যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে নির্বাচনের প্রাথমিক তথ্য থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক মেরুকরণের এই নির্বাচনে শ্রেণি, বর্ণ, বয়স ও রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি ভুল তথ্য ও সহিংসতার হুমকি নির্বাচনে আলোচনায় ছিল।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির ভোট গণনা অনুসারে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের তুলনায় রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন। অর্থনীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের দৃষ্টি ট্রাম্পের দিকে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া লাতিনো ও তরুণ ভোটাররাও ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝুঁকেছে। তবে এ বছর এপির ভোটকাস্টের প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, এসব ভোটার ট্রাম্পের দিকে কিছুটা ঝুঁকেছেন।
যেখানে ২০২০ সালে বাইডেনকে ৬০ শতাংশ তরুণ ভোটার সমর্থন দিয়েছিলেন, এবার হ্যারিস পেয়েছেন প্রায় ৫০ শতাংশ সমর্থন। একইভাবে, কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে হ্যারিসের প্রতি সমর্থন ৮০ শতাংশের নিচে নেমেছে। লাতিনো ভোটারদের মধ্যে ৫০ শতাংশের কিছুটা কম সমর্থন পেয়েছেন হ্যারিস, যা ২০২০ সালে বাইডেনের তুলনায় কম।
নির্বাচনে জয়ী যেই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্টকে এক গভীরভাবে বিভক্ত জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে। এপি ভোটকাস্টের তথ্য অনুসারে, ভোটারদের মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ ভোটার বলছেন যে, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। ২০ শতাংশ ভোটার অভিবাসনকে প্রধান সমস্যা বলে মনে করেন। যা ট্রাম্পের প্রচারের অন্যতম মূল বিষয় ছিল। ১০ শতাংশ ভোটার হ্যারিসের প্রচারের মূল স্তম্ভ হিসেবে গর্ভপাতের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রথমবারের মতো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়েছেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক অভিযোগ থাকলেও নির্বাচনে এটি তেমন প্রভাব ফেলেনি। ভোটকাস্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সমর্থকদের এক-চতুর্থাংশের জন্য এই আইনি বিষয়টি তেমন বড় উদ্বেগ ছিল না।
বিপরীতে, কমলা হ্যারিসের নৈতিকতা নিয়ে ভোটারদের আস্থা ট্রাম্পের তুলনায় বেশি ছিল।
সূত্র: এপি









