মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালক বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অসুস্থ কিংবা অস্থিতিশীল এমন কোনও গোয়েন্দা আলামত নেই। অসমর্থিত বিভিন্ন খবরে ৭০ বছরের পুতিনের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার কিংবা তিনি অসুস্থ এমন ইঙ্গিত ক্রমেই বাড়ছে। তবে উইলিয়াম বার্নস বলেছেন, এগুলো সমর্থনে কোনও প্রমাণ নেই। খানিকটা রসিকতা করেই তিনি বলেন, তিনি (পুতিন) ‘অনেক সুস্থ’।
ইউক্রেনে আরও বেশি দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র সহায়তার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যেই পুতিনের সুস্থ থাকার খবর নিশ্চিত করলেন সিআইএ প্রধান।
এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্য এখন আর কেবল ইউক্রেনের পুর্ব দিকে নয়। আর পশ্চিমারা ইউক্রেনকে এই ধরনের অস্ত্র দেওয়ার পর কৌশলে বদল এনেছে মস্কো।
কলোরাডোতে আসপেন সিকিউরিটি ফোরামে সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক গুজব রয়েছে এবং যতদূর আমরা বলতে পারি তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ’। হাসির জবাবে তিনি যোগ করেন, এটি আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা রায় নয়।
মস্কোয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বার্নস জানান তিনি গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে রুশ নেতাকে পর্যবেক্ষণ ও সামাল দিচ্ছেন। সিআইএ প্রধান বলেন, পুতিন ‘নিয়ন্ত্রণ, ভীতি প্রদর্শণের বড় বিশ্বাসী’ এবং এই বৈশিষ্ট্যগুলো গত এক দশকে কঠোর হয়েছে কারণ তার উপদেষ্টাদের বৃত্ত সংকুচিত হয়েছে।
পুতিন সম্পর্কে উইলিয়াম বার্নস বলেন, ‘তিনি বিশ্বাস করেন রাশিয়ার নেতা হিসাবে তার গন্তব্য রাশিয়াকে একটি মহান শক্তি হিসেবে পুনরুদ্ধার করা। তিনি বিশ্বাস করেন এটি করার মূল চাবিকাঠি হল রাশিয়ার আশেপাশে প্রভাবের ক্ষেত্র তৈরি করা এবং ইউক্রেনকে নিয়ন্ত্রণ না করে তিনি তা করতে পারবেন না’।
ইউক্রেনে আগ্রাসনের প্রস্তুতি চালাচ্ছে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর পরিণতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে গত নভেম্বরে মস্কো সফর করেন উইলিয়াম বার্নস। তবে সিআইএ পরিচালক বলেন তিনি ‘পৌঁছানোর চেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে ফিরেছিলেন’।
উইলিয়াম বার্নস বলেন, ‘মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ অনুমান এবং বিশেষত ইউক্রেন ও তাদের প্রতিরোধ করার ইচ্ছা সম্পর্কে কিছু বাস্তব বিভ্রমের উপর ভিত্তি করে’ পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘পুতিন সত্যিই তার বর্ণনা বিশ্বাস করতেন। আমি তাকে কয়েক বছর ধরে ব্যক্তিগতভাবে বলতে শুনেছি যে ইউক্রেন কোনও বাস্তব দেশ নয়। ঠিক আছে, আসল দেশগুলো লড়াই করে। আর ইউক্রেনীয়রা সেটাই করেছে’।
যুক্তরাষ্ট্রের হিসেবে ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ১৫ হাজার সেনা নিহত এবং ৪৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছে বলে জানান বার্নস। তার ধারণা ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতি এরচেয়ে কিছুটা কম।
সূত্র: বিবিসি









