ডেঙ্গু নির্মূল করতে পারবো কি?

Send
ডা. মালিহা মান্নান আহমেদ
প্রকাশিত : ১৪:১০, এপ্রিল ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১৫, এপ্রিল ১৮, ২০২০

ডা. মালিহা মান্নান আহমেদগত ২০ বছরের মধ্যে কোনও প্রিয়জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়নি—এমন একটি পরিবার খুঁজে বের করতে আজ যদি ঢাকা শহরে জরিপ করা হয়, তাহলে একটি পরিবারও খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। কোভিড-১৯ মোকাবিলার মধ্যেও আমরা শঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছি আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমের। ২০১৯ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। আর বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম ছিল না। দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মৃত্যু ঘটে ১৭৯ জনের। বেড়েছে অস্বাভাবিক লক্ষণের তীব্রতাও। এতে করে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (ডিএসএস)-এর মতো জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। আগের বছরের তুলনায় এবার ২০২০ সালে ইতোমধ্যে ২৪১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এখনও মৌসুম আসেনি, সেকারণে এই সংখ্যাটা অনেক বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার বৈচিত্র্য এবং উচ্চ আর্দ্রতা রোগের ব্যাপ্তির পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে প্রাণীবাহিত ভাইরাল রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ডেঙ্গু। এটি মূলত স্ত্রী এডিস এয়িজিপ্টি (Aedes aegypti) মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই ভাইরাসটির চারটি স্বতন্ত্র ও নিবিড় সম্পর্কযুক্ত প্রজাতি আছে। এই চারটি প্রজাতির (ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩, ডেন-৪) যেকোনও একটির সংক্রমণ থেকে সুস্থ হলে কোনও ব্যক্তি ওই নির্দিষ্ট প্রজাতি থেকে সারাজীবন রক্ষা পাওয়ার মতো ক্ষমতা অর্জন করে। আর অন্য প্রজাতিগুলো থেকে ৬ থেকে ১২ মাস প্রতিরোধের ক্ষমতা অর্জন করে। কোনও ব্যক্তি যদি একটি প্রজাতিতে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্যটিতে আবার আক্রান্ত হয়, তাহলে ডেঙ্গুর তীব্রতা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পূর্বে আক্রান্ত হওয়া ৯ থেকে ১৫ বছরের শিশুদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন দফতর এফডিএ অনুমোদিত একটি প্রতিষেধক রয়েছে। তবে ডেঙ্গভ্যাক্সিয়া (Dengvaxia) নামের এই ওষুধটি নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

এডিস কেবল ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক নয়। এটা চিকুনগুনিয়া, জিকা, ওয়েস্ট নীল ও হলুদ জ্বরের ভাইরাসেরও বাহক। ২০১৭ সালে ঢাকায় চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ দেখা যায়। এক জরিপে দেখা গেছে, একই মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস বহন করতে পারে।

এই রোগটি এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। আর সব প্রজাতিকে নির্মূল করতে পারার কোনও টিকা উদ্ভাবনের মতো স্থায়ী সমাধান পাওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট মৌসুমে এর প্রাদুর্ভাব ঘটতে থাকবে।

বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ সিঙ্গাপুর। তবে তারাও এখনও প্রতিবছর এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করে যাচ্ছে। এই বছর ইতোমধ্যে দেশটিতে চার হাজারের বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অন্যতম পরামর্শ হলো এর বাহক নিয়ন্ত্রণ বা সংক্রমণ বন্ধ করা। যেকোনও সুপারিশ বাস্তবায়নে রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত পদক্ষেপের দরকার পড়ে। মানুষ মশা তাড়ানো, মশারির ব্যবহারের মতো ব্যক্তিগত সুরক্ষার কথা জানে। কিন্তু জরিপে দেখা গেছে, বাহকের বংশবৃদ্ধি, বংশবৃদ্ধির সময় এবং কত দূর পর্যন্ত রোগটি ছড়াতে পারে, তা নিয়ে মানুষের জানাশোনার মধ্যে ফাঁক রয়েছে।

এডিস মশার আবাসস্থল

ডেঙ্গু নির্মূল এত কঠিন কেন?

আমরা হয়তো খুব শিগগিরই এই ছোট দৈত্যটা পরাজিত করতে পারবো না, কিন্তু এর সম্পর্কে আরেকটু বেশি জানলে হয়তো একে পরাজিত করতে আমরা নিশ্চিতভাবে আরেকটু ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবো। কেবলমাত্র আক্রান্ত স্ত্রী এডিস মশা মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। আর কোনও আক্রান্ত মানুষকে কামড়ানোর পরই মশা এই ভাইরাসের বাহকে পরিণত হয়। আর তখনই অন্য মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত মশা ডিম পাড়ার মাধ্যমে যে বংশবৃদ্ধি ঘটায়, তারাও এই ভাইরাসের বাহকে পরিণত হয়। প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী মশা পানিভর্তি কোনও পাত্রের ভেতরের দেয়ালে, পানির ওপরে ডিম পাড়ে। এমনকি শুষ্ক পাত্রেও ডিম পাড়তে পারে। ডিমগুলো বেশ কঠিন এবং শুষ্ক অবস্থায় এগুলো কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। মশার লার্ভা ফুটতে খুব পানির দরকার পড়ে, আর পর্যাপ্ত পানি পেলে কয়েক মাস এই পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে সাধারণত লার্ভা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মশা হতে এটির সাত দিন সময় লাগে। ১৪ দিন থেকে এক মাসের জীবনকালে একটি মশা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পাঁচ দফায় ডিম পাড়তে পারে। প্রতিবার ডিম পাড়ার আগে এর মানুষের রক্ত খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। প্রতিবার একটি মশা একশ’ থেকে দুইশ’ ডিম পাড়ে। মশাগুলো খুব অল্প দূরত্বে যেতে সক্ষম, আর এর জন্মস্থানের আশেপাশেই জীবন কাটিয়ে দেয়। সরাসরি ডিমে ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারা, ডিমের কাঠিন্য, বিভিন্ন স্থানে বহু সংখ্যক ডিম পাড়তে পারার সক্ষমতার জন্য এই রোগ নির্মূল করা কঠিন।

ডেঙ্গুর মৌসুম কখন?

স্ত্রী এডিস মশা প্রচণ্ড জলবায়ু স্পর্শকাতর। এটি ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে কিংবা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে বাঁচতে পারে না। আর ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে কামড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এতেই বোঝা যায় ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কেন প্রায় কোনও ডেঙ্গু আক্রান্ত থাকে না। মশার বিস্তারের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক তাপমাত্রা হলো ৮০ শতাংশ আর্দ্রতায় ২৫ থেকে ২৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেমন ৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে মশা দ্রুত বাড়তে থাকে, মশার অভ্যন্তরে ভাইরাসটির প্রতিলিপিও দ্রুত হতে থাকে এবং বাহকের কামড়ানোর হারও বাড়তে থাকে। সে কারণে রোগটি দ্রুত সংক্রমিত হতে থাকে। এবার হয়তো বোঝা যাচ্ছে কেন বাংলাদেশে মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত রোগটি ছড়াতে পারে। আর জুলাই থেকে নভেম্বর হলো এর সবচেয়ে ভালো সময়।

বংশবৃদ্ধি করে কোথায়?

এডিস মশার আবাসস্থল

এডিস মশা অপরিকল্পিত নগরায়নের বিপত্তি। আর এখনকার দিনে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা অনুকূলে থাকলে ঘরের বাইরেও এটি বেড়ে উঠতে পারে। মশা মূলত নাগরিক মানুষের আশেপাশেই বসবাস করে, বংশবৃদ্ধি করে এবং ডিম পাড়ে। সাধারণত এগুলো বাড়ির ভেতরে বা আশেপাশেই জীবন কাটিয়ে দেয়। আর মানুষের বানানো ঝুড়ি, টায়ার, ব্যারেল, প্লাস্টিকের ড্রাম, পানির পাত্র, ট্যাংক, ফেলে দেওয়া বোতলসহ বিভিন্নস্থানে জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। এগুলো সাধারণত দিনের বেলা খায়। এর কামড়ানোর সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকাল বেলা, আর অন্ধকার হওয়ার পূর্বে সন্ধে বেলা।

এডিস মশার আবাসস্থল

প্রাদুর্ভাব রোধে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ কী হতে পারে?

টার্গেটেড এলাকায় মশার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রোগের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের ফলে নদীর পানির স্তর ওপরের দিকে উঠে যায়। এটি যেকোনও স্থানে প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। বর্ষার আগের দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম মহামারির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রাদুর্ভাবের স্থানিক ঘনত্ব নির্ধারণের জন্য প্রতি বছর রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) প্রাক-বর্ষা, বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে এন্টোমলজিক্যাল সার্ভে পরিচালনা করে থাকে। রোগের চূড়ান্ত হটস্পটগুলো মশার সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সিটি করপোরেশনগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের অবশ্যই সবসময় ছোট জলাশয়গুলো অপসারণের জন্য যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। মৌসুমজুড়ে মশার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য লার্ভিসাইড ও কীটনাশক প্রয়োজন এমন জায়গাগুলো শনাক্ত করতে তাদের অবশ্যই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ব্যবহার করতে হবে। আমরা বর্তমানে রোগটি শুরু হওয়ার স্থির পর্যায়ে রয়েছি, যা বর্ষাকাল শুরু হওয়ার মুহূর্তেই প্রাদুর্ভাব ঘটাতে শুরু করবে। বর্ষার আগে লার্ভা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এখনই যথার্থ সময়।

শহরবাসীদের আশেপাশের প্রজনন আবাস থেকে মুক্ত রাখতে ইনফোগ্রাফিক্স এবং জনগণের সচেতনতা অত্যাবশ্যক। মশা তাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার, হালকা রঙের পোশাকে শরীর আবৃত রাখা, বাড়ির জলাধারগুলো ঢেকে রাখা, এমন নানা ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রয়োজন। ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সিঙ্গাপুর সরকারের আইনি পদক্ষেপ রয়েছে। আমাদের এতোটা কঠোর হওয়ার দরকার নেই। তবে নাগরিকদের সরকারের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা কী হতে পারে?

রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে পূর্বাভাস, প্রস্তুতি এবং সংস্থান বরাদ্দে একটি বিস্তৃত পদ্ধতির জন্য দেশে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোটোকল সেট করা দরকার।

দেশ হিসেবে আমাদের এখনই ডেঙ্গুর প্রকোপের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নানা উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (ইডব্লিউএস) বিকাশের জন্য তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, বায়ু, জনগণের চলাচল এবং অতীত রেকর্ডের মতো উপাদানগুলো ব্যবহার করে মেশিন লার্নিং প্রয়োগ করা যেতে পারে।

সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলো প্রস্তুতির জন্য এ জাতীয় ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্লেষণমূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করে।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল উভয় ক্ষেত্রেই ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার রেকর্ড রাখতে দেশব্যাপী ডেটা সংগ্রহের প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মের তথ্য একটি সার্ভারে আপলোড করা হবে। সেখান থেকে প্রতিবেদনগুলো তৈরি হয়ে যাবে।

একটি অ্যাপেন্ড ওয়েব-ভিত্তিক ডাটা অ্যানালিটিক্যাল টুল ডেঙ্গু হটস্পট এবং কোনও নির্দিষ্ট সময়ে দেশের মোট আক্রান্তের পরিসংখ্যান তুলে ধরবে। এর গুণগত ও পরিমাণগত মান সব স্টেকহোল্ডারের ডাটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করবে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারী এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের মতো প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষ এ ডাটা অ্যানালিটিক্যাল টুলের ড্যাশবোর্ডে প্রবেশাধিকার পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে কোনও স্থানীয় প্রাদুর্ভাবের সতর্কতা পাবে এবং তারা এটি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেবে।

অ্যাপে ইনস্টল করা জিআইএস (জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম) ম্যাপিং নাগরিকদের নিকটতম হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকগুলোতে গাইড করতে সক্ষম। এটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে তাদের বেড ও পরীক্ষার কিটের মতো সরঞ্জাম গোছাতে প্রস্তুত করে তোলে। ড্যাশবোর্ড সুস্পষ্টভাবে ভালো সেবা প্রদানকারী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে শনাক্ত করবে। এটি উন্নত রোগ ব্যবস্থাপনার জন্য হাসপাতালগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করবে।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু হেমোরজিক ফেভার (ডিএইচএফ) এবং ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (ডিএসএস)-এর অনেক ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা ডিএইচএফ এবং ডিএসএস-এর সেবাদানে দক্ষ নয়। তাদের পর্যাপ্ত পরিচালন গাইডলাইন এবং চিকিৎসা সরঞ্জামসহ আরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এটি তাদের গুরুতর অসুস্থদের আরও ভালোভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে সহায়তা করবে। স্কুল, সোশ্যাল অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান এবং নগর পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সংবেদনশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবশ্যই এমন নিয়ম করতে হবে যেখানে বলা হবে, নগরীর অবকাঠামো এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে জমাট পানি সংরক্ষণের স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনও কাঠামো তৈরির অনুমতি নেই।

শেষ পর্যন্ত, বিভিন্ন সেরোটাইপের বিরুদ্ধে বিশাল জনগোষ্ঠীর অনাক্রম্যতা নির্ধারণ করতে ভবিষ্যতে সেরো-সার্ভেইলেন্স (রক্তরসে নির্দিষ্ট পদার্থের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি পর্যবেক্ষণ) অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।

কোভিড-১৯ দেশকে একটি স্থবিরতার মধ্যে নিয়ে এসেছে। এটি নীতিনির্ধারকদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিদ্যমান ঘাটতির দিকে মনোনিবেশ করতে বাধ্য করেছে। সংকট এখনও রয়েছে, যদিও রাতারাতি পুরো জাতির ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত আচরণে পরিবর্তন ঘটেছে। এর সুবিধাগুলো সম্পর্কে সচেতনতার জন্য ব্যাপকভিত্তিকভাবে হাত ধোয়ার প্রোগ্রাম সম্ভবত কিছুদিনের জন্য প্রয়োজন হবে না। যদি এই উচ্চতর স্বাস্থ্য সচেতনতাকে নাগরিকদের নিজেদের আশেপাশে পরিষ্কার রাখতে সচেতন করা পর্যন্ত প্রসারিত করা যায়, তবে আমরা সম্ভবত এই বছরের জন্য ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাফল্য আশা করতে পারি। তবে আমি বলতে চাই, আমাদের পুরো স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় মূল্যায়নের জন্য এখনই যথার্থ সময়। আমাদের সংস্থান ঘাটতির রাতারাতি উন্নতি সম্ভব নয়। সর্বস্তরে শূন্যস্থান চিহ্নিত করা এবং কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য উদ্ভাবনী ডিজিটাল সরঞ্জামের সদ্ব্যবহার আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: অর্গানিকেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক।  এমবিবিএস, এমবিএ এবং হেলথকেয়ার লিডারশিপে মাস্টার্স।

 

 

/জেজে/এমপি/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ