লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিজানিস কারিনস বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে হারাতে হবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেতাদের যেকোনও মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভুল করা চলবে না। সোমবার ইউরোপীয় কাউন্সিল সম্মেলনের আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে কারিনস সতর্ক করে বলেছেন, ইইউ-এর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা রুশ তেলে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত নিয়ে বিতর্ক করলেও তাদের মূল ও প্রথম মনোযোগ দেওয়া উচিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনে যুদ্ধে পরাজিত করায়।
তার মতে, এটিই হলো একমাত্র সমাধান, যা ভবিষ্যতে রুশ সামরিক আগ্রাসন থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেবে।
লাটভিয়ান প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ইউরোপের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যাতে রাশিয়া যুদ্ধে হারে এবং মুদ্রার অপর দিক হলো যুদ্ধে ইউক্রেন জিতবে। এছাড়া কোনও কিছু হলে তা হবে ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য খুব খারাপ।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও সুরক্ষার একমাত্র উপায় হলো রাশিয়ার হার। কারণ, এছাড়া কিছু হলে রাশিয়া নিজেকে পরাজিত মনে করবে না। তাই সংঘাত হয়তো আপাতত মন্থর, থেমে আছে, অতীতের অনেক সংঘাতের মতো। এরপর রাশিয়া ভাববে, তাদের লক্ষ্য কাজে লেগেছে, ভূমি দখল হয়েছে। এরপর তারা সামরিক পুনর্গঠন শুরু করবে এবং এগিয়ে যাবে ইউক্রেন কিংবা মলদোবা অথবা জর্জিয়া বা কাজাখস্তানের দিকে। যা দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে।
তার মতে, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হলো যুদ্ধে রাশিয়ার হার। তিনি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে বিভিন্ন রাজনীতিকদের ওপর সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে চাপ বাড়ছে। ইউরোপজুড়ে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। এর কারণ হলো ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ। ইউরোপজুড়ে সমাজের অনেক মানুষ হয়তো তা ভুলে যাবে এবং সরকারকে এই বিষয়ে কিছু করতে আহ্বান জানাবে। সরকারগুলো যেকোনও মূল্যে শান্তির দিকে হাঁটতে পারে। এই পথে আমরা গেলে নিশ্চিতভাবে আমাদের সবার জন্য কঠিন ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
কারিনস বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে শান্তির পক্ষে। এই ক্ষেত্রে শান্তি নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো যুদ্ধে রাশিয়াকে হারানো। এর মাধ্যমেই আমরা শান্তি অর্জন করতে পারবো।









