যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Send
ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন
প্রকাশিত : ২৩:৪৯, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৭, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

মো. সাজ্জাদ হোসেন‘A true leader has the confidence to stand alone, the courage to make tough decisions, and the compassion to listen to the needs of others. He does not set out to be a leader, but becomes one by the equality of his actions and the integrity of his intent.’ —Douglas MacArthur তার এই উক্তির মাধ্যমে খুব সহজ এবং সাবলীলভাবে একজন আদর্শ নেতার গুণাবলির বর্ণনা করেছেন। একজন আদর্শ নেতার সব পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা থাকা আবশ্যক। তিনি আরও বলেন, একজন আদর্শ নেতা অন্যের চাহিদা এবং প্রয়োজন বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। একজন মানুষ নিজেকে নিজেই নেতা বললেই নেতা হতে পারেন না। একজন নেতা শুধু তিনিই হতে পারেন যার কথা এবং কাজে একজন নেতার গুণাবলি প্রকাশ পায়। তার চিন্তাধারা সব সময় মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকে। একটু লক্ষ করলেই এসব গুণ আমাদের রাষ্ট্রনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে দেখতে পাওয়া যায়। তিনি একজন মহান নেতা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং দূরদর্শিতার জন্য দেশ আজ উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে রূপান্তরিত করেছেন আমদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেতৃত্ব তার রক্তে বহমান, কারণ তিনি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা। বঙ্গবন্ধু আমাদের সঙ্গে নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁরই কন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর পর যদি কেউ বাংলাদেশের আদর্শ রাষ্ট্রনেতা থেকে থাকেন তিনি শেখ হাসিনা এটা বললে একটুও ভুল হবে না।

শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। পাঁচ ভাইবোনের মাঝে শেখ হাসিনা সবার বড়। তার তিন ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং ছোট্ট শেখ রাসেল, আর বোন শেখ রেহানা। ১৯৬৮ সালে তিনি বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুজন সুযোগ্য সন্তানের জননী। তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করার পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১, ২০৩০, ২০৪১ ও শতবর্ষব্যাপী ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে ও ডিজিটাল তথা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্থপতি হিসেবে কাজ করছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কন্যা সায়মা ওয়াজেদ মানসিক স্বাস্থ্য এবং অটিজম নিয়ে কাজ করছেন। তিনি World Health Organization-এর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ২৫ সংখ্যা বিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা প্যানেলের একজন সদস্য। তারাও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করতে এখন থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৬০-এর শেষের দিক থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি তার পিতার যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালে দেশ মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার দায়ে শেখ হাসিনা তার পরিবারের সকল সদস্যসহ পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী দ্বারা সীমিত সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হন। বঙ্গবন্ধুকে সস্ত্রীক তিন পুত্রসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিজ বাড়িতে কিছু বিপথগামী সামরিক অফিসার দ্বারা নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা সেই সময়ে পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন, আর সে কারণেই প্রাণে বেঁচে যান। সেই দুঃখ আজও ভোলা হয়তো সম্ভব হয়নি তার। তারপরই শেখ হাসিনাকে ছয় বছরের জন্য ভারতে নির্বাসিত জীবন-যাপন করতে হয়। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন ১৯৮০ সালে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা করেন। এই নির্বাসিত অবস্থাতেই শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের মুখ্য নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে ছয় বছরের নির্বাসন শেষে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফিরেই তিনি সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। এ কারণেই তাকে ১৯৮৪ সালে এবং ১৯৮৫ সালে কিছু সময়ের জন্য গৃহবন্দি করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা তিনটি আসন লাভ করেন। তিনি সে সময়ে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। শেখ হাসিনা ১৯৯০-এ গণআন্দোলনের সূচনা করেন এবং সংবিধানের ৫১ এবং ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আন্দোলন শুরু করেন। তিনি প্রয়াত সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এরশাদের শাসনামলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল না এবং যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতো তাদের গ্রেফতার করা হতো, নয়তো নির্বাসিত করা হতো। হত্যাও করা হতো সরকারবিরোধী কথা বলার কারণে। শেখ হাসিনার অদম্য সাহস এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অবশেষে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আইন প্রণয়ন করা হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও শেখ হাসিনা প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রীর ভূমিকা পালন করেন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি জনগণের মাঝে নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা  উপলব্ধি করান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে জোর দেন। ১৯৯৬ সালে তার ডাকে অসহযোগ আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি এই আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন লাভ করেন। ১২ জুন ১৯৯৬-এর নির্বাচনে শেখ হাসিনা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন এবং ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী হবার পর পরই তিনি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে শান্তি চুক্তি এবং ১৯৯৮ সালের জুনে বঙ্গবন্ধু সেতুর উদ্বোধন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি এই সময়টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন, হরতাল এবং সংসদ অধিবেশন বয়কট করে নানাভাবে সরকারি কার্যক্রমে বাধা প্রদান করেছে। এরপরও শেখ হাসিনার সরকার পাঁচ বছরের পূর্ণ সময়কালের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে ২০০১ সালের পাতানো নির্বাচনে শেখ হাসিনা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে ব্যর্থ হন। বিএনপি ক্ষমতা লাভ করে। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী নেতাগণ সেই নির্বাচনের ফলাফলের বিরোধিতাও করেন, কারণ সে নির্বাচন নিরপেক্ষ ছিল না। এর মাঝেও আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন। কিন্তু ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনা এক নির্মম গ্রেনেড হামলার শিকার হন এবং ভাগ্যক্রমে খুব বড় ক্ষতি থেকে বেঁচে যান। তবে তার দলের বহু মানুষ এতে গুরুতরভাবে আহত হন এবং ২৪ জন নিষ্ঠাবান দলীয় সদস্য মৃত্যুবরণ করেন। সেই হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা খুবই অবিশ্বাস্য ছিল। কারণ স্বাধীন দেশে গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে কোনও রাজনৈতিক সমাবেশে এভাবে আক্রমণ চালানো ছিল একটি ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞ। পরবর্তীতে একটি সামরিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপে সকল সংসদীয় নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের জুন মাসে মুক্তি লাভ করেন। সেই বছরের ২৯ ডিসেম্বর আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেবার শেখ হাসিনা মহাজোট এবং জাতীয় পার্টির সঙ্গে একজোট হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯-এর জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তার সরকারের শাসনামল চলে ২০১৪ পর্যন্ত। ২০১৪ সালে আবার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং এখনও তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব খুব সুচারুরূপে পালন করে যাচ্ছেন। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলা অদম্য বাংলাদেশের কাণ্ডারি তিনি।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইউনেস্কোর মহাপরিচালক Irina Bokava ইউনেস্কো সাক্ষরতা পুরস্কার লাভ করেন ২০১৪ সালে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এখানে উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রায় ১১,১৮,৫৭৬ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। মিয়ানমার সরকার দ্বারা নির্মমভাবে বিতাড়িত এসব অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে শুধুমাত্র আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পেরেছেন একটু নিরাপদ আবাস দিতে। এ কারণেই একটি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক চ্যানেল ‘channel 4’ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'Mother of the Humanity' খেতাবে ভূষিত করে। এছাড়া 'Agent of Change Award' , ‘Planet 50-50 Champion by UN Women’ এবং আরও কিছু উল্লেখযোগ্য খেতাব তিনি পেয়েছেন, যার মাঝে উল্লেখযোগ্য খেতাব হচ্ছে বিশ্বের ৫৯তম ক্ষমতাধর নারীর খেতাব। ২০১৫ সালের ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য মতে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ ক্ষমতাধর নারীর মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান ৫৯তম। তার লিখিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে  ‘Democracy in Distress Demanded Humanity’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘The Quest For Vision-2021’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’ ইত্যাদি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন থেকে একটা বিষয়ই পরিলক্ষিত হয় তা হলো জীবনে সাফল্যের সঙ্গে কীভাবে লড়াই করে জিততে হয়। তার জীবনে অনেক বড় বড় আঘাত এসেছে, কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। আজ বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা আছেন যিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে প্রতিনিয়ত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অবদান আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইতোমধ্যে তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়ন এবং দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে সুসম্পর্ক ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পদক, পুরস্কার আর স্বীকৃতিতে। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ় মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং বাঙালি জাতির সকল আশা-ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর শুভ জন্মদিনে আমাদের প্রার্থনা তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেন এবং বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।

লেখক: অধ্যাপক; তথ্যপ্রযুক্তিবিদ; সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং পরিচালক, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ