ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের স্বাধীনতা মস্কোর কাছে শর্তহীন অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। রবিবার তিনি বলেন, ইউক্রেনের অন্য অঞ্চলগুলো তাদের ভবিষ্যত নিজেরাই নির্ধারণ করবে।
ফ্রান্সের টিএফ১ টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সের্গেই ল্যাভরভ জানান, ডনবাসের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে হামলা জোরালো করেছে রাশিয়া। ডনেস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল নিয়ে গঠিত ডনবাস ইউক্রেনের ঐতিহ্যবাহী শিল্পএলাকা।
ল্যাভরভ মস্কোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইউক্রেনে তাদের ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণের তৎপরতার পরে প্রতিবেশিকে নিরস্ত্রীকরণ করা এবং এটির ‘নাৎসি’-অনুপ্রাণিত জাতীয়তাবাদ পরিষ্কার করা। কিয়েভ এবং পশ্চিমা দেশগুলি এই দাবিগুলোকে ভূমি দখলের ভিত্তিহীন অজুহাত হিসাবে দেখে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত একটি পাঠ্য অনুসারে ল্যাভরভ বলেন, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের কাছে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃত ডনেস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলের স্বাধীনতা একটি নিঃশর্ত অগ্রাধিকার।’
ইউক্রেনের বাকি অঞ্চলের বিষয়ে ল্যাভরভ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না তারা একটি নব্য-নাৎসি শাসনের কর্তৃত্বে ফিরে যেতে পেরে খুশি হবে, যা প্রমাণ করেছে যে এটি মূলত রুসোফোবিক। এই জনগোষ্ঠীকে নিজেদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়ার অনুপ্রবেশ ‘অনিবার্য’ হয়ে ওঠে যখন পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনের রুশভাষী নাগরিকদের প্রতি অবহেলা এবং তাদের ওপর সামরিক হামলার ঝুঁকির প্রতি মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইউক্রেন এই ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করে আসছে।
গত কয়েক সপ্তাহে কিয়েভ এবং অন্যান্য ইউক্রেনীয় অঞ্চলে ব্যর্থ অগ্রগতি থেকে পিছিয়ে যাওয়ার পরে রাশিয়া ডনবাসের দিকে তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।
ল্যাভরভ বলেন, ‘হ্যাঁ, মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু কিন্তু অপারেশনে এত বেশি সময় লাগছে কারণ এতে অংশ নেওয়া রুশ সেনাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা এবং হামলা এড়াতে স্পষ্টভাবে কঠোর আদেশ দেওয়া আছে।’
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের চতুর্থ মাস চলছে। এতে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় নিহত এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেবে ৬৭ লাখের বেশি ইউক্রেনীয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারির পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স









