ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেনিচেস্কের প্রধান চত্বরে বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ভ্লাদিমির লেনিনের একটি ভাস্কর্য স্থাপন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতাকা উড্ডয়ন করা হয়েছে। শহরের প্রধান কাউন্সিল ভবনের বাইরে লেনিনের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ওই ভবনের ছাদে ওড়ানো হয়েছে রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতাকা। শুক্রবার লেনিনের ১৫২তম জন্মদিনে এসব ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।
হেনিচেস্ক রাশিয়ার ভূখণ্ড নয়। কিন্তু ইউক্রেনে যতদিন রাশিয়ার আক্রমণ চলমান রয়েছে ততদিন রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে শহরটি।
২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণের প্রথম দিনেই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল রাশিয়া। শহরের অনেক বাসিন্দা রুশদের দখলদারিত্ব মেনে নেয়নি। প্রতিবাদ করেছে। তবে অনেক বাসিন্দা বিরোধিতার পরও শিগগিরই হয়ত তারা তথাকথিত পিপল’স রিপাবলিক অব খারসন-এর অন্তর্ভুক্ত হবেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চল বা প্রদেশে জালিয়াতিমূলক স্বাধীনতার গণভোট আয়োজন করতে পারে। সম্ভবত বুধবার তা আয়োজন করা হতে পারে। যাতে স্থানীয় কৃতজ্ঞ ভোটাররা ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হতে নিজেদের মত প্রকাশ করবেন।
এটাকে চিত্রনাট্য বলা যায়। ২০১৪ সালে সর্বশেষ এমন মডেল কাজে লাগিয়েছে রাশিয়া। ওই সময় পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উসকানি ও অস্ত্র দেয় রাশিয়া। ডনেস্ক ও লুহানস্কেও এমন ভোটের আয়োজন করা হয়। যা গণপ্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। রাশিয়া এখন ইউক্রেনে আরও ভূখণ্ড দখল করতে এবং প্রজাতন্ত্রগুলোর বিস্তৃতি চায়।
হেনিচেস্কসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় অপর শহরগুলোতে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে চাইছে মস্কো। এক্ষেত্রে বিরোধিতাকারীদের নিপীড়ন ও রুশ স্বার্থ বাস্তবায়নকারীদের জন্য বিকল্প রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা, অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাখোভকা শহরে বন্দিদের পুলিশ স্টেশনে মারধর ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেনের মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
শহরটির নতুন কর্তৃপক্ষ স্বতন্ত্র ও ইউক্রেনীয় টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। এর বদলে রাশিয়ার প্রোপাগান্ডা চ্যানেলের প্রচার হচ্ছে। যা ইউক্রেন থেকে সম্প্রচারিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ইউক্রেনের জাতীয় পরিচয় মুছে দিতে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। সরকারি ভবনগুলো থেকে ইউক্রেনের পতাকা নামিয়ে ফেলা হয়েছে। মেলিটোপোলে শিক্ষকদের রুশ ভাষায় শিক্ষাদান ও রাশিয়ার স্কুল পাঠ্যক্রম ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকজনকে হয়ত ক্রিমিয়ায় পুনরায় প্রশিক্ষিত হতে হবে। রুশ মিলিটারি পুলিশ ইউক্রেনীয় সাহিত্য ও পাঠ্যপুস্তক ধ্বংস করে দিয়েছে।
ইতিহাসবিদ আনে অ্যাপলবাউম জানান, ইউক্রেনে রুশ সরকারের এই কৌশল অপরিচিত নয়। ১৯৩৯ সালের দিকে দখলকৃত পোল্যান্ড, বাল্টিক দেশ ও মধ্য ইউরোপীয় অপর দেশগুলোতে যা করা হয়েছে মস্কো এখন তার পুনরাবৃত্তি করছে।
তিনি বলেন, এটি সোভিয়েত সিক্রেট পুলিশ ও রেড আর্মির আচরণের সুনির্দিষ্ট পুনরাবৃত্তি। মেয়র, জাদুঘর পরিচালক, সব ধরনের স্থানীয় নেতাসহ যাদের গ্রেফতার করতে তাদের তালিকা রয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ ও বেসামরিকদের হত্যা করছে, যাতে আতঙ্ক তৈরি হয়। তারা স্থানীয় প্রতীক – ভাস্কর্য, পতাকা, স্মৃতিসৌধ মুছে ফেলছে এবং নিজেদের গুলো তুলে ধরছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান









