X
বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২
২ ভাদ্র ১৪২৯

বন্যা মোকাবিলা: প্রকৃতির ভ্রুকুটি ও আমাদের বিস্কুট দৌড়

এরশাদুল আলম প্রিন্স
০৫ জুলাই ২০২২, ১৬:১০আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২২, ১৬:১০

সিলেট-সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনায় আকস্মিক বন্যায় মানবিক বিপর্যয় আমরা দেখেছি। এছাড়া নীলফামারী-কুড়িগ্রামেও বন্যা হয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বন্যা দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সেখানকার বেশিরভাগ এলাকা এখনও পানির নিচে। রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে।

এসব এলাকার ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গা বা ভবনে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে অধিকাংশই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক জনপদই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যত্র যাওয়ার নৌকাও নেই। পানির অভাবে, খাদ্যের অভাবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপেই অনাহারে-অর্ধাহারে মানুষ দিন কাটাচ্ছে।

বন্যার কারণ কী

বন্যার কারণ কী সে নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নানা মত রয়েছে। বন্যা, পানি ও নদী বিশেষজ্ঞদের কথা থেকে কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে।

এক.

প্রতি বছর এ সময়ে উজানে অর্থাৎ ভারতের মেঘালয় ও আসামে এবং সিলেট অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবারে ওই অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। আসামের চেরাপুঞ্জিতে ১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই অতিবৃষ্টিকে সিলেটের বন্যার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুই.

এদিকে আসামের পাহাড় থেকে আসা পানি বরাক নদী দিয়ে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারায় প্রবেশ করছে। এটিও সিলেটের বন্যার কারণ।

অন্যদিকে হিমালয় থেকে আসা জলপ্রবাহ ব্রহ্মপুত্র হয়ে কুড়িগ্রাম দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা সৃষ্টি করছে।

তিন.

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রতিক্রিয়া আমরা অস্বীকার করতে পারি না। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার ও ভয়াবহতা বাড়ছে। সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যাও এর বাইরে নয়। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরে গত দুই বছর ধরে ‘লা নিনা’ অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে বলে মনে করা হয়। যদিও এ অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগর থেকে দূরে, কিন্তু এর প্রভাব (ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক) থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয় বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

চার.

আসাম-মেঘালয় অঞ্চল ও আমাদের সিলেট অঞ্চলের পাহাড় ও টিলা কেটে, বন উজাড় করে ঘরবসতি করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও একই পরিস্থিতি। এর ফলে পাহাড় বা উচ্চ ভূমি থেকে মাটি ক্ষয়ে ভাটিতে আসছে। কিন্তু প্রবাহ পথে সে পলিমাটি আরও নিম্নভূমি বা ভাটিতে নামতে পারছে না। বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সিলেট বা আশপাশের অঞ্চলে মাটির স্তর বৃদ্ধি করে পানির ধারণ ক্ষমতাও হ্রাস করছে। নদীর নাব্যও হ্রাস করছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই সেখানে বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

পাঁচ.

জলীয় বাষ্প পাহাড়ে বাধা পেয়ে ওপরের দিকে উঠে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা আমরা সবাই জানি। একই সময়ে এখন আসাম-মেঘালয় অঞ্চলে একটি সক্রিয় মৌসুমি বায়ু বিরাজ করছে। এবার সেখানে বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভাটিতে যা প্রবাহিত হয়ে বন্যায় রূপ নিচ্ছে।  

ছয়.

সিলেট ও সুনামগঞ্জের সাম্প্রতিক বন্যার জন্য কিশোরগঞ্জ হাওরের অল ওয়েদার রোডকেও কেউ কেউ দায়ী করছেন। বলা হচ্ছে, এই সড়ক মেঘালয় থেকে আসা বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এই সড়কের জন্য পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট পানি ও পলি নিষ্কাশনের সুযোগ না পেয়ে ওই অঞ্চলের হাওর ও নদীর নাব্য হ্রাস করছে। ফলে, উজানের পানি ও পলি কিছুই ভাটিতে নামতে পারছে না। অতিবৃষ্টি সহসাই বন্যায় রূপ নিচ্ছে ।

সাত.

জলবায়ু পরিবর্তনের যে নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে আমরা ইতোমধ্যে তার মুখোমুখি হচ্ছি। সিলেট-সুনামগঞ্জ এলাকায় সম্প্রতি যে পানির উচ্চতা তা ১৯৮৮, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালের চেয়েও বেশি। হাওরে অসময়ে বন্যা, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত- সবই জলবায়ু পরিবর্তনের একেকটি অভিঘাত মাত্র। এগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য করণীয়

বন্যা দীর্ঘমেয়াদি হলে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতেই হবে। কারণ, সেখানে তাদের জন্য খাবার ও অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিত করা কঠিন। এছাড়া সেখানে প্রচুর জলযান বা নৌকার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। কিন্তু নৌকার স্বল্পতা রয়েছে। অল্প সংখ্যক নৌকা দিয়ে উদ্ধার কাজ করা যাবে না। তাতে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতাই বাড়বে।

উপদ্রুত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। না হলে স্বাস্থ্য বিপর্যয়ও দেখা দিতে পারে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ খাওয়ার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ বড়িরও ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসক দল প্রস্তুত রাখতে হবে।

দৃশ্যত, সরকারের প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও কমতি ছিল এবং আছে। তাই সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।  

এসব এলাকা আগেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাই মোমবাতি বা অন্য কোনোভাবে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। মোবাইল নেটওয়ার্কও প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপক্রম হয়েছে। বিকল্প উপায়ে মোবাইল টাওয়ারগুলো সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছে মোবাইল অপারেটররা। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেগুলো কতদিনের জন্য সচল রাখা সম্ভব হবে তা বলা মুশকিল।

সিলেটের জেলা প্রশাসক ১৭ পদাতিক ডিভিশনের  (সিলেট) জেনারেল অফিসার কমান্ডিংয়ের কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে চিঠিতে লিখেছেন, ‘পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় নৌকা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম না থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে পানিবন্দি লোকদের উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মানবিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।’ অবস্থা বিবেচনা করে সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজে নিয়োজিত হয়েছে। কিন্তু সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকেও এগিয়ে আসতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকরা ইতোমধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে সাধারণ নাগরিকরাই সবার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এবারও করছে।

অবস্থা আরও খারাপ হলে লাখ লাখ মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, তাদের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সে প্রস্তুতি আমাদের এখনই নিতে হবে।

ভবিষ্যৎ করণীয়

আগে এ অঞ্চলে শুধু এপ্রিল-মে মাসেই বন্যা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে জুন-জুলাই এমনকি আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসেও বন্যা হচ্ছে। ফলে, সারা বছরই দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থা আমাদের থাকতে হবে। স্থায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থাকলে যেকোনও সময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।

সুনামগঞ্জের মতো হাওর এলাকায় যেকোনও অবকাঠামো নির্মাণের আগে বিষয়টি মনে রাখতে হবে। অতি প্রাকৃতিক বন্যা বা দুর্যোগ হলে তা থেকে পরিত্রাণের কোনও উপায় নেই- সেটি ভিন্ন কথা। কিন্তু স্থায়ীভাবে ও নিয়মিত বিরতিতে হওয়া বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। শুধু ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি নয়, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, দালানকোঠা ও সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রেও দুর্যোগ প্রশমন চিন্তা আমাদের থাকতে হবে।

অবকাঠামো নির্মাণের আগে ওই এলাকার স্বাভাবিক ভূমি বৈশিষ্ট্যও ঠিক রাখতে হবে। এমনভাবে যোগাযোগ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না, যাতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। মিঠামইনে ৮০০ কোটি টাকার ওপরে খরচ করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই সড়কই আজ মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

হাওরাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থাও বাস্তবসম্মত করতে হবে।

নদী ও জলাধার ভরাট করে আজকের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। নগর হচ্ছে, বহুতল ভবন হচ্ছে, উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু নগর থেকে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তাই অল্প বৃষ্টিতেই ঢাকাসহ অন্যান্য শহর হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। নাগরিক জলাধারগুলো আজ ময়লার ভাগাড়। নগরের আশপাশের নদীগুলো আজ একেকটি ড্রেন। ঢাকার বুড়িগঙ্গা বলি আর সিলেটর সুরমা বলি, অবস্থা একই।

সিলেটের সুরমা আজ আবর্জনার ভাগাড়। সুনামগঞ্জেও সুরমার অবস্থা একই। সুরমার নাব্য বলতে আজ আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পাহাড় ও উজান থেকে আসা পলিও নাব্য হ্রাস করছে।

ড্রেজিং করে নাব্য বাড়াতে হবে এটি যেমন সত্য, কিন্তু পাহাড় কেটে- বন উজাড় করে নদীর নাব্য বাড়ানোও যাবে না, বন্যাও কমানো যাবে না-এটি আরও রূঢ় সত্য। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা যায় না। এটা একটা পরিহাস।  

মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে কিছুটা অভিযোজন করে চলতে পারে বটে। কিন্তু প্রকৃতি শেষমেশ বেশি রুদ্ররূপ ধারণ করলে তখন আর প্রকৃতির বিরুদ্ধে টিকে থাকা যায় না। পরিস্থিতি সেদিকে যাওয়ার আগেই পরিবেশ-প্রকৃতি ধ্বংসের লাগাম টেনে ধরতে হবে।

বন্যার্তদের সাহায্যে সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসেছে, এটি ভালো কথা। কিন্তু এটি সাময়িক ও তাৎক্ষণিক সমাধান। দীর্ঘমেয়াদে ত্রাণ সরবরাহে সাধারণ মানুষের আগ্রহের ভাটা পড়লে তখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। কিন্তু সরকারকে এখনও কোনও কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। সরকারের দৃশ্যমান ও কার্যকর ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম কাম্য।

কমপক্ষে ৪০ লাখ লোক এখন পানিবন্দি। কিছু সেলফি সর্বস্ব ত্রাণ কার্যক্রম ও বিস্কুট দৌড় দিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা যাবে না। যদিও অনেকেই উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। এ কাজে সরকার ও জনগণ-সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে।

ভবিষ্যতের জন্য বন্যা বা সম্ভাব্য দুর্যোগের আগাম বার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সব অঞ্চলেই অধিক হারে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। সরকারি বেসরকারি স্থাপনা এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে বন্যা বা অন্যান্য দুর্যোগের সময় সেগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ব্যক্তিগত ঘরবাড়িও সে পরিকল্পনা অনুযায়ী করতে হবে। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো (যারা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেন) এটি ধীরে ধীরে কার্যকর করতে পারেন।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, অফিস, আদালত ইত্যাদিও একই মডেল অনুসরণ করে নির্মাণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দুর্যোগ ও বন্যা এখন শুধু ভোলা-বরগুনা বা দক্ষিণের সমস্যা না, পুরো বাংলাদেশেরই সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে সমন্বিত উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে।

লেখক: আইনজীবী

 

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
গার্ডার চাপায় নিহতের ঘটনায় ক্রেন চালকসহ ৯ জন গ্রেফতার
গার্ডার চাপায় নিহতের ঘটনায় ক্রেন চালকসহ ৯ জন গ্রেফতার
সার্বিয়া-কসোভোর স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়লে হস্তক্ষেপে প্রস্তুত ন্যাটো
সার্বিয়া-কসোভোর স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়লে হস্তক্ষেপে প্রস্তুত ন্যাটো
মহাসড়ক ছেড়ে হোটেলে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীকে চাপা দিলো পিকআপ
মহাসড়ক ছেড়ে হোটেলে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীকে চাপা দিলো পিকআপ
জন্মদিনের কেক নিয়ে যাওয়ার পথেই প্রাণ গেলো ৩ বন্ধুর
জন্মদিনের কেক নিয়ে যাওয়ার পথেই প্রাণ গেলো ৩ বন্ধুর
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ