X
বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
১৯ মাঘ ১৪২৯

প্লেজার ট্রিপ এবং গসিপের প্লেজার

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল
১২ আগস্ট ২০২১, ১৭:১৪আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ১৯:২৫
মাসুদ হাসান উজ্জ্বল জয়েন্ট ইউনাইটেড নেশনস প্রোগ্রাম অন এইচআইভি-এর ২০১৬ সালের তথ্যমতে, বাংলাদেশে মোট যৌনকর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার। ২০টির মতো যৌনপল্লির মধ্যে সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া পল্লিতে সর্বমোট ১ হাজার ৩০০ যৌনকর্মী কাজ করে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পতিতাবৃত্তি একটি স্বীকৃত পেশা।

মূলত পুরুষরাই এই পেশার খদ্দের। প্রশ্ন হলো, যেহেতু এটি একটি স্বীকৃত আদিম পেশা,তাহলে দেশের অন্যান্য পেশাজীবীর মতো এই পেশার মানুষ কেন সম্মান পাবে না? কেউ তো চুরি, ডাকাতি, লুটপাট কিছুই করছে না, তাহলে তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে বাধাটা কোথায়?

যেসব পুরুষ যৌনপল্লিতে গিয়ে থাকেন অথবা ‘হোম এসকর্ট সার্ভিস’ নিয়ে থাকেন, এটা তাদের ঐচ্ছিক বিষয়, আর যে বা যারা সেবাটা দিয়ে থাকেন এটা তাদের পেশা।

এখন আপনার যদি এ ধরনের সেবায় আগ্রহ না থাকে আপনি নেবেন না, ব্যাস মিটে গেলো। কিন্তু এই পেশাতে কী ঘটে সেটা জানা এবং তা নিয়ে আলোচনার আগ্রহে কোনও কমতি দেখা যায় না অনেকের!

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই কর্ম নিয়ে যখনই টানাহেঁচড়া হয় তখন সব সময় যারা সার্ভিসটা দিয়ে থাকেন তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশিত হয়, কিন্তু যৌনপল্লিতে বা প্লেজার ট্রিপে গিয়ে স্ত্রী’র কাছে ফিরে এসে ‘আদর্শ স্বামী’ সেজে থাকা ভদ্রলোকদের নাম কখনও প্রকাশিত হয় না।

যদিও সেবিকা এবং ভোক্তা কারও নাম প্রকাশেরই কোনও যৌক্তিকতা এবং আইনগত ভিত্তি আমি দেখি না।

প্রাইভেসি যেকোনও নাগরিকের লিগ্যাল রাইটস। আপনি তদন্তের নামে মানুষের প্রাইভেসি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারেন কিনা এটা একটা বিরাট প্রশ্ন।

দেশের মানুষের এমনিতেই কাজকর্মের অভাব, এসব চটকদার বিষয় নিয়ে তাদের ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ত থাকার ব্যবস্থা করে দিলে চলবে? ২২  শ্রাবণ জাতি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করতে পর্যন্ত ভুলে গিয়েছিল।

যেকোনও প্রতিষ্ঠানের কর্মী বাহিনী তার সক্ষমতা আর কর্মঘণ্টা কোন কর্মে ব্যয় করছে সেই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনেক সচেতন এবং দায়বদ্ধতা থাকতে হয়। দেশে ফৌজদারি অপরাধের শেষ নেই, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার অন্ত নেই এই দেশে, সেসবের সুরাহা করা দরকার।

যেদিন থেকে নায়িকার বাড়িতে অভিযান চলছে, সেখানে সরকারের বড় বড় বাহিনীর সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে উপস্থিতি দেখে অপেক্ষা করছি নিশ্চয়ই ভয়ানক কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্লেজার ট্রিপে যাওয়া, দামি উপহার পাওয়ার বাইরে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য পাওয়া গেলো না। এই তথ্যগুলো আমাদের বিনোদন সাংবাদিক ভাইয়েরা আগে থেকেই কম-বেশি জানতেন বলেই আমার বিশ্বাস। তাদের আমি ধন্যবাদ দিতে চাই যে তারাও এতদিন এটাকে এতটা গুরুত্বপূর্ণ খবর মনে না করে সিনেমার শুটিং, শুটিংয়ের প্রস্তুতির খবর প্রকাশ করে আসছেন।

যদিও এখন সংবাদের হালহকিকত দেখে মনে হচ্ছে, দেশের এই মুহূর্তের একমাত্র সমস্যা নায়িকা আর তার প্লেজার ট্রিপের খুঁটিনাটি।  

মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি জেনে যেকোনও শ্রেণি-পেশার মানুষের আদতে কোনও উপকার নেই। সরকারের এত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যদি তাদের মূল্যবান সময় এসব চটকদার বিষয় খননে ব্যয় করেন, সেটা নিশ্চয়ই অস্বস্তির জন্ম দেয়।

তবে এ বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সময় এবং অর্থ যেহেতু ব্যয় হচ্ছে, আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে এই ইনভেস্টমেন্ট জাস্টিফায়েড হবে।

লেখক: চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংগীত পরিচালক
 
 
/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
মেলায় আবু আলীর বই ‘টেমস থেকে নীলনদ’
মেলায় আবু আলীর বই ‘টেমস থেকে নীলনদ’
জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু করতে চাইছে বাংলাদেশ
জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু করতে চাইছে বাংলাদেশ
জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে হিরো আলমের
জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে হিরো আলমের
নির্বাচনের পরদিন নিজ বাসায় পাওয়া গেলো ‘নিখোঁজ’ প্রার্থীকে
নির্বাচনের পরদিন নিজ বাসায় পাওয়া গেলো ‘নিখোঁজ’ প্রার্থীকে
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ