কেন করোনাজয়ীদের খুঁজি?

Send
মুন্নী সাহা
প্রকাশিত : ১১:৩৭, মে ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১৫, মে ১৮, ২০২০

মুন্নী সাহাসেই ২০০০ সাল। একুশে টিভির রিপোর্টার হিসেবে ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করতে গিয়ে জানা হয়েছে কত কিছু। চেনা-জানা হয়েছে অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে। তারই সূত্রে ঝালিয়ে নিলাম প্লাজমা ট্রান্সফিউশনের বিষয়টি। গত ২০ বছরে ঘরে ঘরে ডেঙ্গু রোগী ম্যানেজ করার অভিজ্ঞতায়, বাংলাদেশের প্রায় সবাই জানেন প্লাটিলেট কমে যাওয়া, রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে প্লাটিলেট সংগ্রহ করাসহ নানান প্রটোকল। এবং এটাও জানা আছে যে ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত রোগ, এর কোনও প্রতিষেধকও নেই। ফলে চূড়ান্ত পর্বে প্লাটিলেটই ভরসা। করোনার জন্য অনেকটা একই প্রোটোকল, শুধু প্লাটিলেটের বদলে প্লাজমা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. এম এ খান তেমনটাই দাবি করলেন। ক্যানসার চিকিৎসায় তাঁর অনন্য অবদান। নিবেদিতপ্রাণ এই বর্ষীয়ান চিকিৎসক হালের চিকিৎসা কন্সপিরেসি, পলিটিক্স এবং আধিপত্য বাণিজ্য তেমন বোঝেন না। বোঝেন, মানুষকে সুস্থ করতে হবে, স্বস্তি দিতে হবে। করোনা নিয়ে যে ভয়াল বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে, সেটার ফাঁকফোকরে ঘাসজ-ভেষজ-টোটকা নানা কিছু, শেয়ার লাইক কমেন্টে জায়গা পেলেও, জীবন রস দিয়ে জীবন বাঁচানোর এ পদ্ধতিটির কথা উঁকি দিতেও পারেনি। কারণ, ডা. এম এ খান। তিনি লবিবাজ নন, বরং ঘরের খেয়ে বোনের মোষ তাড়ানোর বিদ্যানন্দ ঘরানার। তাঁর টিমের একজন সহকারী চিকিৎসক ড. খানকে চেষ্টা করতে বলেছেন ব্যাপারটি নিয়ে যাতে আলোচনা হয়, সে ব্যবস্থা করার। ধরিয়ে দিয়েছেন আমার ফোন নম্বরটি। সংবাদকর্মী হিসেবে নিজেকে ব্লেসড মনে করছি, এই করোনার ভয়ের কালোতে, তাঁর মতো একজন চিকিৎসকের আলোর খবর জানতে পেরে, জানাতে পেরে। জানি, ডা. খানের এই প্লাজমা তত্ত্বের পেছনে অনেক ‘ফেউ’ লেগে যাবে। অনেক দামি দামি যন্ত্রপাতি, ভেন্টিলেটর, ওষুধের কাঁচামাল, আস্ত আস্ত ‘মেড ইন চায়না’ হাসপাতাল তুলে আনার অজুহাতে ইতোমধ্যে হাজার কোটি টাকা প্যাকেজ পকেটস্থ করেছেন, তারা কিছু ধুয়ো তোলার লোক জোগাড় করে ডা. এম এ খানের টিমকে ‘ভুয়া’ বানাতে বিনিয়োগ করবেন। সেই সঙ্গে মিডিয়ার জ্ঞানগম্যি বিষয়ে বিষোদগারের বুকলেট তো তৈরিই আছে। আছে পেইড টকশোবাজরাও।

তারপরও ডা. খানের যুক্তি, অভিজ্ঞতা আর প্রজ্ঞার পাশে থাকতে সায় দিলো আমার বিজ্ঞান বায়াজড হৃদয়। বৃহস্পতিবার এটিএন নিউজের টকশোতে, প্লাজমা থেরাপির সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে একমত হলেন করোনা বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য স্বনামধন্য ভায়রোলজিস্ট ড. নজরুল ইসলাম। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, অর্থনীতিবিদ ড. শামসুল আলমও সেই অনুষ্ঠানে প্লাজমা থেরাপির সব সম্ভাব্যতার চূড়ান্ত ফল পেতে আগ্রহ দেখালেন। একটি লাইভ টকশোতে অন্তত এটুকু স্বস্তি তো প্রাপ্ত হলো, করোনা ভয়গ্রস্তরা!

আমি খবর নিয়ে জেনেছি, প্লাজমা থেরাপি বিষয়ে শুক্রবারও জরুরি বৈঠক হয়েছে। দু’জন করোনাজয়ী ডাক্তার ইতোমধ্যে প্লাজমা ডোনেটও করেছেন। মুশকিলটা হলো করোনা ট্রমা! জ্বর জ্বর নয়, কারও একটু করোনা করোনা ভাব হলেই সে পালিয়ে যাচ্ছে, লুকিয়ে রাখছে হেনস্তা হওয়ার ভয়ে। ফলে, করোনা আক্রান্ত হয়ে আবার সুস্থ শরীরে অ্যান্টিবডি লাভ করাটা যে এই মহা-করোনাকালের মহা-উপহার, সেটা কেমন করে বোঝানো যাবে, কে-ই বা বোঝাবে? তার ওপর করোনা ভয়ের ব্যবসা যখন রমরমা, ক্ষমতার লড়াই যেখানে এত উত্তুঙ্গ! তবু আলোর শক্তি মানে আলোরই শক্তি, মানুষের জয়গান যার পিছু নেয়। এই আশাবাদেই, ছোট্ট একটি নিউজ চ্যানেল করোনাকালে, করোনাজয়ীদের খুঁজে আনার প্রয়াস নিলাম। জয়ীর রক্তরস- মুমূর্ষুকে বাঁচাবে। আপনিই কি সেই সৌভাগ্যবান? যিনি করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করার অ্যান্টিবডি নামক ব্রহ্মাস্ত্রটি পেয়েছেন, দৈব বলে? তাহলে,— এ অস্ত্র আবার বলুক জয় বাংলা।

লেখক: প্রধান নির্বাহী সম্পাদক, এটিএন নিউজ

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ