রুশ সেনাদের অবরোধ ও অবিরাম বোমাবর্ষণে হার মানেনি ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মারিউপোল। গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহে ঘাটতি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও প্রতিরোধের লড়াই জারি রয়েছে। ক্রেমলিন আক্রমণ পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিতে ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রতীক হয়ে উঠেছে বন্দর শহরটি। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রাশিয়ার অবরোধ শুরু হওয়ার ছয় সপ্তাহের বেশি পার হয়ে গেলেও ইউক্রেনীয় সেনারা পরাক্রমশালী রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একসময় আজভ সাগরের উপকূলে কোলাহলপূর্ণ শহরটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
শহরটির মেয়র জানান, শহরে এখনও ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ রয়ে গেছেন। যুদ্ধের আগে শহরটিতে জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ।
সব ধরনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয়রা মস্কোর পরিকল্পনা রুখে দিচ্ছে, রুশ সেনাদের অগ্রগতি থামিয়ে দিয়েছে এবং পূর্ব ইউক্রেনের শিল্পকেন্দ্র ডনবাসে পরিকল্পিত রুশ আক্রমণ বিলম্বিত করছে। দ্রুত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলে অপমানজনক ব্যর্থতার পর ক্রেমলিনের আশা, পূর্বাঞ্চলে হামলা যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ভাগ্য পাল্টে দিবে।
২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই মারিউপোল রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। এই শহর দখলের ফলে ক্রিমিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের স্থল করিডোর স্থাপন করতে পারবে রাশিয়া।
বিশাল আজভস্টল স্টিল কারখানা ও অপর শিল্প স্থাপনা রুশ গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাদ পড়েনি বাড়িঘর, হাসপাতাল ও পাবলিক স্থাপনা। নিহত হয়েছে হাজারো মানুষ।
মারিউপোলে নৃশংসতার জন্য পরিচিত চেচনিয়ার যোদ্ধাদের মোতায়েন করেছে মস্কো। চেচনিয়ার মস্কো সমর্থক নেতা রমজান কাদিরভ বারবার মারিউপোলে ইউক্রেনীয়দের পরাজিত হওয়ার দাবি করে যাচ্ছেন। যদিও লড়াই এখনও চলছে।
শহরটির মেয়র ভাদিমক বয়চেঙ্কো জানান, মারিউপোলে রুশদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ইউক্রেনীয় ইউনিট লড়াই করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৬তম মেরিন ব্রিগেড, আজভ রেজিমেন্ট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেনা এবং সীমান্তরক্ষীরা।
আজভ রেজিমেন্টকে দেশটির সবচেয়ে দক্ষ সামরিক ইউনিট হিসেবে মনে করা হয়। এই বাহিনী আজভস্টল স্টিল কারখানা রক্ষায় লড়াই করছে। কারখানাটি প্রায় ১১ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত।
আজভম্যাশ ও জাভোদ ইলিইচা কারখানা রক্ষায় লড়ছে ৩৬তম মেরিন ব্রিগেড। গোলাবারুদ ও রসদ ঘাটতিতে পড়া ইউনিটটি সম্প্রতি রুশ অবরোধ ভেঙে ফেলার বেপরোয়া চেষ্টা চালিয়েছে।
ব্রিগেডের ফেসবুক পেজে কর্মকর্তারা তাদের বীরোচিত প্রতিরোধের কথা তুলে ধরছেন। তারা বলছেন, একমাসের বেশি সময় ধরে মেরিন ইউনিট গোলাবারুদ, খাবার ও পানির সরবরাহ ছাড়াই লড়াই করে যাচ্ছে। আহত সেনাদের সংখ্যা ব্রিগেডের প্রায় অর্ধেক শক্তি কয়ে দিয়েছে। কিন্তু যাদের এখনও হাত-পা অক্ষত আছে এবং হাঁটতে পারেন তাদের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মেয়র বয়চেঙ্কো জানান, কিছু মেরিন সদস্য আজভ রেজিমেন্টে যোগ দিতে পেরেছে। কয়েকজনকে বন্দি করেছে রুশ সেনাবাহিনী। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি তিনি।
বৃহস্পতিবার রুশ সেনাবাহিনী দাবি করেছেন, ইউক্রেনের মেরিন বাহিনীর ১ হাজার ১৬০ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। তবে স্বতন্ত্রভাবে এই দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনীয় সেনারা মারিউপোলে যখন দৃঢ় প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে তখন রাশিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।









