X
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ঈদ আনন্দে ভেসে যাক করোনার মহামারি

সালেক উদ্দিন
২২ জুলাই ২০২১, ১৭:২১আপডেট : ২২ জুলাই ২০২১, ১৭:২১
সালেক উদ্দিন ২১ জুলাই পালন হলো পবিত্র ঈদুল আজহা। সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য  আনন্দ উৎসবগুলোর মধ্যে একটি হলো ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। ছোট-বড় ধনী-গরিব সবাই একসঙ্গে সমবেত হয়ে ঈদের জামাতে নামাজ আদায়, খুৎবা শোনা, কোলাকুলি করা, পশু কোরবানি করা, কোরবানির মাংস বণ্টন ইত্যাদি মিলিয়ে সে এক আনন্দঘন দিন ঈদুল আজহা।

মুসলিম বিশ্ব এমন একটি সময়ে এই আনন্দ উৎসবে যোগ দিয়েছে যখন পৃথিবী করোনা মহামারিতে জর্জরিত। তারপরও কোরবানির ঈদ তো ঈদই। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলমানদের জন্য এটি একটি বড় ইবাদতের দিবস। এই দিন সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং মহান আল্লাহতালার কাছে বিশ্ববাসীর শান্তির জন্য প্রার্থনা করবেন। প্রার্থনা করবেন মানুষের কল্যাণের জন্য, প্রার্থনা করবেন ভ্রাতৃত্ববোধ সমন্বিত রাখার জন্য, ক্ষুধা যুদ্ধ-বিগ্রহমুক্ত শান্তিময় পৃথিবীর নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মঙ্গলের জন্য। সর্বোপরি বর্তমান করোনা মহামারির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

ইসলাম ধর্মের ঈদুল আজহার ঈদ অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। মহান আল্লাহ  তার দুই প্রিয় বান্দার পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের জন্য ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ প্রবর্তন করেছেন। আল্লাহ তার নবী হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে নির্দেশ করেছিলেন তার শিশুপুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর রাস্তায় কোরবানি দেওয়ার জন্য। যেমন নির্দেশ তেমন কাজ। ইমানের জোরে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার শিশুপুত্রকে মক্কা নগরীর মিনা প্রান্তরে নিয়ে গেলেন আল্লাহর রাস্তায় কোরবানি করতে। ইসমাইল (আ.) চুলমাত্র বিচলিত হলেন না বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহর হুকুমে কোরবানি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। বৃদ্ধ পিতা ইব্রাহিম (আ.) নিজের চোখ বন্ধ করে তার শিশুপুত্রের গলায় আল্লাহু আকবার বলে ছুরি চালালেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। উত্তীর্ণ হলেন হজরত ইসমাইল (আ.)। মহান আল্লাহ’র কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানি হয়ে গেলো সেখানে। আর সেই থেকেই প্রবর্তিত হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদে পশু কোরবানি করার রীতি।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে কোরবানি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কোরবানির সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,  ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করলো না সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।’ ঈদুল আজহা হলো কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের উৎসব।

পৃথিবীময় করোনা মহামারির সময় এই কোরবানি হোক শুধু পশু কোরবানি নয়। মানুষের ক্ষুদ্রতা-নীচতা, স্বার্থপরতা-হীনম্মন্যতা, দীনতা, অর্থ ও অহংকারের কোরবানি। সর্বোপরি এই মহামারির সময় মানুষের পাশে দাঁড়াবার প্রত্যয়। এই কোরবানির ঈদের পর করোনা মহামারির প্রকোপ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা করছেন। আল্লাহ আমাদের সেই মহাবিপদের হাত থেকে রক্ষা করুন। ঈদ আনন্দে  করোনার মহামারিকে পৃথিবী থেকে ভাসিয়ে নিয়ে যাক দূরে বহু দূরে।
 
আমরা আশা করবো ‘পিছে লোকে কিছু বলে’ নীতি পরিহার করে এ সময়ে দেশের সরকারের সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার শতভাগ বাস্তবায়ন করবে। সংসদ সদস্যদের  চাইবো নিজ নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান এবং মহামারির হাত থেকে জনসাধারণকে রক্ষায় আত্মনিয়োগ। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অনেক বেশি কার্যকর হবে। দেশের সরকার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যে যাই হোন তারা জনগণের সেবক। এখনই সময় সেবকের সেবার উত্তম স্বাক্ষর রাখার।
 
লেখক: কথাসাহিত্যিক
/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সাদামাটা মঞ্চ বেলুনে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা
বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশসাদামাটা মঞ্চ বেলুনে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা
সমাবেশ মাঠে কফিন নিয়ে মিছিল
সমাবেশ মাঠে কফিন নিয়ে মিছিল
মঞ্চের সামনে বসা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি
মঞ্চের সামনে বসা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি
মেসিদের আনন্দের রাত
মেসিদের আনন্দের রাত
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ