ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পরও দেশটির ভেতর দিয়ে ইউরোপে গ্যাস রফতানি অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। রাশিয়ান গ্যাস ইউরোপে যাওয়ার প্রধান রুটই হচ্ছে এই ইউক্রেন। যদিও পর্যায়ক্রমে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে চাইছে জার্মানিসহ পশ্চিমা দেশগুলো। ওদিকে রুশ বাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন শহর পুনরুদ্ধারের দাবি করছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। সর্বশেষ খারকিভের আশেপাশের চারটি গ্রাম পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে তারা। প্রশ্ন উঠছে, রণাঙ্গনের লড়াইয়ে দৃশ্যত এমন সফলতার পর কী তাহলে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাসপ্রবাহে কিছুটা হলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে কিয়েভ? এরইমধ্যে ইউক্রেনের এ সংক্রান্ত কিছু প্রস্ততির খবরও আসতে শুরু করেছে।
ইউক্রেনের গ্যাস অপারেটর সংস্থা বলছে, তারা সোখরানিভকা ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে গ্যাস পুনঃনির্দেশ করবে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে কথিত বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। তবে দৃশ্যত এতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা মেলেনি মস্কোর। এক পর্যায়ে গত মার্চের শেষ দিকে কিয়েভ ছাড়ে রুশ বাহিনী। রাজধানী শহরের বদলে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার দিকে অগ্রসর হয় রুশ সেনারা। পূর্ব ডনবাস অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে তারা। এক্ষেত্রে খারকিভের কাছে ইজিয়াম শহরটিকে একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় সেনাদের সেখানে তিন দিকে থাকা রুশ বাহিনীর মোকাবিলা করতে হয়।
পুতিন একটি দীর্ঘ সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এভ্রিল হেইনস বলেছেন, পূর্ব ডনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার জয় পেলেই যুদ্ধের অবসান ঘটবে, এমনটা তিনি করেন না।
খারকিভের কাছে নতুন করে সংঘাতকে কেন্দ্র করে অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। রাশিয়ায় সরবরাহ লাইন নিয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে যেতে পারে কিয়েভ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ক্রমান্বয়ে রাশিয়ান বাহিনীকে খারকিভ থেকে হটিয়ে দিচ্ছে ইউক্রেনীয় সেনারা। এক ভিডিও ভাষণে তিনি বলেন, ‘সবাইকে অনুরোধ করতে চাই অতিরিক্ত আবেগ না ছড়ানোর জন্য। আমাদের অত্যধিক নৈতিক চাপের পরিবেশ তৈরি করা উচিত নয়, যেখানে প্রতি সপ্তাহে, এমনকি প্রতিদিনই বিজয়ের প্রত্যাশা থাকে।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, খারকিভের কাছে স্টারি সালটিভ এবং ভিলখিভকা গ্রামে ইউক্রেনীয় সেনারা যুদ্ধে নিহত রুশ সৈন্যদের মৃতদেহ জড়ো করেছে। ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষীরা জানিয়েছে, রুশ বাহিনী সীমান্তের কাছাকাছি সুমি এবং চেরনিহিভ অঞ্চলে গোলাবর্ষণ করছে।
টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া পোস্টে সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ‘শত্রু বিমান দুই দফায় সুমির সীমান্ত এলাকায় নন-গাইডেড মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। চেরনিহিভ অঞ্চলে মর্টার শেলিংয়ের দুইটি ঘটনা ঘটেছে।’
দক্ষিণাঞ্চলে শত্রুপক্ষের ৯টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের দাবি করেছে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী। তাদের দাবি, এসব হামলায় ৭৯ রুশ সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া সাঁজোয়া যান এবং হাউইটজারের মতো ১২টি সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে রুশ বাহিনী। সূত্র: রয়টার্স।









