পক্ষটা নুরের নয়, আইনের শাসনের

Send
প্রভাষ আমিন
প্রকাশিত : ১৫:২২, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৩, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

প্রভাষ আমিনগত সপ্তাহে এই কলামে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের প্রতিবাদী মানববন্ধনের ওপর ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’-এর হামলার প্রতিবাদ করেছিলাম। ভারতে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ১৭ ডিসেম্বর রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করছিল ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সংগঠন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার নুরের নাই, এই অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। হামলার প্রতিবাদ করার পাশাপাশি আমি ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’-এর ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে বলেছিলাম। নামের সঙ্গে ‘মুক্তিযুদ্ধ’-এর মতো আমাদের অতি আবেগের ও স্পর্শকাতর শব্দ ব্যবহার করা এই ভুঁইফোঁড় সংগঠনটি বারবার নানা জায়গায় হামলা চালিয়ে আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে।

আর বারবার হামলা করে নুরুল হক নুরকে ডাকসু ভিপি বানানো হয়েছে। এখন আরও  বড় নেতা বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। হামলা চালিয়েই নুরকে প্রচারের আলোয় রাখছে কখনও ছাত্রলীগ, কখনও তাদের আশীর্বাদপুষ্ট মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ১৭ ডিসেম্বরের হামলাটি ছিল নুরের ওপর অষ্টম হামলা। ‘প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে’ শিরোনামে আমার কলামটি ছাপা হয়েছিল ২১ ডিসেম্বর। কিন্তু যথারীতি বারবার হামলা করে নুরকে হিরো বানানো এবং মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে হামলা চালানোর ব্যাপারে কারও টনক নড়েনি। লাই পেতে পেতে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে যায়। আমার লেখাটি ছাপা হওয়ার পরদিন ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে ঘটে আরও বড় হামলা। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আর ছাত্রলীগ মিলে ডাকসু ভবনে বাতি নিভিয়ে নুর এবং তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়। দু’জনকে ডাকসু ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। হামলা আড়াল করতে গায়েব করে দেওয়া হয় সিসিটিভির ফুটেজ। আহতদের একজনকে লাইফ সাপোর্টে নিলে টনক নড়ে সরকারের। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতারা ছুটে যান হাসপাতালে। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। সাধারণ সম্পাদকসহ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে। আমার ধারণা বুয়েটের আবরারের মৃত্যুর কারণেই সরকার এবার তৎপর হয়েছে। হামলা, মারামারি করে যে কোনও লাভ হয় না, বরং দল, সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়; সেটা আরও আগে বুঝলে আরও ভালো হতো। নুরের ওপর প্রথম হামলার পরই যদি সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতো, তাহলে পরের ৮টি হামলা হতো না। একজন ব্যক্তির ওপর ৯ বার হামলা কী প্রমাণ করে? প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন নেই, ছাত্রলীগের ওপর সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। এটা কোনোভাবেই সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ভালো নয়। দেরিতে হলেও সরকার এটা বুঝতে পেরেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের কথা, নির্দেশের কথা জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি এও বলেছেন, ‘ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। ডাকসু ভিপির আমাদের সমালোচনা করার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার আছে।’

কিন্তু এই অধিকারের ব্যাপারে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ধারণা খুব কম। তারা বিশ্বাস করে গায়ের জোরের প্রতিরোধে। ওবায়দুল কাদেরের ভাবনার সঙ্গে ছাত্রলীগের মাঠের কর্মীর যোজন যোজন ফারাক। ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের পরও ছাত্রলীগ নেতারা ডাকসু ভিপির ওপর হামলার যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা করেন, তাকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দেন। কেউ কেউ বলছেন, আমি থাকলে নুরকে ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দিতাম না। সংগ্রাম অফিসে হামলাকে সমর্থন করে অনেকে বলছেন, আমি থাকলে আবুল আসাদের জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলতাম। অনেকের কণ্ঠে শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই-প্রতিরোধের ডাক। তাদের কথা শুনে আমি অবাক হই। মনে হয়, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায়। আর ছাত্রলীগের বীরেরা শিবিরের সঙ্গে লড়াই করছেন মাঠে-ময়দানে। আরে ভাই আশি ও নব্বই দশকে বিরুদ্ধ সরকার ক্ষমতায় থাকতে শিবিরের সঙ্গে লড়াই করা আর পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকতে শিবিরের ওপর হামলা এক নয়। 

নুরের ওপর সর্বশেষ হামলার যুক্তি হিসেবে হামলাকারীরা বলছিলেন, নুর কেন ডাকসু ভবনে বহিরাগতদের নিয়ে এলো। আরে ভাই ডাকসু ভবন বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোনও রেডলাইট এরিয়া নয়। সবার সেখানে অবাধ প্রবেশাধিকারের সুযোগ রয়েছে। আর নুর ডাকসুর ভিপির পাশাপাশি ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাও। সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেই পারে। এ ব্যাপারে কোনও সমস্যা হলে সেটা প্রক্টর দেখবে বা পুলিশ দেখবে। নুরকে বারবার মারার কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, সে শেখ হাসিনার সমালোচনা করে, সরকার উৎখাতের হুমকি দেয়। আরে ভাই বিরোধী দলের কাজই তো এটা। তারা সরকারের সমালোচনা করবে, উৎখাতের চেষ্টা করবে। যতক্ষণ না কেউ আইন হাতে তুলে নিচ্ছে, ততক্ষণ তা অপরাধ নয়। ওবায়দুল কাদের বলছেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। আর কেউ সরকারের সমালোচনা করলে আপনি তাকে মারবেন, এটা তো হবে না। আপনি নিশ্চয়ই ওবায়দুল কাদেরের চেয়ে বড় আওয়ামী লীগার নন। সরকারের চেয়ে বড় সরকার নন। 

আমি সবসময় আইনের শাসনের কথা বলে আসছি। প্রতিটি হামলার প্রতিবাদ করেছি আমি। ছাত্রলীগ আইন হাতে তুলে নিলেও আমি তার প্রতিবাদ করি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্রসফায়ারের নামে কাউকে বিনা বিচারে হত্যা করলে তারও প্রতিবাদ করি। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আমার আকাঙ্ক্ষার সমান্তরাল নয়। কিন্তু এই শেখ হাসিনাই আইনের শাসনের দুটি অসাধারণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, যা প্রশংসিত হয়েছে বিশ্বজুড়ে। শেখ হাসিনা চাইলে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসিতে ঝোলাতে পারতেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের ফাঁসির মঞ্চে নিতে তাকে দুইবার ক্ষমতায় আসতে হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও হয়েছে বছরের পর বছর। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে নিজামী ফাঁসিতে ঝোলার আগে বিচারের সব সুরক্ষা পায়, আর ছাত্রলীগ নিজামীর ছানাপোনাদের ওপর হামলা করে। বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই একটা প্রবণতা আছে, পছন্দ না হলে কারও গায়ে ‘শিবির’ ট্যাগ লাগাও এবং পেটাও। যেন কেউ শিবির হলেই কাউকে পেটানো জায়েজ হয়ে যায়। বুয়েটে আবরারকে ‘শিবির’ বলেই পিটিয়ে মারা হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবির একটি ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদের পূর্বসূরি ইসলামী ছাত্রসংঘ একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগী ছিল। বুদ্ধিজীবী হত্যার পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে ইসলামী ছাত্রসংঘের ঘাতকেরা। সেই ছাত্রসংঘ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ছাত্রশিবির হিসেবে আবির্ভূত হয়। নাম বদলালেও খাসলত বদলায়নি শিবির। নৃশংসতাই যেন শিবিরের ট্রেডমার্ক। বিশেষ করে রগ কেটে দেওয়ার নির্মমতা শিবিরের একান্ত নিজস্ব। আশির দশকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে শিবির মানেই আতঙ্ক। কিন্তু তাই আওয়ামী লীগ ১১ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও আপনি ‘শিবির’ হলেই কাউকে পেটাতে পারেন না। আমরা বহুদিন ধরে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছি। যতক্ষণ সরকার নিষিদ্ধ না করবে, যতক্ষণ তারা আইন হাতে তুলে না নেবে; ততক্ষণ তাদের ওপর হামলা করার, তাদের পেটানোর অধিকার নেই আপনার।

ছাত্রলীগের কাছে শিবির খারাপ, ছাত্রদল খারাপ, নুর খারাপ, বাম খারাপ। তাহলে কি ছাত্রলীগ ছাড়া আর কারও রাজনীতি করার অধিকার নেই। ভিন্নমত থাকবেই। আপনি রাজনীতি দিয়ে রাজনীতি মোকাবেলা করবেন; অস্ত্র দিয়ে নয়, হামলা করে নয়, গায়ের জোরে নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই শিবিরমুক্ত। পরিবেশ পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন লখিন্দরের বাসর ঘরের মতো কোনও ফাঁক দিয়ে শিবির ঢুকতে না পারে। কিন্তু নুরকে পিটিয়ে তাকে আরও বড় নেতা বানানো যাবে, শিবির ঠেকানো যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রগতিশীল বাম সংগঠন যে নুরের সঙ্গে জোট বাঁধলো, এটা কি ছাত্রলীগের পরাজয় নয়?

যতবার নুরের ওপর হামলা হয়েছে, ততবার আমি প্রতিবাদ করেছি। কেউ কেউ অবাক হয়ে বলেছেন, আপনি না স্বাধীনতার পক্ষের লোক, নুর তো শিবির করে, তাহলে তাকে মারলে আপনার লাগে কেন? আমি তাদের বলেছি, আমি অবশ্যই স্বাধীনতার পক্ষের, বাংলাদেশের পক্ষের লোক। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো আইনের শাসন, পরমতসহিষ্ণুতা। নব্বইয়ের দশকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনে মাঠে ছিলাম, পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দেশের বিভিন্নস্থানে ঘুরে গণতদন্ত কমিশনের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করেছি। সেটাও কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ছিল। জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালতে গোলাম আযমের অপরাধ ফাঁসির দণ্ডতুল্য বলা হয়েছে, কোথাও হামলা করা হয়নি। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা অভূতপূর্ব গণজাগরণ মঞ্চও কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক ছিল। দাবি করেছে, আইন হাতে নেয়নি। আর এখন আপনারা নিজেদের সরকার ক্ষমতায় থাকার সুবাদে আইন হাতে তুলে নিয়ে খুব বীরত্ব ফলান।

শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে  বিস্তার ঘটিয়েছিল তার কাউন্টার হিসেবেই সুকৌশলে মাঠে নামানো হয়েছিল কোটা বিরোধীদের। নুর শিবির করেন কিনা জানি না। কিন্তু তিনি যে আন্দোলন থেকে উঠে এসেছেন, সেটি বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবমাননার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। এই আন্দোলন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে স্লোগান উঠেছে, ৪৮ বছরের বাংলাদেশে এর আগে কেউ কখনও এই ধৃষ্টতা দেখায়নি। জামায়াত-শিবির কেন কোনও স্বাধীনতাবিরোধীই বাংলাদেশের কোনও স্থানে কখনও গায়ে ‘আমি রাজাকার’ লিখে দাগানোর সাহস পায়নি। কিন্তু কোটা আন্দোলনের সুবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র ক্যাম্পাসকে অপবিত্র করেছে কিছু তরুণ। নুরেরা সাফল্যের সঙ্গে তরুণদের ভুল বোঝাতে পেরেছিল, তোমাদের আসল শত্রু মুক্তিযোদ্ধারা। তারাই তোমাদের চাকরি নিয়ে নিচ্ছে। মুখে কোটা সংস্কারের কথা বললেও তাদের আসল চাওয়া ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল। তাই প্রধানমন্ত্রী যখন সব কোটা বাতিল করে দিলেন, তখনও তারা খুশি হওয়ার বদলে গোস্‌সা করেছিল।

নুরের মতো কোনও সংগঠন ছাড়া একটি ছেলে এত বড় ভুল আন্দোলন সংগঠিত করে ফেললো, তাহলে ১১ বছর ক্যাম্পাসে একচ্ছত্র কায়েম করা ছাত্রলীগ কী করলো? ছাত্রলীগ কেন সরকারকে দিয়ে কোটার প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন থেকে বঞ্চনার বোধটুকু মুছে দিলো না? মনে হয় হল দখলের ব্যাপারে ছাত্রলীগের যতটা মনোযোগ ছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনের খবর নেওয়ার ব্যাপারে ততটাই উদাসীন ছিল। 

স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ সবাই তখন নুরদের স্বার্থপর আন্দোলনকে আস্কারা দিয়েছে। এখন তো শোনা যাচ্ছে, ছাত্রলীগের সোহাগ-জাকির কমিটি নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নুরদের আন্দোলনে হাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল রাখতে চেয়েছিল। আমি কিন্তু দিনের পর দিন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের স্বার্থপর, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতা করে লিখেছি। আর কোনও সভ্য দেশই কখনও কোটামুক্ত হতে পারে না। কোটা বৈষম্য সৃষ্টি করে না, বৈষম্য দূর করে। নৈতিকভাবে নুরদের দাবির বিপক্ষে হলেও আমি তাদের দাবি জানানোর অধিকার, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। তাই পুলিশ যখন তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করেছে, আমি প্রতিবাদ করেছি। ছাত্রলীগ যখন হামলা করেছে, প্রতিবাদ করেছি। আবার ভিসির বাসভবনে হামলারও প্রতিবাদ করেছি। নুরের ওপর যতবার হামলা হয়েছে, প্রতিবাদ করেছি। অনেকে বিস্মিত হয়ে আমাকে প্রশ্ন করেন, আপনি আসলে কোন পক্ষ? আমি হেসে বলি, আমি স্বাধীনতার পক্ষে, বাংলাদেশের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে। আমি চাই রাজনীতির মোকাবেলাটা রাজনীতি দিয়েই হোক, গায়ের জোরে নয়। লড়াইটা হোক আদর্শের, লাঠির নয়। যুক্তির জবাবে যুক্তি আসুক, গালি নয়। পক্ষটা নুরের নয়, আইনের শাসনের।

ওবায়দুল কাদের যদি তার ছাত্রবাহিনীকে বুঝিয়ে দেন, সরকারের সমালোচনা করার, সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করার, সরকার উৎখাতের শান্তিপূর্ণ চেষ্টা করার, এমনকি শেখ হাসিনার সমালোচনা করার অধিকারও সবার আছে। তারা পাল্টা যুক্তি নিয়ে, পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামুক। জনগণের কাছে গিয়ে বোঝাক, কেন শেখ হাসিনার বিকল্প নেই, কেন আওয়ামী লীগ ভালো; তাহলে ভালো হয়। নীতিনির্ধারকরা বলবেন এক কথা, আর কর্মীরা করবেন আরেক কাজ; তা তো হয় না।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ