প্রায় দুই সপ্তাহ প্রকাশ্যে উপস্থিতি না থাকার কারণে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শৌইগু কোথায় আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনে রুশ অভিযানের দায়িত্বে থাকার পরও গত ১২ দিন তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক এ খবর জানিয়েছে।
রাশিয়ার একটি স্বতন্ত্র অনুসন্ধানী নিউজ আউটলেট আজেনস্তোভো (দ্য এজেন্সি) সরকারের দুর্নীতি উন্মোচনে কাজ করে যাচ্ছে। তারা টেলিগ্রামে জানিয়েছে, কীভাবে পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সর্বশেষ ১১ মার্চ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হয়েছিলেন।
আজেনস্তোভো একটি অজ্ঞাত সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, শৌইগু হয়তো অসুস্থ এবং হৃদরোগ জটিলতায় ভুগছেন। যদিও সংস্থাটি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত পোস্টে তারা জানিয়েছে, ১৮ মার্চ চ্যানেল ওয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ওই দিন একটি অনুষ্ঠানে শৌইগু হাজির হয়েছেন। কিন্তু প্রতিবেদনে যে ছবি দেখানো হয়েছে তা ১১ মার্চ রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি ভিডিও থেকে নেওয়া বলে দাবি করেছে আজেনস্তোভো।
ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ১৮ মার্চ শৌইগুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান নিয়ে পুতিন তার নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করেন। শৌইগু ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হলেও তার কোনও ছবি বা ভিডিও ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি।
ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ শুরু হওয়ার দুই দিন পর ২৭ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ও চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভের সঙ্গে বৈঠকের পর আর পুতিনের সঙ্গে শৌইগুকে দেখা যায়নি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও শৌইগুর প্রোফাইল ১১ মার্চের পর হালনাগাদ করা হয়নি।
৬৬ বছর বয়সী শৌইগু ২০১২ সালে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। আজেনস্তোভোর দাবি, ক্রেমলিনের হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হওয়ার ক্ষেত্রে সচরাচর উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি উন্নত করার চেষ্টা করছেন তিনি।
স্বতন্ত্র সংবাদমাধ্যম মিডিয়াজোনা’র রুশ সাংবাদিক দিমিত্রি ট্রেসচানিন মঙ্গলবার উল্লেখ করেছেন, শৌইগুকে নিয়ে সর্বশেষ খবর প্রকাশিত হয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়াতে ১১ মার্চ। টুইটারে তিনি লিখেছেন, শুনুন, মহান জনসংযোগমন্ত্রী শৌইগু ১১ মার্চ থেকে প্রকাশ্যে নেই। যুদ্ধের এগারো দিন, আমাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান নেই।
দ্য মস্কো টাইমস-এর রিপোর্টার জ্যাক করডেল উল্লেখ করেছেন, শৌইগু কোথায় আছেন তা নিয়ে টেলিগ্রামে অনেক আলোচনা চলছে। তিনি লিখেছেন, ১২ দিন ধরে প্রকাশ্যে নেই শৌইগু। ২৭ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়ার ওই মিটিংয়ের পর পুতিনের সঙ্গে দেখা যায়নি তাকে।
শুধু শৌইগু নন, চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভকেও ১১ মার্চের পর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে খবরের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজউইকের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রভাবে এই খবরের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তারা জানিয়েছে, মন্তব্যের জন্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।









