X
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে আয়কর নীতির ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২২, ১৯:৫১

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন বৈশ্বিক অর্থনীতির নেতিবাচক দিক মোকাবিলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিপূরণ, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিকদের জীবন-মানের উন্নয়ন, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা বিশ্বের প্রায় সব দেশের জন্যই এখন কঠিন সময়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব। সব মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বিশ্ববাসী। চ্যালেঞ্জগুলো যেমন বাস্তবতা, তেমনি সুযোগগুলোও অর্জন অসাধ্য নয়। প্রয়োজন শুধু সুযোগগুলোকে খপ করে ধরে কৌশল খাটিয়ে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আনার চেষ্টা করে যাওয়া। আবার কৌশলী না হলে শ্রীলঙ্কার পরিণতি অনেক দেশের জন্য নির্ধারিত হয়ে যাওয়া উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গলার জোরে বা অন্ধের আলো দেখার স্বপ্নের মতো অনেকে অনেক স্বপ্ন দেখতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা বড় বেশি বেদনার এবং নাগরিকদের বিপথগামী করতে পারে!

কিন্তু কৌশলী হওয়ার জন্য শুধু সরকারকে কয়েদির কাঠগোড়ায় দাঁড় করানোর সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে জাতীয়ভাবে আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের নিকে নজর দেওয়া জরুরি। এই ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যেহেতু অত্যাবশ্যকীয় নাগরিক সেবাগুলো প্রদান, বৃহৎ পরিসরে উন্নয়ন, ৮ম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় এবং স্থানীয় উন্নয়নের সংযোগ স্থাপন, একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ কার্যকরভাবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কর ব্যবস্থা একটি মৌলিক ভূমিকা পালন করে থাকে। একইভাবে রাজস্ব আহরণ করা ছাড়া উল্লেখিত খাতের অর্জনগুলোও সম্ভব নয়।

তাই দেশের আয় বৃদ্ধির জন্য কর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ছাড়া কোনও পথ নেই। আমাদের কর ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক অসন্তুষ্টি বিরাজমান। এনবিআরকে নাগরিক অসন্তুষ্টিগুলো দূর করে একটা করবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।  আন্তর্জাতিকভাবেও বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণকে কর ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।  যদিও কর ন্যায্যতার প্রশ্নে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথাও উঠে আসছে।  

একটি নাগরিকবান্ধব করনীতি অকল্পনীয়ভাবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। এটা আমরা কখনও ভাবতেই পারিনি। ভাবার দরকার আছে তা চিন্তা  করছি না। কারণ, আমাদের করনীতি/কর আইন পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে ধার করে নেওয়া। তারা মহাজনি ব্যবস্থা থেকে কর আদায় করতেন। আমরাও তাই করি। আমাদের করনীতি অনেকটা মহাজনি ব্যবসার মতো। মহাজন চাইলে করছাড় আর মহাজন না চাইলে মৃত্যুর পরও কর দিতে হয়। কিন্তু এই নীতি মারাত্মক ভুল। এর জন্য দরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। কমপক্ষে ২৫ বছরের পরিকল্পনা। এখন আমি ছাড় দেবো, সুযোগ দেবো, পরিবেশ দেবো ২৫ বছর পর স্থায়ীভাবে সুযোগগুলো আমাকে দেওয়া শুরু করবে, চিরদিন সে দিতেই থাকবে। অবাক করার বিষয় হলো, আমাদের রাজস্ব বিভাগ শুধু নগদ আদায়ের দিকে মনোনিবেশ করছে। মনে হয় এই সুযোগ হাতছাড়া হলে আর পাওয়া যাবে না। বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য যেভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে দুর্বল ঋণগ্রহীতাদের কড়া নজরদারিতে রাখে, কর আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্বল করদাতাদের একইভাবে ফলোআপে রাখা হয়।  সরকার কেন এই নীতি অনুসরণ করতে কর আদায়ে নিয়োজিত কর্তাদের উৎসাহিত করছে, এটা বুঝতে আমার মতো ক্ষুদ্র নাগরিকের কষ্ট হয়।

আমরা যদি একটু মনোযোগ দিয়ে দেখি তাহলে সামগ্রিক উন্নয়নে শক্তিশালী আয়কর ব্যবস্থা কীভাবে অবদান রাখতে পারে তা পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে উপস্থাপিত হতে পারে। যেমন:

১. বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা: আয়কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, এবং শুরুতেই কর অব্যাহতি, কমপক্ষে ৫ বছর করমুক্ত পরিবেশে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এই আগ্রহ দেখে অনেকে নতুনভাবে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহ পায়। ফলে ধীরে ধীরে ব্যবসা বাণিজ্যে অবাধে প্রবেশ করার পরিবেশ সম্পর্কে একটি ইতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান তৈরি হয়, বেকারত্ব দূর হয়, নাগরিকদের আয় বৃদ্ধি পায়, নাগরিকের আয় বৃদ্ধি পেলে সরকারকে আয়কর দেয়। তাহলে দেখা যায়, ভালো আয়কর নীতি একটা চক্রাকারে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

২. নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে আয়কর নীতি ভূমিকা রাখতে পারে যেভাবে: করনীতি চূড়ান্ত করার আগে অত্যাবশ্যকীয় নাগরিক সেবাগুলো চিহ্নিত করে যতটুকু সম্ভব আয়করমুক্ত রাখতে হবে। কারণ, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য/সেবা একজন শ্রমিকের যেমন প্রয়োজন তেমনি একজন কোটিপতিরও একইভাবে, একই সময়ে প্রয়োজন। যেমন একটা মশার কয়েল। ধনীর তুলনায় গরিবের বেশি ব্যবহার করে। আবার এই মশার কয়েল তৈরির কোম্পানি কিন্তু ধনী লোকের। তাহলে করনীতি কি হওয়া দরকার। আমরা সুপারিশ করতে পারি, কয়েল উৎপাদন ও সরবরাহে কোনও ভ্যাট দিতে হবে না। কিন্তু ব্যবসায়ী বা উৎপাদনকারীকে কয়েল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত আয়ের ওপর ১০-২০% ট্যাক্স দিতে হবে। তাহলে কম দামে বাজারে কয়েল সবাই ব্যবহার করতে পারবে। লাভ কম হলে বিক্রেতার ট্যাক্স কম হবে। বেশি হলে ট্যাক্সে বেশি হবে। একইভাবে নিত্যপণ্য বা অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, যেমন- সাবান, তেল, ওষুধ, সার্জারি উপকরণ, শিশু খাদ্য ইত্যাদি বিবেচনা করা যেতে পারে। গুটিকয়েক ধনীর জন্য যেন, সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটা লক্ষ রাখতে হবে। এটা আরেকটা কারণে দরকার, তা হলো ন্যায্য বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন একই সঙ্গে ভোক্তা আবার ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনা করে করনীতি প্রণয়ন আবশ্যক। এই বিবেচনায় করনীতি প্রণয়ন হলে নাগরিক পরিষেবাগুলো নিশ্চিত হবে এবং সুস্থ ও সবল উপার্জনক্ষম মানবসম্পদ তৈরি হবে। উপার্জনক্ষম ও মেধাবী জনবল দেশে বিদেশে তাদের আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের জড়িত হবে এবং সরকারকে আয়কর দেবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি একটি আয় ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। জাতীয়ভাবে দেশই এর উপকারভোগী। এভাবে নাগরিক সেবাগুলো নিশ্চিত করতে আয়কর নীতি সহায়কের ভূমিকা রাখতে পারে।

৩. সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে আয়কর নীতি ভূমিকা রাখতে পারে: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নানা অসুখে আক্রান্ত। এরমধ্যে বড় একটা কারণ শিক্ষকদের, ছাত্রদের রাজনীতির অপচার্চাগুলোতে সম্পৃক্ত করা। ফলে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সুযোগটা গ্রহণ করেছে শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করার দল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধভাবে উপার্জনকারী কর্মকর্তাদের অর্থ উপার্জনের লোভ। তারা নিজেদের সন্তানদের বিভিন্ন নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার ব্যবস্থা করতে পারছে। অথচ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ পরিবারের সন্তানরা। শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস করতে আগ্রহী না হয়ে কোচিং সেন্টারে সেবা দিতে বেশি আগ্রহী। কোচিংয়ে সুযোগ নিচ্ছে অবৈধ উপার্জনকারী কর্তার সন্তানেরা। এমন হাজারও উদাহরণ আছে, বাবা মা সরকারি স্কুলের শিক্ষক। অথচ তাদের সন্তান পড়ে বেসরকারি স্কুলে। তাহলে পরিষ্কারভাবে ধরে নেওয়া যায় আমরা কোথায় যাচ্ছি? এখানে রাজস্ব বোর্ড সিদ্ধান্ত নিতে পারে– কোনও সরকারি কর্মকর্তার সন্তান বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলে তার বেতনের ৫০% আয়কর হিসেবে কর্তন করা হবে। একইভাবে কোনও কর্মকর্তার সন্তান সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলে সন্তান পড়াশোনা শেষ করা পর্যন্ত কোনও আয়কর দিতে হবে না। তাহলে কর্তাদের নজরদারি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষার সরকারিভাবে প্রদত্ত মানসম্মত সুযোগগুলো সামগ্রিকভাবে সকল নাগরিকের সন্তানেরা পাবে। দীর্ঘ মেয়াদে দেশ একটা সুশিক্ষিত নাগরিক সমাজ পাবে। একই সঙ্গে পাবে দক্ষ জনশক্তিও। যাতে দেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য একটা শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়ানোর ভিত্তি তৈরি হবে। আমরা পারবো এই নীতিকে প্রতিষ্ঠা করতে?

৪. অষ্টম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আয়কর কীভাবে অবদান রাখতে পারে: অষ্টম ৫ম বার্ষিকী পরিকল্পনায় ৭ম ৫ম বার্ষিকী পরিকল্পনায় রাজস্ব খাতের কিছু ঘাটতি তুলে বলা হয়েছে (১.৫.১) এখানে বলা হয়েছে রাজস্বনীতি মিশ্র ছিল। যেমন- কর আদায় কর্মাকৃতির ব্যাপক ঘাটতির কথা বলা হয়েছে; এখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল জিডিপির ১৪.১% বৃদ্ধি। সেখানে অর্জন হয়েছিল মাত্র ৭.৯% । এতে বলা হয়েছে, এটা করকর্মাকৃতির একটা বড় ধরনের ধাক্কা। অত্যাবশ্যকীয় সেবা খাতগুলো, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাত থেকে বরাদ্দ কেটে বড় বড় ব্যয়বহুল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে সমতান অর্থনীতি ধরে রাখা কঠিন ছিল। একইভাবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অষ্টম ৫ম বার্ষিকী পরিকল্পনার (২.৮.৬) কলামে দরিদ্র্যবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিও নীতির মধ্যে রাজস্বনীতি গ্রহণে সরকারকে সাবধানতার কথা বলেছে। এখানে বলা হয়েছে– “সরকারের উচিত বাজেট ঘাটতি নিম্ন ও টেকসই রাখা, যাতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় ও দরিদ্রদের আয় রক্ষা পায়। আমাদের নীতিনির্ধারকেরা রাজস্ব ঘাটতির মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত ধীর পদ্ধতি গ্রহণ করতে পছন্দ করে না। অথচ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ব্যয় করার জন্য রাজস্ব ঘাটতি মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনও পথ নেই। বরং রাজস্ব ঘাটতি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে এবং ঋণ পরিশোধে সহায়তা করে।” এখানে আরও বলা হয়েছে, দেশ প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক স্তর ও উচ্চ আয়স্তর অর্জন করলে রাজস্বনীতি দৃঢ় না করে নমনীয় রাখা উচিত। এইভাবে রাজস্ব নীতি সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যাপক হারে সহায়তার মাধ্যমে অষ্টম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনার বাস্তবায়নে ব্যাপক হারে অবদান রাখতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, সামগ্রিক উন্নয়নে নাগরিকবান্ধক করনীতি প্রণয়নে সব মহল থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারকেও সীমিত সময়ের চিন্তা না করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই রাজস্বনীতি প্রণয়নে আগ্রহী হতে হবে। একই সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অত্যাবশ্যকীয় নাগরিক সেবাগুলো নিশ্চিত করার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন যেখানে যাবে না কেউ।

এই নীতি বাস্তবায়নে বেশি দরকার সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করবে, নাকি নগদ নীতিতে অটল থাকবে।

লেখক: আয়কর আইনজীবী

[email protected]

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
যেসব কারণে এবারও শঙ্কায় চামড়া ব্যবসায়ীরা
যেসব কারণে এবারও শঙ্কায় চামড়া ব্যবসায়ীরা
হাসপাতালের লিফটে ওঠা নিয়ে মারধর, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
হাসপাতালের লিফটে ওঠা নিয়ে মারধর, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে দেশে ফিরেছিলাম: প্রধানমন্ত্রী
বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে দেশে ফিরেছিলাম: প্রধানমন্ত্রী
ঈদে বাড়ি যাওয়ার পথে সড়কে নিহত মা-মেয়ে
ঈদে বাড়ি যাওয়ার পথে সড়কে নিহত মা-মেয়ে
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ