গেছেন। জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষুধা, দারিদ্রের জাঁতাকলে পিষ্ট অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব নিয়ে ক্ষুধামুক্তির অসাধ্য সাধন করেছেন। মহাউন্নয়ন, কল্যাণ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংহত করণের এক বন্ধুর পথে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছেন। অতি দারিদ্রের হার ১২.২ শতাংশে নামিয়ে এনে বাংলাদেশকে আজ সমগ্র বিশ্বের দারিদ্র্য বিমোচনের রোল মডেলে উন্নীত করেছেন। জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, রফতানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, নাগরিকদের খাদ্য, পুষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান - সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অসীম অর্জন আজ বিশ্ব স্বীকৃত। শেখ হাসিনা আজ ভিক্ষুকের সরকার প্রধান নন, বিশ্বনন্দিত উন্নত শির রাষ্ট্রনায়ক।

বঙ্গবন্ধু রেখে যাওয়া বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুকন্যা পিতার স্বপ্নপূরণের পথে অকুতোভয় এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। আর তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ না করেও মা’র সঙ্গে কদমে কদম মিলিয়ে দেশকে ডিজিটাইজেশনের পথে এগিয়ে নিতে অসামান্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এই উপমহাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রক্তের উত্তরাধিকারের রাজনীতির নেতৃত্ব গ্রহণের অসংখ্য উদহারণ রয়েছে। দলের সর্বপর্যায়ের নেতাকর্মীরা আবেগে আপ্লুত হয়ে এবং দলীয় সংহতি রক্ষার জন্য নেতার যোগ্য সন্তানদেওর পরবর্তী নেতৃত্বের আসনে আসীন করে থাকে। সন্তানরা নেতৃত্বে আসীনের পূর্বে দেশ ও দলের জন্য কোনও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন এমন উদাহরণ নেই। নেতার মৃত্যুর পর বা তাদের বার্ধক্যের সময়ে সন্তানরা দলের বৃহত্তর প্রয়োজনে নেতৃত্বের আসন গ্রহণ করেন। এ লেখাটি কাউকে খাটো করার জন্য নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে নেতার সন্তান যারা নেতৃত্বে আসীন হন, তাদের অনেকে বিপুল সফলতা অর্জন করেছেন। অনেকে আবার দল ও দেশ দু’টিরই সর্বনাশ করেছেন।

এক্ষেত্রেও সজীব ওয়াজেদ জয় ব্যতিক্রম। তার নানা ও মা’র হাতে গড়া প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সফল নেতা-কর্মীর প্রত্যাশার পরও তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এখনও আসছেন না। এবারের সম্মেলনে শুধুমাত্র কাউন্সিলার হতে সম্মত হয়েছেন। রাজনীতিতে প্রবেশ করার পূর্বেই তার অর্জনের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন, প্রয়োগ ও অর্জন এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
তিনি রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশের পূর্বেই একটি জাতিকে একটি বিশাল উপহার দিয়েছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। এই দূরদর্শী, অভিজ্ঞ, গতিশীল, প্রত্যয়ী ইয়াং গ্লোবাল লিডার যখন রাজনীতি ও রাষ্ট্রের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তখন তিনি বাংলাদেশ ও বিশ্ব মানব জাতিকে আরও অনেক অনেক বেশি উপহার দেবেন বলেই সকলের বিশ্বাস। মর্নিং সোজ্ দ্য ডে। তোমার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। তোমার জয়যাত্রায় বাংলাদেশ ও বাঙালির বিশ্ব জয়ের পথ রচিত হোক, জয় বাংলাদেশ।

লেখক: সংসদ সদস্য

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ