আগামী ২১ জুন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিভিন্ন ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ৪ দিনের সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ইস্যুর পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দিল্লির অবস্থানের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
জো বাইডেন ও ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে আমেরিকা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২১ থেকে ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন তিনি। তার চারদিনের সফর রয়েছে ঠাসা কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউজে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, প্রতিরক্ষা সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়চুক্তি, মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ, ওয়াশিংটনে প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে ভাষণের মতো অনুষ্ঠান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, আগামী ২২ জুন হোয়াইট হাউজে মোদির সঙ্গে আলোচনায় রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যু উত্থাপন করতে পারেন বাইডেন।
ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সর্বাত্মক হামলার শুরু থেকেই কৌশলগত অবস্থানে দিল্লি। যুদ্ধ চলা অবস্থায় মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটি থেকে জ্বালানি তেল কিনে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে মোদি সরকার। এসব নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় দেশটির।
সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিল্লির অবস্থান সম্পর্কে জানাবেন যে সংলাপ এবং কূটনীতি যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র পথ। যদিও ইউক্রেন প্রসঙ্গে ভারত দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে না বলে জানিয়েছে এই সফরের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সূত্র।
মোদি অবশ্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও মানবিক দিকটি তুলে ধরতে পারেন আলোচনায়। সূত্রটি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যেকোনও উপায়ে তার সরকারের সমর্থনের দিকটি খোলাখুলিভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন বাইডেনকে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণে মস্কোর বিরুদ্ধে নিন্দা না জানানোয় সমালোচিত হন তিনি। এখন সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সফরটি সুযোগ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মোদির এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক অ্যামি বেরা। তার মতে, বর্তমান বিশ্বে উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ভারতের উত্থান– এই দুই কারণ নরেন্দ্র মোদির সফরের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। সূত্র: ডেকান হেরাল্ড








