X
রবিবার, ০১ আগস্ট ২০২১, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

ছোট ছোট স্বপ্নগুলো

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৭:১৮

Mahmudur Rahman_editedশেষ কবে মাথায় তেল পড়েছে জানবার উপায় নেই। পাক না ধরলেও মহসিনের মাথা ভরা চুলে অযত্নের ছাপ। সুগঠিত চোয়ালের দাড়ি কামানো হলে মাঝারি উচ্চতার লোকটিকে ভালোই দেখাতো। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার অবকাশ নেই। দুপুর থেকে শুরু হয় তার পিয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ এবং তেলের পিঠা তৈরি। পথচারীর বিকেল-সন্ধ্যার ক্ষুধা নিবারণের কাজে মাথা নিচু করে চলে ভাজাভুজি। বাংলামটরের মোড়ে নুর জাহান টাওয়ারের নিচে ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভিড় লেগেই থাকে। যার অর্থ  গ্রহণযোগ্য ও গুণগত মান এতে রয়েছে এবং সাশ্রয়ী দামে। তিন টাকার বেগুনি আর আলুর চপে কতটুকু বেগুন আর আলু থাকে তা নিয়ে তার কোনও মন্তব্য নেই, ক্রেতারও নেই প্রশ্ন।

নাম জিজ্ঞেস করলে শুধু মহসিন বলে ক্ষান্ত হলেও, সাহায্যকারী স্ত্রীর পরিচয় দিতে গিয়ে স্পষ্ট উচ্চারণে নাসিমা বেগম- পুরো নামটাই জানিয়ে দেয়। ভোলার রেস্তোরাঁর বদ্ধজীবন ছেড়ে বড় কিছু করার স্বপ্নের হাতছানি তাকে টেনে আনে ঢাকায়। ব্যবসা এবং সাধারণ সমাজব্যবস্থার বিপরীত স্রোতে চলে তারা। নাসিমা যোগারযন্ত্রের দায়িত্বে, মহসিনের কাজ তাৎক্ষণিক ভাজাভুজি।

শান্ত, সুন্দর, গোল মুখটি উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। নাকফুল সমৃদ্ধ খাড়া নাক, ছোট্ট কানের দুল, হাত দুটো খালি। চোখে নাসিমার কোনও কিছুই এড়ায় না। কে কী চাইলেন, হিসেব-নিকেশ এমনকি টাকা রাখার কাজটিও তার। সবদিকেই খেয়াল। গরিবের টিস্যু না থাকলেই বা-কি, মসৃণ করে ছেড়া পত্র-পত্রিকার টুকরো বিলি করতে তার দেরি হয় না।

অকপটে মহসিন স্বীকার করে খুব ভালো আছে তারা। বিকেল তিনটে থেকে রাত নয়টা অব্দি কাজ করে, খরচপাতি বাদ দিয়ে ৩০০-৩৫০ টাকা ঘরে নিতে পারে দৈনিক। ওটা দিয়ে কোনওমতে চলে যায়। রাতে পায়ে হেঁটে বস্তির ঘরে ফিরে যায় দু’জনে। মাঝে-মধ্যে যখন বেশি শ্রান্ত, তখন বাসে ওঠে। রিকশায় ওঠা বিলাসিতা, তবে যেদিন আয় একটু ভালো হয়, সেদিন কদাচিৎ, একটু আতিশয্য হয়।

গ্রাহক সেবা কী? একগাল হেসে মহসিন বলে ‘এই ঠিকমতো খাবার আগাইয়া দেওয়া- আর কি’। সামাজিক মাধ্যমের কথা ও শুনেছে- মুঠোফোনে ফেসবুকে যোগাযোগ। ওর কথা শুনে ব্যস্ততার মাঝেও শান্ত হাসি নাসিমার। মুক্তচিন্তা কী? ‘ওসব বুঝে কাম নাই’।

ভবিষ্যত নিয়ে বলল নাসিমা। একটা স্থায়ী ব্যবসার স্বপ্ন সে দেখে, কিন্তু অতো লগ্নী কোত্থেকে আসবে। ব্যাংক ঋণের কথা ওঠালে লাজুক হাসি দিয়ে ঘোমটা ঠিক করে বলে। ‘আমাদের মতো গরিবরে ক্যাডা ঋণ দিব?।’

আলস তারল্যের আধিক্যে ভারাক্রান্ত ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেওয়ার কেউ নেই। আর যারা ঋণ পাওয়ার যোগ্য, তারা জানে না কে তাদের ঋণ দেবে। বড় ব্যবসায় নিথরতার মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ছয়ের ঘরে সচল এই সব ছোট ব্যবসার কারণে। যেসব ছোট ছোট স্বপ্ন দিয়ে গড়ে উঠবে বড় স্বপ্নগুলো, সে স্বপ্ন দেখার অভয় কৈ?

লেখক: সিএসআর এবং কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

আইপি টিভি যন্ত্রণা!

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ১৪:৩৪

তুষার আবদুল্লাহ করোনা প্রতিরোধ ও স্বাস্হ্য সুরক্ষার জন্য  টিকার কথা বলা হচ্ছে। সাংবাদিকতা সুরক্ষা ও অপসাংবাদিকতা রোধের জন্য এখন বলতে হচ্ছে, আইপি বা অনলাইন টিভি বন্ধ করতে। বন্ধ করতে বলার কারণ, সরকার এখনও কোনও আইপি টিভির অনুমোদন দেয়নি। অথচ দেশজুড়ে হাজার হাজার আইপি টিভি তৈরি হয়ে গেছে। ফেসবুক, ইউটিউব মহল্লায় আইপি টিভির ভিড়। সেদিন শুনলাম ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলাতেই নাকি ২৫টি আইপি টিভি আছে। এই পরিসংখ্যান অন্য উপজেলা এবং জেলাতে আরও বেশি থাকতে পারে। 

করোনাকালে লকডাউনে পথে বের হলে, এমন নতুন নতুন অসংখ্য টিভির দেখা পাই। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলে বিচিত্র নামের আইপি টেলিভিশনের স্টিকার চোখে পড়ে। গাড়ি ও গাড়িতে আসীন মানুষগুলোকে গণমাধ্যম কর্মীর মতো মনে না হলেও, তাদের গতি ও আচরণ পরিচিত টিভি চ্যানেলের কর্মীদের চেয়ে বেশি। ভাব এমন যে তারা গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহে ব্যস্ত। 

এসব আইপি টেলিভিশনের কাজের দৌরাত্ম্য স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অফিস, ভূমি অফিস এবং ইউএনও, ডিসি অফিস। তারা নেতা-মন্ত্রীদের অন্দর পর্যন্তও ঢুকে পড়েছে। ফলে এদের দৌরাত্মে ঝাঁঝও আছে।

রাজধানীতে এই প্রকারের আইপি টিভির হাঁকডাক বাড়ছে।  সরকারি-বেসরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিকে তারা নিত্য ব্ল্যাকমেলিং করে।  কোথাও কোনও অপরাধ ঘটলে, অপরাধী ও ভিকটিমকে নানা রকম হয়রানির ফাঁদে ফেলছে তারা। এই প্রকার আইপি টিভির অন্যতম বাণিজ্য- পরিচয় পত্র বিক্রি। জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগের নামে তারা পরিচয় পত্র বিক্রি করে লাখ-কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। 

টাকা দিয়ে যারা আইডি কার্ড কিনছে, তারা একে নিচ্ছে বিনিয়োগ হিসেবে। ওই টাকার লাভ তুলে নিতে নিতে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ সকল অপরাধের সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে এই কার্ডধারীরা। খেয়াল করলে দেখা যাবে এসব আইপি টিভির বেশিরভাগেরই নাম দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত বা মিলিয়ে রাখা। এতে সাধারণ মানুষ প্রথম দিকে বিভ্রান্তির মধ্যেই পড়ে যায়। বিভ্রান্তির ঘোর না কাটতেই পড়ে যান প্রতারণার ফাঁদে।

শুধু যে মানুষের সঙ্গে প্রতারণায় লিপ্ত এই আইপি টিভিগুলো তা নয়। তারা রাষ্ট্রীয় ও বিভিন্ন ঘটনায় গুজব, অপপ্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও লিপ্ত। নিকট ও দূর অতীতে এমন উদাহরণ আমরা দেখেছি। এসব আইপি টিভির খবর সাধারণ মানুষ প্রায়ই বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এতে বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার ওপর ভোক্তাদের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। তারা এখন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে পরিবেশিত খবরেও সংশয় প্রকাশ করেন।

আইপি টিভির মালিকানা কাদের? অধিকাংশই উচ্চফলনশীল ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মীদের। তারা এসব টিভির মাধ্যমে নিজেদের বিপণন করেন। উদ্দেশ্য ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়া। সফল হয়েছেন অনেকেই চরমভাবে। এত চরম যে তাদের সফলতার তাপ সাধারণ মানুষতো বটেই সরকারের জন্যও অসহনীয় হয়ে ওঠে। তাই এমন আইপি টিভি মালিকের পতনও আমাদের দেখতে হয়েছে। কিন্তু পতনের আগেই এরা সরকারকে বিব্রত করাসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শীর্ষধাপ অতিক্রম করেছে। এখন সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষ থেকেই দাবি উঠেছে, আইপি টিভি বন্ধের। এই দাবি গণমাধ্যমের শৃঙ্খলার জন্য। তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, নিয়ম নীতিহীন আইপি টিভির বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। তাঁর মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠতে হবেই। একই সঙ্গে বলে রাখা দরকার, অনেক ওয়েব পোর্টাল, পত্রিকা তাদের ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে এই কাণ্ডে মেতে আছে। তাদের মাঝেও নিড়ানী চালানো প্রয়োজন। তথ্য, সম্প্রচার বিভাগ এদিকে একটু নজর রাখলে সাংবাদিকতার উপকার হবে।

সেই সঙ্গে একথাও বলে রাখা দরকার- এখনও ভবিষ্যতের দুনিয়ায় আইপি টিভি  গ্রাহক বান্ধব। বাংলাদেশে ইন্টারনেট গতিশীল হলে এই মাধ্যমটি জনপ্রিয় হবে। আইপি টিভি আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তবতা। তাই আইপি টিভির পথ আটকে না রেখে নীতিমালা তৈরি করে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নেমে আসার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

/এসএএস/

সম্পর্কিত

‘ফকির’ করে চলে গেলেন…

‘ফকির’ করে চলে গেলেন…

ঘুষি লাগলো কি গণতন্ত্রের বুকে?

ঘুষি লাগলো কি গণতন্ত্রের বুকে?

মৃত্যু কিনি ঘামের দামে

মৃত্যু কিনি ঘামের দামে

রাজনীতির স্বাদ- বিস্বাদ!

রাজনীতির স্বাদ- বিস্বাদ!

বিপদ ডেকে আনছে ভারত, ঝুঁকি বাংলাদেশেরও

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২০:২৯

মো. জাকির হোসেন যুগে যুগে দেশে দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিন্দিত হয়েছে। রাষ্ট্র শাসনে ধর্মের অপব্যবহার ভয়ংকর পরিণতি ডেকে এনেছে। এসব জেনেও ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার উগ্র হিন্দুত্ববাদকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসাবে গ্রহণ করেছে। ফলে হিন্দু ধর্মের সারকথা ‘অহিংসা পরম ধর্ম’ এখন ভারতের ত্রি-সীমনা ছেড়ে পালিয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষতা কাগুজে নীতিতে পরিণত হয়ে সংবিধানে বৃত্তাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদ ক্রমেই গ্রাস করছে সমগ্র ভারতবর্ষকে। তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়ছে উগ্রবাদ, জন্ম নিয়েছে ভয়ংকর মুসলিম বিদ্বেষ। ২০০৫ সালে মনমোহন সিং সরকার কেন্দ্র, রাজ্য, অঞ্চল ও জেলা স্তরে মুসলমানদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষেত্রে বিরাজমান অবস্থার ওপর প্রতিবেদন তৈরির জন্য দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন যা ‘সাচার কমিটি’ নামে পরিচিত।

সাচার কমিটি কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর, রাজ্য সরকারি দফতর থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রকাশিত সংখ্যাগণিত, গবেষণাপত্র ও পুস্তকাদি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ৪৫০ পাতার তথ্যভিত্তিক এক প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের বঞ্চনা ও বৈষম্যের নৈরাশ্যজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় ভারতীয় মুসলমানদের অবস্থা তফসিলি সম্প্রদায় ও তফসিলি উপজাতীয়দের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। দলিতরাও মুসলমানদের চেয়ে ভালো আছে। এই প্রতিবেদনে ভারতীয় মুসলমানদের ওপর পরিচালিত বৈষম্যের বিষয়টি জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কমিটির একটি সুপারিশ ছিল বৈষম্যের বিষয়গুলো আইনিভাবে সমাধান করার জন্য একটি কৌশল উদ্ভাবন করার লক্ষ্যে একটি ‘ইকুয়াল অপারচ্যুনিটি কমিশন’ (ইওসি) গঠন করতে হবে।

এ ছাড়াও মুসলমানদের ‘মূলস্রোতে’ নিয়ে আসার জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুসলমানদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা, শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, মাদ্রাসা শিক্ষার যথাযথ গুরুত্ব, ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক সংস্থায় ঋণের সুবন্দোবস্ত, সরকারি ও আধা সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে এই পশ্চাদপদতা রাষ্ট্র কর্তৃক অনুসৃত বৈষম্যের নীতির ফল। রাষ্ট্র তার নীতি বদল না করলে এ পশ্চাদপদতা দূর হতে পারে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সুবিশাল জনগোষ্ঠী যদি স্থায়ী দারিদ্র, অশিক্ষা ও বুভুক্ষার মধ্যে বসবাস করেন তাহলে যে কেবল বিরাট মানব-সম্পদের অপচয় ঘটছে তাই নয়, একই সঙ্গে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নিজেদের ‘আলাদা’ বলে ভাববার বাস্তব ভিত্তি থেকে যাচ্ছে। এতে জাতীয় ঐক্য বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সমাজের রূপান্তরের পথে বাধা তৈরি হচ্ছে। অপরদিকে অন্য জনগোষ্ঠীর মানুষদের মধ্যেও মুসলমানদের সম্পর্কে নানারকম বিদ্বেষমূলক ধারণা গড়ে উঠছে।

বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে মুসলমানদের মূল স্রোতে আনার পরিবর্তে বিজেপি সরকারের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিদ্বেষমূলক নীতি ভারতীয় সমাজকে বিভক্ত, বিষাক্ত ও রক্তাক্ত করেছে। কল্পকাহিনির ওপর ভিত্তি করে ভারতের শাসক দলের হঠাৎ করে আমদানি করা বৈধ নাগরিকত্বের ধারণা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ভারতের নাগরিক ও সমাজের বন্ধনে নজিরবিহীন ভাঙন সৃষ্টি করেছে। হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ঘৃণা, আর ঘৃণা থেকে দাঙ্গা-সহিংসতা। এর মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্র ও সভ্যতা লজ্জার মধ্যেই পড়ছে। ২০২০ এর ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে সাম্প্রাদায়িক ঘটনা তার একটি উদাহরণ মাত্র। ভারতের একটি বড় অংশে প্রায় তিনশ বছর রাজত্ব করেছিল মুঘল সাম্রাজ্য। প্রায় তিনশো বছর রাজত্ব করা মুঘল সাম্রাজ্য দেশের ইতিহাসের একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতের বেশিরভাগ সৌধ মুঘল আমলে তৈরি হয়েছিল। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অনন্য সৃষ্টি তাজমহল। মুঘল শাসনামল ভারতবর্ষের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অথচ ভারতের মহারাষ্ট্রের স্কুলের সিলেবাস থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে মুঘল আমলের ইতিহাস। মুঘল সুলতানদের ইতিহাস সরিয়ে দিয়ে সেখানে নিয়ে আসা হয়েছে হিন্দু শাসক ছত্রপতি শিবাজীর প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যের ইতিহাস। কমিটির চেয়ারম্যান সদানন্দ মোরে জানাচ্ছিলেন, ‘আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তাই মারাঠা ইতিহাসের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগ আছে। সমস্যাটা হলো বইয়ে পৃষ্ঠা সংখ্যা সীমিত। তাই দুটো ইতিহাসই রাখা কঠিন, আবার মুঘল ইতিহাস রেখে মারাঠা ইতিহাস তো সরিয়ে দেওয়া যায় না!’ ইতিহাস পাঠ্যপুস্তক কমিটি বলছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক কোনও কারণ নেই।

প্রশ্ন হলো, মুসলমানদের ইতিহাস বাদ না দিয়ে, কয়েক পৃষ্ঠার মুঘল ইতিহাস পড়ানো হলে খুব কী ক্ষতি হয়ে যেত? কেবল স্কুলের সিলেবাসে নয়, মুসলিম বিদ্বেষের প্রভাব পড়েছে ভারতের আদালতেও। অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে নয়, বরং হিন্দু ধর্মের কিছু মানুষের বিশ্বাসকে মান্যতা দিয়ে বাবরি মসজিদ মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের বিতর্কিত রায় দিয়েছেন। পরস্পরবিরোধী, পক্ষপাতমূলক রায়টি ছিল অসঙ্গতিপূর্ণ। আদালত নিজেই স্বীকার করেছেন, মসজিদের নিচে যে কাঠামোর সন্ধান মিলেছিল, তা কোনও মন্দিরেরই কাঠামো ছিল, এমনটা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই)-এর রিপোর্টে স্পষ্ট হয়নি। তাহলে বিতর্কিত জায়গায় মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায়ের ভিত্তি কী?

আদালত বলেছেন, ‘তবে ওই স্থানকে যে হিন্দুরা ভগবান রামের জন্ম স্থান হিসেবে বিশ্বাস করেন, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।’ আদালতের আরেকটি যুক্তি ছিল,  ‘তবে বিতর্কিত জমির ওপর রামলালার অধিকার স্বীকার করে নেওয়াটা আইন-শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বহাল রাখার প্রশ্নের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’ বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে একটি ভয়ংকর ‘বিপজ্জনক তত্ত্ব’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদি কেউ প্রশ্ন তোলেন যে, অমুক মসজিদের নিচে মন্দির কিংবা অমুক মন্দিরের নিচে মসজিদের কাঠামো আছে, তাহলে এই রায়ের তত্ত্ব অনুযায়ী মাটির ওপর খাড়া ভবন ভেঙে পরীক্ষা করতে হবে এবং বিশ্বাসকে মান্যতা দিতে কিংবা আইন-শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বহাল রাখার স্বার্থে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী গোষ্ঠীর পক্ষে রায় দিতে হবে, তাতে প্রামাণ্য নথিপত্র থাকুক আর না থাকুক। সুপ্রিম কোর্টের এই বিপজ্জনক তত্ত্বের প্রয়োগ শুরু হয়েছে ভারতে।

সম্প্রতি  ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বরাবাঁকিতে যোগী আদিত্যনাথের সরকার ১০০ বছরের প্রাচীন একটি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসন দাবি করছে, ওই মসজিদের কাঠামোটি অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল এবং এলাহাবাদ হাইকোর্টের অনুমতি নিয়েই তারা সেই স্থাপনাটি ভেঙেছে। কিন্তু মসজিদের খাদেম রমজান আলি বলছেন তাদের বক্তব্য পেশ করার কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি। আইনজীবী জাফরিয়াব জিলানির মতে, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় এই মসজিদ ভেঙে আদালতের রায়ের অবমাননা করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ওই মসজিদটি নিয়ে কখনও কোনও বিতর্ক ছিল না এবং সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সেটি ধূলিসাৎ করা হয়েছে। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মৌলানা খালিদ সাইফুল্লা রেহমানি আরও বলেছেন, ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিমরা সেখানে নামাজ পড়ে আসছেন– যে বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কোনও দ্বিমত নেই। বিবিসির প্রতিবেদন মসজিদের পাশের হিন্দু প্রতিবেশী বেণী শর্মার উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছে, ‘সেই ছোটবেলা থেকে এখানে কখনও নামাজ পড়া বন্ধ হয়েছে বলে দেখিনি।’

২০১৪ সালে বরাবাঁকির মসজিদের একটি দরগা থেকেই নির্বাচনি প্রচারের সূচনা করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বাবরি মসজিদ ও বরাবাঁকির গরিব নেওয়াজ মসজিদ ছাড়াও আরও দুটি মসজিদ ভাঙার হুমকিতে পড়েছে। এই মসজিদ দু’টি ভাঙতে সুপ্রিম কোর্টের বিপজ্জনক তত্ত্বের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। মসজিদ দু’টি হলো বারানসির জ্ঞানবাপী মসজিদ বা আলমগিরি মসজিদ ও আগ্রা জামে মসজিদ বা জাহানারা মসজিদ।

সম্প্রতি ভারতের বারানসির একটি আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, জ্ঞানবাপী মসজিদ কোনও মন্দির ভেঙে গড়া হয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখতে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ চালাতে হবে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর উত্তরপ্রদেশের মথুরার একটি আদালতে আরেকটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। যেখানে রাজ্যটির আগ্রায় অবস্থিত জাহানারা মসজিদের নিচে হিন্দু দেবতা কৃষ্ণের মূর্তি আছে কিনা- তা খতিয়ে দেখতে একই ধরনের জরিপ চালানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে। মসজিদটি আগ্রা জামে মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত। পিটিশনে বলা হয়েছে, মথুরা জামানস্থান মন্দিরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে সেখান থেকে কৃষ্ণের মূর্তি নিয়ে আসেন মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব। পরে আগ্রায় জাহানারা মসজিদের নিচে সেটিকে পুঁতে রাখেন তিনি। জ্ঞানবাপী মসজিদে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ চালানোর বিষয়ে বারানসির আদালতের রেফারেন্স দিয়ে পিটিশনে বলা হয়েছে, জাহানারা মসজিদের নিচে দেব-দেবীর মূর্তি আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

মসজিদ ভাঙার টার্গেটের পাশাপশি ভারতীয় মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে আরেকটি ভয়ংকর বিদ্বেষ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অতি সম্প্রতি অনেক মুসলিম নারীদের অনলাইনে অবমাননাও করতে দেখা যায়।  ‘সুল্লি ডিলস’ নামে অ্যাপ ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, অনলাইনে একজন ‘সুল্লি’ কেনার এখনই সুযোগ। ভারতে উগ্র হিন্দুদের অনেকে ট্রলে মুসলিম নারীদের অবমাননা করতে ‘সুল্লি’ শব্দটি ব্যবহার করে। যদিও ভারত সরকার ‘সুল্লি ডিলস’ অ্যাপ বন্ধ করেছেন। কিন্তু আশংকার বিষয় হলো, হিন্দুত্ব উগ্রবাদের বিদ্বেষ তৃণমূলে পৌঁছে গিয়েছে ও ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

মহাভারতের প্রবাদে আছে, ‘তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে।’ মহাভারতের এই প্রবাদটির অন্তর্নিহিত অর্থ হলো- মানুষ তার কৃতকর্মের পরিণতি থেকে কোনোভাবেই রেহাই পায় না।

আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। তালেবানের সাথে সুসস্পর্ক রয়েছে পাকিস্তানের। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে তালেবানরা বৈঠক করেছে। পাকিস্তান ও চীনের সাথে ভারতের সম্পর্ক বন্ধুত্বের নয়। তালেবানের পাশাপাশি রয়েছে আল-কায়েদা, হাক্কানী গ্রুপ, লস্করই তৈয়্যেবা। এদিকে ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ বা ‘হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কে সামনে রেখে সংগঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের জঙ্গিরা। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত দুই জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবি, আনসার আল ইসলাম ও ভারতের জামআতুল মুজাহিদীন ইন্ডিয়া-জেএমআই একজোট হয়ে এই অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে খবরে প্রকাশ।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া চার জঙ্গির কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ অবস্থায় ভারত মসজিদ ভাঙা, মুসলিম নারীদের অপদস্থ করা তথা মুসলিম বিদ্বেষের নীতি থেকে দৃশ্যমানভাবে সরে না আসলে জঙ্গি হামলার বিপদের আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি এবং তালিবানের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে। সিলেটের বুলবুলি হুজুর নামে খ্যাত মুফতি হাবিবুর রহমান হরকাত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি এবং তালেবান ও আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন। ২০০৪ সালে ইসলামি বিপ্লব নামে একটি বুলেটিনে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে, তার সঙ্গে ওসামা বিন লাদেন ও পাকিস্তানের হরকাত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি সেই সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘হরকাত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামির আমন্ত্রণের কারণেই আমার আফগানিস্তান ভ্রমণ সম্ভব হয়েছে। ...আমরা যারা আফগানিস্তানের যুদ্ধক্ষেত্র ভ্রমণ করছি তারা হলেন, শাইখুল হাদিস আজিজুল হক, আতাউর রহমান খান (কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সাবেক এমপি), চট্টগ্রামের সুলতান যাউক, ফরিদপুরের আবদুল মান্নান, নোয়াখালীর হাবিবুল্লাহ, আমি নিজে এবং আরও তিনজন।’

তিনি পাকিস্তানে অবস্থিত মুজাহিদিন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন সেখানে অনেক বাংলাদেশি মুজাহিদিন-এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছেন, ‘তালেবানের পথ ধরে খেলাফতভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল জাতির ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব।’ তালেবানের বিজয় বাংলাদেশের জঙ্গিদের উজ্জীবিত করবে সন্দেহ নেই। শঙ্কার কথা, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে কিছু জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ততা বজায় রেখে চলছে। এদের বেশিরভাগই আফগানিস্তান ফেরত। এদের মধ্যে রয়েছে- হরকাতুল জিহাদ বা হুজি।

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ টানা তিন দিন দেশজুড়ে হেফাজত যে তাণ্ডব চালায়, তার সঙ্গে হুজির যোগসূত্র পাওয়া গেছে। আরেকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, হেফাজতের প্রায় ডজনখানেক নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের।

বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রধান শত্রু আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিবার। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে যে ১৯ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে তার বেশ কয়েকটির সাথে হরকাতুল জিহাদ, জামায়াতুল মুজাহিদিনসহ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন সম্পৃক্ত ছিল। অথচ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ইসলামের প্রচার-প্রসারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার। বঙ্গবন্ধুর রক্তে ছিল ইসলামের প্রচার-প্রসারের তাগিদ। আর তাই বঙ্গবন্ধু সাংবিধানে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামের প্রচার-প্রসারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি তার সংক্ষিপ্ত শাসনামলে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার স্থান বরাদ্দ, হজ পালনের জন্য সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা, সীরাত মজলিশ প্রতিষ্ঠা, বেতার-টেলিভিশনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচার, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), শবে কদর, শবে বরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা, মদ জুয়া নিষিদ্ধকরণ ও শাস্তির বিধান, রাশিয়াতে প্রথম তাবলীগ জামাত প্রেরণের ব্যবস্থা, ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) অধিবেশনে যোগদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত করা। বঙ্গবন্ধুর ইসলাম প্রচার ও প্রসারের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ইসলাম ও আলেম সমাজের জন্য যা কিছু করেছেন, অন্য কোনও সরকার তা করে নাই।

বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে। দেশে প্রায় এক লাখ মসজিদভিত্তিক মকতব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। খতিব-ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জাতীয় স্কেলে বেতন নির্ধারিত হয়েছে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আলেমদের দীর্ঘ সময়ের দাবি কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধু প্রবর্তিত মদ-জুয়া নিষিদ্ধের বিধান যারা বাতিল করলেন, হজের সরকারি অনুদান বন্ধ করলেন তারা ইসলামের সেবক বলে পরিচিত আর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার ইসলামবিরোধী বলে মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হলেন। এর দু’টো কারণ হলো, স্বাধীনতাবিরোধীদের হাত ধরে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান। পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টি করায় জঙ্গিদের টার্গেট আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ভারতের সক্রিয় সহযোগিতা থাকায় ভারতও জঙ্গিদের প্রতিপক্ষ। আবার ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ এর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার কারণেও আওয়ামী লীগ জঙ্গিদের শত্রুপক্ষ।

ঐতিহাসিক ও ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের ভাগ্য একসূত্রে গাঁথা। উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিদ্বেষে মসজিদ ভাঙা, মুসলিম নারীদের অবমাননা ও মুসলিম নির্যাতনের ঘটনার মাধ্যমে ভারত নিজের জন্য বিপদ ডেকে আনার পাশাপাশি বাংলাদেশকেও জঙ্গিবাদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে এই কথা জোর দিয়ে বলা যায়।

লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: [email protected]

/এসএএস/

সম্পর্কিত

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের

ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত ও আমাদের দায়

ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত ও আমাদের দায়

জাতির মেরুদণ্ডের মৃত্যুদণ্ড যেন না হয়

জাতির মেরুদণ্ডের মৃত্যুদণ্ড যেন না হয়

অবৈধ ইসরায়েলের আগ্রাসন ও মুসলিম উম্মাহর নেতাদের নীরবতা

অবৈধ ইসরায়েলের আগ্রাসন ও মুসলিম উম্মাহর নেতাদের নীরবতা

সাংবাদিকতা বনাম করপোরেট ইমেজ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৮:৪২

মো. সামসুল ইসলাম সম্প্রতি আমাদের দেশের সাংবাদিকতা যে কারণে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বা সমালোচিত হচ্ছে তাহলো ব্র্যান্ড বা করপোরেট ইমেজ রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা। যেকোনও কারণে কোনও করপোরেট হাউজ যখন বিতর্কিত হয়, তখন কোনও কোনও গণমাধ্যমের করপোরেট ইমেজ রক্ষার প্রচেষ্টা আমাদের জনগণ স্বভাবতই মেনে নিতে পারেন না। অনেকে ক্ষেত্রেই তারা, কিছুটা অযৌক্তিকভাবেই, ব্যক্তি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়ে ওঠেন।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ইমেজ রক্ষার কাজ আর সাংবাদিকতা দুটি ভিন্ন পেশা। গণতন্ত্র আর উদার অর্থনীতির যুগে মুক্ত গণমাধ্যম যেমন অপরিহার্য, তেমনি অপরিহার্য ব্যবসায়িক বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহ।

বিতর্ক এড়াতে সঙ্গত কারণেই আমি আমাদের দেশের কোনও উদাহরণ টানতে চাই না। কিন্তু একটা ব্যাপারে সবাই একমত হবেন যে কোনও প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ বা প্রধান নির্বাহী বা অন্য কেউ যখন বিতর্কিত হয়ে পড়েন বা অপরাধ করেন তখন সেই প্রতিষ্ঠানকে কেউ হয়তো ধ্বংস করে দিতে চাইবেন না। হাজার হাজার মানুষ সেখানে চাকরি করছেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে সেটি গড়ে উঠেছে। সবাই চাইবেন অভিযুক্ত ব্যক্তি যাতে আইনের আওতায় আসে। কিন্তু ব্র্যান্ড বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে।  

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এক্ষেত্রে ব্র্যান্ড বা করপোরেশনের ইমেজ কে রক্ষা করবে? করপোরেট কমিউনিকেশনের নির্বাহীরা? নাকি সাংবাদিকরা? ব্র্যান্ড বা করপোরেট ইমেজ রক্ষার ব্যাপারটি একটি বিশেষায়িত কাজ। গণমাধ্যমকে বিতর্কিত না করে নৈতিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেও এটা করার প্রচেষ্টা নেওয়া যায়।

আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই সেখানে এই সেমিস্টারে যে কয়েকটা কোর্স পড়াচ্ছি তার মধ্যে একটি কোর্স হচ্ছে করপোরেট কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স।  যদিও পশ্চিমা টেক্সবইগুলোতে করপোরেট কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে ইথিক্যাল প্র্যাকটিসের কথা উল্লেখ করা হয় কিন্তু আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই কোর্স পড়াতে গেলে বিব্রত হতে হয়। যেমন, সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীরা অন্য কোর্সে মিডিয়ার যে কোড অব কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি শিখে আসে তার উল্টো চিত্র চলে আসে এ কোর্সে এসে।

সেটা হয় বাংলাদেশের কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য। যেমন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের যারা মালিকানায় আছেন বা শীর্ষ নির্বাহীরা যখন কোনও অপরাধ করেন বা সেসব প্রতিষ্ঠানে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে তখন সাংবাদিকতা আর করপোরেট কমিউনিকেশনের দায়িত্ব কিন্তু ভিন্ন।

সাংবাদিকতার আদর্শ অনুসারে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠক, দর্শককে সঠিক তথ্য জানাবেন।  আর করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কমিউনিকেশনের নির্বাহীরা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বা ব্র্যান্ড ও ইমেজ রক্ষার চেষ্টা করবেন। এগুলোর সুনির্দিষ্ট কৌশল আছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের কমিউনিকেশন বা পাবলিক রিলেশন্সের লোকজন এসব কৌশল জানেন বলে আমরা ধরে নিতে পারি এবং তারা বিভিন্নভাবে এ সংকট কাটানোর ব্যাপারে টপ ম্যানেজমেন্টকে ধারণা দেবেন। ভুল স্বীকার বা জনগণকে সঠিক তথা দেওয়া, দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা বা ক্ষেত্র বিশেষে নিশ্চুপ থাকাসহ বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল তার নিতে পারেন প্রতিষ্ঠানের ইমেজ রক্ষার্থে।    

আমি কিন্তু এখানে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের ইমেজ রক্ষার কথা বলছি। কোনও ব্যক্তিকে তার অপরাধের জন্য আইনের হাত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলছি না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে আমরা ধরে নিচ্ছি।

আমাদের দুর্ভাগ্য যে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দেখছি কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান কোনও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মিডিয়াকে ভুলভাবে ব্যবহার করে সবকিছু লেজেগোবরে করে ফেলেন এবং নিজেদের বিপদ বাড়ান। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ইমেজ রক্ষার্থে সাংবাদিকতা ভুলে করপোরেট কমিউনিকেশনের অংশ হয়ে যান। গণমাধ্যমের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা উলটো ব্র্যান্ড প্রটেকশনের জন্য মাঠে নামেন সাংবাদিকতার রীতিনীতি ভুলে।

সম্প্রতি আমরা এরকম অনেক উদাহরণ আমাদের দেশেই দেখছি। দেশে জনগণের মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম স্বাক্ষরতা বাড়ছে। জনগণ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে ঘটনা প্রবাহ অন্যদিকে নেওয়ার প্রচেষ্টায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কি কোনও লাভ হয়? বা তাদের ইমেজ সুরক্ষিত হয়? আমার মনে হয় না। জনগণ এখন অনেক সচেতন।  

সাংবাদিকতা পেশার স্বতন্ত্র সীমারেখা নির্ণয় করা তাই জরুরি হয়ে পড়েছে। অনেক পেশার সঙ্গেই জড়িয়ে পড়ছে তাদের নাম। তবে এ সমস্যা যে শুধু আমাদের দেশের তা নয়।  ধনতান্ত্রিক সমাজের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের রাজধানীগুলো লবিস্ট গ্রুপ আর পিআর ফার্মে ভর্তি। এর ঢেউ এসে পড়েছে আমাদের দেশেও। মিডিয়াকে বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়। মিডিয়াতে যা প্রকাশিত হয় তার কতটুকু অন্যের স্বার্থ রক্ষার্থে আর কতটুকু জনগণের জন্য তা আসলে বিশাল প্রশ্ন।

বিভিন্ন দেশের অ্যাম্বাসি, এনজিও, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, নন প্রফিট অর্গানাইজেশন সবারই আসলে গণমাধ্যমকে দরকার। মিডিয়া কাভারেজ সবার অস্তিত্ব রক্ষায় জরুরি। নন প্রফিট অর্গানাইজেশনদের মিডিয়া কাভারেজ দেখিয়ে ফান্ড আনতে হয়। রাষ্ট্রদূতদের নিজ দেশে কাজকর্ম দেখাতে দরকার মিডিয়া কাভারেজ। সুতরাং এটা মোটেই আশ্চর্যের বিষয় নয় যে উন্নত বা উন্নয়নশীল সব দেশেই পিআর ফার্ম গড়ে উঠছে। অর্থের বিনিময়ে তারা বিনিময়ে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া কাভারেজ নিশ্চিত করে।

এখানে লুকোনোর কিছু নেই। করপোরেট মিডিয়া বিশ্বব্যাপী এভাবেই কাজ করে। মিডিয়া তো অনেক দেশের ফরেন মিনিস্ট্রির এক্সটেনশন হিসেবে কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে তারাই যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে জনগণ আগে মিডিয়ার ভেতরের এতকিছু জানতো না। এখন কিছুটা বুঝতে পারছে যে তারা আসলে কার বা কী খবর দেখছে। এটা জেনেই তারা ফেসবুকে মিডিয়া বা সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে।

তবে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের দেশের একটা পার্থক্য হলো সেসব দেশে অনেক সংগঠিত মিডিয়া ওয়াচ গ্রুপ বা মিডিয়া মনিটরিং এজেন্সি এবং সেই সঙ্গে ফ্যাক্ট চেকিং গ্রুপ থাকে। বিভিন্ন ইস্যুতে মিডিয়া কাভারেজের ব্যাপারে গণমাধ্যম সমালোচকরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন এবং তা জনগণের সামনে তুলে ধরেন।  আমাদের দেশে এরকম গঠনমূলক সমালোচনা খুব কমই হয়, যাতে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উপকৃত হতে পারেন। বরং যেটি হয় তাহলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে ব্যক্তি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসিত গালাগালি। সাংবাদিকরাও তো চাকরি করেন। অনেক ক্ষেত্রেই মিডিয়ার মালিকদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

সাংবাদিকতার অস্তিত্ব রক্ষার্থে আমাদের সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, ইউনিয়ন,  সবাইকে এটি নিয়ে চিন্তা করতে হবে,  সবাইকে মিলে মিডিয়ার সেলফ রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে সাংবাদিকতা পেশার স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা রক্ষিত হয়।

লেখক: কলামিস্ট; বিভাগীয় প্রধান, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন ও মিডিয়া স্টাডিজ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

ইমেইল: [email protected]

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

করোনাকালে গণমাধ্যম: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

করোনাকালে গণমাধ্যম: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

আয়কর রিটার্ন ইমেইলে জমা নেওয়ার উদ্যোগ যে কারণে জরুরি  

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৭:২১
মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেমে নেই। প্রকট থেকে প্রকট, তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে এর ভবিষ্যৎ বিস্তার। এর  প্রতিরোধের সাধ্যমতো চেষ্টা চলছে অবিরত। এ প্রচেষ্টায় কখন যে বিরতির নিশ্বাস ফেলা যাবে জানে না কেউই! এ অদৃশ্য শত্রু বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা মানব ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। অসহায় মানুষ সর্বশেষ মহান রবের কাছে প্রার্থনা করে, তিনি যেন এ অদৃশ্য শত্রুকে ঘায়েল করার ক্ষমতা তাঁর সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাতকে দান করেন। আমিন।  

মহামানবদের জীবনী পড়লে দেখা যায়, তাঁরা সকল সময় বিপদে ধৈর্য ধারণের জন্য বলেছেন। আমরা ধৈর্য ধরছি। আমাদের আপনজন, প্রতিবেশী, কাছের মানুষ, পরিচিতজনকে ইতোমধ্যে বিদায় দিয়েও নিজেদের জীবন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি। যত দিন দেহে প্রাণ থাকবে বহমান, ততদিন আমাদের চলারগতি থাকবে চলমান। এ চলমান জীবনের সংগ্রামে সংসার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কাজের সকল স্তরে বিরাজমান কার্যাদি যেন বিকল্প চিন্তার ভাণ্ডারে ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিবারের প্রধানকে, সমাজের মাতাব্বরকে, অফিস প্রধানকে প্রতিনিয়ত বিকল্প ভাবতে হচ্ছে। এ বিকল্প ভাবনার ফলও আসছে দ্রুত। তাই তো আমরা অতিমারির সময়েও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে সক্ষম হচ্ছি।

আমাদের সরকার রাজস্ব আদায়কে অতীব জরুরি সেবার আওতায় স্থান দিয়েছে। মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য অতি জরুরি সেবাগুলো যেমন অত্যাবশ্যক, তেমনি রাষ্ট্রীয় অর্গানগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রে রাজস্বও একটি অতীব জরুরি খাত। আগে তেমন না বুঝলেও এখন তা বঝুতে আর অসুবিধা হয় না। তাই কঠোর লকডাউন ব্যবস্থার মধ্যেও রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখার প্রজ্ঞাপন আমরা দেখেছি।

এ জরুরি সেবা খাতটির একমাত্র উপাদান দেশের নাগরিকগণ। যারা নিজেদের আয়-রোজকারের অর্থ দিয়ে রাষ্ট্রকে চলার গতি দিয়ে থাকে।  প্রত্যেক করদাতা নাগরিক রাষ্ট্রের জন্য ডিম পাড়া হাঁসের মতো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ডিম পাড়া হাঁসের প্রতি খামারিরা বিশেষ নজর রাখলেও করদাতা নাগরিকদের জন্য আমাদের রাষ্ট্রের করার তেমন কিছু নেই। বরং করদাতাদের হয়রানির অভিযোগ বিস্তর। তাই অনেক করদাতা জোর করে হলেও রাষ্ট্রকে 'ডিম' উপহার দিতে বিরাগ। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র বড়ই বোকা। জোর করে ডিম পাড়ানোর চেষ্টা করে। ফলে হাঁসও মরে, ডিমও ভেঙে চুরমার! কর আদায় ঋণাত্মক! বছর বছর ঘাটতি বাজেট; সংশোধিত বাজেট বা ঋণ করে ব্যয় নির্বাহ করা হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক ব্যাপার।  

একটু কৌশলী হলে রাষ্ট্র অল্প বিনিয়োগে ব্যাপক রাজস্ব আদায় করার সুযোগ পেতে পারে। সভা, সেমিনার, নাগরিক সংলাপে আমরা অনেক গুণী মানুষকে বলতে শুনি রাষ্ট্র সকল সহজ উদ্যোগগুলো নিচ্ছে। শত কোটি টাকাও বরাদ্দ দিচ্ছে, ব্যয় হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটা আর আলোর মুখ দেখে না। এর অন্তরালে নাকি একটি চক্র আছে। এ চক্র সরকারকে তা করতে বাধাগ্রস্ত করে। করদাতারা অসহায় প্রাণীর মতো এ বাণীগুলো শুনে অবাক! সরকার নাকি চক্রের মধ্যে জিম্মি। তাহলে সরকারের দরকার কী? প্রতিটি জায়গা একটি করে চক্র সক্রিয় করে দিয়ে সরকার হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকুক বা বিদায় নিয়ে ক্লান্তির নিশ্বাস ফেলুক। তবু তো আমরা বাঁচি। চক্রটি কিছুদিন চক্রান্ত করে ক্লান্ত হয়ে বলবে এবার করদাতাদের জন্য কিছু করি। এগুলো আমার আক্ষেপের কথা!

বাস্তবতা হলো সরকার চাইলে যেকোনও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে, এবং ভালোভাবে পারে। তাই করদাতা নাগরিকদের কষ্ট লাঘব করা যায় এমন কিছু করার উদ্যোগ নিলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ফলাফল আসবে।

এ ক্ষেত্রে চক্রকে দমন করার দায়িত্ব সরকারের। করদাতারা যত কম ঝামেলায়, সহজে ও নিরাপদে আয়কর পরিশোধ, নথি জমা ও সেবা পেতে পারে তার উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বিগত ১১ জুলাই ২০২১ তারিখে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের স্মারক নং ০৪.০০.০০০০.৫১৪.১৬.০০১.২১.২২৩-এর মাধ্যমে সরকারি সকল অফিসের দাফতরিক কাজসমূহ ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটস অ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যমে) সম্পন্ন করার ঘোষণা করেছে। এটা সময়োপযোগী একটি কাজ। এটা বাস্তবায়ন করা হলে অবশ্যই দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল থাকবে বাধাহীনভাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সার্কুলারের বাইরে নয়। তবু রাজস্ব আদায় ও আয়করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধিও চলমান উদ্যোগগুলোর সঙ্গে অতিদ্রুততম সময়ের জন্য সার্কেলভিত্তিক ই-মেইল-এর মাধ্যমে রিটার্ন জমা নেওয়ার উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ বিগত বছর সীমিত পরিসরে সার্কেলভিত্তিক করমেলা হলেও এবার তা করা আদৌ সম্ভব কিনা, তা বলা কঠিন। তাই প্রতিটি সার্কেল থেকে একটি অভিন্ন ই-মেইল চালু করা হোক, যেখানে করদাতা বা তার প্রতিনিধি আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। করদাতার পক্ষে ইমেইল করার সঙ্গে সঙ্গে বা ই-মেইলটি গ্রহণ করার পর ফিরতি একটি ইমেইলে প্রাপ্তি স্বীকার অটোমেটিক চলে আসবে। এ ফিরতি ইমেইলটি হবে করদাতার জন্য প্রাপ্তিস্বীকার। ইমেইলভিত্তিক আয়কর রিটার্ন জমা নেওয়ার এ উদ্যোগটি হতে পারে এ সময়ের জন্য একটি সেরা উদ্যোগ।  

অনেকে বলবেন অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে, তাই ইমেইলে দেওয়ার প্রয়োজন কী? কিন্তু অনলাইনে যে বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়, অনেক করদাতার পক্ষে তা বুঝা বা ধাপে ধাপে তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে অনেকে এ সেবাটি গ্রহণ করতে তেমন আগ্রহী হচ্ছেন না। তবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন ব্যবস্থা সহজীকরণ করেও রাজস্ব করদাতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যেতে পারে। যে উদ্যোগই নেওয়া হোক, তা যেন ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয় এবং করদাতাদের বুঝতে সহযোগিতা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নতুবা উদ্যোগগুলো কাজে আসবে না।

সম্প্রতি একটি ঘটনা বলে আজকের বিষয়টি শেষ করবো। আমি নিজে চলতি মাসে একটি ভ্যাট সার্কেল-এ বাংলা ফরমেটে একটি ভ্যাট রিটার্ন ইমেইলে সাবমিট করার জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তাকে অনুরোধ করি। তিনি আমাকে উত্তর দিলেন, ইমেইলে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে না। আমি উত্তর দিলাম সরকারি সিদ্ধান্ত আছে, আপনারা মানছেন না কেন? তিনি বলেন, আমাদের জন্য তা প্রযোজ্য নয়। ফোন কেটে গেলো। কিছুক্ষণ পরে তিনি ফোন দিলেন, বললেন আপাতত জমা দেন, অফিস খোলার পর হার্ডকপি জমা দিয়ে দেবেন। আমি সম্মতি দিলাম এবং ইমেইলে পাঠালাম। ৩০ মিনিটি পর তিনি আবার ফোন দিলেন, বললেন, বাংলা ফরমেট গ্রহণযোগ্য নয়। আমি বললাম, ইংরেজি ফরমেট পাচ্ছি না। আপনার কাছে থাকলে একটু পাঠিয়ে দেবেন। তিনি উত্তর দিলেন, এগুলো আমাদের কাছে নেই, থাকে না। আপনার প্রয়োজনে আপনি সংগ্রহ করে নেবেন। আপনাকে যেমন নিজের প্রয়োজনে বিআইএন নম্বর নিতে হয়েছে, তেমনই রিটার্ন জমার ফরমেটও নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করতে হবে। এনবিআর অফিসের সামনে বিক্রি হয়, সেখান থেকে কিনতে পারেন।

ওনার কথা শোনার পর আমি বললাম, আপনার কথাটি আমি মেনে নিতে পারছি না। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে আমাকে ফরমেট সংগ্রহ করে দেওয়া। আপনি আমাকে সরকারি বিনামূল্যের ফরম কিনতে বলতে পারেন না।

এ অফিসারকে আমি সরাসরি দেখিনি। মনে হয়েছে নতুন চাকরিতে যোগদান করেছেন। আমার মনে হলো তিনি আমার কথা একটু আমলে নিলেন। আচ্ছা রাখি বলে ফোনটা কেটে দিলেন। তারও ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যে আমার ইমেইলে ইংরেজি ফরমটি পাঠালেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং প্রশংসা করে একটি মেইলের উত্তর দেই। তিনি আমার কাছে এরপর দুই দুইবার ফোন করেছেন এবং আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে।

এ আলোচনাটা আনলাম এজন্য যে আমাদের নাগরিকরা যেমন কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন, তেমন কর আদায়কারী কর্মকর্তাদের মাঝেও কিছুটা ভাব কাজ করে এমন- আইন মোতাবেক সব দায়িত্ব নাগরিকের, সময় মতো তা না দিলে জরিমানা ও জেল হতে পারে। সুতরাং আমার এখানে কাজ কী? করদাতার কাজ করদাতাই করবেন। কিন্তু না, করদাতারা সচেতন হলে কর আদায়কারীরাও দায়িত্বশীল হবেন।    

লেখক: আয়কর আইনজীবী
/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ভ্যাট আদায়ে ন্যায্যতার ঘাটতি, নজর দেবে কে?

ভ্যাট আদায়ে ন্যায্যতার ঘাটতি, নজর দেবে কে?

‘ব্লকচেইন প্রযুক্তি’ হতে পারে রাজস্ব আদায়ের নতুন দিগন্ত

‘ব্লকচেইন প্রযুক্তি’ হতে পারে রাজস্ব আদায়ের নতুন দিগন্ত

প্রতিবন্ধীদের সহায়ক চলনযন্ত্রের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার জরুরি

প্রতিবন্ধীদের সহায়ক চলনযন্ত্রের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার জরুরি

বিদেশি অনুদানে বাস্তবায়িত প্রকল্প ব্যয়ে ভ্যাট-ট্যাক্স কতটা যৌক্তিক!

বিদেশি অনুদানে বাস্তবায়িত প্রকল্প ব্যয়ে ভ্যাট-ট্যাক্স কতটা যৌক্তিক!

উন্নয়নের তিন ডজন ইস্যু

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫:৩২

মোস্তফা মোরশেদ অর্থনীতির একটি নতুন শাখা হিসেবে ১৯৪০ এর দশকে উন্নয়ন অর্থনীতির যাত্রা শুরু হয়। এর উত্থানের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঔপনিবেশিক শাসন শেষে পরিবর্তিত পৃথিবীতে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোকে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের হাত থেকে রক্ষা করা। নতুন তত্ত্ব ও মডেলের সমন্বয়ে শুরু হওয়া এ ধারাকে অনেকেই ব্রিটিশদের সৃষ্টি (British Affair) বলে অভিহিত করেন।

এ লেখায় উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত ইস্যুগুলো আলোচনা করা হয়েছে। একটি দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সাথে যারা বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত তাদের জন্য উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হয়। উন্নয়নের সাথে যে সব চলক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সেগুলো সম্পর্কে যথাযথভাবে জানা এবং এ চলকগুলোর সম্ভাব্য পরিবর্তন পরিমাপ করার মাধ্যমে উন্নয়ন অর্থনীতির পাঠ সফলতা লাভ করে। নীতি নির্ধারকদের পাশাপাশি অর্থনীতির শিক্ষার্থীদেরও এসব জানার অবকাশ রয়েছে। প্রসঙ্গত, ব্যাখ্যা করার সুবিধার্থে এবং যথার্থ পরিভাষার অভাবে এ লেখায় অনেকগুলো ইংরেজি শব্দ সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে।

উন্নয়ন একটি বহুমুখী ধারণা। খুব স্বল্প পরিসরে এর ব্যাখ্যা বা বর্ণনা অসম্ভব। উন্নয়ন আলোচনায় অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। সংক্ষেপে বললে, উন্নয়ন মানে মানুষের জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত সকল চলকের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সামগ্রিকভাবে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। উন্নয়নের সাথে জড়িত চলকগুলোর তালিকা করলে মানুষের জীবন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সাথে তার সম্পৃক্ত সকল বিষয় চলে আসে। চলকগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে এদের একটির পরিবর্তন হলে আরেকটি বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তিত হয় যা অর্থনীতির ভাষায় অন্তর্জনিষ্ণু (ইস্যু ১) (endogenity) হিসেবে বিবেচিত। বাস্তবিক অর্থে, উন্নয়ন অর্থনীতির ধারণায় বহির্জনিষ্ণু (exogenous) চলক বলতে কিছু নাই। উন্নয়নের রুপরেখা প্রণয়নে চলকের সংখ্যা যত সমস্যা সৃষ্টি করে তার চেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে এদের পারস্পরিক অন্তর্জনিষ্ণু সম্পর্ক।

চলকের দুটি প্রকার রয়েছে; পরিমাণগত (ইস্যু ২) ও গুণগত (ইস্যু ৩)। পরিমাণগত চলকগুলোর তালিকায় যে সকল চলক থাকবে সে তালিকা অনেক দীর্ঘ। আলোচনার সুবিধার্থে ধরা যাক, এ তালিকায় পঞ্চাশটি চলক রয়েছে। তবে এ তালিকার প্রথমেই আসবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (ইস্যু ৪)। ১৯৮০ এর দশকে ‘উন্নয়ন’ ও ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’কে দুটি আলাদা ইস্যু বিবেচনা করা হতো। এমনকি এর পক্ষে দুটি আলাদা school of thought-ও গড়ে উঠে। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার (ইস্যু ৫) বিকাশের কারণে এ বিতর্কের অবসান হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ সকল আয়ের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চলক হিসেবে উন্নয়ন অর্থনীতির আলোচনায় সর্বাগ্রে স্থান করে নিয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় চলকটি একেক দেশের জন্য একেক রকম হবে। যেমন, আফ্রিকার উন্নয়নের তালিকার দ্বিতীয় চলক হয়ত ‘বিশুদ্ধ পানি’, ভারতের ক্ষেত্রে হয়ত ‘স্যানিটেশন’ কিংবা পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য সেটি ‘বৈষম্য’। ইস্যু হিসেবে উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত চলকগুলোকে বিবেচনা করার অবকাশ ছিল না, এ লেখার কলেবর বেড়ে যেত।

গুণগত চলকগুলো মূলত উন্নয়ন আলোচনার বিদ্যমান পরিমাণগত চলকের ক্রমাগত উৎকর্ষ সাধনের প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। উন্নয়নের চলক হিসেবে ‘শিক্ষার উপকরণ’ বিবেচনা করলে দেখতে হবে এগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য কতটুকু উপকারী। যেমন, নির্দিষ্ট সংখ্যক কলমের বিপরীতে কী মানের কলম সরবরাহ করা হবে সেটিই মুখ্য। পরিমাণগত চলকের গুণগত মান অর্জনের মাধ্যমে গুণগত চলকের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হয়।

উন্নয়ন সরাসরি জনগণের সাথে সম্পৃক্ত (ইস্যু ৬)। নির্দিষ্ট করে বললে, উন্নয়ন শুধুমাত্র মানুষের জন্য। যেখানে মানুষ নাই সেখানে উন্নয়ন নাই। মরুভূমিতে যেখানে মানুষের বসবাস নাই সেখানে উন্নয়ন চিন্তার প্রতিফলন নাই। এ অবস্থাকে আন-ডেভেলপমেন্ট বলা হয়ে থাকে। সম্ভাব্য উন্নয়ন হবার জায়গায় উন্নয়ন কম হলে তাকে আন্ডার-ডেভেলপমেন্ট বলে।

উন্নয়নকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য একক কোনো পদ্ধতি বা মডেল পাওয়া যায় না। বিশ্বব্যাংক যেভাবে সংজ্ঞায়িত (ইস্যু ৭) করেছে তাতে শুধুমাত্র মাথাপিছু জিএনআই (মার্কিন ডলার) এর উপর ভিত্তি করে দেশগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা হয়–

১) নিম্ন-আয়ের দেশ (মাথাপিছু জিএনআই ১,০২৫ এর কম);

২) মধ্যম-আয়ের দেশ;

৩) উচ্চ-আয়ের দেশ (মাথাপিছু জিএনআই ১২,৪৭৫ এর বেশি)।

মধ্যম-আয়ের দেশসমূহকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়; নিম্ন মধ্যম-আয়ের দেশ (মাথাপিছু জিএনআই ১,০২৬ থেকে ৪,০৩৫) ও উচ্চ মধ্যম-আয়ের দেশ (মাথাপিছু জিএনআই ৪,০৩৬ থেকে ১২,৪৭৫)।

অপরদিকে, জাতিসংঘের বিশ্লেষণ (ইস্যু ৮) অনুযায়ী বিশ্বের দেশসমূহকেও তিন ভাগে ভাগ করা হয়; ১) স্বল্পোন্নত দেশ, ২) উন্নয়নশীল দেশ, ও ৩) উন্নত দেশ। জাতিসংঘ তিনটি সূচকের (মাথাপিছু জিএনআই, মানব সম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক) উপর ভিত্তি করে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের হিসাব করে থাকে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের কোনও মাপকাঠি নেই। জাতিসংঘ শুধুমাত্র স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের তালিকা প্রণয়ন করে। এ তালিকার বাইরের দেশগুলো উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। উন্নয়ন পরিমাপে মানব উন্নয়ন সুচক বা HDI-ও (ইস্যু ৯) ব্যবহৃত হয় যা বহুলভাবে স্বীকৃত। HDI এর গঠন অনেকটা পূর্বে উল্লিখিত জাতিসংঘের মানব সম্পদ সূচকের মতো।

এছাড়া উন্নয়ন পরিমাপ করতে হলে আবশ্যিকভাবে সামাজিক খরচ ও লাভের বিশ্লেষণ (social cost-benefit analysis) করতে হয়। কারণ প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের (সরকারি ও বেসরকারি) সাথে এক্সটারনালিটির (ইস্যু ১০) গভীর সংযোগ রয়েছে যা টাকার অংকে পরিমাপ করতে হয়। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যে সকল ঋণাত্মক চিত্র উঠে আসে অর্থনীতির আলোচনায় এগুলোকে নেগেটিভ এক্সটারনালিটি এবং ধনাত্মক বিষয়গুলোকে পজিটিভ এক্সটারনালিটি বলা হয়ে থাকে। এ সকল এক্সটারনালিটি পরিমাপের মাধ্যমেই অর্থনীতির পাঠে সামাজিক খরচ ও লাভের বিশ্লেষণ (ইস্যু ১১) করা হয়। কোনও প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যদি নিগেটিভ এক্সটারনালিটি উদ্বুদ্ধ হয়ে সামাজিক ক্ষতি বেশি হয় তবে বাজার ব্যর্থ (ইস্যু ১২) (market failure) হয়। বাজার ব্যর্থতা ঠেকানোর জন্য প্রকল্প নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি কর্তৃত্বের (authority) দরকার হয়। এ কর্তৃত্বই কার্যত সরকার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরকারের কার্যপরিধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এভাবেই সরকার উন্নয়ন অর্থনীতিতে ভূমিকা (ইস্যু ১৩) রেখে থাকে।

সামাজিক খরচ ও লাভের হিসাব করা বেশ জটিল ও কষ্টসাধ্য। অনুন্নত দেশের জন্য এটি প্রায় অসম্ভব। এর সবচেয়ে বড় কারণ সরকারের দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি গবেষণা খাতের দুর্বলতা (ইস্যু ১৪)। সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সাথে উন্নয়ন সিদ্ধান্তের একটি দারুণ সমন্বয় দরকার যা পূর্বে উল্লিখিত অর্থনীতিতে সরকারের ভুমিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ।  

প্রকল্প নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সাথে অনেক বিষয় জড়িত। মোটাদাগে যদি পুরা অর্থনীতিকে তিনভাগে ভাগ করা হয় (কৃষি, শিল্প ও সেবা) তবে প্রকল্প নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবগুলোকে সমান প্রাধান্য দিতে হবে কারণ একটি আরেকটির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। একটি অন্যটির চেয়ে তুলনামূলক বেশি অনেক এগিয়ে গেলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রকল্পের অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন (ইস্যু ১৫)।

উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের অনেক দীর্ঘ তালিকা থাকতে পারে তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের একটি অগ্রাধিকার তালিকা থাকা আবশ্যক।

অগ্রাধিকার তালিকা হতে অর্থনৈতিক প্রভাবের (economic impact) (ইস্যু ১৬) আলোকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে যুক্তিসঙ্গত কারণে অনেকক্ষেত্রেই সরকার ব্যক্তিখাতের মতো আচরণ করে না। ব্যক্তিখাত যেমন মুনাফা (profit) কেন্দ্রিক আচরণ করে সেখানে সরকারের পরিকল্পনায় থাকে মানুষের সেবা (service) বাড়ানোর ব্রত। তাই ব্যক্তিখাতে ব্যবহৃত বিনিয়োগের পরিমাপকগুলো (ইস্যু ১৭) যেমন, এনপিভি, আইআরআর, প্রফিটাবিলিটি ইনডেক্স, ইত্যাদি দ্বারা সরকারি বিনিয়োগের মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না। প্রায় সকল আয়ের দেশের জন্য অবকাঠামোগত বিনিয়োগ (ইস্যু ১৮) উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এর পাশাপাশি অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশের জন্য অনেকক্ষেত্রেই প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (ইস্যু ১৯)।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে আরেকটি বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে কোনও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে এর সাথে সম্পর্কিত চলক বা চলকগুলোর trade-off (ইস্যু ২০) রয়েছে। অনেকক্ষেত্রেই একটি চলকের উন্নতি হলে অন্য একটি বা একাধিক চলক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একটি ধ্রুপদী উদাহরণ হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) দুটি গোলের পারস্পরিক সম্পর্ক। এসডিজি গোল-৮ এ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও সুন্দর কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে গোল-১০ এ সব ধরনের বৈষম্য কমানোর (ইস্যু ২১) লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের (গোল- ৮) সাথে বৈষম্যের সরাসরি ঋণাত্মক সম্পর্ক রয়েছে। বাস্তবে দেখা যায়, পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলে দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের অবতারণা হয়; এক) দারিদ্র্য কমে (ইস্যু ২২), কিন্তু, দুই) আয় এবং আয় বহির্ভূত বৈষম্য বাড়ে।

উন্নয়ন সংজ্ঞায়িত করার জন্য চলকের যে দীর্ঘ তালিকা রয়েছে সেখানে বৈষম্য নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে দুর্বোধ্য এবং কঠিন কাজ। পৃথিবীর সকল আয়ের দেশের জন্য উন্নয়ন তালিকার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চলক হচ্ছে বৈষম্য কমানো যা দীর্ঘসময় ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একটি অর্থনীতিতে দু’ধরনের বৈষম্য দেখা যায়, আয় ও আয়-বহির্ভূত। আয় দ্বারা সৃষ্ট যে বৈষম্য সেটি সহজেই অনুমেয়। আয়-বহির্ভূত বৈষম্য হচ্ছে সামাজিক প্রথা, নিয়ম, শিক্ষা, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাব ইত্যাদির কারণে সৃষ্ট বৈষম্য। সত্যি বলতে, আয়ের বৈষম্য অন্যান্য বৈষম্যের প্রায় সমান বদলি (proxy) হিসেবে কাজ করে। বৈষম্যের কারণে উন্নয়ন অন্তর্ভুক্তিমূলক (inclusive) (ইস্যু ২৩) হয় না। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি বৈষম্যও কমাতে হবে।

সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা (ইস্যু ২৪) থাকতে হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের হাত ধরে আমরা এরূপ দুটি পরিকল্পনা দেখেছি, রূপকল্প -২০২১ ও রুপকল্প-২০৪১। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উন্নয়নের জন্য সব দেশের আলাদা আলাদা কৌশল (ইস্যু ২৫) থাকবে। সম্পদের ভিন্নতা থাকায় প্রত্যেক দেশের আলাদা ভিশন ও কৌশল থাকা স্বাভাবিক এবং যুক্তিযুক্ত। যদিও অনেকক্ষেত্রেই আমরা উন্নয়নের তত্ত্ব ও মডেলকে সবার জন্য একইভাবে (generalize) ব্যবহার (ইস্যু ২৬) করার চেষ্টা করে থাকি যা বাস্তবে অসম্ভব।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকার সম্পদের স্থানান্তর (ইস্যু ২৭) করে থাকে। এ প্রক্রিয়া যত স্বচ্ছ হবে উন্নয়নের গতি (ইস্যু ২৮) তত বেশি হবে। সময়ের পরিক্রমায় সকল আয়ের দেশেই উন্নয়ন হয়। তবে এর গতিটাই মুখ্য। উন্নয়নের গতির সাথে কার্যত এ লেখায় বর্ণিত সকল চলকই সম্পৃক্ত। সম্পদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিকরণ (ইস্যু ২৯) প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের (ইস্যু ৩০) গুরুত্বও অনেক। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে উপকার বা সুবিধাভোগী (stakeholder) পর্যায়ে স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা। এটি করতে হলে সামজিক ন্যায়বিচার (ইস্যু ৩১) নিশ্চিত করতে হয়। আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও (ইস্যু ৩২) তখন উন্নয়নের চলক হয়ে উঠে।

সম্পদ স্থানান্তরের বিষয়টি বর্তমান প্রচলিত উন্নয়ন মডেলে নতুন রূপ লাভ করেছে। এনজিওদের মতো যদি উপকারভোগীদের মাঝে সম্পদের মালিকানা বা স্বত্ব (ownership) (ইস্যু ৩৩) সৃষ্টি করা না যায় তবে স্থানান্তরিত সম্পদ কার্যত কোনো কাজে আসে না। ধরুন, সরকার একটি নলকূপ স্থাপন করল। যারা এর উপকারভোগী তারা যদি এর রক্ষনাবেক্ষণ না করে তবে কিছুদিন পর এর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। যদি উপকারভোগীরা এর পেছনে ব্যয় (খুব সামান্য হলেও) এবং রক্ষনাবেক্ষণ করে তবে নলকূপটির ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হবে। বাংলাদেশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এরকমই স্বত্ব তৈরি করার নজির রয়েছে।

উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত আরও অনেক ইস্যু রয়েছে। বৈষম্যের মতো যে চলকটি আজকের দিনে উন্নয়ন অর্থনীতির আলোচনায় অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক সেটি হলো পরিবেশ সংরক্ষণ (ইস্যু ৩৪)। উন্নয়ন টেকসই করতে হলে এর বিকল্প নেই। উন্নয়ন মাত্রই টেকসই হবে তাই আমার মতে ‘টেকসই উন্নয়ন’ শব্দটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট! সমষ্টিক অর্থনীতির আলোচনায় রাজস্ব ও মুদ্রানীতির একটি চমৎকার ভারসাম্য (ইস্যু ৩৫) থাকা বাঞ্ছনীয়। দুই ঘরানার দু’দল অর্থনীতিবিদগণ যা-ই বলেন না কেন দু’টির কোনও একটি অপরটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। বিশেষ করে, একটি স্বাধীন, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও কর্তৃত্বপূর্ণ মুদ্রানীতি আজকের এ বিশ্বে অনেক বেশি প্রয়োজন।

উন্নয়ন অর্থনীতির ব্যপকতা ও বিষয়বস্তুর গভীরতা বিবেচনা করলেও লেখাটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে কারও কাছে ইস্যু হিসেবে কোনও কিছু বাদ পড়েছে বলে মনে হতে পারে। যেমন, একটি অর্থনীতিতে সরকারের গঠন (গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক না-কি একনায়কতান্ত্রিক) কেমন হবে উন্নয়ন অর্থনীতির আলোচনায় সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকারের গঠন বিষয়টি সামাজিক ন্যায় বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্বারা (যা ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) প্রতিস্থাপন করা যায়। প্রসঙ্গত, এখানে কিছু ইস্যুকে যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে আবার কিছু ইস্যু বাদ দিতে হবে। সম্ভাব্য সকল ইস্যু বিবেচনায় নিয়ে একটি পরিপূর্ণ অথচ সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে। হুশিয়ার করে দেওয়া যেতে পারে, উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়নে বর্ণিত ইস্যুগুলোকে বিবেচনা করতেই হবে। অন্যথায়, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের শ্রম ও অর্থ সবই dead-weight loss (ইস্যু ৩৬) হিসেবে গণনা করতে হবে।

লেখক: উন্নয়ন অর্থনীতি গবেষক

[email protected]

/এসএএস/

সম্পর্কিত

আইপি টিভি যন্ত্রণা!

আইপি টিভি যন্ত্রণা!

বিপদ ডেকে আনছে ভারত, ঝুঁকি বাংলাদেশেরও

বিপদ ডেকে আনছে ভারত, ঝুঁকি বাংলাদেশেরও

সাংবাদিকতা বনাম করপোরেট ইমেজ

সাংবাদিকতা বনাম করপোরেট ইমেজ

আয়কর রিটার্ন ইমেইলে জমা নেওয়ার উদ্যোগ যে কারণে জরুরি  

আয়কর রিটার্ন ইমেইলে জমা নেওয়ার উদ্যোগ যে কারণে জরুরি  

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

ঘরে বসেই দেদার আড্ডা

আজ বন্ধু দিবসঘরে বসেই দেদার আড্ডা

কেন বারবার একই ভুল

কেন বারবার একই ভুল

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

উচ্ছেদ হবেন লাখ লাখ মার্কিনি!

উচ্ছেদ হবেন লাখ লাখ মার্কিনি!

আগস্টের প্রথম প্রহরে শত আলো জ্বললো

আগস্টের প্রথম প্রহরে শত আলো জ্বললো

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

ফের বাবা হচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ফের বাবা হচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune