চলমান ‘আমেরিকান স্প্রিং’ এবং মার্কিন বর্ণবাদের কালো ইতিহাস

Send
আনিস আলমগীর
প্রকাশিত : ১৫:৪৭, জুন ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৯, জুন ০২, ২০২০

আনিস আলমগীরযুক্তরাষ্ট্রে এখন করোনাভাইরাস নিয়ে বেসামাল অবস্থা। কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে, আক্রান্ত ১৮ লাখের ওপরে। এরমধ্যে ৪৬ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ-আমেরিকানকে গলায় হাঁটু চাপা দিয়ে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ মেরে ফেলায় সারা দেশে নেমে এসেছে চরম বিশৃঙ্খলা। বলা হচ্ছে, ১৯৬৮ সালে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের হত্যাকাণ্ডের পর বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এমন জনরোষ আর দেখা যায়নি মার্কিন মুল্লুকে। সহিংস বিক্ষোভ পুরো দেশটিতে ছড়িয়ে পড়েছে তা নয় শুধু, এই করোনাকালে সবকিছু উপেক্ষা করে বিক্ষোভ চলছে উন্নত দেশগুলোর বড় বড় শহরে। মার্কিন বিরোধীরা এর নামকরণ করেছে—‘আমেরিকান স্প্রিং’ বা আমেরিকান বসন্ত। চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে—আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে সাদা-কালোর এই বিভক্তি ট্রাম্পের পক্ষে কতটা সহায়ক হবে।
সংক্ষেপে ঘটনার সূত্রপাতটা বলে নেই। গত ২৫ মে, ২০২০ মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশ জর্জ ফ্লয়েড নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। অভিযোগ ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দি জর্জ ফ্লয়েডকে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে তাকে কাতরাতে দেখা যায়। পুলিশের অন্য লোকগুলো দেখে গেছে শুধু, ফ্লয়েডকে বাঁচাবার চেষ্টা করেনি।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগ তাদের চার কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে। এদের মধ্যে ফ্লয়েডের গলায় হাঁটু তুলে দেওয়া ৪৪ বছর বয়সী ডেরেক চৌবিনও আছেন। গ্রেফতারের পর ডেরেকের বিরুদ্ধে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু তারপরও ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে দুনিয়াজুড়ে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ডেনমার্ক, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ডসহ দুনিয়ার নানা প্রান্তে মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। জার্মানি, ব্রিটেন, ব্রাজিল, কানাডা, চীনসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোর সামনে প্রতিবাদ হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি বৈষম্য ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে তারা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দমার পক্ষে নন। দেশটির গভর্নরদের শক্তি প্রয়োগ এবং বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে রাস্তাগুলো দখলের আহ্বান জানিয়েছেন। অবশ্য কয়েকটি শহরে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিছিল করতে এবং হাঁটতে দেখা গেছে। তবে অন্য কোথাও দাঙ্গা পুলিশ তাদের বলের ব্যবহার বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে, যা এই ব্যাঘাতকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি ক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের রাষ্ট্র ও স্থানীয় নির্বাচনের দিকে নজর দিতে বলেন। ‘সত্যিকার সুযোগ’ আনতে এই মুহূর্তকে ‘সত্যিকার টার্নিং পয়েন্টে’ পরিণত করার আহ্বান জানান। বিক্ষোভে সহিংস আচরণকারীদের নিন্দা জানান মার্কিন ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

শুরুতে বলছিলাম এই ঘটনাকে মার্টিন লুথার কিং-এর হত্যার পর বর্ণবাদ নিয়ে বড় ধরনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৬৪ সালে যখন আমেরিকায় কালোদের জন্য নাগরিক অধিকার আইন আর ১৯৬৫ সালে যখন ভোটাধিকার আইন পাস হয়েছিল, তখন সাদারা বলেছিল কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে বাধ্য করা কোনও আইন তারা মানবে না। তখন কালোদের নেতা মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন, আইন করে কারও কাছ থেকে ভালোবাসা আদায় করা যায় না ঠিকই, কিন্তু তার নিপীড়ন থেকে আইন আমাকে বাঁচাতে পারে। আর এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

আইন তো হয়েছে ৫৬ বছর আগে। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং নিপীড়ন থেকে বাঁচার যে প্রত্যাশা করেছিলেন তাও এখনও আমেরিকান সমাজে পূরণ হয়নি, ভালোবাসা তো দূরের কথা। ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্বেতাঙ্গদের গোপন সন্ত্রাসী দল কু ক্লাক্স ক্লান (কেকেকে) কৃষ্ণাঙ্গদের নিপীড়ন চালাতো। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যে বিশ্বাসী এ সন্ত্রাসী সংগঠন কৃষ্ণাঙ্গ মানবাধিকার কর্মী, কমিউনিস্ট ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের হত্যা করতো। তাদের পথ থেকে তুলে নিয়ে গাছের ডালে রশিতে ঝুলিয়ে দিয়ে আনন্দ করতো, না হয় জ্যান্ত কালো মানুষকে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পথে ফেলে দিয়ে চলে যেতো। কু ক্লাক্স ক্লান-এর নিপীড়ন এখনও বন্ধ হয়নি। সারা আমেরিকায় গোপনে এই সমিতি এখনও সক্রিয়। কায়েমি স্বার্থ প্রয়োজনে তাদের সক্রিয় করে।

কালো মানুষেরা অর্থাৎ আফ্রিকান-আমেরিকানরা আমেরিকা এসেছিল ক্রীতদাস হিসেবে। শিল্প বিপ্লবের গোড়াপত্তনের সময় ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারে প্রচুর সুতা তৈরির কারখানা গড়ে ওঠে। আর সুতা তৈরির জন্য তুলা আসতো আমেরিকার দক্ষিণ অঞ্চলের বাগানগুলো থেকে। যখন তাদের আরও বেশি ক্রীতদাসের প্রয়োজন হলো। লাখ লাখ ক্রীতদাস আনা হলো আফ্রিকা থেকে। ক্রীতদাস বেচাকেনা হতো লিভারপুলে। ১৫টি জাহাজ নিয়মিত আফ্রিকা থেকে লিভারপুল বন্দরে দাস নিয়ে আসতো। শেষ পর্যন্ত ৩২টি জাহাজ দাস আনার কাজে নিয়োজিত ছিল।

দাস ব্যবসাটি ছিল খুবই লাভজনক। ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথেরও দাস ব্যবসায় নিয়োজিত জাহাজ ছিল। ১৮৬১ সালে আমেরিকার আনীত দাসের সংখ্যা দাঁড়ায় চল্লিশ লাখ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজা-রানিদের টাকার ব্যাপারে কোনও নিয়ম নৈতিকতা ছিল না। টাকার প্রশ্নে তারা খুবই নির্মম হতে পারতেন। বেলজিয়ামের রাজা আফ্রিকার কঙ্গো কিনে নিয়েছিলেন। সেখানে রাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে রাজা দ্বিতীয় লিওপন্ড এক কোটি অবাধ্য কুলিকে হত্যা করেছিলেন। গুলির হিসাব রাখার জন্য কব্জি কেটে জমা দিতে হতো। বলা হয় যে তার অপশাসনের দমন নিপীড়ন বা স্থানীয় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া রোগ, অপুষ্টির ভয়াবহ জীবনযাপনে দেড় কোটির মতো মানুষ মারা গিয়েছে।

আমেরিকার দক্ষিণ অংশ কৃষিসমৃদ্ধ আর উত্তর অংশ শিল্পসমৃদ্ধ। দক্ষিণের কৃষি ও বাগানের কাজের জন্য ক্রীতদাসের প্রয়োজন হওয়ায় তারাই বেশি ক্রীতদাস কিনে নিতো। ক্রীতদাসের সঙ্গে মালিকদের ব্যবহার ছিল নির্মম। সুশীল সমাজের একটি অংশ এই নির্মমতা পছন্দ করতেন না।

আমেরিকার স্বাধীনতার সনদ খুবই সুবিন্যস্ত। শাসনতন্ত্রও সুসামঞ্জস্য। কিন্তু অত্যন্ত বেদনার বিষয় হচ্ছে এই দুই মহান দলিলে স্বাধীনতার স্থপতিরা ক্রীতদাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। অথচ তখনও দাসরা বিরাট এক জনগোষ্ঠী। আমেরিকার স্বাধীনতার স্থপতিদের এটাই ছিল মহা ত্রুটি। ১৭৭৫ সালে ১৩টি সমুদ্র তীরবর্তী রাজ্য একত্রিত হয়ে জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে আমেরিকান প্রজাতন্ত্রের স্বাধীন ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিছু রাজ্য স্ব-ইচ্ছায় যোগদান করেছিল আর কিছু রাজ্য কিনতে হয়েছিল, যারা সেখানে কলোনি স্থাপন করেছে সেইসব দেশ থেকে। এভাবেই বিরাট এক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। বর্তমানে আমেরিকার রাজ্য সংখ্যা ৫০, আর টেরিটরি দু’টি। লোকসংখ্যা প্রায় ৩৩ কোটি। জনসংখ্যার ৭২ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, আর ১৪ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ।

১৮৫০ সালে আমেরিকার এক পণ্ডিত হ্যারিয়েট বিচার স্টো ‘আঙ্কেল টমস কেবিন’ নামে একটি বই লিখেছেন, এতে দক্ষিণের দাসদের ওপর কী অত্যাচার হতো তার নির্মম বর্ণনা আছে। এই বইটি দাসপ্রথা বিলুপ্তির অনুকূলে জনমত সৃষ্টি করেছিল এবং ১৮৬০ সালের নির্বাচনে আব্রাহাম লিংকন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করবেন। আব্রাহাম লিংকন ১৮৬০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দক্ষিণের ১১ রাজ্য স্বাধীনতা ঘোষণা করে বসে। শুধু যে দাসপ্রথার বিলুপ্তির প্রস্তাবে তারা পৃথক হতে চেয়েছিল তা নয়, উত্তরের শিল্প উন্নত রাজ্যগুলোর সঙ্গে আর্থিক বিষয়ে মতানৈক্য ছিল তাদের। আব্রাহাম লিংকন দৃঢ়তার সঙ্গে এই গৃহযুদ্ধ মোকাবিলা করেন এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলো পরাজিত হলে ১৮৬৫ সালে গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। লিংকন দাসপ্রথা বিলুপ্ত করে দেন।

১৮৬৫ সাল থেকে দাসপ্রথা আর নেই। এরই মধ্যে কালোদের সন্তান বারাক ওবামা দুই দুইবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। বারাক ওবামার বিজয় অনেক সাদাদের মধ্যে হৃৎকম্প সৃষ্টি করেছিল। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সাদারা একজোট হয়ে বর্ণবাদী এক ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে। আগামী নভেম্বর মাসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পুনরায় প্রার্থী হয়েছেন ট্রাম্প।

এটা ঠিক, আমেরিকায় বর্ণবাদ আগের চেয়ে অনেক কম, এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আগের চেয়ে অনেক বেশি। গত এক সপ্তাহের বিক্ষোভও তাই জানান দিচ্ছে। এটি সাদা বা কালোদের বিক্ষোভ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না, সারা দেশের প্রতিটি শহরে সাদা-কালো মানুষ পাশাপাশি হাঁটছেন। হোয়াইট হাউস, ক্যাপিটল হিলসহ রাজধানী ওয়াশিংটনের জাতীয় স্থাপনাগুলোর আশেপাশে জড়ো হচ্ছে অসংখ্য প্রতিবাদকারী। তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান। ফ্লয়েড হত্যার বিচার, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারসহ নানা স্লোগান দেন তারা।

কিছু জ্বালাও, পোড়াও আর লুটের ঘটনা বাদ দিলে এই প্রতিবাদ নাগরিকদের সমর্থন লাভ করছে। এ পর্যন্ত বিক্ষোভ চলাকালীন সারাদেশে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল দে ব্লাসিওর মেয়ে চিয়ারাও তার মধ্যে একজন। ওয়ালমার্ট এবং টার্গেটসহ বেশ কয়েকটি বড় খুচরা বিক্রেতারা অনেক জায়গায় অস্থিরতার কারণে তাদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন আসছে জর্জ ফ্লয়েডের এই ঘটনাকে পুঁজি করে ডেমোক্র্যাট শিবির ট্রাম্পের অপশাসনে আমেরিকা কতটা বিপদের মধ্যে পড়েছে এবং দুর্বল হয়েছে—এটা দেখিয়ে নিজেদের অনুকূলে জনমত আনতে পারবে কিনা? নাকি ট্রাম্প শিবির সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনার আগুনে ঘি ঢেলে নির্বাচন আসার আগে আগে কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ বিভাজন আরও প্রকট করে ফল খাবে? এর সুবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাদাদের একতরফা করে ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসা বিচিত্র নয়। ভারতের গত সাধারণ নির্বাচনের আগে হিন্দু-মুসলিম ইস্যু তৈরি করে ট্রাম্পের বন্ধু নরেন্দ্র মোদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের একরোখা করে বিপুল জয় পেয়েছেন। বিশ্বব্যাপী ধর্মবাদীদের, বর্ণবাদীদের উত্থান চলছে। ভারতেও এখন বর্ণবাদীরা ক্ষমতায়।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ইরাক ও আফগান যুদ্ধ-সংবাদ সংগ্রহের জন্য খ্যাত।

[email protected]

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ