পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল লুহানস্ক। অঞ্চলটিতে এখন কামানের তোপের শব্দ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েই পূর্বে মনোযোগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। ডনবাসের শহর এবং উপ শহরের মধ্যে দিয়ে চলাচলের সময় এখন কামানের শব্দ শোনা যায়। কিন্তু লুহানস্কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এখন ইউক্রেনের বিভিন্ন পেশার অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাও যোগ দিচ্ছেন যুদ্ধে।
লুহানস্ক এবং ডোনেস্ক-এর কিছু কিছু অংশ আগে থেকেই রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লুহানস্কের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং ডোনেস্কের অর্ধেকের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে রাশিয়া। এসব জায়গায় সম্প্রতি হামলা অনেক বেড়েছে।
অঞ্চলটিতে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে লড়াই চলছে ইউক্রেনীয় বাহিনীর। পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলেছেন, ডনবাসে অবস্থানরত ইউক্রেনীয় বাহিনীর সবচেয়ে ভালো প্রশিক্ষিত ও সজ্জিত ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি রুশ সামরিক বহর লুহানস্কের আশপাশে বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা চাপে ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা। খুব শিগগিরই তাদের ঘেরাও করে ফেলতে পারে, এমন একটা শঙ্কা রয়েছে তাদের।
এসব বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিনিধি কথা বলেছেন একাধিক ইউক্রেনীয়র সঙ্গে। তাদেরই একজন ইউক্রেনীয় সেনা আনাতোলিয়া। রুশ সেনাদের অবস্থান বোঝার জন্য পেরিস্কোপের মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করেন ৫২ বছর বয়সী এই যোদ্ধা। এই ইউক্রেনীয় সেনা বলেন, ‘আমি রুশ দেখি, তারা আমরা মতোই দেখতে’।
মাতৃভূমি রক্ষায় নিজের অবস্থানে কঠোর আনাতোলিয়া। বলেন, ‘তারা (রুশ যোদ্ধা) যদি আমাদের অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আমি তাদের হত্যা করবো। যদি তাদের হত্যা না করি, তবে তারাই আমাদের মেরে ফেলবে। আর এটাই যুদ্ধের নিয়ম'।
২৭ বছর বয়সী আরেক সেনা আন্দ্রেজ কুকুর লুসিফাকে নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ভালো অস্ত্র এবং দুর্গ রয়েছে। রুশরা যদি এখানে আক্রমণ করে তারা হেরে যাবে’।
ইউক্রেনীয় সেনারা বলছেন, তাদের কাছে ট্যাংকবিধ্বংসী জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্রের মতো পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। আর এজন্য তারা কৃতজ্ঞ, তবে এসব আধুনিক অস্ত্র আরও পাওয়ার আশা করছে তারা।
আন্দ্রেজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একজন পাগল বলে অবিহিত করেছেন। কারণ রুশ সেনারা এখানে মারা পড়বে এবং সারে পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাদের বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। কিন্তু মনোবল চাঙ্গা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। এদেরই একজন ইউক্রেনীয় বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার রোমান। লভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনো করেছেন তিনি। এখন যুদ্ধের পাশাপাশি তিনি যোদ্ধাদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দিচ্ছেন।









