X
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২
১৬ আষাঢ় ১৪২৯

ডেসমন্ড টুটু: নক্ষত্রের বিদায়

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:২৩

সালেক উদ্দিন ১ জানুয়ারি ২০২২ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে অনুষ্ঠিত হলো ডেসমন্ড টুটুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। নোবেল শান্তি পুরস্কার, সিডনি শান্তি পুরস্কার, গান্ধী শান্তি পুরস্কার সব মিলিয়ে শান্তির দূত ডেসমন্ড পিলো টুটু তার ৯০ বছরের জীবনের পাট চুকিয়ে ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ ইহলৌকিক সফর শেষ করলেন। এক সপ্তাহের শোক পালন শেষে ১ জানুয়ারি কেপ টাউনের সেন্ট জর্জ ক্যাথিড্রালে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পৃথিবী এই মহান পুরুষকে চিরতরে বিদায় জানালো।

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক হিসেবে পরিচিত ডেসমন্ড টুটুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দিন পর্যন্ত সেন্ট জর্জ ক্যাথিড্রালের ঘণ্টা প্রতিদিন দুপুরে ১০ মিনিটের জন্য বেজেছিল। গির্জার সেই ঘণ্টার শব্দ মনে করিয়ে দিয়েছিল তার অনুসরণীয় আধ্যাত্মিক নেতৃত্বে কথা, বর্ণবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডের কথা, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার প্রচারের কথা। মনে করিয়ে দিয়েছিল সেই ইতিহাস– যে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ যে ক’জন নেতা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেন, টুটু ছিলেন তাদেরই একজন। আধ্যাত্মিক নেতা বর্ণবাদবিরোধী নেতা বৈশ্বিক মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা ছিলেন তিনি।

১৯৩১ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্লেরক্স ডরপে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান পুরুষ। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে ধর্মতত্ত্বে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের পর ধর্মতত্ত্ব পড়াতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। হতে চেয়ে ছিলেন শিক্ষক। কিন্তু হলেন ধর্মযাজক। ১৯৭৬ সাল থেকে দু’বছর তিনি লেসোথোতে বিশপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালে জোহানেসবার্গের বিশপ হন। একজন আর্চবিশপ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। ধর্মীয় অবস্থান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন এই মহামানব। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। তার প্রতিবাদ দক্ষিণ আফ্রিকার সীমানা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন ডেসমন্ড টুটু। ‌তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলি আচরণের। প্রতিবাদ করেছিলেন ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধের। এমনকি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদও করেছিলেন তিনি। মিয়ানমারের তৎকালীন নেতা অং সাং সু চি’কে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমি ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সু চি’কে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির অর্থ অনুধাবনের কথা বলেছিলেন, স্মরণ করে দিয়েছিলেন মানবাধিকারের কথা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের জারি করা বৈষম্যের শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে জনসন ম্যান্ডেলার মতোই তিনিও ছিলেন একজন। নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে বর্ণবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবস্থান থেকে লড়াই করেছেন তিনি। দু’জনের সম্পর্ক ছিল চমৎকার। দুজনেরই স্বপ্ন ছিল সমতার রাজনীতির, মুক্তির রাজনীতির। মানুষের অধিকার আন্দোলনে তাঁদের উপস্থিতি ছিল সুস্পষ্ট। সারা জীবন দারিদ্র্যবিরোধী, বর্ণবাদবিরোধী প্রচারণায় নিজেদের ব্যস্ত রেখেছিলেন এই দুই মহামানব।

১৯৮৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে সিডনি শান্তি পুরস্কার এবং ২০০৭ সালে গান্ধী শান্তি পুরস্কার লাভ করেন ডেসমন্ড টুটু। মোট কথায় শান্তির দূত হয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি। আর তাই তো বর্ণবৈষম্যের জর্জরিত দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ নিরসনে তার অবদান বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছিল।

ডেসমন্ড টুটুর শান্তি ও মানবতার আদর্শ বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যেই ২০২২ সালের ঊষালগ্নে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন। পৃথিবীর সর্বত্র অন্যায়কে অতিক্রম করে ডেসমন্ড টুটু আদর্শের মতো প্রতিষ্ঠিত হোক, বিশ্ব শীতল হোক শান্তিময় হোক, সেটাই এই আয়োজনের লক্ষ্য। 

লেখক: কথাসাহিত্যিক

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রাষ্ট্রপতির কাছে অস্ট্রিয়া ও লিবিয়ার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ
রাষ্ট্রপতির কাছে অস্ট্রিয়া ও লিবিয়ার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ
নড়াইলে শিক্ষক হেনস্থা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
নড়াইলে শিক্ষক হেনস্থা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
পুলিশও সাহায্য চায় এই ‘সুপার ভাবী’র কাছে!
পুলিশও সাহায্য চায় এই ‘সুপার ভাবী’র কাছে!
বাজারে ঢুকে পড়া কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত বেড়ে ৪
বাজারে ঢুকে পড়া কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত বেড়ে ৪
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ