X
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

শেখ হাসিনাতেই নির্ভার আওয়ামী লীগ, নিরাপদ বাংলাদেশ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:২৪

ড. এ কে আব্দুল মোমেন ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের তিন দিনব্যাপী দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে। দলে নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণের পাশাপাশি দলকে অধিকতর শক্তিশালী ও সুসংহত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভয়াল কালো রাতে প্রবাসে অবস্থান করায় বেঁচে যান দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ওই বছরের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। সেদিনের আবহাওয়া ছিল বৈরী। তবু প্রিয় নেত্রীকে সেদিন এক নজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত ঢল নামে লাখো মানুষের। শোকাবহ আগস্ট ট্র্যাজেডির পর প্রিয় নেত্রীকে ফিরে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়ে বাংলার আপামর জনসাধারণ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে সেদিন প্রকম্পিত হয় পুরো এলাকা। স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর  প্রিয় নেত্রী সেদিন স্বদেশের মাটিতে পা রেখে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দীপ্ত শপথ নেন। বিমানবন্দরে লাখো জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু তনয়া অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘বাংলার দুঃখী মানুষের সেবায় আমি আমার এ জীবন দান করতে চাই। আমার আর হারানোর কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ছোট ভাই রাসেলসহ সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই।’

সেদিন শেরেবাংলা নগরে সুপ্রশস্থ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত বৈদ্যুতিক আলোহীন অন্ধকার পরিবেশ, ঝড়-বৃষ্টির দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও দূর থেকে লাখো মানুষ এসেছিলেন পরিবার হারানো এক এতিম সন্তানকে এক পলক দেখতে। লাখো জনতার মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছিল গোটা বিমানবন্দর এলাকা। বিমানবন্দরে সেদিন লাখো জনতার উদ্দেশে গণতন্ত্র মুক্তির নবতর সংগ্রামে নিজের বলিষ্ঠ শপথের কথা উচ্চারণ করে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নেতা নই। সাধারণ মেয়ে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার একজন কর্মী। আপনাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য আপনাদের নিয়ে আমি নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।’

পঁচাত্তর ট্র্যাজেডির পর আওয়ামী লীগ মোটামুটি ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল। দেশে ফিরে এসে দলটি হাল ধরেন শেখ হাসিনা। ঘটনার পরিক্রমায় সাধারণ জীবনযাপন থেকে আজ  তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী নারী প্রধানমন্ত্রী। তবে তার রাজনৈতিক জীবনটা মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বিশেষত সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেন। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোটের দাবিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সংবিধানের ৫১ ও ৫৬ ধারা অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীকালে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে সংগঠিত করেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ১৯৯৪-১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়া চালুর জন্য তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। তার আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে  আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নির্বাচিত হয় এবং ২৩ জুন ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের উন্নয়ন ও গরিব-দুঃখী মানুষের ভাগ্য-পরিবর্তনে মনোযোগী হন। তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত ওই অঞ্চল তথা সমগ্র দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৯ সালে তারই উদ্যোগে আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়।

পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হাতে চলে যায় দেশ। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তাকে এবং তার অনুগামীদের হত্যার উদ্দেশ্যে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবাণীতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। এরপর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে দায়িত্ব গ্রহণ করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ সময় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হলে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরাতে ড. ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই প্রিয় নেত্রীকে গ্রেফতার করে।

দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি প্যারোলে মুক্তি পান। এর পরদিনই চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান। হত্যার হুমকি ও হাজারো ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে চিকিৎসা শেষে ৬ নভেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রকাশ পায়।

এক এগারোর সময়ে দলের মধ্যে ভাঙনের গুঞ্জন শুরু হলে শেখ হাসিনা তা দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করেন। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখেন। অসীম সাহস, দৃঢ মনোবল ও অভীষ্ট লক্ষ্যে অবিচল থেকে সব চ্যালেঞ্জ এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে শেখ হাসিনা দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ আরও বেশি শক্তিশালী এবং আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জাতির সামনে ‘দিনবদলের সনদ’ উপস্থাপন করে আবারও রাষ্ট্রের জনগণের সেবা করার সুযোগ ফিরে পায়। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের উন্নয়নে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সরকার গঠনের পর তিনি তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করেন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তৈরি করেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করা শুরু করেন। যার ফলে দেশ আজ  উন্নয়নের মহাসড়কে।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা দেশে আইনের শাষণ প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনিদের বিচার, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি দল ও দলের বাইরের দুর্নীতিবাদ ব্যক্তিদের যথাযথ আইনের আওতায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

সফলভাবে পাঁচ বছর দেশের জনগণের সেবা করার পর ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নমূলক কাজগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবারও জনগণের সেবা করার সুযোগ পায়। ২০১৮ সালে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে যা জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা চতুর্থ বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক সময়ের কথিত ‘তলা বিহীন ঝুড়ি’, যুদ্ধ বিধ্বস্ত আর ভঙ্গুর অর্থনীতির বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপ্রতিরোধ্য। বৈশ্বিক ষড়ষন্ত্র, হাজারো বাধা-বিপত্তি এবং নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ পেয়েছে নিম্ন আয়ের অর্থনীতি থেকে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা। এছাড়া গত এক দশকে সব সামাজিক সূচককে ঈর্ষণীয় সাফল্যের কারণে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে মাথা পিছু আয়। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যে পথে এগুচ্ছে তার গতিপ্রবাহ দিন দিন বিশ্বকে হতবাক করছে। অতি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের চেয়ে ধনী দেশে রূপান্তরিত হবে বাংলাদেশ। এই সময়ের মধ্যে ভারতীয়দের চেয়ে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে এই দেশের জনগণ। সে সময় ভারতের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার ৪০০ ডলারে। একই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় আরও ৩০০ ডলার বেড়ে দাঁড়াবে ৫ হাজার ৭০০ তে। বর্তমানে বৃহৎ অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪১তম। বিশ্বের পাঁচটি ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে বিশ্বে এমন পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ‘দ্য বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট এপ্রিল ২০১৯: টুওয়ার্ডস রেগুরেটরি প্রিডিকটেবিলিটি’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এছাড়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকেও এগিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচক ২০১৯’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় সাত ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ সূচকে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান।

রফতানি খাতেও জয়জয়কার বাংলাদেশের। প্রচলিত ও অপ্রচলিত উভয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ছে। গেলো অর্থবছরের হিসাব মতে, প্রচলিত বাজারে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রফতানি বেশি হয়েছে ১৬ শতাংশ। এ সময় অপ্রচলিত বাজারে রফতানি বেড়েছে ২৭ শতাংশেরও বেশি। বর্তমানে দেশের ৯৮ শতাংশ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ১৬০টি দেশে রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। অথচ এক সময়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ওষুধ দিতে চায়নি উন্নত বিশ্ব।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারী-পুরুষ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত এক দশকে বাংলাদেশে নারীর কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নারী-পুরুষের সমতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে কমেছে মজুরি ব্যবধানও। রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশের কারণে অধিক হারে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে বিদেশিরা। বিগত বছরে দেশে ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। বস্তুত গেলো বছরে এফডিআইয়ের প্রবৃদ্ধি ৬৮ শতাংশ যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, সৌদি আরবের মতো দেশগুলোও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র আর বানোয়াট মনগড়া অভিযোগের পাহাড়কে মিথ্যে প্রমাণিত করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে আজ  সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশের স্বপ্ন পদ্মা সেতু মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এক সময় মেট্রোরেলকে স্বপ্ন মনে করা হতো। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশে ইতোমধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে মেট্রোরেল। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এখন বাস্তবতা। এছাড়া মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। নতুন মেয়াদে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। জনসাধারণের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি দূরীকরণে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।

জলবায়ু পরিবর্তনের ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা’ নামে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। সমগ্র বাংলাদেশ এই মহাপরিকল্পনার আওতাভুক্ত। সর্বশেষ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ‘ডেল্টা প্ল্যান’ নামে বেশি পরিচিত শতবছরের এ মহাপরিকল্পনার অনুমোদন দেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ২১০০ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এভাবে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই সুখী-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী বা ‘মুজিব বর্ষ’ পালন করবে বাংলাদেশ এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হবে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা অসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল ও অভীষ্ট লক্ষ্যে অবিচল থেকে সব চ্যালেঞ্জ এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আর এসবই সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা আর কূটনৈতিক দক্ষতার কারণে। মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত শেখ হাসিনা আজ ‘মানবতার জননী’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ফরেন পলিসি’র করা ‘প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা’ ক্যাটাগরিতে সেরা ১০ চিন্তাবিদের তালিকায় ওঠে এসেছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নাম। মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বসের চোখে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ১০০ নারী’র তালিকায় ২৬ তম স্থানে রয়েছেন প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায়ও স্থান পেয়েছেন তিনি। বিশ্বের সেরা পাঁচ নীতিমান নেতার একজন হলেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা; বলছে নাইজেরিয়ার প্রভাবশালী দৈনিক ডেইলি লিডারশিপ।

বর্তমান বিশ্বে এশিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক নেত্রী হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এশিয়ার চীন, হংকং, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের পাঁচজন রাজনৈতিক নারী নেত্রীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল ডিসকভারি ডিকোড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘এশিয়ান ফাইভ মোস্ট পাওয়ার ফুল উইমেন ইন পলিটিক্স’ শীর্ষক সচিত্র প্রতিবেদনটিতে এশিয়ার নারী নেত্রীদের মধ্যে শেখ হাসিনাকে তালিকার প্রথমেই স্থান দেওয়া হয়েছে। আবার, ফোর্বস-এর ২০১৯ সালে বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাধর নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তালিকা অনুসারে বিশ্বের ২৯তম ক্ষমতাধর নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে ক্ষমতাধর কোনও নারী নেই। ফোর্বস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা। যিনি বর্তমানে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

রোজ গার্ডেন থেকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সময়ের পরিসংখ্যানের গ্রাফ বলছে, পার হতে যাচ্ছে ছয় যুগ। প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘ এই সময়ে যেমন বিস্তৃত হয়েছে, বেড়েছে সাংগঠনিক মজবুতিও। বঙ্গবন্ধু মানেই যেমন বাংলাদেশ, তেমনি বাংলাদেশ মানেই যেন আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতা অর্জন আর উন্নয়নের পরিক্রমায় শক্তিশালী অস্তিত্বের জানান দেওয়া—দুটোর সঙ্গেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বাংলাদেশ। ইতিহাসের বিশ্লেষণ বলছে, আওয়ামী লীগ মানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলধারা, আর সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবিও দেখা যায় আওয়ামী লীগেই। বাঙালি জাতির মুক্তির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেওয়া উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ রাজনৈতিক দলটির পূর্ণতা পেয়েছে শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে। পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে যে দলটির প্রতিষ্ঠা, সেই দলটি এখন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সুরম্য ১০ তলা নিজস্ব কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একক নেতৃত্বে সামলেছেন দলের গতিপ্রকৃতি। বিরাজনীতিকরণ, ভাঙনের নানামুখী ষড়যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে দলকে করেছেন শক্তিশালী। তার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতাতেও আসীন হয়েছে।

গণতান্ত্রিক আন্দোলন, দেশগড়ার বৈচিত্র্যমুখী কর্মসূচি আর নেতৃত্ব তৈরির ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণের পর বলাই যায়, ‘আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম’। এই অনুভূতি নবীণ-প্রবীণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সারাদেশে এখন প্রায় দুই হাজারের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন, প্রয়োজনের নিরিখে নেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন প্রকল্প। আগামী বছর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর বছরব্যাপী কর্মসূচি।

‘ভিশন ২০২১’; ‘২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জন’; ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নেও দরকার ভিশনারি নেতৃত্ব, যা কেবল শেখ হাসিনার মধ্যেই বিদ্যমান। তাই ২১তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনার কাধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া যথার্থ হয়েছে। অতীতের মতো আবারও তার নেতৃত্বে জনগণের কাছে নতুন গতিতে, নব উদ্যমে, নবতর প্রত্যয়-প্রত্যাশার অঙ্গীকার পূরণে নতুন প্রজন্ম নিজেদের নিয়োজিত করবে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বাবার দেখানো পথে দলকে পুনর্গঠন করতে থাকেন শেখ হাসিনা। দলের মধ্যে একক নেতৃত্বে অবস্থান করেন তিনি। ক্ষমতার বাইরে থেকে কিংবা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নিজেদের ভুল শুধরিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ফের গণমানুষের দলে রূপ নিয়েছে, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। ধারাবাহিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা আজ সরকারের মধ্যে যেমন অধিক শক্তিশালী, তেমনি দলের মধ্যে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। সুদিনে সবাইকে পাশে নিয়ে আর দুর্দিনে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে বন্ধুর পথে এগিয়ে চলছেন। কর্মকৌশল পাল্টে বারবার দলকে করেছেন অপ্রতিরোধ্য। সংগ্রামের এ পথ চলায় বহুবার হামলার শিকার হয়েছেন শেখ হাসিনা। সাড়ে তিন যুগের রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য মামলার আসামিও হতে হয়েছে তাকে। গ্রেফতার হয়েছেন, কারাবরণও করেছেন একাধিকবার। তবু যেন ইস্পাতসম মনোবল। আর এমন মনোবলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাতেই নিরাপদ। শত প্রতিকূলতা আর জীবন বিনাশী ষড়যন্ত্র পায়ে ঠেলে শেখ হাসিনা এগিয়ে চলছেন এক অদম্য গতিতে। যেন তার হাতেই আজ সাড়ে চার দশকের বাংলাদেশ অধিক নিরাপদ, নিশ্চিত নির্ভার।

লেখক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

 

 

/এসএএস/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত

বাংলাদেশের ৫০ বছর: এগিয়েছি যতটা, বাকি পথ ততটাই

বাংলাদেশের ৫০ বছর: এগিয়েছি যতটা, বাকি পথ ততটাই

শেখ হাসিনা ও আমাদের আইনি ঐতিহ্য

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:১৮

এস এম মাসুম বিল্লাহ  যারা বঙ্গবন্ধুকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখে তাঁর জলদ-ভাব-গম্ভীরভরাট কণ্ঠ শুনে আচমকা থমকে যান এবং নিবিষ্টমনে বলে ওঠেন, ‘ইশ, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন’– তাঁদের জন্য এই লেখা। যাঁরা জাতির দুঃসময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেখে আনন্দিত বোধ করার ক্ষমতা রাখেন এবং জাতির উদ্দেশ্য প্রদত্ত কোনও ভাষণে সুকান্ত-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল থেকে তাঁর আবৃত্তি করাকে নেহায়েত দুর্ঘটনা মনে করেন না, তাদের জন্যে এই লেখা। 

এই লেখায় আমি বাংলাদেশের আইনি সৌন্দর্যময় মন খুঁজবো। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর মহোত্তম পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের স্বীকৃতি ও স্বরূপ সম্মুখে আনতে চাইবো। এভাবে শেখ হাসিনার সম্মানে এই নিবন্ধটা উপস্থাপন করে তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাবার প্রয়াস পাবো। বলা জরুরি যে, এখানে আইনি ঐতিহ্যের শিল্পীত ডালায় সংবিধান, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের মিতালি– এই তিনটি বিষয় আমি বিশেষ করে বিবেচনায় নেব।

আমি জানি যে, যে কথা বলতে চাচ্ছি তার কিছু গ্রহণযোগ্য, দৃষ্টিগ্রাহ্য সমালোচনামূলক দিক থাকবে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু-শেখ হাসিনা পরম্পরা বলতে গিয়ে খেয়ালিজন একটা ধারা ধরতে পারবেন। এবং হঠাৎ করেই ডাক্তারের নাড়ির স্পন্দন পরীক্ষা করার মতো মাঝে-মাঝে আমাদের আইনি-সংস্কৃতির প্রাণধারা হারিয়ে ফেলবেন। 

আইনি সৌন্দর্যধারার শুরুর বহমান স্রোতকে এই দেশের ৫০ বছরের জীবনকালে কিছু নির্দিষ্ট সময়ে (সামরিক বা সামরিক মানসিকতাসম্পন্ন আমলে) থমকে যেতে দেখা যাবে। ভবিষ্যৎ দু’একটা ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়, কিন্তু সেটা আমি ধরছি না। দীঘির জলের দিকে হেলে থাকা বরই গাছের বড় ডাল কেটে ফেললে সে ডাল পুরো মানুষটাকে নিয়েই জলে পড়ে, ডালে দুই একটা পাকা বরই যে থাকে না, তাতো নয়!

ব্যাপারটা একটু খোলসা করি। বাংলাদেশ নামের এই মায়াময় দেশের জন্মের একটা আইনি দিক রয়েছে। পৃথিবীর যে রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে তাদের মধ্যে বোধ করি বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যে দেশের মানুষ একদিকে যেমন দিগ্বিদিক দামামা বাজিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে রক্ত দিয়েছে, অন্যদিকে এই রাষ্ট্রের মহত্তম কারিগরেরা এর জন্মের আইনি বৈধতার ব্যাপারটি অতি সুনিপূণভাবে নিশ্চিত করেছেন। স্বাধীনতার অমোঘ ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আমাদের পূর্বপুরুষেরা আন্তর্জাতিক আইনের নব-নব দিগন্তের ধারা অবমুক্ত করেছেন। বাঙালির জন্যে পৃথক একটি রাষ্ট্র বানানোর প্রক্রিয়া ছিল পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ কর্তৃক আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রয়োগের প্রথম উদহারণ। তেমনি করে এই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বরাতেই আমরা এককভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার বৈধতা, আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র-স্বীকৃতির নীতি এবং ন্যায্য সরকার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় মিত্র-সৈন্যদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক আইনের ঈর্ষাকাতর বোধিনীও হয়েছি।

স্বাধীন দেশে হেমন্তের এক মিষ্টি বিকেলে মাত্র নয় মাসে আমরা গেঁথেছিলাম আমাদের রক্ত, ঘাম ও অশ্রুভেজা সংবিধান। আমরা যাতে করে ‘স্বাধীনসত্তায় সমৃদ্ধি লাভ’ করতে পারি, সেই জন্যে ‘মানবজাতির প্রগতিশীল আশা আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি’ রেখে বৈশ্বিক সংবিধানিকতাবাদ-এর প্রতিচ্ছবি হয়ে আমরা তৎকালীন জমানার অন্যতম প্রাগ্রসর ওই ১৯৭২ সালের সংবিধান নিজেদেরকে দিয়েছিলাম। সেটা ছিল উদার অর্থে আমাদের রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই জাতিকে দিয়ে যাওয়া শ্রেষ্ঠতম উপহার, যার ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে লেখা হয়: ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ… জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন’। 

ইচ্ছে করলে তিনি সেদিন কোনও সংবিধান না দিয়েই, কোনও নির্বাচন না দিয়েই, পাকিস্তানের ভুট্টো-ইয়াহিয়া মডেলে এই রাষ্ট্রকে এককভাবে শাসন করতে পারতেন। আমাদের সংবিধানের ডালায় ও নকশায় রয়েছে শিল্পাচার্যের তুলির আঁচড়, নমস্য বাংলা অধ্যাপকের সৃষ্টিশীল মনন, সাহিত্যিক ও বাংলা ভাষার পণ্ডিতদের প্রজ্ঞার প্রয়োগ, রবীন্দ্রনাথের গানের কলি, মহত্তম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতের পরশ ও স্বাক্ষর। শব্দের পিঠে শব্দ বিন্যাসিত হয়ে এক ভাষার শোভাযাত্রা তৈরি করেছে সংবিধানের বাংলা পাঠ। সন্নিবেশিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ এবং মৌলিক অধিকারগুলো পড়লে এটা টের পাওয়া যায়। এতে যারা বাঙালিয়ানা খুঁজে পান না তাদেরকে করুণা করা ছাড়া আমরা আর কী করতে পারি? 

১৯৭৩ সালে দেশীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করার জন্যে যে আইন জাতির জনক বানিয়েছিলেন, তা ছিল নুরেমবার্গ অথবা টোকিও ট্রায়াল নীতিমালাকে (১৯৪৬-৪৮) ছাপিয়ে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশজ আইন। জাতির পিতা হিসেবে সুনির্দিষ্ট অপরাধী ছাড়া যে রাজাকারদের তিনি ক্ষমা করেছিলেন, তা বর্তমান যুগের লোকেরা ট্রানজিশনাল জাস্টিস অথবা রেস্টরেটিভ জাস্টিস নাম দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের বাজারে বিলিয়ে বেড়ায়। 

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের তরফে আমরা আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন দুটি আইন দেখতে পাই, শিশু আইন এবং সমুদ্র আইন। শিশু আইনের দর্শন আমরা পরবর্তীতে ১৯৮৯-এর জাতিসংঘ শিশু সনদে দেখি এবং সমুদ্র আইনের একক অর্থনৈতিক অঞ্চলের ধারণা (ইইজেড) ১৯৮২-এর জাতিসংঘ সমুদ্র কনভেনশনে পাই। ওই একই বছরে (১৯৭৪) আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা প্রতিফলিত করে বাংলাদেশ প্রণয়ন করে বহিঃসমর্পন আইন।

এই হলো আমাদের আইনি ঐতিহ্যের এক চিলতে– লিগ্যাল হেরিটেজ। এর পরের গল্প এক বাক্যেও লেখা যায়, আবার লম্বা করেও বলা যায়। বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ ৮ম সংশোধনী মামলায় (১৯৮৯) এর পরের ইতিহাসকে বলেছেন সাংবিধানিকতাবাদের বালিয়াড়ি (Sand Dune), আর আরেকজন বিদগ্ধ বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান ওই একই মামলার রায়ে একে আখ্যা দিয়েছেন সংবিধানের ‘সিকস্তি-পয়স্তি’ হিসাবে। 

এরপর এই দেশে স্বদেশী বর্গীরা হানা দিলো। আমাদের স্বপ্ন লুট হয়ে গেলো। আমাদের কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত হয়ে গেলো। হালাকু খানরা বাগদাদ যেভাবে দখল করে নিয়েছিলো, স্বঘোষিত জেনারেলরা আমাদের দেশ সেভাবে জয় করে নিলো। পশ্চিম পাকিস্তান হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি জাস্টিস রুস্তাম কায়ানি একবার চট্টগ্রাম সফরে এসে এক বক্তব্যে আইয়ুব খানকে পরিহাস করে বলেছিলেন (১৯৬২): ‘সম্ভবত পাকিস্তান সেনাবাহিনী পৃথিবীর একমাত্র সেনাবাহিনী যারা নিজেদের দেশ নিজেরাই দখল করে নিয়েছে।’ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো বাংলাদেশে আইয়ুব খান স্টাইলে দেশ চালানো মোশতাক-সায়েম-জিয়া-এরশাদ সময়ে (১৯৭৫-১৯৯০)। 

সংবিধানকে মানুষের হাতে পৌঁছতে দেয়নি সামরিক সরকারগুলো। বিশেষ করে বাংলা সংবিধানের সলতে জীবন পুণ্য করে মানুষের হাতে জ্বলেনি তেমন। তখন আদালতের উঠান, বিচারক-আইনজীবী, ক্ষমতাসীনরা সংবিধানকে নিজেদের একচ্ছত্র সম্পত্তি হিসেবে ভেবেছেন। সংবিধানের ওপর সামরিক ফরমানকে প্রাধান্য দিয়ে তারা নার্সিসাস সিন্ড্রোমে ভুগেছেন। দেবী সার্সির মতো মাথায় টোকা দিয়ে মানুষকে বুঝিয়েছেন যে সামরিক আইনও আইন! 

এমন রাজ্যে মানুষ সংবিধান নিয়ে কথা বলে ঠিকই কিন্তু সংবিধানে কী রাখা হয়েছে, কী জুড়ানো হয়েছে, কেন জুড়ানো হয়েছে তা কেউ তেমন জানার প্রয়োজন মনে করে না। ১৮২৫ এর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ-এর ‘ডিসেম্বর জাগরণ’ এক চুটকি মনে পড়লো। জার আলেক্সন্ডার-এর বিদায়ের পরে তার সন্তান কনস্টান্টাইন এবং নিকোলাস এর মধ্যে ক্ষমতায় আসা  নিয়ে ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’ হয়। কনস্টান্টাইন-এর সমর্থকরা একটা সাংবিধানিক প্রবর্তনা চাচ্ছিলেন। তাই উচ্চ পর্যায় থেকে সিপাহী-জনতাকে ‘কনস্টান্টাইন’ ও ‘কনস্টিটিউশন’ (রাশিয়ান ভাষায় কনস্টিটুটস্যুয়ে)- এর নাম করে স্লোগান দিতে বলা হয়েছিল। তাদের যখন জিজ্ঞেস করা হলো তারা কিসের স্লোগান দিচ্ছেন, জবাবে সিপাহী-জনতা জানালো তারা কনস্টান্টাইন ও তার স্ত্রী ‘কনস্টিটুটস্যুয়ে’ -এর মঙ্গল কামনা করে স্লোগান দিচ্ছেন!

আমাদের মানুষজনকে অনেকটা ওই ধরনের সাংবিধানিক ‘ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি’র মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।  সামরিক শাসককে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা’ হিসাবে ভাবতে শেখানো হয়েছে!   

১৯৭৫-১৯৯০ আমাদের জাতীয় আইনি মানসে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়। আইনের ছাত্ররা চোখের পলকে, মনের নিমিষে এই সময়ের মধ্যে মানবাধিকার, গণতন্ত্র, কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আমাদের দেশের প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিতবাহী তেমন বড় কোনও আইন বা বিখ্যাত কোনও মামলার সিদ্ধান্ত পাবেন না। এমনকি দুই একটা ব্যতিক্রম ছাড়া ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৮ সময়কালকেও আপনি এই অন্ধকারের মধ্যে আনতে পারেন। বিশ্বাস না করলে বই না দেখে চোখ বুঁজে ভাবনার সাহসটা করুন, তেমন বলার মতো মানবাধিকার সমভাবাপন্ন ওই সময়ের কোনও আইন আপনি পাবেন না, যেটা আমাদের আইনি সংস্কৃতির পূর্বধারায় মূল্যবান সংযোজন হিসেবে কাজ করেছে বা করতে পারতো, বরং উল্টোটা পাবেন।

আসুন, আমরা ওই আইনি ক্রমধারাটির নাম দেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বা দায়মুক্তির ধারা (Culture of Impunity)।

জাতির স্থপতিকে সপরিবারে হত্যা করে তাঁর দিয়ে যাওয়া পবিত্র সংবিধানে খুনি জিয়া-মুশতাক ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করে তাঁর বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিলো। শেখ হাসিনাকে পুরো জাতির সমান্তরালে দাঁড় করিয়ে এই হুজ্জতি-প্রলয় ২১ বছর ধরে সংবিধানে ছিল। কারও কিছু মনে হয়নি! ১৯৯১ সালে দেশ যে সংসদীয় ধারায় ফিরেছিল, সেই প্রস্তাবও এনেছিলেন শেখ হাসিনার পক্ষে তৎকালীন বিরোধী দলীয় সংসদ উপনেতা আব্দুস সামাদ আজাদ। বিএনপি অবস্থার প্রেক্ষিতে সংসদীয় ধারার সরকার প্রবর্তন করেছিলো, কিন্তু ইনডেমনিটি আইন বাতিলের প্রয়োজন মনে করেনি। 

বরং দায়মুক্তির সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় আমরা পাই ১৯৯১ সালে  আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি করার জন্য প্রকাশ্য ব্যালট সিস্টেম চালু করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন সংশোধন, ১৯৯৪ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব প্রদান, ২০০৩ সালের অপারেশন ক্লিন হার্টের মাধ্যমে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে বিচার না করার আইন, ২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর করে নিজেদের রাজনৈতিক ভাবধারার বিচারপতি কেএম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে সুষ্ঠু নির্বাচনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার ব্যবস্থা। নিয়তির কী পরিহাস, বিএনপি কাঙ্ক্ষিত ও আহুত দুটো দায়মুক্তি আইনই (ইনডেমনিটি ১৯৭৫ ও ক্লিনহার্ট ২০০৪) পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে বাতিল হয়ে গেছে [শাহরিয়ার রশিদ খান ১৯৯৬, জেড.আই. খান পান্না  ২০১৭]।

১৯৯৬-এর ১২ জুনের ঐতিহাসিক নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় এসে পিতৃ হত্যার বিচার করার জন্যে আগে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করতে হয়, বিএনপি-জামায়াত সেদিন সংসদে অনুপস্থিত থাকে এবং হরতাল ডাকে। খুনি শাহরিয়ার রশিদ ইনডেমনিটি আইন বাতিলকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে হেরে যায়। এবং শেখ হাসিনাকে এগুলো চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়। ইচ্ছে করলে তো তিনি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে জেনারেল জিয়ার কায়দায় খুনিদেরকে অবলীলায় ফাঁসি দিতে পারতেন। আমরা জানি, জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁর আমলে এগারোশোর বেশি মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে হত্যা করে। 

অথচ প্রচলিত সাধারণ ফৌজদারি আদালতে জাতির পিতা হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যে দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা রেখেছেন, শুধু এই কারণেই বাংলাদেশের মানুষের কাছে শেখ হাসিনা নিরন্তর নমস্য হয়ে থাকবেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদকে দিয়ে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ না করার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১০ বছরের জন্যে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর স্থগিত করে দেয়। এবং নয় বছর পর ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কয়েকজনের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হয়। তখন আমরা তাঁকে ‘প্রতিশোধপরায়ণ’ হিসেবে আখ্যা দেই! এবং আমরা তাঁকে আইনের শাসনের সবক দিতে থাকি! হায় সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশ!

১৯৯৬ এর গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তিতে ভারত থেকে পানি আসা শুরু হয়। ১৯৯৭-এর ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে জেনারেল জিয়ার সামরিকায়ন নীতির ফলে টালমাটাল হয়ে ওঠা পাহাড়ি-বাঙালি দ্বন্দ্বের হাত ধরে পাহাড়ি অঞ্চলে ৩০ হাজার মানুষের রক্তপাতের ধারা বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি এই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে হরতাল করে, লংমার্চ করে, কিন্তু আর কিছু করে না। এরা অনেকটা মাথা গুঁজে স্ত্রীর ‘আয় খাওয়া’ অপারগ গৃহকর্তার মতো, যারা ‘স্ত্রী বাইরে কেন গেছে’ এই অভিযোগে রাগে গজ গজ করে। কিন্তু আর কিছু করে না। এরা তথ্য-প্রযুক্তি বিপ্লবকে ধারণ করে না, কিন্তু শেখ হাসিনার নিন্দায় একে ব্যবহার করে। কী এক আত্মপ্রবঞ্চনা! 

১৯৯৬-এর শেখ হাসিনা সরকার আইন কমিশন আইন করে আইন সংস্কারে এর অঙ্গীকার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে নিয়ে আসে। ১৯৯৭ এর স্থানীয় সরকার আইন, খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা, ২০০০ সালের আইনগত সহায়তা আইন, একই বছরের নারী নির্যাতন দমন আইন, ২০০১ এর অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন ওই সময়কার শেখ হাসিনা সরকারের ঝুলিতে নতুন অর্জন হিসেবে যুক্ত হয়। এই সময়ে ১৯৬৬-এর দুই যমজ মানবাধিকার দলিল– আইসিসিপিআর এবং আইসিইএসসিআর-এ অনুস্বাক্ষর করে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আমাদের সংবিধানের যে প্রতিশ্রুতি তা শেখ হাসিনা সুউচ্চে তুলে ধরেন। এই সময়ে বাংলাদেশ সমুদ্র বিষয়ক জাতিসংঘের তৃতীয় কনভেনশন (১৯৮২) অনুসমর্থন (Ratification) করে রাখে, যেটা ২০০৯ এসে বাংলাদেশকে ভারত ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সমুদ্র-বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি-বাধার দরজা উন্মুক্ত করে দিতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশের ৫০ বছরের আইনি ইতিহাসকে যদি দুটো পর্বে ভাগ করি তাহলে বোধ হয় আমরা এভাবে বলতে পারবো– একটা ২০০৯ পূর্ব সময় আর একটা ২০০৯ পরবর্তী সময়। কেননা, এই ২০০৯ সালেই মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন উদ্দীপক কিছু আইন বাংলাদেশ প্রণয়ন করেছে। দেখা যায়, গত দশকে প্রণীত আইনগুলোর প্রস্তাবনায় সংবিধান, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দেওয়া হয়, যেটা আগে থাকতো না। এই ধারা নতুন স্বদেশী আইনবিজ্ঞান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে হয়। এর জন্য অবশ্য আইনি ‘বাতি জালানি’ (Legal Enlightenment) ঘটা দরকার। 

২০০৯-এর ত্রয়ী আইন - জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, তথ্য অধিকার আইন, ভোক্তা অধিকার আইন এই সারিতে অগ্রগামী। সামরিক আদেশের রাহুমুক্ত করে সংবিধানে ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ফিরে আসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ এবং এর চারটি স্থায়ী বুনিয়াদ– বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। সেক্যুলারিজম-এর বাংলা হিসেবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ যথেষ্ট উত্তাপ ছড়িয়েছে আমাদের জাতীয় জীবনে। বিচারপতি গোলাম রাব্বানী সেক্যুলারিজম এর বাংলা ‘লোকায়ত’ লেখেন (বাংলাদেশ সংবিধানের সহজ পাঠ, সমুন্নয়, ২০০৮)। কিছু দৃষ্টিভঙ্গিতে দাবি করা হয় (যেমন, আবুল মনসুর আহমদ, প্রথমা, ২০১৭) যে, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদির মতো তাত্ত্বিক বা দার্শনিক ধারণা সংবিধানে থাকা উচিত নয়। এতে বিতর্ক কমে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি দুটো কারণে গ্রহণযোগ্য নয়– এক. উল্লিখিত ধারণাগুলো ধারণামাত্র নয়, সেগুলো যেমন লক্ষ্য তেমনি অর্জনের উপায়ও;

দুই. সেগুলোর মুগ্ধকর সংজ্ঞা ১৯৭২ সালের সংবিধানে দেওয়া ছিল, যা জেনারেল জিয়া সামরিক কাঁচির খোঁচায় পরবর্তীতে বাদ দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করেন। 

১৫তম সংশোধনীর হাত দিয়ে বেশ কিছু ব্যাপারের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ কম প্রশংসিত বিষয় সংবিধানে ঠাঁই পায়। এর একটি হলো ‘ক্ষুদ্র-নৃতাত্ত্বিক’ জনগোষ্ঠীর অধিকারের সন্নিবেশের মাধ্যমে আদিবাসী সংস্কৃতির লালন (অনুচ্ছেদ ২৩-এ) এবং প্রজন্মান্তরের অধিকার সন্নিবেশের মাধ্যমে জীব-বৈচিত্র্যের সংরক্ষণের বিধান (অনুচ্ছেদ ১৮-এ)। 

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতন নিবারণ আইন (২০১২), অভিবাসন আইন (২০১২), ২০১৩ সালের শিশু আইন ও ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য আইন, উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ আইন ২০১৯ ইত্যাদি আইন প্রণয়ন দেশীয় অবস্থানে থেকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের কাছাকাছি যাবার প্রয়াস বলে ভাবা যেতে পারে।

স্বীকার্য যে, ২০১৮ এর সড়ক পরবিহন আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশ কিছু ধারার যৌক্তিক সমালোচনা রয়েছে, রয়েছে ১৬তম সংশোধনীর অস্বস্তি, যা আওয়ামী লীগের আইনি প্রণয়ন ঐতিহ্যের সাথে অসাযুজ্যপূর্ণ।

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আলোচনা আমি এই লেখায় ইচ্ছে করেই তুলিনি, কেন না প্রতিটি ক্ষমতাসীন সরকার এর সুবিধা নিয়েছে, এবং এর ধারাবাহিক অপপ্রয়োগ আমাদের আইনি ঐতিহ্যে স্থায়ী অভিঘাত সৃষ্টি করেছে। 

এবার আমি লেখাটা গুটিয়ে আনার সাহসটা করি। ১৯৭৩-এ জাতির জনক যুদ্ধাপরাধের বিচারের আইন করে যান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বড় পরিসরে সেটা করেছে ১৯৯৮ সালে, রোম সংবিধিতায়। শেখ হাসিনা রোম সংবিধি স্বাক্ষর করেন ১৯৯৯ সালে, আর অনুসমর্থন করেন ২০১০ সালে।

এই কাজগুলো না করলে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত অপরাধের বিচার আর করা হয়ে উঠতো না। এমনকি রামপাল প্রকল্পে যাদের আপত্তি, তারা যে পরিবেশ বিপর্যয়ের দায়ে শেখ হাসিনাকে জেনেভা নিতে চেয়েছিলেন, সেই আদিখ্যেতাও তারা দেখাতে পারতেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনবিজ্ঞানে আজ বাংলাদেশ অন্যতম একটা অধীত নাম।

বঙ্গবন্ধু শিশু আইন করেন ১৯৭৪ সালে, শেখ হাসিনাকে ২০১৩ সালে এসে সেটাকে যুগোপযোগী করতে হয়। বঙ্গবন্ধু সমুদ্র আইন করেন ১৯৭৪ সালে, শেখ হাসিনাকে এখন সেটা যুগোপযোগী করতে হচ্ছে ব্লু ইকোনমির হাতছানি দেওয়া অবারিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগনোর জন্যে।

জাতিসংঘ সমুদ্র কনভেনশন (১৯৮২) অনুসমর্থনের পরে দেশের দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সমুদ্রভাগ্য নির্ধারণে বাজি ধরতে হয়। বাংলাদেশের আর কোনও রাজনৈতিক নেতা এই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে আমার বিশ্বাস হয় না। জনগণের স্বার্থ জড়িত, অথচ শেখ হাসিনা চুপ থাকবেন এমনটি হওয়ার নয়। শেখ হাসিনা এমন এক রাজনীতিক, হতাশা যাকে মানায় না। ভারত-মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক সালিশী এবং সমুদ্র ট্রাইব্যুনালে নিয়ে (২০১২, ২০১৪) সমুদ্র বিরোধ নিষ্পন্ন করে শেখ হাসিনা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা এখন অন্য দেশের নেতারা অবাক বিস্ময়ে অনুসরণ করছেন, আর পৃথিবীর সমুদ্র আইনের মুয়াল্লেম আর তালেবে-এলেমগণ বসে বসে গবেষণা করছেন।

এই সুন্দরতম বিষয়গুলো এমনই এমনই ঘটতে পারে না, ঘটে না। এর পেছনে কিছু মানুষের সুন্দর মন থাকতে হয়, মেধা-মনন, ভাবনা, আকাঙ্ক্ষা-খেয়াল থাকতে হয়। এই ‘খেয়াল’ থাকাটাই শেখ হাসিনার রাজনীতিকে অন্য রাজনীতিকের রাজনীতি থেকে স্বতন্ত্র ও মহিমা উদ্ভাসিত করেছে। অনেক সময় তিনি শ্রুতিপ্রিয় বক্তা নন, কিন্তু ঝানু বিতার্কিক, দক্ষ পার্লিয়ামেন্টারিয়ান। সেটা সংসদে তাঁর সবাক, সাবলীল, স্থিতিপ্রজ্ঞ, অর্থবহ ও সহাস্য-সক্রিয় উপস্থিতি খেয়াল করলে ধরতে পারা যায়।

সংগ্রামে দুর্জয় বাংলার মানুষ হাসিনাপ্রসূত রাজনীতির মূল উপজীব্য। এই মানুষগুলোর প্রতি তাঁর দায়বোধ ও জেদ তাঁর রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও আইনি দর্শনকে স্থায়ী করেছে। এই দায়ভারই তাঁর নিয়তি। এই দায়ভার তাঁর উত্তরাধিকার।

তাঁর জেদ তিনি বাংলাদেশকে হারিয়ে যেতে দেবেন না। তাঁর জেদ তিনি বাংলাদেশকে ভালো রাখবেন। এদিক দিয়ে তিনি তাঁর বাবার সমান। যতবার (কমপক্ষে ২১ বার) তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবার তিনি মাথা উঁচু করে দু’হাতে মৃত্যুকে ঠেলে অনন্ত আকাশের দিকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন। আকাশ তাঁর শিরস্ত্রাণ, মানুষ তাঁর কর্ম।

আমরা আশ্রয় পাই। আমরা ডিজিটাল হয়ে উঠি। আমাদের অর্থনীতির রুপান্তর ঘটে। আমরা ২০৪১ সালকে দেখতে পাই টুকরো টুকরো। আমাদের আলোকায়ন ঘটে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে তাই ‘অপমান তব করিব না আজ করিয়া নান্দী পাঠ।’ শুধু বলবো– ‘জয়তু, শেখ হাসিনা!’ আপনি বহু বহু গৌরাবান্বিত অর্জনের মধ্যে আমাদের সমৃদ্ধতর আইনি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। জয় বাংলা। 

লেখক: শিক্ষক, আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ইমেইল[email protected] 

/এসএএস/

সম্পর্কিত

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ভালোবাসি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ভালোবাসি

চীনা ত্রাণের ক্ষমতা

চীনা ত্রাণের ক্ষমতা

সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোয় সাধারণ মানুষের ক্ষতি কতটুকু?

সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোয় সাধারণ মানুষের ক্ষতি কতটুকু?

আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত সম্পত্তি প্রদর্শন করুন

আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত সম্পত্তি প্রদর্শন করুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ভালোবাসি

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৪৪

লীনা পারভীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২৮ সেপ্টেম্বর আপনার ৭৫তম জন্মদিনে বাংলাদেশের একজন সামান্য নাগরিক হয়ে ভালোবাসার কথা জানানোর লোভ সামলাতে পারলাম না। অনেক ভালোবাসি আপনাকে। ভাবছেন, কেন এই ভালোবাসা? জেনেছি, ভালোবাসতে নাকি কারণ লাগে না। কিন্তু আপনার প্রতি এই ভালোবাসার পেছনে কারণ আছে।

লিখতে বসে ভাবছিলাম আমি কি একজন ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি নাকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি?  অনেক ভেবে উত্তর পেলাম– ব্যক্তি শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো আসলে একই সত্তা। এখানে বিভেদ খুঁজতে যাওয়া মানেই বোকামি করা। আসলে একজন ব্যক্তির মধ্যে যদি ভালোবাসার উপাদান না থাকে তাহলে একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও সেই গুণাবলীগুলোকে অর্জন করতে পারে না।

একজন ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে তো আমি কাছ থেকে দেখিনি, তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যা দেখি তা-ই দিয়ে ব্যক্তিকে চিনে নিয়েছি।

আপনি একজন প্রচণ্ড জেদি মানুষ, সেটা কি আপনি জানেন? নিশ্চয়ই জানেন। কারণ একজন ব্যক্তি নিজেই নিজেকে সব থেকে বেশি চেনে। আপনার এই জেদ অনেকের গায়ের জ্বালা ধরায়। এই যে আপনি একরোখাভাবে নিজের মতো করে কাজ করে চলেছেন। কোনও অহেতুক সমালোচনা-ষড়যন্ত্রকে পাত্তা না দিয়ে এই একরোখা শেখ হাসিনাই আমার প্রধান আকর্ষণের কারণ। জেদ ছাড়া অর্জন হয় না। এই জেদ নিশ্চয়ই আপনি পেয়েছেন আপনার পিতার কাছ থেকে কারণ সেই মহান ব্যক্তিটির জেদের কারণেই তো আমরা পেয়েছিলাম আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।

তাঁর জেদের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিলো প্রবল পরাক্রমশালী পাকিস্তানিরাও। আপনি যখন আমেরিকাকে ভ্রুকুটি করেন তখন আমার কাছে মনে হয়, এই তো আমি আত্মশক্তিতে বলীয়ান হচ্ছি। আপনি যখন মোড়লদের প্রচুর ফোনকে উপেক্ষা করে একের পর এক যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিচ্ছিলেন, আমার মতো কোটি বাঙালি সেদিন কেঁদেছিলো, জানেন? শহীদের স্বজনেরা সেদিন নিচু করা মাথাকে উঁচু করে গলা ছেড়ে– জয় বাংলা বলেছিলো ঠিক ক্ষুদিরামের মতো।

আমি একজন স্বপ্নবাজ শেখ হাসিনাকে প্রচণ্ড কাছের মনে করি। তিনিই তো প্রথম বুঝিয়েছিলেন আমাদেরও স্বপ্ন দেখার হক আছে। আমরাও পারি নিজের মতো করে বাঁচতে। আমরাও পারি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনকে সাজাতে।

আজকের তরুণরা অনেক ভাগ্যবান। আমার দুটি কিশোর ছেলে আছে যারা জানে না একদিন বাংলাদেশ ছিল অন্ধকারের বাংলাদেশ। যে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা জানতো না কেমন করে নিজেদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হয়। তারা কোনোদিন ভাবেওনি যে ঋণ না করেও কিছু করা যায়। আমার সন্তানেরা জানে না লোডশেডিং কেমন করে হয়। অথচ এক সময় বিদ্যুতের অভাবে মানুষের কারখানা বন্ধ হয়ে যেতো। বাসায় বাসায় বিদ্যুতের বিলের চেয়ে মোমবাতির খরচ হতো বেশি। আমি জানি এর জন্য হয়তো আইপিএস-এর ব্যবসায়ীরা আপনাকে দোষ দেবে কিন্তু এখন আর আমাদের গরমে কষ্ট করতে হয় না।

আমি ভাবিনি আমার জীবদ্দশায় কোনোদিন দেখবো যে বাংলাদেশ নিজের টাকায় সেতু করেছে। একটা রাস্তা সংস্কার করা যেখানে অন্যের দয়ার বিষয় ছিল সেখানে এতবড় একটি সেতু হবে আমাদের টাকায়! ওরে বাবা!

সে যে দুঃস্বপ্নেও আসেনি। কী কাণ্ড! আপনি সেটিও করে দেখালেন। বিশ্বব্যাংক ছিল আমাদের কাছে দারুণ এক ভয়ের নাম। নাটক সিনেমায় দেখতাম দিনের পর দিন কেমন করে বেনিয়ারা গরিবদের সহায়তার নামে ঋণের বোঝা ধরিয়ে দিতো। সেই বিশ্বসেরা বেনিয়াকে আপনি ‘ঝেঁটিয়ে’ বিদায় করে দিলেন। এখন শুনতে পাই তারা আমাদেরকে ঋণ দেওয়ার জন্য তোয়াজ করে চলে।

ওগো বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাঝেমাঝে এই একরোখা কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়  বঙ্গবন্ধুর চেয়েও আপনি আমাদের  বেশি চেনেন-বোঝেন। জাতি হিসেবে তো আমরা খুব একটা সুবিধার না। ‘নিমকহারামি’ আমাদের রক্ত থেকে হারিয়ে যায়নি যে। সেই মীরজাফর থেকে খন্দকার মোশতাকেরা তো রয়ে গেছে যুগে যুগে। এই ‘নিমকহারাম’দের নিয়ে আপনার চলার পথ অনেক কঠিন হয়ে যায়। কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলে যাওয়া মানুষগুলোকে কতটা অবলীলায় আপনি উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছেন। আপনি বলেছেন কে কী বললো সেটা দেখে আপনি দেশ চালান না। এই যে উপেক্ষা করার ক্ষমতা, আমি এই শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিক্ষা নেই,শক্তি নেই।

দলের মাঝে লুকিয়ে থাকা ক্ষমতালোভীদের সামলে রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। তারমধ্যে আপনি যে বাঙালি নারী। যে বাঙালি নারী নাকি জন্মেছে কেবল কোমলমতি কাজ করার জন্য। তারা শাসন ক্ষমতা চালাতে পারবে না।

নারীর হাতে রাষ্ট্র দেখতে অভ্যস্ত নয় যারা, সেই মানুষগুলো অনেক চেষ্টা করেছে আপনাকে দুর্বল করে দিতে। আপনাকে টলাতে পারেনি। পারবে কেন? আপনি যে অনেক আগেই নারী নেতৃত্ব থেকে সাধারণের নেতা হয়ে উঠেছেন আপন মহিমায়। আপনি কেবল নিজেই উঠেননি, উঠাচ্ছেন বাংলার কোটি নারীকেও। তাদের সামনে আজকে আপনি একজন আইডল। আর কেবল দেশেই কেন? বিদেশেও যে আপনার নামে বন্দনা চলছে। আপনি হয়ে উঠেছেন অনেকের কাছে পড়ার বই। আমিও আপনাকে পড়ি। প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে আমি আপনাকে পড়ি। বোঝার চেষ্টা করি। কেমন করে পারেন আপনি?

উত্তর, আপনি নিজেই দিয়েছেন। পারেন, কারণ আপনি দেশকে ভালোবাসেন। আপনার জীবনে বাংলাদেশের উন্নয়ন ছাড়া আর কোনও বিষয় নেই। ঠিক আপনার পিতার মতো। তিনিওতো একই স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমিও বাংলাদেশকে ভালোবাসতে শিখি আপনার কাছ থেকে। হয়তো আপনার মতো ত্যাগী হতে পারবো না। কিন্তু সততার সাথে দেশের সাথে থাকার শিক্ষাটা আমি শান দেই আপনাকে দেখে।

তাইতো আমি চাই এই বাংলাদেশের হাল থাকবে আপনার হাতেই। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল, উন্নত দেশ হবার স্বপ্নতো আপনি এই জাতিকে দেখিয়েছেন। উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হবার মর্যাদাতো আপনি দিয়েছেন আমাদেরকে। ২০৪১ সালে দেশ হিসাবে উন্নত বাংলাদেশ হবার অর্জনেও আমি আপনাকেই চাই। আপনি থাকবেন আমাদের ভালোবাসার সারথী হয়ে। আপনার দীর্ঘজীবন ছাড়া যে আমাদের স্বপ্নটুকু অধরা রয়ে যাবে।

লেখক: কলামিস্ট

/এসএএস/

সম্পর্কিত

ফেসবুকের পক্ষপাতমূলক আচরণ কেন?

ফেসবুকের পক্ষপাতমূলক আচরণ কেন?

ঝুমন দাসের মুক্তি চাই

ঝুমন দাসের মুক্তি চাই

নারীর বস্ত্রহরণের নিকৃষ্ট উল্লাস বন্ধ হোক

নারীর বস্ত্রহরণের নিকৃষ্ট উল্লাস বন্ধ হোক

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়মের আওতায় আনা জরুরি

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়মের আওতায় আনা জরুরি

চীনা ত্রাণের ক্ষমতা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:১৮

আশিষ বিশ্বাস দক্ষিণ চীন সমুদ্র এবং হিমালয় অঞ্চলে চীনের প্রভাবে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাবিত কোয়াড গ্রুপে যোগ দিতে হয়েছে ভারতকে। কোয়াডে যোগ দিলে সমুদ্রে কিংবা পর্বতের উচ্চতায় ভারতকে আর এককভাবে চীনের অস্ত্রশক্তির বিশালতার মুখোমুখি হতে হবে না, অথচ প্রায়ই বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতে দিল্লিকে এই কাজের মুখোমুখি হতে হয়। যাহোক, আরেক পর্যায়ে দক্ষিণ এশিয়া এবং আশপাশের এলাকায় একটি বিপরীত রাজনৈতিক ধারা উন্মোচিত হচ্ছে। বিপুল প্রভাবের সঙ্গে মৃদু কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করছে চীন, বিশেষ করে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে মোকাবিলায়। অপেক্ষাকৃত ছোট আঞ্চলিক প্রতিবেশীগুলোকে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সহায়তা দিয়েছে। বিপুল আর্থিক সহায়তা এবং সময় মতো প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দিয়ে দেশটি এখন পর্যন্ত জনবহুল অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের হৃদয় ও মন জয়ের মতো আরও বড় যুদ্ধে প্রভাব বিস্তার করেছে।

এই পরিস্থিতিতে তাদের সবচেয়ে কাছের ও সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও চীনের পরই ভারতের অবস্থান। দীর্ঘমেয়াদে যেকোনও দুই শক্তিশালী এবং অসম শত্রুতার চেয়ে এটি আলাদা নয়।

তবে দিল্লিভিত্তিক নীতিনির্ধারকদের এটাও বুঝতে পারছেন যে রাজনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে চীনের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে তারা। গত কয়েক বছরে ভারতের অর্থনৈতিক সক্ষমতার অপেক্ষাকৃত ধীর অগ্রগতি এশিয়ার দুই বড় দেশের একে অপরের বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাদের বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উঠে এসেছে। আকার অবশ্যই বিষয়। চীনের অর্থনীতির বর্তমান আকার ভারতের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বড়, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জের।

কিন্তু ৭০ বছর আগে স্বাধীনতা পাওয়া ভারতের এতে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। যুগ যুগ ধরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং ব্যাপক বহুত্ববাদী মূল্যবোধ টিকিয়ে রেখে বড় আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে উত্থান তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক এক যাত্রা।

এছাড়া বিশালাকার নেতিবাচক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের বিরোধেও ভারত খুব একটা খারাপ করেনি। সব সময়ই নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশীদের সহায়তা আর আঞ্চলিক গুরুত্ব ধরে রাখতে তাদের সূক্ষ্ম আর কৌশলগত পদক্ষেপ দেখা গেছে মিয়ানমার থেকে আফগানিস্তানে। সব সময়ই এসব ছিল কঠিন কাজ। চীন কখনোই ভারতের আঞ্চলিক প্রভাব কিংবা প্রতিবেশীদের কাছে তাদের ইতিবাচক মনোভাবকে পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারেনি।

কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, ভারতের উচিত এশিয়া কিংবা আফ্রিকার অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে চীনের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন না করা। হিমালয় সীমান্তে নতুন করে চীনা অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে তাদের সুসংহত প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কোয়াডের মতো নির্দিষ্ট সামরিক জোটে ভারতের প্রবেশ উচিত কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে বেশিরভাগ ভারতীয় চান না তাদের দেশ অন্য বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে বড় কোনও আঞ্চলিক বিরোধে জড়িয়ে পড়ুক। অনেক মানুষই মনে করেন, কম মনোযোগ আকর্ষণ করে কার্যকর অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারাই ভারতের জন্য সুবিধাজনক।

কিন্তু ভারতের বর্তমান ‘জাতীয়তাবাদী’ নেতাদের কাছে কম মনোযোগ কাড়ার দৃষ্টিভঙ্গিটি দৃশ্যত গ্রহণযোগ্য নয়। পশ্চিমা মূলধারার পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণে হতাশাজনকভাবে তাদের ‘ডানপন্থী’ হিসেবে দেখে থাকে।

তবে এমন নয় যে ভারতের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কোনও উন্নয়নই হয়নি। কিন্তু এই উন্নয়ন এসেছে খুব ধীরে। বর্তমান মহামারি আসার আগেও ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে জগাখিচুড়ি পেকেছিল। ভারতের সরকারপন্থী মূলধারার গণমাধ্যম শেয়ার বাজারের চাঙাভাব, ধনকুবেরের সংখ্যা বৃদ্ধিতে জোর দিতে থাকে। বিশেষ করে নতুন এবং বিশেষত গুজরাটি উদ্যোক্তাদের উত্থান ভারতের প্রচারণাযন্ত্রে উৎসাহ জোগায়। এগুলোর অনেকই বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি প্রতীকী। যেমন প্রয়াত সরদার প্যাটেলের সবচেয়ে বড় মূর্তি কিংবা মুম্বাই-আহমেদাবাদের মধ্যে বুলেট ট্রেন প্রকল্প।

রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয় কিংবা কয়েক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের আর্থিক উন্নয়ন নিয়ে, আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া নেই। প্রাথমিক প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দিয়ে ফ্রান্সের কাছ থেকে এগুলো কেনা হয়েছে। কিংবা কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আত্মীয়দের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। নেই বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা ৬০ কোটি মানুষের কথারও কোনও উল্লেখ। চীন ও অন্য দেশগুলোর সঙ্গে এসব নিয়ে কোনও তুলনাই চলে না।

২০২১ সালের প্রথম চার মাসের কঠিন সময়ে ছোট প্রতিবেশীদের দেওয়া ভারত ও চীনের সহায়তার পরিসংখ্যান দেখলেই তাদের উদ্দেশ্য বোঝা যাবে।

ভারত: শ্রীলঙ্কাকে ২৬ টন প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সামগ্রী পাঠিয়েছে। এরসঙ্গে ৪০ কোটি ডলারের মুদ্রা বিনিময় করে দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনীতিতে সহায়তা করেছে। রফতানি করেছে একশ’ টনের অক্সিজেন উৎপাদন সামগ্রী; ভুটানকে দেড় লাখ ডোজ টিকা, পরে আরও চার লাখ ডোজ, এবং এর সঙ্গে গ্লাভস, মাস্কের মতো অন্যান্য সামগ্রী। এছাড়া নেপালের আরও বড় জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বড় সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য জানুয়ারিতে ২০ লাখ ডোজ কোভিড ১৯ ওষুধ, এরপরে ৩ লাখ টেস্ট কিট, একই পরিমাণ মাস্ক, দেড়লাখ ক্যাপ, ৫০ হাজার গ্লাভস এবং এক হাজার টন হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ওষুধ পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে চীনা সহায়তার দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের সহায়তা/ত্রাণ কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলী মনোভাব রয়েছে।

চীন: এশিয়া ইনফ্রাসট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)-এর মাধ্যমে প্রতিবেশীদের উদার অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার দিয়েছে, এছাড়া ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ঢাকা সফর করে মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের একটি টিম। বেইজিংয়ের সূত্র অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে পাঁচশ’ কিট এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কায় আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৫০ কোটি ডলার পাঠানো ছাড়াও মুদ্রা বিনিময় হিসেবে পাঠানো হয়েছে ১৫৪ কোটি ডলার। নেপাল ও ভুটান প্রাথমিকভাবে যথাক্রমে আট লাখ ও ছয় লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে। এছাড়া ভারতকেও সহায়তা করেছে চীন: পাঁচ হাজার ভেন্টিলেটর, ২১৫৬৯টি অক্সিজেন উৎপাদন যন্ত্র এবং তিন হাজার টন প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সরঞ্জাম এপ্রিলে পাঠায়। এসব সামগ্রীর বেশিরভাগই চীনের তৈরি, কিন্তু আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে গ্রহণকারী দেশগুলো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের নিজস্ব বিকল্প গ্রহণ করেছে।

যদিও প্রতিবেশীদের সহায়তার ক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা চীনের পরিমাণের তুলনায় অনেক কম হলেও এগুলো অকার্যকর বলে বিবেচনার সুযোগ নেই। চীনের প্রতি ভারত এক ধরনের অবমূল্যায়িত প্রতিযোগিতা আরোপ করতে পেরেছে, বেইজিংকে আরও বেশি মানবিক সহায়তায় ব্যয় করতে বাধ্য করেছে, যাতে উপকৃত হয়েছে সবাই।

ব্যানডং কনফারেন্সের পর থেকেই চীনের পররাষ্ট্র নীতিতে মর্যাদা কিংবা প্রথম অবস্থান লাভ বড় করেই দেখা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে এশিয়ার শীর্ষ আলোকবর্তিকা বলে প্রশংসা করা হলে চীনের প্রয়াত নেতা চৌ এন লাই ক্ষুব্ধ হন। দিল্লির কূটনৈতিক জয়ের জন্য এরপরে চীন কখনোই ক্ষমা করেনি। কোনও কোনও পর্যবেক্ষকের বিশ্লেষণে সেখানেই নিহিত থাকতে পারে চীনের ছোট প্রতিবেশীদের সর্বোচ্চ সহায়তার নীতির সারবত্তা। চীন জোরালোভাবেই ইঙ্গিত দিচ্ছে তারা এই অঞ্চলের অবিসংবাদিত এক নম্বর অবস্থান চায়। বিদেশে তাদের সহায়তা কেবল এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। সামগ্রিকভাবে তারা এখন পর্যন্ত দেড়শ’ দেশে ১১ হাজার পাঁচশ’ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে।

তবে ত্রাণ দেওয়ায় ভারতের চেয়ে চীনের এগিয়ে থাকায় বেইজিং কেবল শীর্ষ অবস্থান নয় আরও বেশি কিছু অর্জন করছে। তাদের ব্যাপক সহায়তা কর্মসূচিতে এসব দেশের বহু মানুষ তাদের মানবাধিকার নিপীড়ন ভুলে যাচ্ছে বা অন্ততপক্ষে উপেক্ষা করছে। ফলে রাজনৈতিক বিরোধী/ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের নিপীড়নমূলক দিক, নিজেদের সীমানায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ঘটনা আড়ালের প্রবণতা, দুর্ভিক্ষে মৃত মানুষের পরিমাণ, কিংবা নিজ দেশের মানুষের দুর্ভোগও আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত চীনের অভ্যন্তরে করোনার বিস্তার, তাদের সরকারি হিসাব নিয়ে পশ্চিমাদের উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু চীন এখানে হাসতে পারে, যে অর্থ এবং চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে তাদের প্রস্তুতি চীনবিরোধী প্রচারণা থেকে বেশি শক্তিশালী।

চীনের ভাবমূর্তি তৈরিতে এগুলো মারাত্মক সমস্যা, যা খুব সহজে ভোলানো যাবে না। তবে পরিচিত বাংলা প্রবাদ যেমনটা বলে থাকে ‘পেটে খেলে, পিঠে সয়’ সেভাবেই নিপীড়ন সহ্য করে যাচ্ছে অন্যরা।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলকাতা

/জেজে/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতে যেভাবে দেখা হচ্ছে

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতে যেভাবে দেখা হচ্ছে

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতের জন্য কঠিন হলেও বিজেপির জন্য ইতিবাচক?

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতের জন্য কঠিন হলেও বিজেপির জন্য ইতিবাচক?

সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোয় সাধারণ মানুষের ক্ষতি কতটুকু?

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৪৯
আমীন আল রশীদ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমার ফুপা সরকারি চাকরি করতেন। অবসরে যাওয়ার বছর কয়েক আগে তিনি মারা যান। তার কোনও সন্তান নেই। ফলে স্বামীর মৃত্যুর পরে ফুপু অনেকটা অকূলপাথারে পড়েন। চাকরি বা ব্যবসা করার মতো অবস্থা নেই। কারণ, তিনি নিজেও একটা জটিল রোগে আক্রান্ত। দ্রুততম সময়ে পেনশনের টাকাটা পাওয়া যায় এবং সেই টাকা দিয়ে পরিবার সঞ্চয়পত্র কেনা হয়। এখন ফুপু ওই টাকা দিয়ে চলছেন। এ রকম সঞ্চয়পত্র-নির্ভর মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠও আছে এবং সঞ্চয়পত্রের মুনাফার নামে রাষ্ট্রের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়, সেই আলোচনাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সামগ্রিক বিষয়ের একটা নির্মোহ বিশ্লেষণ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে এই লেখায়। তার আগে দেখা যাক, এই ইস্যুতে সরকার সম্প্রতি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে?  

গত ২১ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানো সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বর্তমানে তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ হলেও সেটি ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ। যাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি, তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ৯ শতাংশ হারে।

অবসরভোগীদের জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে এত দিন ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যেত। এখন এই সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এই হার হবে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় যে পরিবার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার বর্তমানে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এখন এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই হার সাড়ে ৯ শতাংশ। তবে যারা নতুন করে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এই হার কার্যকর হবে।

এখন পরিবার সঞ্চয়পত্রে কর কেটে নেওয়ার পরে প্রতি লাখে পাওয়া যায় ৮৬৪ টাকা। যার ২০ লাখ টাকা আছে তিনি মাসে পান ১৭ হাজার ২৮০ টাকা। কিন্তু নতুন নিয়মে কেউ ১৫ লাখ টাকার বেশি পরিবার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে বা চলমান সঞ্চয়পত্র মেয়াদান্তে পুনঃবিনিয়োগ করলে তিনি কর কেটে নেওয়ার পরে প্রতি লাখে পাবেন ৭৮৭.৫০ টাকা। তার মানে ২০ লাখ টাকায় পাবেন ১৫ হাজার ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমানে যা পান তার চেয়ে ১৫৩০ টাকা কম। যিনি শুধু এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপরেই নির্ভরশীল, তার জন্য দেড় হাজার টাকাও কম নয়।

তবে এই মুনাফা কমবে নতুনদের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ এ বছরও যারা ৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, আগামী ৫ বছর পর্যন্ত তারা আগের নিয়মেই, অর্থাৎ লাখে ৮৬৪ টাকাই পাবেন। কিন্তু এটার মেয়াদান্তে পুনঃবিনিয়োগ করলে পাবেন ৭৮৭.৫০ টাকা। আবার এখন কেউ যদি ১৫ লাখ টাকার কম মূল্যের সঞ্চয়পত্র কেনেন তাহলে তিনি লাখে ৮৬৪ টাকাই পাবেন। কিন্তু কেউ যদি ১৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সঞ্চয়পত্র কেনেন, তাহলে লাখে পাবেন ৭৮৭.৫০ টাকা। অর্থাৎ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের মুনাফা কমছে না।

তবে নতুন নিয়মে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন যাদের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেশি। এটিও বাস্তবতা যে, সঞ্চয়পত্রে যাদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা আছে, তারা সাধারণ মানুষ নন। তারা উচ্চমধ্যবিত্ত ও ধনী। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং কম লাভবান হবেন।

সরকার বলছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিতে গিয়ে সরকারের সুদ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এতে অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে অর্থনীতিবিদদেরও অনেকে সঞ্চয় কর্মসূচিতে অতিমাত্রায় বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি রোধ করার তাগিদ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, নতুন সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্ত বিশেষ করে অবসরভোগীদের আয় কমে গেলেও দেশের সুষ্ঠু অর্থনীতি বজায় রাখার স্বার্থে মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সঞ্চয়পত্রে যারা বিনিয়োগ করেন, সেখানে বিরাট অংশ সাধারণ মানুষ এবং প্রকৃত অর্থেই তারা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিয়ে সংসার চালান এটি যেমন ঠিক, তেমনি বিপুল অঙ্কের অবৈধ ও কালো টাকা, অসৎ পথে উপার্জিত টাকা অথবা বৈধ পথে উপার্জিত সচ্ছল ব্যক্তিদের টাকাও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা আছে। তারা কোনও না কোনোভাবে আয়ের উৎস দেখিয়েই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র কেন এই লোকগুলোকে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ দিয়ে মাসে মাসে তাদের মোটা অংকের মুনাফা দেবে? যে লোক ভালো চাকরি   করেন, যার ব্যবসা আছে, যার উপার্জনের আরও একাধিক পথ আছে, রাষ্ট্র কেন তাকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে আরও বেশি পয়সা আয়ের সুযোগ দেবে?

বরং সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এবং যাদের সংসারে উপার্জনকারী নেই; যাদের আয় কম কিন্তু জমিজমা বিক্রি করে কিছু টাকা জোগাড় করেছেন এবং সেই টাকা ব্যাংকে রাখলে যেহেতু ওই অর্থে কোনও লাভ হয় না, তাই তাদের সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ দিতে হবে। অনেক নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত বৈধ পথেই কিছু কিছু টাকা সঞ্চয় করে একটা সময় সেই টাকা কোথাও রেখে মাসে মাসে একটা ফিক্সড আয়ের ব্যবস্থা করতে চান। সেসব মানুষকেও সঞ্চয়পত্রের সুবিধা দিতে হবে। কিন্তু সচ্ছল ও ধনী লোকেরা কেন সঞ্চয়পত্র কিনবেন এবং রাষ্ট্র কেন তাদের সেই সুযোগ দেবে?

অনেক সচ্ছল মানুষও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন বছর শেষে কর সুবিধা পাওয়ার জন্য। কারণ, চাকরিজীবীদের (যেকোনও পেশায়) মধ্যে এটা খুব সাধারণ প্রবণতা যে, আয়ের বিপরীতে তাদের ওপরে যে কর ধার্য হয়, তারা সেটি পুরোপুরি দেন না বা দিতে চান না। অর্থাৎ কোনও না কোনোভাবে সেই টাকা তারা কমাতে চান। সেই কমানোর যেসব আইনি তরিকা আছে, তার অন্যতম এই সঞ্চয়পত্র। অর্থাৎ নির্দিষ্ট অংকের টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা থাকলে কর মওকুফ পাওয়া যায়। এখানে প্রশ্ন অন্য। যেমন মানুষ কেন তার ওপর নির্ধারিত করের পুরো টাকাটা রাষ্ট্রকে দিতে চায় না? কারণ, সে মনে করে তার করের টাকা সঠিক পথে খরচ হচ্ছে না। কারণ, সে মনে করে তার করের টাকা সরকারি কর্মকর্তারা লুটপাট করে নিয়ে যায়। সে মনে করে কর দেওয়ার পরেও রাষ্ট্র থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও সুবিধা পাচ্ছে না। কর দেওয়ার পরেও সে সরকারি কোনও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিনা হয়রানিতে বা বিনা ঘুষে সেবা পায় না। সুতরাং সে কেন কর দেবে?

যেহেতু কর না দিয়ে তার উপায় নেই, অতএব সে কর কমানোর জন্য নানা ফন্দিফিকির করে। তার মানে মানুষের এই যে করভীতি বা করবিরক্তি—তার পেছনে দায়ী রাষ্ট্রের সামগ্রিক সিস্টেম। এসব জায়গা সংস্কার করতে হবে। না হলে শুধু সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কমিয়ে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না।

মানুষ কেন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে তার আরেকটি বড় কারণ প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেমে মুনাফা অনেক কম। কিন্তু যাদের বাড়তি টাকা আছে তারা কী করবেন? কোথায় সঞ্চয় করবেন? রাষ্ট্র চায় মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে অন্য খাতে বিনিয়োগ করুক। কিন্তু সেই জায়গাগুলো কী? শেয়ার বাজার বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। এটা জুয়ার মতো। সবার পক্ষে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সম্ভব নয়। দ্বিতীয় উপায় ব্যবসা। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র-মাঝারিসহ যেকোনও ব্যবসা করতে গেলে যে কত ধরনের হয়রানি ও বিপত্তির মধ্যে পড়তে হয়—তা ভুক্তভোগী ছাড়া কারও পক্ষে আন্দাজ করাও সম্ভব নয়। সুতরাং মানুষ কী করবে? বিনা পরিশ্রমে বেশি মুনাফার আশায় ডেসটিনি, ইউনিপে, যুবক এবং সবশেষ এহসান গ্রুপের মতো ফটকা প্রতিষ্ঠানে টাকা রেখে অসংখ্য মানুষ প্রতারিত হয়েছে।

তার মানে একদিকে প্রচলিত ব্যাংকে মুনাফা কম, শেয়ার বাজারে ঝুঁকি, ফটকাবাজ প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য বাদ দিলে বাকি থাকে সঞ্চয়পত্র। ফলে মানুষ সেখানেই যায়। প্রতিবছর বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, বছর শেষে তার চেয়ে অনেক বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। তাতে সুদ পরিশোধ বাবদ সরকারের খরচ অনেক বেড়ে যায়—এ কথাও ঠিক। কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠ হলো সঞ্চয়পত্রের সুদ বেশি হওয়ায় ধনীদের একটি বড় অংশ নামে–বেনামে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে রেখেছেন। ফলে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের দেওয়া উচ্চ মুনাফার সুবিধা প্রকৃত অর্থে যাদের কাছে যাওয়া উচিত, তার বদলে ধনীদের পকেটে চলে যাচ্ছে।

সুতরাং সঞ্চয়পত্র কারা কিনতে পারবেন, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া দরকার এবং এখানে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে যারা প্রকৃতই সঞ্চয়পত্রনির্ভর, তাদের জন্য মুনাফার পরিমাণ বাড়ানো দরকার। প্রতি লাখে তারা যাতে হাজার দেড়েক টাকা পান, সেই ব্যবস্থা করা দরকার। এটা হলে একটা ইনসাফভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। না হলে আমাদের অর্থনীতিতে যে বিশাল দুষ্টুচক্র ভর করেছে, লুটেরা-অসৎ-অবৈধ পথে উপার্জনকারী এবং বৈধ-অবৈধ উভয় পথে উপার্জনকারী ধনী লোকেরা যেভাবে আমাদের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন, সেটির কোনও পরিবর্তন হবে না। সবাই যাতে সঞ্চয়পত্র কিনতে না পারে এবং যাতে প্রকৃত চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরাই এই সুবিধা পান, রাষ্ট্রকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, নেক্সাস টেলিভিশন।
 
 
/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ইভ্যালি: গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে কে?

ইভ্যালি: গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে কে?

ঘুষ খেলে নামাজ হবে না, নাকি চাকরি থাকবে না?

ঘুষ খেলে নামাজ হবে না, নাকি চাকরি থাকবে না?

সাংবাদিকদের এত ভয় কেন?

সাংবাদিকদের এত ভয় কেন?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পরিবারেই বুলিং বেশি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পরিবারেই বুলিং বেশি

আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত সম্পত্তি প্রদর্শন করুন

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৭

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন আমাদের অনেক করদাতা বুঝে না বুঝে নিজের বৈধ সম্পত্তি আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকেন। এটা কত বড় ক্ষতির কারণ, তা বুঝতে পারেন যখন বৈধ সম্পত্তি থেকে কোনও আয় করেন বা বিক্রি করে অন্য কোনও বৈধ কাজ করতে যান।

বর্তমানে সম্পত্তি বিক্রি বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১২ ডিজিট ই-টিআইএন প্রদর্শন করার বিধান চলমান। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আয়করের আপডেট সার্টিফিকেট প্রদর্শন করতে হচ্ছে।

করদাতাগণের মধ্যে কিছু ধারণা আছে। যেমন,আয়কর নথিতে বেশি সম্পত্তি দেখালে নাকি আয়কর অফিস থেকে হয়রানি করা হয়। বিষয়টি কতটুকু সত্য তা জানি না, তবে আমার কাছে মনে হয়েছে ওই হয়রানির চেয়েও করদাতা নিজের ক্ষতিই বেশি করছেন। কালো টাকা সাদা করার জন্য সরকার প্রতি বছর কিছু সুযোগ দিয়ে দেয়। অর্থাৎ এটা হলো অবৈধ আয়কে বৈধ করার সুযোগ।  এটা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। কিন্তু যারা বৈধ সম্পত্তি আয়কর রির্টানে দেখাচ্ছেন না, এটা  যে কত বড় ক্ষতি তা নিয়ে কোনও আলোচনা নেই, নেই কোনও সমালোচনা। নিরবে বিপদগামী হচ্ছেন শত শত করদাতা। আমাদের করদাতাদের যেমন কর পরিশোধ করতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, তেমনই তাদের ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে কোনও ক্ষতির মধ্যে না পড়েন তাও আমলে রাখা দরকার।

বৈধ সম্পত্তি অর্জিত বছরে আয়কর রিটার্নে না দেখালে সেটা অনেকটা অবৈধ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়ে যায়। যেটাকে আমরা অফিসিয়াল ভাষায় বলি অপ্রদর্শিত সম্পত্তি।  কোনও অবৈধ সম্পত্তি অর্জনকারী যদি অর্ধেক সম্পত্তি সরকারকে কর হিসেবে দিয়ে তার অবশিষ্ট সম্পত্তিকে নিজের জন্য বৈধ করার অধিকার অর্জন করতে পারে,তাতে সে মহাখুশি। কিন্তু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে বেচারা সারা জীবন কিছু সম্পত্তি অর্জন করলেন শুধুমাত্র সুবুদ্ধির অভাবে বা কোনও কুবুদ্ধির ফাঁদে পড়ে বৈধ আয়কে অবৈধ করে এক মাথা চিন্তা রোগের ব্যবস্থা নিজেই করে বসেন।  তখন আর করার কিছুই থাকে না। এতে বড় অংক কর পরিশোধ বা জরিমানার মুখোমুখি হয়ে যান।

অনেকে বলেন চিন্তার কোনও কারণ নেই। সরকার এ ব্যবস্থাও করে রেখেছেন। সেটা হলো নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত সম্পত্তি প্রদর্শন করতে পারবেন। আসুন জেনে নেই সে সুযোগ কী? এ রকম করদাতাদের জন্য অর্থ আইন ২০২১ এ একটি সুযোগ রয়েছে। চলতি বছরের অর্থ আইনে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১৯ ধারায়- ১৯এএএএএ নামে একটি নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে (সূত্র: আয়কর পরিপত্র-২০২১-২০২২)। উক্ত নতুন ধারায় অপ্রদর্শিত সম্পত্তি প্রদর্শন করার জন্য কতিপয় সুযোগ রয়েছে। এতে করদাতা পূর্বের যে কোনও সময়ে আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত সম্পত্তি (জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করে এ বছর আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করতে পারবেন। এ সুযোগ সম্পত্তির এলাকা ভেদে বা অবস্থান ভেদে কিছুটা তারতম্য আছে। যেমন:

১. জমির/ভূমির ক্ষেত্রে:

ক) ঢাকার গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা এলাকার ভূমির জন্য প্রতি বর্গমিটারে বিশ হাজার টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

খ) ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা, ডিওএইচএস মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, পূর্বাচল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিদ্ধেশ্বরী কারওয়ান বাজার, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা নিকুঞ্জ, এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশি, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদ এলাকায় অবস্থিত ভূমির জন্য প্রতি বর্গমিটারে পনের হাজার পাঁচ শত টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

গ) উপরোক্ত ‘ক’ এবং ‘খ’ ক্রমিকে উল্লেখিত এলাকা ব্যতিত সকল সিটি করপোরেশন এলাকার ভূমির জন্য প্রতি বর্গমিটারে পাঁচ হাজার টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

ঘ) সকল পৌরসভা বা জেলা সদর এলাকায় অবস্থিত ভূমির জন্য প্রতি বর্গমিটারে এক হাজার পাঁচ শত টাকা এবং এর ওপর নির্ধারিত ৫% অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে; টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

ঙ)  উপরোক্ত ক্রমিক নং ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ এবং ‘ঘ’- তে উল্লেখিত এলাকার ভূমি ব্যতিত অন্য সকল এলাকায় অবস্থিত ভূমির জন্য প্রতি বর্গমিটারে পাঁচ শত টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

২. বিল্ডিং ও অ্যাপার্টমেন্ট এর ক্ষেত্রে: 

ক) ঢাকার গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত অনধিক ২ শত বর্গমিটার প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারে  চার হাজার টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

খ) ঢাকার গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ২শত বর্গমিটারের অধিক প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট এর জন্য প্রতি বর্গমিটারে ছয় হাজার টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

গ) ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা, ডিওএইচএস মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, পূর্বাচল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিদ্ধেশ্বরী কারওয়ান বাজার, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা নিকুঞ্জ, এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশি, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদ এলাকায় অবস্থিত প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারে তিন হাজার টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

ঘ) ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা, ডিওএইচএস মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, পূর্বাচল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিদ্ধেশ্বরী কারওয়ান বাজার, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা নিকুঞ্জ, এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশি, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদ এলাকায় অবস্থিত ২শত বর্গমিটারের অধিক প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারে তিন হাজার পাঁচ শত টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

ঙ) উপরোক্ত ক্রমিকে উল্লেখিত ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ এবং ‘ঘ’ এলাকা ব্যতিত সিটি করপোরেশন এলাকায় অনধিক ১শত ২০ বর্গমিটারের প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য সাত শত টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

চ) উপরোক্ত ক্রমিকে উল্লেখিত ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ এবং ‘ঘ’ এলাকা ব্যতিত সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত ১শত ২০ বর্গমিটার তবে অনধিক ২০০ বর্গমিটারের  প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area)  বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আট শত পঞ্চাশ টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

ছ) উপরোক্ত ক্রমিকে উল্লেখিত ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ এবং ‘ঘ’ এলাকা ব্যতিত সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত ২শত বর্গমিটারের অধিক  প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারের জন্য এক হাজার তিন শত শত টাকা এবং এ করের ওপর ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করা;

জ) কোনও জেলা সদরের পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত অনধিক ১শত ২০ বর্গমিটারের অধিক  প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারে তিন শত টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

ঝ) কোনও জেলা সদরের পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত ১শত ২০ বর্গমিটারের অধিক তবে অনধিক ২০০ বর্গমিটারের  প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারে চার শত পঞ্চাশ টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

ঞ)  কোনও জেলা সদরের পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত ২ শত বর্গমিটারের অধিক  প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারে ছয় শত টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

ট) ক্রমিক নং ‘ক থেকে ঞ’   উল্লেখিত এলাকা ব্যতিত অন্য যে কোনও এলাকায় অবস্থিত ১শত ২০ বর্গমিটারের প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারে দুই শত টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

ঠ) ক্রমিক নং ‘ক থেকে ঞ’ উল্লেখিত এলাকা ব্যতিত অন্য যে কোনও এলাকায় অবস্থিত ১শত ২০ বর্গমিটার কিন্তু অনধিক ২শত বর্গমিটারের প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারে তিন শত টাকা এবং এ করের উপর ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করা;

ণ) ক্রমিক নং ‘ক থেকে ঞ’ উল্লেখিত এলাকা ব্যতিত অন্য যে কোনও এলাকায় অবস্থিত ২শত বর্গমিটারের অধিক প্লিন্থ এরিয়া (Plinth area) বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতি বর্গমিটারে পাঁচ শত টাকা এবং উক্ত পরিশোধযোগ্য অংকের ৫% হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করার মাধ্যমে;

৩. অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে:

ক) নগদ,ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ, আর্থিক স্কিম ও ইন্সট্রুমেন্ট, সকল প্রকার ডিপোজিট বা সেভিং ডিপোজিট, সেভিং ইন্সট্রুমেন্ট বা সার্টিফিকেট (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্টক, স্টক শেয়ার, মিউসিয়াল ফান্ড ইউনিট ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ, পুঁজিবাজারে ক্রয় বিক্রয়যোগ্য সকল প্রকার সিকিউরিটিজ ও বন্ড এবং যে কোনও প্রকার অগ্রিম ও ঋণ প্রদান আর্থিক ইন্সট্রুমেন্ট হিসেবে প্রদর্শন করা যাবে)। এর  মোট মূল্যের ওপর নির্ধারিত কর ২৫% এবং পরিশোধযোগ্য করের ওপর অতিরিক্ত ৫% হারে কর পরিশোধ করার মাধ্যমে। 

উপরোক্ত ক্ষেত্রসমূহের আওতায় কর পরিশোধ করার ফলে করদাতার অনুকূলে যেসকল সুবিধাদি থাকবে:

ক) নগদ অর্থ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফরমে (আইটি-১০বি) হাতে নগদ, ব্যাংকে জমা বা ব্যবসায়ের পুঁজি হিসেবে দেখাতে পারবেন;

খ) এক্ষেত্রে নির্ধারিত কর পরিশোধ করে সম্পত্তি প্রদর্শন করার জন্য কোনও প্রকার ঘোষণার প্রয়োজন হবে না। যথানিয়মে সংশ্লিষ্ট ফরমের নির্ধারিত কলামে সম্পত্তির নির্ধারিত মূল্য দেখানো যাবে এবং অন্যান্য প্রাপ্তির ঘরে আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো যাবে।

গ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাংক বিবরণী বা দলিলাদি বা প্রমাণাদি দাখিল করা যেতে পারে;

ঘ) এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সকল কর পরিশোধ করে সম্পত্তি প্রদর্শন করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর অন্য কোনও ধারায় কোনও প্রকার কার্যক্রম গ্রহণ করবে না;

পরিশেষে সকল করদাতার প্রতি আকুল আবেদন কোনও প্রকার হয়রানি বা বিপদের সন্দেহ করে বা অনুমান করে আপনার কষ্টে অর্জিত সম্পত্তি আয়কর রিটার্নে দেখানো থেকে বিরত থাকবেন না। এ ব্যাপারে অন্য কারও পরামর্শ শুনবেন না। আপনি আপনার সিদ্ধান্ত নিন এবং আপনার সম্পত্তি প্রদর্শনে আপনার জন্য স্বস্তির ও নিরাপদের হোক এটাই কামনা।

লেখক: আয়কর আইনজীবী

[email protected]

/এসএএস/

সম্পর্কিত

সঠিক ও নির্ভুল আয়কর রিটার্ন করদাতার বড় সম্পদ

সঠিক ও নির্ভুল আয়কর রিটার্ন করদাতার বড় সম্পদ

আয়কর রিটার্ন ইমেইলে জমা নেওয়ার উদ্যোগ যে কারণে জরুরি  

আয়কর রিটার্ন ইমেইলে জমা নেওয়ার উদ্যোগ যে কারণে জরুরি  

ভ্যাট আদায়ে ন্যায্যতার ঘাটতি, নজর দেবে কে?

ভ্যাট আদায়ে ন্যায্যতার ঘাটতি, নজর দেবে কে?

‘ব্লকচেইন প্রযুক্তি’ হতে পারে রাজস্ব আদায়ের নতুন দিগন্ত

‘ব্লকচেইন প্রযুক্তি’ হতে পারে রাজস্ব আদায়ের নতুন দিগন্ত

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

লোভনীয় অফারে প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ

লোভনীয় অফারে প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকসহ ৩৪ পদে রদবদল

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকসহ ৩৪ পদে রদবদল

বাংলাদেশের জার্সিতে সাফে খেলা হচ্ছে না কিংসলের

বাংলাদেশের জার্সিতে সাফে খেলা হচ্ছে না কিংসলের

সড়ক চার লেন করা নিয়ে নড়াইলে দুপক্ষের মাঝে উত্তেজনা

সড়ক চার লেন করা নিয়ে নড়াইলে দুপক্ষের মাঝে উত্তেজনা

চানখার পুলে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

চানখার পুলে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

মাঠকর্মী হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমামদের টার্গেট করতেন রাগীব

মাঠকর্মী হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমামদের টার্গেট করতেন রাগীব

দুবাই যাচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

দুবাই যাচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ইতিহাস গড়া হলো না আইসল্যান্ডের

ইতিহাস গড়া হলো না আইসল্যান্ডের

অভিযোগ করে ভোক্তারা পেয়েছেন প্রায় সোয়া কোটি টাকা

অভিযোগ করে ভোক্তারা পেয়েছেন প্রায় সোয়া কোটি টাকা

গণটিকার সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে সারাদেশে

গণটিকার সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে সারাদেশে

টাকা না জমিয়ে খরচ করা উচিত বিসিবির: দুর্জয়

টাকা না জমিয়ে খরচ করা উচিত বিসিবির: দুর্জয়

আসিফ ইকবালের লেখা গানে আবারও কিশোর  

আসিফ ইকবালের লেখা গানে আবারও কিশোর  

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune