- সেভেরোডনেস্কের কেন্দ্রে রুশ আক্রমণ প্রতিহত করা কঠিন মনে করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী তবে মস্কো এখনও পূর্বাঞ্চলীয় শহরটি নিয়ন্ত্রণ করছে না বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা। গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটির আবাসিক এলাকা দখল করেছে রুশ বাহিনী এবং উপকণ্ঠে শিল্পাঞ্চল এবং আশেপাশের শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইঘু। মাক্সার টেকনোলোজিসের প্রকাশ করা স্যাটেলাইট ছবিতে সেভেরোডনেস্ক এবং কাছের রুবিজনে শহরে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির ছবি দেখা যাচ্ছে।
- লুহানস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের নিযুক্ত গভর্নর সেরহাই গাইদাই বলেছেন, ‘সেভেরোডনেস্কের কেউ আত্মসমর্পণ করবে না’। লুহানস্কের কেন্দ্রীয় এই শহরটিতে তীব্র লড়াই চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেভেরোডনেস্কে তীব্র লড়াই চলছে আর আমাদের প্রতিরোধ যোদ্ধারা শহরের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় লড়াই করছে।’
- রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে ‘ডনবাসের ইউক্রেনীয় গ্রুপ জনশক্তি, অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে’। মিয়াকোলাইভ অঞ্চলে দুইটি মিগ-২৯ এবং একটি এমআই-৮ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আরও ১১টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া।
- ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় উভয় পক্ষের উল্লেখযোগ্য অর্জন করার সম্ভাবনা কম।
- সেভেরোডনেস্কের একটি রাসায়নিক কারখানায় আটশ’ বেসামরিক আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দিমিত্রো ফিরতাসের এক আইনজীবী। ফিরতাস ওই কারখানার মালিক। মার্কিন আইনজীবি ল্যানি ডেভিস বলেন, এই আটশ’ জন বেসামরিক লোকের মধ্যে রয়েছে প্ল্যান্টের তিন হাজার কর্মচারীর মধ্যে প্রায় দুইশ’ এবং সেভেরোডনেস্ক শহরের প্রায় ছয়শ’ জন বাসিন্দা।
- আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, রাশিয়া আগ্রাসন চালানোর পর প্রথমবারের মতো চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি বিকিরণ শনাক্তকরণ যন্ত্র বিকিরণের তথ্য প্রদান করা শুরু করেছে। জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষক সংস্থাটি জানিয়েছে, চেরনোবিলের আশেপাশে বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।
- রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, শস্য রফতানি পুনরায় শুরু করতে পারার সমাধান ইউক্রেনের হাতে। ল্যাভরভ বলেন রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বলছি আমরা ইউক্রেনীয় বন্দর ছেড়ে বসফরাস উপসাগরের দিকে যাওয়া জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। সমস্যা সমাধানের জন্য, ইউক্রেনীয়দের কেবলমাত্র তাদের বন্দর থেকে জাহাজগুলোকে বের করতে দেওয়া দরকার, হয় তাদের মাইন নিষ্ক্রিয় করে বা নিরাপদ করিডোর চিহ্নিত করে।
- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের কোনও পূর্বশর্ত তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সব অঞ্চল থেকে দখলদারিত্ব অবসান অর্জন করতে চাই।’
- যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করতে ‘বুক অব এক্সিকিউশনার’ চালু করতে যাচ্ছে ইউক্রেন। জেলেনস্কি বলেছেন দখলদারিত্ব চালানোর সময় এসব অপরাধ করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় প্রসিকিউটররা জানিয়েছে, ১২ হাজারের বেশি যুদ্ধাপরাধ নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব অপরাধে ছয় শতাধিক সন্দেহভাজন রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
- ২১০ ইউক্রেনীয় যোদ্ধার মরদেহ কিয়েভের কাছে হস্তান্তর করেছে রাশিয়া। এদের বেশিরভাগই রুশ আগ্রাসন থেকে মারিউপোল রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী।
- রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, এক হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় চাকুরিজীবি এবং বিদেশি ভাড়াটে মারিউপোলে আত্মসমর্পণ করে আর তদন্তের জন্য তাদের রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
- দখলকৃত জাপোরিজ্জিয়ায় নিয়োগকৃত রুশ প্রশাসনের কর্মকর্তা ভ্লাদিমির রোজোভ বলেছেন, অঞ্চলটি রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা প্রশ্নে এই বছর গণভোট আয়োজন করা হবে।
- নরওয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তারা ইউক্রেনে ২২টি হাউইটজার ক্ষেপণাস্ত্র অনুদান দিয়েছে।









