X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

‘আয়কর আইন ২০২২’: কর ন্যায্যতা নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ২০:৩৬

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন আয়কর আইনের ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর উপমহাদেশে ব্রিটিশ কোষাগারে ব্যাপক অর্থ ঘাটতি দেখা যায়। সরকারি ব্যয় নির্বাহ করার ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে তখনকার সরকার। এ সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের ফাইন্যান্স মেম্বার ১৮৬০ সালে প্রথম আয়কর বিল আইন সভায় উপস্থাপন করেন। বলতে গেলে এই উপমহাদেশে আয়কর আইনের যাত্রা ১৮৬০ থেকে। এর পর নানা বিবর্তনের মাধ্যমে ১৯২২ সালে এসে একটি চূড়ান্ত আইনের রূপ নেয়। যা ব্রিটিশ পরবর্তী পাকিস্তান হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে অনেকটা ১৯২২ সালের আয়কর আইনকে অনুরসরণ করেই চলে আসছিল।

জাতীয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন। যা আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ নামে যাত্রা শুরু। এখন পর্যন্ত এ অধ্যাদেশই একমাত্র আয়কর আইন।

কিন্তু সময় বয়ে গেছে অনেক! সে সময়ের তুলনায় অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে নানাদিক থেকে। পরিবর্তন এসেছে গ্রামীন জীবন ও জীবিকায়। গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে গ্রামে অর্থের প্রবাহের এক শুভ মিশ্রন তৈরি হয়েছে। এ বৈচিত্র্য অর্থনীতির মিশ্রন, বার্তাবহন করছে আরও নতুন মানের এক সমাজ ব্যবস্থা তৈরির, যেখানে বৈষম্যহীন অর্থনীতির রূপ দেখার আশা করছে নাগরিক সমাজ।  নাগরিকদের এ প্রত্যাশাকে এগিয়ে আনতে কিছুটা অবদান রাখতে পারে নতুন আয়কর আইন। প্রত্যক্ষ আয়কর ব্যবস্থায় আয়কর আইনের আধুনিকায়ন জরুরি। ৩৪ বছর পূর্বে প্রণীত আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর কার্যকারিতা বহু আগে হ্রাস পেয়েছে। তবুও অর্থ আইনের মাধ্যমে সংযোজন-বিয়োজন করে কোনও রকম চলে আসছে আয়কর ব্যবস্থাপনা।

সে সময়ে আমলা নির্ভর আয়কর অধ্যাদেশটিতে নানা কৌশলে করদাতা ও কর-কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব রাখা হয়েছে। এখানে শুধুই আইনের ভয়ভীতি দেখানো, কর্মকর্তাদের এককভাবে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রদর্শন করার সুযোগ ছিল। এগুলো কর-আদায়কে বাড়ায়নি বরং করদাতা ও কর্মকর্তাদের মাঝে দূরত্ব তৈরি করেছে। শুধু তাই নয় আয়কর ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যের বিচ্যুতি ঘটেছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসের পরিবর্তে বরং উচ্চ হারে বৈষম্য তৈরি করেছে। ফলে আমাদের করদাতারা আয়কর অফিসের কথা শুনলেই এড়িয়ে চলাকে নিরাপদ মনে করেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ভারতে কোনও কোনও জেলায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার আইন জারি করেছে যে, কোনও স্থানে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে আশেপাশের ১ কিলোমিটারের মধ্যে পুলিশ এসে গণপিটুনি দিত এবং পিটুনি খেয়ে ছাড়া নয়, নির্দিষ্ট হারে করও দিতে হতো। একে অনেকে বলতেন ‘পিটুনি কর’। আমাদের আয়কর অধ্যাদেশে করদাতাদের একই রূপ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। করদাতারা লাইন ধরে আয়কর দেবে, কেরানিদের যত-গতাতি শুনবে, ঘেমে ক্লান্ত হবেন করদাতা, অবশেষে খুশি করার নামে বাড়তি অর্থ দিয়ে মুক্তি পাবেন! এর অবসান জরুরি। নতুন আয়কর আইনে যেন ‘পিটুনি কর’ থেকে করদাতারা রক্ষা পান এমন প্রত্যাশা সকল মহলের।   

দেশের নাগরিক সমাজ যারা আয়কর দেন তাদের বড় প্রত্যাশা হচ্ছে, নতুন আয়কর আইন একটি সাম্যের আইন হবে, কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যেন আয়কর আইনের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়। কিন্তু খসড়া আয়কর আইন যতটুকু প্রকাশ করা হয়েছে দেখে খুব একটা আশা করার মতো কিছু মনে হচ্ছে না। পুরনো আইনের অনুবাদ ছাড়া নতুন তেমন কিছু নেই।

কর ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রত্যক্ষকর ব্যবস্থা। প্রত্যক্ষ আয়কর ব্যবস্থাটি চালুকরার মূল্য উদ্দেশ্য সরকারের রাজস্ব ঘাটতি দূর হলেও এর আরেকটি গুরুত্ব পূর্ণ উদ্দেশ্য রয়েছে। তা হলো-সমাজে একটি ভারসাম্য অর্থনীতি তৈরি করা। সমাজে উচ্চবিত্তদের কাছ থেকে কর আদায় করে তা নিম্নবিত্তদের কল্যাণে ব্যয় করার মাধ্যমে ভারসাম্য অর্থনীতির তৈরি করা যার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য। এতে করে সমাজের ধনী দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যাপক ভারসাম্য রয়েছে তা দূর হবে সামগ্রিকভাবে। যুগে যুগে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন রূপে তা পরিপালন হয়ে আসছে।  

আইন যাদের জন্য প্রণয়ন করা হচ্ছে, যারা প্রয়োগ করবে বা যারা বাস্তবায়ন করবে, তাদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এখানে প্রতিটি পক্ষ একে অপরকে চিনতে হবে, জানতে হবে। এক পক্ষের অজানা, মনগড়া, কিছু থাকলে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যাবে। এজন্য দরকার ব্যাপক গবেষণা, দরকার ব্যাপক জানা এবং দরকার বড় পরিসরে অর্থনীতির বিশ্লেষণ। কারণ আইন পাস হয়ে গেলে পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন যেমন কঠিন হবে, তেমনি সংশোধন করারও সুযোগ কম থাকে। 

আয়কর আইন বাস্তবতার নিরিখে প্রস্তুত করতে হবে। গুরুত্বসহকারে যে বিষয়টির প্রতি নজর দিতে হবে তা হলো দেশের নাগরিকদের  আয়ের অবস্থান ও সম্ভাবনার ওপর। বর্তমানে আমাদের সমাজে চরম বৈষম্যমূলক অর্থনীতি বিরাজমান। একশ্রেণির মানুষ শুধুই ধনী হচ্ছে। এর সংখ্যা কিন্তু অতিনগণ্য। অন্য দিকে দেশের নাগরিকদের একটা বড় অংশ দিন দিন গরিবের খাতায় নাম লেখাচ্ছে। মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, খরা, ঋতুর পরিবর্তন, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিখাত, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমবাজার, ক্ষতিগ্রস্ত বৈদেশিক বিনিয়োগ খাত, পুঁজি হারাচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় সরকারি আমলা, সরকারি প্রায় সবগুলো সেক্টরে এমনকি অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের মাঝে দুর্নীতি মহামারি আকার ধারণ করেছে।

গরিবরা ধনীদের হিসাব রাখে না বটে, কিন্তু অনুভব করে। রাতারাতি ধনী বনে যাওয়া কতিপয় বিপদগামী ব্যক্তি ধনীদেশে ঠিকানা বানাচ্ছেন, পরিবার পাঠাচ্ছেন, আর পাচার করছেন জনগণের সম্পদ। এদের সামলানো না গেলে সামনের দিনগুলোতে বড় বৈষম্যের শিকার হবে অধিকাংশ গরিব মানুষ। এই বৈষম্য বাড়ার সাথে সাথে বাড়বে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন, ভাটা পড়বে দেশের নাগরিক অধিকার। বৈষম্য তৈরি করার জন্য অর্থ পাচারকারীরা রূপ নেবে স্বৈরাচারে অর্থের মূল উৎস হিসেবে। এই দুই পক্ষ মিলে তৈরি করবে হাজার রকমের অমানবিক পরিস্থিতি। যা কাম্য হওয়ার নয়।

কতিপয় সরকারি আমলা আর কিছু সংখ্যক ‘কুরাজনীতিবিদ’ যেভাবে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, এটা থেকে উদ্ধার হওয়া জরুরি। এ পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো গেলে নাগরিকদের করের বোঝা অনেকটা লাঘব হতো। নতুন আইনে পাচার হওয়া টাকা বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা করার বিধান সংযুক্ত করা প্রয়োজন। একই সাথে কোনও সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনীতিবিদ বিদেশে সেকেন্ড হোম তৈরি করতে পারবেন না বলে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা জরুরি। যদি কোনও কর্মকর্তা অনুরূপ কাজ করেন তাহলে সরকারি কর্মকর্তা হলে  তাকে চাকরিচ্যূত করার ব্যবস্থা রাখা এবং পেনশন বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। একইভাবে কোনও রাজনীতিবিদ যদি বিদেশে টাকা পাচার করেন, তাহলে তার রাজনীতি করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিধান রাখা।

অবশ্য এ ব্যবস্থা তৈরি করতে সরকারের কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। নতুবা আয়ভারসাম্য অর্থনীতি অবস্থায় ফিরে আনা আরো বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে ভষ্যিতে। সুতরাং আয়কর আইনটি এমনভাবে আসা দরকার যেখানে শুধুমাত্র রাজস্ব আহরণই মুখ্য বিষয় না হয়ে বরং নাগরিকদের মাঝে আয়ভারসাম্য অর্থনীতির বা সাম্যের অর্থনীতি তৈরি করাই প্রধান্য পাবে।

আয়কর আদায় ও আমাদের অবস্থান:

আমাদের দেশে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় জাতীয় আয়ের তুলনায় আদায়কৃত করের পরিমাণ অনেক কম। অন্যান্য দেশ বিশেষ করে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় আমাদের কর-জিডিপির হার অনেক নিচে। বাংলাদেশের এই হার প্রতিবেশী দেশ নেপালের অর্ধেকের চেয়েও কম। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের অবস্থাও এদিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের এ পরিস্থিতিকে লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন (সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো-২৭ জুন ২০১৯)। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ও এর চিত্র উঠে এসেছে।  বিশ্বব্যাংক এক জরিপে বলেছে কোনও দেশের আদর্শ কর-জিডিপি অনুপাত হওয়া দরকার কম পক্ষে ১৫%। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে ১১%, শ্রীলংকায় ১১.৬%, মালয়েশিয়ায় ১০.৮%। কিন্তু বাংলাদেশে কর-জিডিপি মাত্র ৯% এরও কম। 

আয়কর আইনের বিশ্লেষণ:

অনেকেই জানেন প্রত্যক্ষ করের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি প্রগতিশীল। সময় ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে এর পরিবর্তন হয়ে থাকে। সকল সময় এর মূল টার্গেট থাকে রাষ্ট্রের নাগরিক সমাজের আয় ও সম্পদ এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য রোধ করা। এ ব্যবস্থাটি এমন অবস্থান তৈরি করে যাতে উচ্চবিত্তদের কাছ থেকে কর আদায় করে নিম্নবিত্তদের কল্যাণে তা ব্যয় করার মাধ্যমে সামগ্রিক একটা ভারসাম্য বিরাজমান থাকে। কিন্তু আমরা এখন মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি এর ব্যবহার নিয়ে!

একজন সাধারণ করদাতার প্রশ্ন হলো তার কর দিয়ে সরকার কী করবে? যেখানে অধিকাংশ সরকারি সেবাও পেতে তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। প্রতিটি পদে পদে দুর্নীতি, ঘুষ, অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের কৌশল প্রয়োগ ইত্যাদি বিরাজমান। অধিকাংশ করদাতা কর অফিসে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। এমন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া অতীব জরুরি। আমাদের সকলের দৃষ্টি দিতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের দিকে। সেদিকটা কেন যেন আমরা অজান্তে এড়িয়ে চলছি। এটা মারাত্মক আত্মঘাতি। আইন করতে হবে, আবার আইনের ব্যবহার জানতে এবং সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। নতুবা আইনের স্তুপে আমরা ডুবে যাবো ঠিকই কিন্তু অর্জন হবে শূন্য। যা কাম্য নয়।

নতুন আয়কর আইনকে কার্যকরার জন্য সুপারিশসমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে:

১/ করদাতাকে সাপোর্টিং সুপারভিশন করার পরিবেশ তৈরি করা; যেখানে আইনের ভয় নয়, সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে;

২/ করযোগ্য করদাতাকে চিহ্নিত করার জন্য ব্যাংকিং লেনদেনকে জোরদার করা;

৩/ বিভিন্ন সরকারি সেবা ও ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য ক্ষেত্র বিশেষ ছাড়া টি.আই.এন বাধ্যতামূলক করা;

৪/ ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আয়কর অফিস সম্প্রসারণ করা,

৫/ আয়কর আদায়ে সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া সরাসরি কমিশন ভিত্তিক আদায়ের ব্যবস্থা করা; (অর্থাৎ  বেসরকারিভাবে আদায়কারীপক্ষকে কমিশন দিয়ে আয়কর আদায়ের ব্যবস্থা করা);

৬/ আয়কর আইনজীবীদের ব্যাপকহারে রাজস্ব আহরণে সম্পৃক্ত করা; (এতে করে কম খরচে অধিক পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে),

৭/ রিটার্ন মূল্যায়ন  ক্ষমতা কর-কর্মকতাদের দ্বারা না করে আলাদা অডিট টিম তৈরি করা;

৮/ করদাতাকে আইনের জটিলতা থেকে মুক্তি দিয়ে এডিআরকে জোরদার করা;

৯/ সহজভাবে আয়কর রিটার্ন প্রদানের ব্যবস্থা রাখা;

১০/ প্রযুক্তিগত সেবা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর করা;

১১/ করদাতাদের অধিকতর সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করা;

১২/ অভিন্ন করকার্ড প্রদান করা; এ কার্ড অর্জনকারী করদাতা সরকারি সেবাগুলো অগ্রগাধিকার ভিত্তিতে পাবেন;

১৩/ শ্রমজীবী মানুষের আয়কে করমুক্ত রাখতে হবে; (শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্য অর্থকে করমুক্ত রাখা)

১৪/ সরকারি-বেসরকারি করদাতার মধ্যে কোনও ব্যবধান না রাখা;

১৫/ সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের খরচ, সংবাদ, বই প্রস্তুত ও বিক্রি, লেখক, প্রশিক্ষক, বেসরকারি মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণের খরচকে করমুক্ত রাখা;

১৬/ বৈদেশিক শ্রমিকদের আয়কে করমুক্ত অব্যাহত রাখা; একইভাবে বিদেশি কোম্পানি বা বিদেশে উচ্চতর চাকরিজীবীদের কাছ থেকে নিয়মানুযায়ী কর ধার্য করা;

১৭/ সেকেন্ড হোম তৈরি করাকে নিষিদ্ধ করা;

১৮/ পাচার করা টাকা বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা করা;

১৯/ সরকারি কর্মকর্তা/রাজনীতিবিদ টাকা পাচার করলে, চাকুরিচ্যুত করা ও রাজনীতি করার অধিকার হারানোর ব্যবস্থা করা;

২০/ সকল সরকারি কর্মকর্তার সন্তানদের সরকারি স্কুল, কলেজে পড়ানো বাধ্যতামূলক করা। নতুবা-তাঁর মোট আয়ের ৫০% কর প্রদানের ব্যবস্থা রাখা);

২১/ নতুন উদ্যোক্তাদের সকল প্রকার কর ফি থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অব্যাহতির ব্যবস্থা রাখা;

২২/ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আয় এবং কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি করমুক্ত রাখা ইত্যাদি।

নতুন আয়কর আইনটি হোক করদাতার জন্য সহায়ক, রাজস্ব আদায় হোক ত্বরাণ্বিত, ব্যাপক হারে নাগরিকরা কর দিতে উৎসাহিত হবেন এবং রাজস্ব অফিস হবে করদাতার জন্য সম্মানের স্থান এ প্রত্যাশা থাকল সম্মান্বিত আইন প্রণেতাদের কাছে।

লেখক: আয়কর আইনজীবী

[email protected]

 

/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
পাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
আইপিএলপাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ