রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, কৃষ্ণ সাগরে ন্যাটো বাহিনীর একটি ড্রোন অকেজো করে দিয়েছে রুশ বাহিনী। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থাটি জানায় রাশিয়ার ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম (ইডব্লিউ) ড্রোনটি অচল করে দেয়। তাদের দাবি ন্যাটোর মানুষবিহীন ড্রোনটি (ইউএভি) কৃষ্ণ সাগরে পরিদর্শণ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলো এবং ক্রিমিয়া উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো।
রাশিয়ার এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। আরআইএ নভোস্তি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে এই খবর জানালেও তার পরিচয় প্রকাশ করেনি। এছাড়া এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ন্যাটোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
আরআইএ নভোস্তি আগে এক খবরে জানায়, কৃষ্ণ সাগরের ক্রিমিয়া উপকূলে পরিদর্শন কার্যক্রম চালাতে চাওয়া ন্যাটো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে রাশিয়ার ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম (ইডব্লিউ)। তাদের দাবি ন্যাটোর পরিদর্শন সরঞ্জামগুলো উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না।
ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের সীমান্তে জোটের পূর্ব দিকের আকাশে পরিদর্শন অভিযান পরিচালনা করছে ন্যাটো। এসব অভিযানে ইউক্রেন যুদ্ধের মূল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে পশ্চিমা জোটটি।
ন্যাটো বরাবর দাবি করে আসছে এসব তথ্য কিয়েভেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না। তবে এপ্রিলে ফিনান্সিয়াল টাইমস এক খবরে জানায়, জোটের কোনও সদস্য রাষ্ট্র ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে পারে।
সংবাদপত্রটি জানায় ন্যাটোর কাছে বেশ কয়েকটি বোয়িং ই-৩এ রাডার প্লেন রয়েছে। আর এগুলোর মধ্যে ছয়টি তারা যেকোনও সময়ে আকাশে মোতায়েন করতে পারে।
রাশিয়ার কাছে বেশ কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম রয়েছে। এর মধ্যে কিছু চারশ’ কিলোমিটার দূর থেকেও যেকোনও লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম।
ক্রেমলিন বারবারই দাবি করেছে, পশ্চিমা সামরিক সরঞ্জামের বিরুদ্ধে তাদের বড় শক্তি নিজেদের ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা বিশ্লেষকরা খেয়াল করতে শুরু করেন যে রাশিয়া এক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশি দেশ ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। তাদের দাবি ইউক্রেনকে নাৎসীমুক্ত করতে এই ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ পরিচালনা করছে মস্কো।
সূত্র: নিউজউইক








