আমরা যা করতে পারি

Send
নাদীম কাদির
প্রকাশিত : ১৫:০৬, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২১, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৭

Nadeem Qadirকোথাও ভ্রমণের সময় আমি সবসময় চেষ্টা করি এমন কিছু দেখার যেটা আমরা বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে করতে পারি। একটা ব্যাপার আমি খেয়াল করেছি। সেটা হচ্ছে, আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই। এভাবে আমাদের কষ্টে অর্জিত অর্থের ব্যাপক অপচয় হয়।
এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিন-এর পুরনো শহরটি এক সময় রাশিয়ান ব্লকে ছিল। এখানকার জীবন যেন দাঁড়িয়ে আছে ভবন ও পার্কগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে।
একটি ক্রুজ শিপে করে আমি ফিনল্যান্ড থেকে এস্তোনিয়ায় পৌঁছাই। ট্যাক্সি ড্রাইভার সরাসরি আমাকে নিয়ে গেলেন তাল্লিনের পুরনো অংশে। এ শহরটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। সব দোকানপাট এবং রেস্তোঁরাগুলো নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকেই যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। ফলে কয়েকশ বছরের গৌরব হারায়নি শহরটি।
একসময় রাজা কর্তৃক শাসিত হয়েছে দেশটি। সেই সময়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই দেখলাম এস্তোনিয়ার পুরুষ ও নারীদের।
দিনভর আমি বন্ধুদের সঙ্গে মনোরম এই শহরটিতে হাঁটাহাঁটি করলাম। কিছু স্যুভেনির শপিংও করলাম। অবাক হয়ে খেয়াল করলাম এসবের অধিকাংশই হাতে তৈরি কাদামাটির মৃৎশিল্প বা কাঠের কাজ।
আমার বিস্ময়ের উদ্রেক হলো; কেন আমরা পুরান ঢাকা কিংবা নারায়ণগঞ্জের পানাম নগরের কারুশিল্পকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। এটা নিজেদের ঠিকভাবে উপস্থাপনের একটা পথ। আমাদের অবশ্যই শিখতে হবে এবং একইভাবে এটা করতে হবে।
হাইকোর্ট সংলগ্ন মৃৎশিল্পের দোকানগুলো চমৎকার। আমাদের উচিত হোটেল এবং শহরের দোকানগুলোতে এগুলো উপস্থাপন করা; যেখানে পর্যটকরা যাতায়াত করেন। আমাদের সৃজনশীল হতে হবে।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে,  রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের পারফরমেন্স খারাপ। হাতিরঝিলের দিকে তাকান। কী সুন্দর! এরইমধ্যে এর অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডাস্টবিনগুলো চুরি হয়ে গেছে।
‘লা ট্যাম্পা’ নামের একটি রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ ব্রেকে ঐতিহ্যবাহী এস্তোনিয়ান খাবার উপভোগ করলাম। খুবই সাধারণ, তবে সালাদ ও আলুসহ পরিবেশনা ছিল দুর্দান্ত। আমরাও পর্যটকরা যেসব গন্তব্যে ভিড় করেন সেখানে আরও শৈল্পিক উপায়ে আমাদের খাবার পরিবেশন করতে পারি।

সাইপ্রাসের ক্ষুদে সৈকত শহর পাফোস। এখানে আমি কক্সবাজারের কিছুটা আঁচ খুঁজে পেলাম। আমার হোটেল ছিল সৈকতের কাছেই। ক্লাবগুলোর গা ঘেঁষে যাওয়া সড়ক থেকে এটা খুব বেশি দূরে নয়। তাদের সুবিধা হচ্ছে সেখানকার সৈকতে পাথর রয়েছে। সেখানে পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আলাদা করে একটি বাঁক আছে। নৌকার উপস্থিতি ছাড়াও অবশ্যম্ভাবীভাবেই রয়েছে স্যুভেনির সামগ্রীর বিশাল সারি। অন্য দোকানপাটগুলোও সৈকতমুখী।

এটা একটা চমৎকার জায়গা এবং পায়চারির জন্য নিরাপদ। এখানকার খাবারও অসাধারণ।

একটা সাধারণ সাইপ্রিয়ট খাবারের জন্য বললাম এবং হাসিমুখে আমি যা পেলাম সেটা ছিল আরেক বিস্ময়। গরুর মাংসের স্বাদে মনে হয়েছে এটা যেন আমার ঘরে রান্না করা। সঙ্গে ছিল বিভিন্ন রকমের সবজি যেটা আমাদের টেবিলেরও নিয়মিত অনুষঙ্গ। ব্রেডও ছিল বিশেষ রকমের এবং এটা ছিল অভূতপূর্ব।

রাস্তাঘাটগুলো কক্সবাজারের মতোই সরু। তবে সেগুলো ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। রয়েছে ব্যাপক আলোকসজ্জার সম্ভার। এমনকি বৃষ্টির পর স্যাঁতস্যাতে পরিবেশেও এগুলোকে রঙিন লাগছিল।

আমাদের জন্য এখানে কিছু শিক্ষণীয় বিষয় আছে। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কোন বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে যায়- এটা নিয়ে গবেষণার পর নিজেদের আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

এরপর আমাদের আরও মার্জিত হওয়া ও সবসময় হাসিমুখে থাকা দরকার। প্রজন্মান্তরে যেন স্থায়ী হয় সেজন্য আমাদের অবশ্যই পরিকল্পনা করতে হবে। অবশ্যই এই ভূখণ্ডে আমাদের বিখ্যাত সন্তানদের ভাস্কর্য তৈরি করতে হবে। বেসরকারি খাতকেও এতে যুক্ত করতে হবে।

আমাদের সবকিছুই আছে, অথচ আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে। আমাদের শেখা দরকার এবং দ্রুত সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ