বেগম মুজিব নারী সমাজের অহংকার

Send
কবীর চৌধুরী তন্ময়
প্রকাশিত : ১৫:৫৭, মার্চ ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪০, মার্চ ১০, ২০২০

কবীর চৌধুরী তন্ময়আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীর আবেগ-ভালোবাসা, আশা-হতাশার সঙ্গে সঙ্গে শুধু নারী দিবস নয়, মানুষ দিবস হিসেবে পালন করার বিষয়গুলোরও নানাদিক উঠে এসেছে গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। বলা যায়, মূল গণমাধ্যমের আগেই সামাজিক যোগাযোগে নারী দিবসের আলোচনা-সমালোচনা ভাইরাল হয়েছে। যদিও গণমাধ্যমকে একটা নিয়ম-নীতির মধ্যে চলতে হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া চলে ব্যক্তির ইচ্ছেমতো। তবে, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ও মহল সব সময় সঠিক তথ্য-উপাত্ত এবং পজিটিভ চিন্তাভাবনা বা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
এবারের নারী দিবস প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদল নারী দিবসের পক্ষে অবস্থান নিলেও আরেক দল শুধু নারীকে নারীর চোখে না দেখে মানুষের চোখে কিংবা মানুষ হিসেবে চিন্তাভাবনা বা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার দাবি জানিয়েছে। তবে, উভয়পক্ষের মানুষগুলো যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছেন। কেউ কাউকে ছোট করে নয়, বরং একটি জায়গায় তারা ‘দিবস’কে গুরুত্ব দিয়েছেন। এবার সেটা ‘নারী’ দিবস হোক আর ‘মানুষ’ দিবসই হোক। দিবস কিংবা জাতীয় দিবসের পক্ষে প্রায়ই একমত হয়েছে—এটি ভালো লেগেছে।

আমিও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক দিবসের গুরুত্ব আছে। ওই দিবসকে কেন্দ্র করে একটি ইতিহাস রচিত গল্প-কথা নিয়ে আলোচনা হয়, হয় লেখালেখি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানতে পারে। নতুন করে উদ্যমী হয়ে ওঠে। আর প্রতিটি দিবসকে ঘিরে আছে শত-সহস্র বছরের পুরনো অন্ধকার দূর করে আলোর পথে রানার কীভাবে এককচিত্তে ছুটে চলেছিল, কীভাবে সভ্যতার দুয়ার খোলা হয়েছিল, কীভাবে মানুষ সভ্যতা গড়ে ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নিতে এগিয়ে এসেছে, বিষয়গুলো উঠে আসে।

আর নারী দিবস তো আরও গুরুত্ব বহন করে। রীতিমতো ঘরের বন্দি নারী আজ  কীভাবে মাটি থেকে আকাশ, উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু, মহাকাশ থেকে গ্রহ-নক্ষত্রে নিজেদের দক্ষতার পদচিহ্ন রেখে চলেছে, কীভাবে ঘরে-বাইরে শত-সহস্র সংগ্রাম করে নেতৃত্ব দিচ্ছে, কীভাবে একটি দেশকে বিশ্বময় আলোর জ্যোতিতে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে—বিষয়গুলো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। দৈনিকগুলোর সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়তে হয় লেখালেখি। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে বিশেষ ‘নারী পাতা’ শোভা পায়। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। বিভিন্ন সংগঠন সভা-সেমিনারের আয়োজন করে থাকে। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও নানা রকমের অনুষ্ঠান গ্রহণ করা হয়।

ওইসব আলোচনা অনুষ্ঠান বা সরকারের নেওয়া নানা আয়োজন থেকে কী হয়—এটি মূল্যায়নের দাবি রাখে। আমি যতটুকু জানার চেষ্টা করেছি, নারী সমাজের একটি অংশ উদ্যমী হয়ে ওঠে। নিজেকে দেখে নেওয়ার মনোভাব তৈরি হয়, হয় বিবেক জাগ্রত। ঘরের কোণে বসে থাকা নারীও ঘুরে দাঁড়াতে সাহস পায়। কারণ, সেও অন্যকে নিয়ে ভাবে। ওই নারী পারলে, পাশের বাড়ির নারীর এই দক্ষতা থাকলে; আমার থাকবে না কেন? আমি কেন পারবো না? আমি কেন অন্ধকার, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে পারবো না—বিষয়গুলো নারীকে নাড়িয়ে দিয়ে যায়। নতুন করে স্বপ্ন দেখে, পায় এগিয়ে যাওয়ার শক্তি-সাহস।

আমাদের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। যিনি অন্তরালে থেকে কাজ করেছেন আমাদের মুক্তিসংগ্রামের জন্য। বাঙালি বধূর ইতিহাসে স্বাধীন জনগোষ্ঠী ও স্বাধীন-সাবভৌম দেশের জন্য তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত এতটাই গুরুত্বপূর্ণ এবং সময় উপযোগী ছিল—স্বাধীনতা লাভের মাধ্যমে পুরো দেশের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলও আজ  অবগত। শুধু তা-ই নয়, একমাত্র বেগম মুজিবের কারণেই তুমুল জনপ্রিয় ও রাজনৈতিক নেতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি আমরা পেয়েছি। যে বই দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বীজ বপনের উৎকৃষ্ট দলিল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। জেনেছি অজানা অনেক ইতিহাস। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদান নিয়ে এই বইয়ের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বললো, বসেই তো আছো, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী। বললাম, লিখতে যে পারি না, আর এমন কি করেছি যা লেখা যায়! আমার জীবনের ঘটনাগুলো জেনে কি জনসাধারণের কোনও কাজে লাগবে? কিছুই তো করতে পারলাম না। শুধু এইটুক বলতে পারি—নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।’

ফজিলাতুন্নেছা মুজিব শুধু লেখার কথা বলেই তার দায়িত্ব শেষ করেননি। তিনি রীতিমতো উদ্যোগ নিয়ে লেখার ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীতে আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার স্ত্রী যার ডাকনাম রেণু, আমাকে কয়েকটা খাতাও কিনে জেলগেটে জমা দিয়ে গিয়েছিলো, জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছেন। রেণু আরও একদিন জেলগেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল, তাই আজ লিখতে শুরু করলাম।’

বঙ্গবন্ধুকে লেখার অনুরোধ, লেখার ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি এগুলো সংরক্ষণও করেছেন। ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের ভূমিকায় মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার জবানি থেকে জানা যায়—ড. ওয়াজেদ সাহেব আণবিক কমিশনের অফিসার হওয়ায় অফিসে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন, কিন্তু নজরদারি ছিল খুব। এদিকে বাচ্চারা স্কুলে যাবে, সঙ্গে ছিল না কোনও বই-পুস্তক। পাকিস্তানি জওয়ানরা জানতে চেয়েছিল বই-পুস্তক কোথায়? উত্তর দেওয়া হয়েছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সড়কের বাসায়, আর যেটি ছিল পাকিস্তানি আর্মিদের দখলে। প্রসঙ্গক্রমে ৩২ নম্বরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া গেলো এবং সঙ্গে ছিলেন শেখ হাসিনা।

সেই কঠিন থেকে কঠিনতম সময়ে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব তার প্রিয় কন্যা শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, ‘একবার যেতে পারলে আর কিছু না হোক, তোর আব্বার লেখা খাতাগুলো যেভাবে পারিস নিয়ে আসিস।’ এবং খাতাগুলো কোথায় পাবে বা কোথায় রাখা আছে সেটিও সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিলেন। শেখ হাসিনা তার লেখায় আরও উল্লেখ করেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেদিন জেল থেকে মুক্তি পেতেন, জেলগেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং বঙ্গবন্ধুর লেখা খাতাগুলো যেন ঠিকভাবে ফেরত আসে সে বিষয়ে তিনি নজর রাখতেন।’

আজ  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর বিখ্যাত ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি। শুধু তাই নয়, বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। আর এই ভাষণেরও মূল সাহস জুগিয়েছেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। ওই ভাষণে কী বলতে হবে, কার কথা বলতে হবে, খুব কাছে থেকে শেখ মুজিবকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বেগম মুজিব।

‘ভাইয়েরা আমার’ নিবন্ধে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। ৭ মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বলেন, ‘দেখো, তুমি সারাটা জীবন এ দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছ, দেশের মানুষের জন্য কী করতে হবে তা সকলের চেয়ে তুমিই ভালো জানো। আজকে যে মানুষ এসেছে, তারা তোমার কথাই শুনতে এসেছে। তোমার কারও কথা শোনার প্রয়োজন নেই, তোমার মনে যে কথা আছে, তুমি সেই কথাই বলবে। আর সেই কথাই সঠিক কথা হবে। অন্য কারও কথায় তুমি কান দেবে না।’

আমরা আজ  কথায়, আলোচনায় কিংবা গবেষণায় দেখি, একজন মুজিব না হলে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হতো না। কিন্তু এই একজন মুজিবকে যিনি তিল তিল করে গড়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন, কঠিন বিপদের সময়েও ভালোবাসার হাত দুটো শক্ত করে ধরে রেখেছেন, সহজ-সরল প্রকৃতির সেই মানুষটি হলেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। যে মুজিব খুব আদর করে, ভালোবেসে রেণু নামেই ডেকেছেন, জেলখানায় বসে রেণু নামেই চিঠি লিখেছেন। ফজিলাতুন্নেছা সম্বন্ধে একান্ত সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমার স্ত্রীর মতো সাহসী মেয়ে খুব কমই দেখা যায়। আমাকে যখন পিন্ডির ফৌজ বা পুলিশ এসে জেলে নিয়ে যায়, আমার উপর নানা অত্যাচার করে, আমি কবে ছাড়া পাব বা কবে ফিরে আসবো ঠিক থাকে না, তখন কিন্তু সে কখনো ভেঙে পড়েনি। আমার জীবনে দুটি বৃহৎ অবলম্বন। প্রথমটা হলো আত্মবিশ্বাস, দ্বিতীয়টা হলো আমার স্ত্রী আকৈশোর গৃহিণী।’

বেগম সুফিয়া কামাল ব্যক্তি ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সম্বন্ধে তার মূল্যায়নে বলেন, ‘মুজিবের কথা বলতে গেলে মুজিবের স্ত্রীর কথা বলতে হয়। এতো ধৈর্যশীল, এতো শান্ত, এতো নিষ্ঠাবতী মহিলা খুবই কম দেখা যায়। বছরের বারো মাসের বেশির ভাগ সময় কেটেছে জেলখানায়। যখনই শুনেছি মুজিবকে ধরে নিয়ে গিয়েছে, ছুটে গিয়েছি, দেখেছি, মুজিবের স্ত্রী অবিচল মুখে কাপড়, বিছানা-বালিশ গুছিয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। বলেছে, আপনার ভাই তো জেলে গেছে। বেচারী (শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) খুব ধৈর্যের সাথে টেনেছে।’

ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে নিয়ে যত পড়েছি, ততই অবাক হয়েছি। কীভাবে এতটা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন, কঠিনকে আলিঙ্গন করে একজন মুজিবকে জাতির পিতা হতে সহায়তা করেছেন! ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পেছনে ঠায় দাঁড়িয়ে কীভাবে একটি দেশ ও একটি জাতিসত্তার জন্ম দিয়েছেন! কারণ, খুব ছোটকাল থেকেই তিনি বাবা-মা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন! খুব বেশি লেখাপড়াও করতে পারেননি। রাজা-মহারাজার ঘরেও তিনি জন্মগ্রহণ করেননি। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনে জন্ম না হলেও তিনি ১৯৩০ সালের আগস্ট মাসের এই ৮ তারিখেই পৃথিবীকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেছেন। জন্মের মাত্র ৩ বছরের মাথায় তার বাবা শেখ জহুরুল হক মারা যান। ঠিক তার ২ বছরের মাথায় মা-হোসনে আরা বেগমও মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ ফজিলাতুন্নেছার বয়স যখন ৫ বছর, তখন তিনি পুরোদমে পিতামাতাহীন! এক ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। অভিভাবকের দায়িত্ব গ্রহণ করা দাদাও ফজিলাতুন্নেছার সাত বছর বয়সে মারা যান।

খুব ছোটবেলা থেকেই ফজিলাতুন্নেছার পড়াশোনার প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল। কিন্তু ওই সময়টায় মেয়েদের স্কুলে যাওয়া ছিল নিষেধ। তবে নিজস্ব চেতনায় তিনি পড়াশোনা করতেন। মিশনারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে বাড়িতে আরবি পড়ার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, ভূগোল, ইতিহাস শিক্ষাও তিনি গ্রহণ করেন। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও প্রচুর পড়াশোনা করতেন। বাল্যকাল থেকেই ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন সহজ-সরল প্রকৃতির। আর প্রকৃতির অপরূপ নৈসর্গে তিনি দারুণভাবে মুগ্ধ হতেন। বলা চলে, ফজিলাতুন্নেছা প্রকৃতির বাস্তবতা থেকেই প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করেন। প্রকৃতির কাছ থেকেই তিনি নিজেকে পরিশীলিত, নির্মল ও মার্জিত হওয়ার অসাধারণ মানসিকতার শিক্ষা ধারণ করেন।

আজকের নারীর ক্ষমতায়নের যতটা পথ অতিক্রম করেছে তার উল্লেখযোগ্য শুরুটাও করেছেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার উদ্ধৃতি থেকে জানা যায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভিপি পদে নির্বাচন করবেন বলে যখন স্থির করলেন, তখন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রলীগের ছেলেদের ডেকে বললেন, ‘হাসুকে জেতাতে হলে তো কাজ করতে হবে।’ অন্যদিকে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাহত মেয়েদের পুনর্বাসনসহ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের ক্ষমতায়নে জোরালো ভূমিকা রাখেন। সরকারি বিভিন্ন চাকরির সুযোগ করে দিতেন। বিভিন্ন সেক্টরে চাকরির সুপারিশ করেও নারীর ক্ষমতায়নকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একজন আটপৌরে বাঙালি রমণী হয়ে যে স্বকীয় ছাপ রেখেছেন, বিশেষ করে বাঙালি রাজনীতির ইতিহাসে, মুক্তিযুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতির ভেতর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করাসহ নিজের ছেলেদের যুদ্ধে পাঠানো এবং চূড়ান্ত বিজয় স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে থেকে সমাজ-সভ্যতা বিনির্মাণে তিনি যে অবদান রেখেছেন, তা চিরস্মরণীয় ও নারী সমাজের জন্য অনুকরণীয়।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ)

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ