পূর্ব ইউক্রেনের কারামাটোরস্ক শহরের ট্রেন স্টেশনে রকেট হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।
আঞ্চলিক গভর্নর পালভো কিরিলেঙ্কো বলেছেন, আগে নিহতের সংখ্যা ৩৯ জানানো হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫০। হাসপাতালে বা চিকিৎসাকেন্দ্রে আহতদের নেওয়ার পর কয়েকজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, রেস্টশনে টচকা ইউ স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। এগুলো ক্লাস্টার বারুদ থাকে, যা মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়েছে। যার ছোট প্রাণঘাতী বোমার অংশ বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে পড়ে আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কারামাটোরস্ক রেলস্টেশনে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
রেলস্টেশনে প্রকৃত অর্থে কী ঘটেছে তা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।
ক্লাস্টার মিউনিশন (ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র) ২০০৮ সালের একটি কনভেনশন অনুসারে ব্যবহার নিষিদ্ধ। রাশিয়া এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি। কিন্তু অতীতে ইউক্রেনে এমন অস্ত্রের ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে আসছে তারা।
রেলস্টেশনে কোনও ইউক্রেনীয় সেনা ছিল না বলে জেলেনস্কি দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, রুশ সেনারা সাধারণ একটি রেলস্টেশন, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে, সেখানে কোনও সেনা অবস্থান করছিল না।
কারামাটোরস্ক শহরের মেয়র ওলেক্সান্ডার হনচারেঙ্কোর ধারণা, হামলার সময় রেলস্টেশনে প্রায় ৪ হাজার মানুষ ছিল। তিনি বলেন, কিছু মানুষ পা হারিয়েছেন, কেউ হারিয়েছেন হাত। তারা এখন চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে একসঙ্গে প্রায় ৪০টি অস্ত্রোপচার চলছে।
হোয়াইট হাউজ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কিয়েভ সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জোসেপ বোরেল ও ইইউ নির্বাহী উরসুলা ভন ডের লিয়েনও নিন্দা জানিয়েছেন এই ভয়াবহ হামলার।









