রাকিব ও হাসনাইন চাচাতো ভাই। রাকিবের মাধ্যমে ১৩ বছর বয়সী হাসনাইন হাসেম ফুডসের সেজান জুস কারখানায় কাজে আসে। মাত্র ১৩ দিন কারখানায় কাজ করার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মারা যায় দুই ভাই। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ে শনাক্ত হওয়া ৪২ নম্বর মরদেহটি ছিল রাকিবের। বুধবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাকিবের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। তার লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ভোলার চরফ্যাশনে রওনা হয়ে যায় তার পরিবার। অপরদিকে আজ মর্গে এসেও নিজ সন্তানের লাশ না পেয়ে হাসনাইনের বাবা ফজলুর রহমান ও মা নুরুন্নাহার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
হাসনাইনের বাবা ফজলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, "আমি ও আমার স্ত্রী আজ লাশ নেওয়ার জন্য এসেছি। কিন্তু আজকে আমাদের লাশ দিলো না। কবে দিবে তাও কিছু বলেনি পুলিশ। কোম্পানি থেকে আমাদের ফোন দিয়ে জানানো হয়েছিল, আজকে লাশ দিবে। এখানে এসে শুনি লাশ আজকে দিবে না।"
এ সময় হাসনাইনের মা নুরুন্নাহারের আর্তনাদে মর্গের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, আমি আজকেই লাশ নেবো।, আমার ছেলের লাশ দেও।
ফজলুর রহমান বলেন, লকডাউনের মধ্যে অনেক কষ্ট করে ঢাকায় এসেছি। এখন লাশ না দিলে কবে দেবে।
মুন্না, সাথী, পান্না‑ এই তিন ভাইবোন একসঙ্গে কাজ করতো কারখানায়। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। আগুন লাগার পর সাথী কারখানার তিন তলা থেকে নামতে পারলেও চারতলায় আটকে যায়। পান্না সেদিন কারখানায় যায়নি। সাথী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তাদের বাবা গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই হত্যার কোনও বিচার হবে না। দুই লাখ টাকা দিয়ে আমরা কি করবো। আমি তো আমার সন্তানকে ফিরে পাবো না।
তিনি লাশ পাবার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত যে লাশ পেয়েছেন এজন্য তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় গত ৮ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানার ছয়তলা ভবনটিতে তখন ৪০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সব ফ্লোরে।
প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় কয়েকটি ফ্লোরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের ২০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় ৫২ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে।









