রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ নৌবাহিনী দূরপাল্লার জিরকন হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এটি একটি প্রাণঘাতী অস্ত্র, যা এখনও বিকাশমান। কিন্তু এই বছর শেষ দিকে ইউক্রেনে এই অস্ত্র মোতায়েন করা হলে তা যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।
শনিবার রুশ মন্ত্রণালয় জানায়, আর্কটিকের বারেন্টস সাগরে রুশ নৌবাহিনীর নর্দার্ন বহরের অ্যাডমিরাল গরশকভ ফ্রিগেট থেকে জিরকন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। শ্বেত সাগরে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে ৫৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে মহড়ার লক্ষ্যবস্তুতে তা আঘাত হেনেছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষার জন্য রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। জিরকন হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে।
বিবৃতির সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, রাশিয়ার নতুন ফ্রিগেট থেকে ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে উৎক্ষেপণ হয়েছে, পেছনে রয়েছে ধোঁয়া।
চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় রয়েছে। একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতি মাক ৫ বা বেশি। যা শব্দের চেয়ে দ্রুত। শব্দের গতি মাক ১ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গমন করে তার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের শুষ্ক বাতাসে প্রতি ঘণ্টায় ৬৭৬ মাইল হিসেবে পরিমাপ করেন।
অবশ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, জিরকন মাক ৯ গতিতে উড়তে পারে, যা শব্দের ৯ গুণ বেশি এবং ব্যাপ্তি ৬২০ মাইল।
অস্ত্রটি এখনও বিকাশমান এবং ধারণা করা হচ্ছে এই বছরের শেষ দিকের আগে তা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হবে না। কিন্তু এগুলো ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে। কারণ, এগুলো রুশ ক্রুজার, ফ্রিগেট ও সাবমেরিনে বসানো যায় এবং নৌ ও স্থলভাগের নিশানায় আক্রমণে ব্যবহার করা যাবে।
রুশ কর্মকর্তাদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারবে এবং বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এগুলোকে প্রতিহত করতে পারবে না।
গত বছরও রাশিয়া জিরকনের কয়েকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর পর রাশিয়া বেশ কয়েকটি নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে আরএস-২৮ সারমাত বা সাটান টু। এটি আন্তমহাদেশীয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এগুলো ১০ বা এর বেশি ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম।
পুতিন বলেছেন, সারমাতের কারণে মস্কোর বিদেশি শত্রুরা দুইবার ভাববে। আর জাতীয়তাবাদী রডিনা পার্টির চেয়ারম্যান আলেক্সি ঝুরাভলিয়ভ এপ্রিলে বলেছেন, একটি সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ আর থাকবে না।
কয়েকজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যদি যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন বলে মনে করেন পুতিন, তখন তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবতে পারেন।
ইউক্রেন যুদ্ধে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে রাশিয়া। দেশটির রাজনীতিকরা পারমাণবিক উত্তেজনার হুমকির বিষয়ে সতর্ক করছেন। আক্রমণের শুরুতে রুশ সেনাবাহিনী কিয়েভ দখলের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর দৃঢ় প্রতিরোধে পড়ে সেখান থেকে সরে আসে। এখন লড়াই তীব্র হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসে।









