রাশিয়ার সেনাবাহিনীর প্রায় ৪০ মাইল দীর্ঘ সামরিক বহর কিয়েভের বাইরে অবস্থান নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগের পাহাড় জমা হচ্ছে। তিনদিন আগে বহরটির কথা জানা গেলেও সর্বশেষ অবস্থান ও এটি কেমন হুমকি তৈরি করছে, তা সম্পর্কে নতুন তথ্য না পাওয়ার কারণে এমন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, রুশ সামরিক বহর মনে হচ্ছে ‘স্থবির’ হয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, বহরের সঙ্গে থাকা প্রায় ১৫ হাজার সেনা পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে এবং কিয়েভে সম্ভাব্য হামলা চালানোর জন্য সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছার অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর মূল কলাম কিয়েভের উত্তর দিক থেকে এগোচ্ছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে এখনও ৩০ কিলোমিটারের বেশি দূরে রয়েছে তারা। তাদের অগ্রগতি কমিয়ে দিয়েছে ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ, কারিগরি জটিলতা ও যানজট।
বহরটি অবস্থান ও কেমন হুমকি সৃষ্টি করবে, তা জানার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের আকাশ মেঘে ঢেকে যাওয়ার কারণে, এমনটি জানিয়েছে মাক্সার টেকনোলজি। এই প্রতিষ্ঠানই প্রথম স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে বহরটির কথা জানিয়েছিল।
এক বিবৃতিতে মাক্সার জানায়, ইউক্রেনের আকাশ ভারী মেঘের চাদরে ঢেকে গেছে এবং এটি বহরটির বর্তমান সক্রিয়তা সম্পর্কে স্যাটেলাইট ছবিভিত্তিক নতুন তথ্য পাওয়া থেকে বিরত রেখেছে।
ইউক্রেনের অন্যত্র রুশ সেনাদের গতিবিধি সোশাল মিডিয়াতে ভালোভাবেই উঠে আসছে। কিন্তু কিয়েভের বাইরে অবস্থান নেওয়া বহরটি সম্পর্কে কোনও নতুন তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, রুশ বাহিনী হয়ত বহরের আশেপাশের এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
৪০ মাইল দীর্ঘ বহরটি কিয়েভের উত্তরে পি০২ রোডে পাশাপাশি তিনটি সারিতে আছে বলে ছবিতে দেখা গেছে। বহরে থাকা সামরিক যানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাঁজোয়া যান, ট্যাংক, ট্রাক, তেলের ট্যাংকার ও কামান। বহরে এগুলোর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় রাশিয়ার সেনাবাহিনী কিয়েভ আক্রমণের জন্য জড়ো হচ্ছে।
বহরটি সম্পর্কে সর্বশেষ মার্কিন পর্যালোচনা বুধবার রাতের। ওই দিন পেন্টাগন মুখপাত্র জন কিরবি জানিয়েছেন, রুশ সামরিক বাহিনী গতিবিধি ছিল সামান্য এবং তা স্থবির রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে জানান, হয়ত রুশ বাহিনীর পুনরায় সংগঠিত হওয়ার কারণে এই স্থবিরতা এসেছে।
কিরবি বলেন, ভৌগলিকভাবে গত ২৪-৩৬ ঘণ্টা বহরটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছিল না। এই ঘটনার আমরা সাধারণভাবে কয়েকটি কারণ ধারণা করছি। প্রথম কারণ হলো, আমরা মনে করি রুশরা নিজেদের পুনরায় সংগঠিত করছে এবং যে সাফল্য অর্জিত হয়নি তা পর্যালোচনা ও নষ্ট হওয়া সময় পুষিয়ে নেওয়ার উপায় বের করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় কারণ হিসেবে আমাদের মনে হয় তারা সরবরাহ ও টিকে থাকার প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে। আমরা মনে করি না এমন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তাদের ধারণায় ছিল। তৃতীয়ত, ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধের মুখে পড়ছে তারা। আমাদের কাছে ইঙ্গিত রয়েছে, শতভাগ নিশ্চিত হয়ে আমরা বলতে পারছি না।
অপর এক মার্কিন সিনিয়র প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, রুশ বহর জ্বালানি ও সংকটে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, রুশ সেনারা শিগগিরই তাদের ভুল পদক্ষেপ সম্পর্কে সজাগ হয়ে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। বহরের স্থবিরতা রাশিয়ার জন্য একাধিক কৌশলগত সমস্যা তৈরি করেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে প্রথম বড় একটি শহর খেরসনের দখল নিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রগুলোর দিকে এগোচ্ছে। এনারহোডার অঞ্চলের মেয়র জানান, শহরের প্রান্তে রুশ ও ইউক্রেনীয় সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রুশ বোমা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর মারিউপোল বৃহস্পতিবার অবরোধ করেছে রুশ বাহিনী। রুশ বাহিনী ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, এপি









