করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সহজ উপায়

Send
মো. আবুসালেহ সেকেন্দার
প্রকাশিত : ১৬:৩৯, এপ্রিল ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪২, এপ্রিল ০৬, ২০২০

মো. আবুসালেহ সেকেন্দারকরোনাভাইরাসের দিনগুলোয় এক পরিচিতজন তার তিন সন্তান, এক কন্যা ও স্ত্রী নিয়ে বেশ সুখে-শান্তিতে দিন পার করছিলেন। বহুদিন পর একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর অফিস এবং ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজ ছুটি থাকায় বাসায় টেলিভিশন দেখে, ক্যারাম আর লুডু খেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন ভালোই কাটছিল তাদের। ছুটির আভাস পাওয়া মাত্রই আগামী এক মাসের বাজার করেছেন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবেশীকে তার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও মানা করেছেন। একেবারে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা যাকে বলে। কিন্তু দুই দিন আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সামাজিক নয়, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ নিয়ে লিখিত প্রবন্ধ পড়ার পর শান্তির বাসায় এখন আগুন জ্বলছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা এখন আর একসঙ্গে টেলিভিশন দেখা বা ক্যারাম বা লুডু খেলতে চাইছে না। এমনকি একই বিছানায় ঘুমাতে চাইছে না। তারা সব সময় একজন থেকে আরেক জনের শারীরিক দূরত্ব যাতে ছয় ফুট থাকে, সেটা বজায় রাখতে সদা ব্যস্ত। দুই বেডের ছোট এক বাসায় বাস করায় দিনের বেলায় কষ্টে শিষ্টে ওই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারলেও রাতের বেলায় পড়ছেন মহাবিপদে। কারণ ওই দূরত্ব মেনে প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা বিছানায় ঘুমানোর ব্যবস্থা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অল্প শিক্ষিত ওই ভদ্রলোক বাধ্য হয়ে পরামর্শের জন্য আমাকে ফোন করেছেন।

ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলার পর বিষয়টি যে গুরুতর তা উপলব্ধি করেছি। কারণ কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, লকডাউন বা সোশ্যাল ডিসট্যানসিং টার্মগুলো বিদেশি ভাষায় হওয়ায় আমজনতার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। এমনিতে করোনাভাইরাস নতুন রোগ হওয়ায় এবং গণমাধ্যমে দেশের বাইরে প্রতিদিন শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তার ওপর মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে তাদের কী করতে হবে সেই বিষয়ে সহজ ভাষায় সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না। অবশ্যই বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানীদের অনেকে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে পাশ্চাত্যের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করে এর প্রাচ্যকরণ করে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। যদিও করোনাভাইরাসের মতো ছোঁয়াছে রোগ প্রতিরোধে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার রীতি পাশ্চাত্য বা প্রাচ্যে নতুন কোনও বিষয় নয়।  Social distancing এর সমর্থক হিসেবে Physical distancing চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হচ্ছে সেই ইবনে সিনার যুগ থেকে। শব্দগত অর্থে দুটি বিষয় আলাদা অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব ও শারীরিক দূরত্ব হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের টার্ম হিসেবে দুইটি বিষয়ই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে সমাজ বা শরীরকে আলাদা করা মূল বিষয় নয়। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতাই মূল বিষয়। ব্যক্তি বলতে শুধু তার শরীর নয়; বরং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যা আছে তার সব বোঝায়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব: তার খাবার খাওয়ার গ্লাস-প্লেট-বিছানাপত্র থেকে শুরু করে টয়টেল পর্যন্ত সমাজের অন্যদের থেকে আলাদা করাকেই Social distancing বা Physical distancing বলে।

Social distancing বা Physical distancing বলতে মূলত সমাজ থেকে আক্রান্ত ও সুস্থ ব্যক্তিদের আলাদা থাকাকে বোঝায়। এখানে তিনটি শ্রেণি: ১) সুস্থ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী; ২) আক্রান্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী; ৩) আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। সুস্থ ব্যক্তিরা যাতে আক্রান্ত না হয় সেই কারণে নিজেদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে। কারণ করোনাভাইরাস বহনকারী ব্যক্তির লক্ষণ প্রকাশ পেতে ৭ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সুতরাং কোন ব্যক্তি বা বস্তু ভাইরাস বহন করছে তা বোঝার কোনও উপায় নেই। ফলে পরিবারের বা ঘরের বাইরে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বা আলাদা থাকার মাধ্যমে সে নিজে সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। অন্যদিকে যারা ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন বা যাদের হওয়ার আশঙ্কা আছে তারা সমাজ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করবেন, যাতে তার মাধ্যমে সমাজের অন্যরা আক্রান্ত না হন। এখানে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বলতে আক্রান্ত ব্যক্তি বা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন ব্যক্তিদের সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন থাকাকে বোঝানো হয়েছে। তাছাড়া করোনাভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকায় এই ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনে সমাজ থেকে ব্যক্তিকে, সমাজ থেকে পরিবারকে, সমাজ থেকে সমাজকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা করা প্রয়োজন হতে পারে, সেই কারণে Physical distancing বা শারীরিক দূরত্বের বদলে Social distancing বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকরণ টার্মটি ব্যবহারের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ব্যক্তি থেকে পরিবার, আর পরিবার থেকে সমাজ গঠিত হয়। সমাজ বলতে শুধু মানুষের সমষ্টিকে বোঝায় না। বরং মানুষ ও তার চারপাশের যা কিছু আছে তাই নিয়েই সমাজ। আর এই করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে মানুষকে শুধু তার চারপাশে থাকা অপরিচিত মানুষদের থেকে দুই মিটার বা ছয় ফুট দূরে থাকলে হবে না; বরং ব্যক্তির চারপাশের অন্য মানুষ ও সমাজের অন্য বস্তুগত যা কিছু আছে, তার প্রায় সব থেকেই দূরে থাকতে হবে। কারণ শুধু মানুষ (জীব) নয়, প্রাণ নেই এমন বস্তু থেকেও করোনাভাইরাস ছড়ায়। তাই মানুষ ছাড়াও মানুষের চারপাশে সমাজের অংশ হিসেবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ওই বস্তুগত উপাদানগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিতেই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ পাশ্চাত্য গণমাধ্যম একই অর্থ হওয়া সত্ত্বেও Physical distancing (শারীরিক দূরত্ব) এর পরিবর্তে Social distancing বা সামাজিক দূরত্ব টার্মটি ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়েছে।

অন্য কারণ হলো শারীরিক দূরত্ব বলতে মানুষ থেকে মানুষের বিচ্ছিন্নতা বোঝাবে, ফলে করোনাভাইরাসের এই ভয়াবহ দিনগুলোয় মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যদি আপনজন থেকে দূরে থাকা শুরু করে, তাহলে তাদের মধ্যে মানসিক চাপ আরো বাড়বে। হতাশ হয়ে আত্মহত্যা করবে অথবা মাদকাসক্ত হয়ে পড়বে। তাই একই পরিভাষাগত অর্থ ধারণ করা সত্ত্বেও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বা পাশ্চাত্য গণমাধ্যম Social distancing বা সামাজিক দূরত্ব টার্মটি ব্যবহার করছে। বাংলা Social distancing এর পরিভাষাগত প্রকৃত অর্থ দাঁড়ায়: সমাজ থেকে দূরে থাকা। উপরেই বলেছি, মানুষ ও তার চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়েই সমাজ গঠিত হয়। তাই মানুষ ও তার সংশ্লিষ্ট সবকিছু থেকে দূরে থাকা তখনই সম্ভব, যখন মানুষ ঘরে থাকে বা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরের মতো আবদ্ধ কোনও জায়গায় থাকে। তাই Social distancing বলতে মূলত ব্যক্তির সমাজ থেকে আলাদা হয়ে বসবাস করাকে বোঝানো হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুহা বা পাহাড়ে বা জঙ্গলে গিয়ে নির্জনে বসবাস করা সম্ভব নয় বিধায় ঘরে অবস্থান করতে বা ঘর থেকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

তবে অতি প্রয়োজনে যদি বাইরে যেতেই হয়, তাহলে যথাযথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেমন, ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে এবং ফিরে এসে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় সাবান দিয়ে গোসল করলে। কোনও মানুষের শারীরিক সংস্পর্শে না গেলেও তথা কোলাকুলি বা হ্যান্ডশেক না করলেও সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে বা গোসল করতে হবে, কারণ মানুষ ছাড়াও সমাজের অন্য বস্তুগত উপকরণ থেকেও করোনাভাইরাস মানুষের হাতে বা শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। আর ঘরের বাইরে গেলে দুই মিটার বা ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখার যে কথা বলা হচ্ছে, তা শুধু একজন মানুষ অন্যসব মানুষের সঙ্গে ওই দূরত্ব বজায় রাখবে তা নয়; বরং মানুষের পাশাপাশি অন্য বস্তু থেকেও ওই দূরত্ব বাজায় রাখতে হবে। যেমন, আপনি বাজারে গিয়ে দোকানের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছেন। আপনার কিছুক্ষণ আগে যিনি ওই দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি করোনাভাইরাস বহন করছিলেন। তার হাঁচি-কাশি-থুথুর লালার বা স্পর্শের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ওই দেয়ালে লেগেছে। আপনি যখন ওই দেয়ালে হেলান দেবেন, তখন দেয়াল থেকেও আপনি সংক্রমিত হতে পারেন। তাই মানুষ ও করোনাভাইরাস বহন করে এমন বস্তুগত সবকিছু থেকে ওই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবে স্পর্শ এড়ানো না গেলে অবশ্যই মুখে চোখে নাকে হাত লাগানোর আগে সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

অন্যদিকে আমার ওই পরিচিত জনের মতো যারা দীর্ঘদিন একত্রে একই ঘরে বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে সম্প্রতি কেউ বিদেশ ফেরত নয় বা বিদেশ ফেরত কারোর সংস্পর্শে আসেনি। অথবা গত প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন একত্রে বসবাস করছেন এবং কারোর মধ্যে করোনার কোনও উপসর্গ নেই তারা আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে একত্রে বসবাস করতে পারেন। আমার ওই পরিচিত ব্যক্তির মতো শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার থিওরি পাঠ করে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। সুস্থ মানুষ যারা দীর্ঘদিন একত্রে এক ঘরে বসবাস করছেন, তাদের কেউ যদি বাইরে না যান এবং তাদের মধ্যে করোনার কোনও লক্ষণ না থাকে তাহলে আপনাদের অন্য সময়ের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে কোনও বাধা নেই। চীনের উহান বা ইতালি ও স্পেনের সুস্থ মানুষরা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরবন্দি জীবনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একত্রেই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করেই নিজেদের করোনার মহামারি থেকে রক্ষা করেছেন। তবে পরিবারের কোনও সদস্যের যদি প্রতিদিন ঘরের বাইরে যাওয়া লাগে, তাহলে তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখলে ভালো হয়।

করোনাভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। একটু সতর্ক হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কিছু নিয়ম মানলে এই ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করা কঠিন কোনও কাজ নয়। করোনাভাইরাস শরীরের অন্য কোনও অঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করতে পারে না। নাক, মুখ, চোখ দিয়ে প্রবেশ করে। সেই কারণে বারবার হাত ধোয়ার কথা বলা হচ্ছে। কারণ মানুষ অবচেতন মনে নাক মুখ চোখ হাত দিয়ে স্পর্শ করে। আবার হাত দিয়েই সবচেয়ে বেশি অন্য মানুষ বা বস্তুকে স্পর্শ করে। সেই কারণে হাতের পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে হাত ছাড়াও অন্য অপরিচ্ছন্ন (করোনাভাইরাস বহন করছে) যে কোনও কিছু যদি আপনার নাক, মুখ চোখ স্পর্শ করে, তাহলেও করোনাভাইরাসে আপনি সংক্রমিত হতে পারেন।

একজন মানুষের মৃত্যুও কাম্য নয়। কিন্তু বিষয়টা যদি ভিন্নভাবে চিন্তা করি তাহলে সারা পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৮ বিলিয়ন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৮ লাখ মানুষ। মারা গেছেন ৪০ হাজার। বাকিরা করোনা থেকে নিরাপদে রয়েছেন শুধু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে। তাই করোনার এই দিনগুলোয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ঘরে অবস্থান করুন। করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ উপায় বা একমাত্র ওষুধ হচ্ছে ঘরে অবস্থান করা এবং নাক, মুখ, চোখকে অপরিষ্কার হাত বা অন্য যেকোনও অপরিষ্কার বস্তুর স্পর্শ এবং অন্যের হাঁচি-কাশি-থুথুর লালা থেকে দূরে রাখা।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে social distancing বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বা সমাজ থেকে দূরে থাকা মানে কোনোভাবেই সামাজিকতা থেকে দূরে থাকা নয়। বরং প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেও তার সামাজিক সব দায়িত্ব পালন করতে পারে। বরং এই সময়ে যারা প্রান্তিক মানুষ, তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সামাজিকতা রক্ষা করা প্রত্যেক সচেতন মানুষের কর্তব্য। আশা করি সচেতন মানুষেরা social distancing বা সমাজ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিকতার দায়িত্ববোধ থেকে এই সময়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিন্নমূল, দরিদ্র, শ্রমজীবী মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন, যাতে ওইসব মানুষ করোনার পাশাপাশি অনাহারে মৃত্যুবরণ থেকে রক্ষা পায়।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ