মৌলবাদ নয়, বাঙালির অস্তিত্ব বহুত্ববাদ

Send
হায়দার মোহাম্মদ জিতু
প্রকাশিত : ১৫:৩২, নভেম্বর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৩, নভেম্বর ২২, ২০২০

হায়দার মোহাম্মদ জিতুঅমুকের ছেলেমেয়ে তমুক হয়ে গেছে, অনেক উন্নতি করছে, তুমি কী করছো? অর্থাৎ তুলনামূলক আচরণ এখানাকার পারিবারিক প্রবাহের ফলাফল। যদিও এর বেশিরভাগই নিজ সন্তানের কর্মক্ষুধা বাড়িয়ে সাফল্যের বন্দরে নিয়ে যাওয়ার কৌশল মাত্র। রক্ত প্রবাহের সেই ক্রমধারায় তুলনামূলক আলোচনা আজ মানুষে মানুষে সংক্রমিত। তবে এই বিষয়টি পারিবারিক বাগান ছেড়ে আওয়াজ রূপে অতিরিক্তভাবে আছড়ে পড়ে নির্বাচনকালীন সময়ে। আর সেটা প্রার্থীর পক্ষ এবং বিপক্ষ শিবিরে।
অস্তিত্বের তাগিদে কখনও কখনও বাবা-মায়ের মুখে শোনা সেই অপ্রিয় তুলনামূলক আচরণও জাতির বোধ রক্ষায় কাজে লাগাতে হয়। সম্প্রতি বাঙালির হাজার বছরের সহজিয়া সংস্কৃতি, অস্তিত্বের অহম মুক্তিযুদ্ধ এবং একক সাহস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিকৃত ও বৈতালে আওয়াজ তুলতে দেখা যায়। পাশাপাশি সংগীতের নানান তাল-লয় ছন্দের মোহনার মতো নানানজনের মিলিত হবার অপেক্ষা এবং চেষ্টারও প্রমাণ পাওয়া যায়।
এদের মাঝেরই একজন ধৃষ্টতা নিয়ে বলেছেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে সরিয়ে ফেলবার কথা। অসুস্থ না হলে বোধ করি এই চিন্তার সঙ্গে অন্য কেউ একাত্ম প্রকাশ করবেন না। কারণ দেশের বিরোধী দলের মর্যাদা থেকে ‘কিক আউট’ হওয়া বিএনপি ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কৌশলে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন, ভোটাধিকার এবং ক্ষমতার অংশীদার করবার ফল এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের আচরণগত আপসের কারণে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এখন তাদের শুধু প্রত্যাখ্যান নয় বরং বিবেকহীন হিসেবেও মনে করে।
এক্ষেত্রে অন্যদেরও সজাগ থাকা জরুরি। কারণ এখানে চিন্তায় সংখ্যালঘু এক শ্রেণি আছেন যারা প্রতিনিয়ত দেশকে অস্থিতিশীল করতে মালা জপেন। কারণ বিশৃঙ্খলাই এই শ্রেণির রাজনৈতিক স্ট্যান্ড পয়েন্ট। তাদের কাছে কোনটা দেশের জন্য মঙ্গল সেটা মুখ্য নয়। আর এক শ্রেণির ‘পোষাপালিত বুদ্ধিজীবী’ আছেন যারা কর্মক্ষেত্রের প্রমোশন এবং নিজেদের ছেলেমেয়েদের স্কলারশিপ নেবার সময়ই শুধু ঘুম ভেঙে উঠেন। অথচ বিষয়টি এমন হতে পারতো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসহ যেকোনও মৌলবাদী আচরণে তারাই পথ দেখাবেন। রাজনীতির পাল্টাপাল্টি কিংবা পক্ষ-বিপক্ষের হিসাবের বাইরেও জাতির অভ্যুদয় ইতিহাস পরিপন্থী যেকোনও বিষয়ে সরকার-বিরোধী দলসহ সকলকে এক করে গোটা জাতিকে পথ দেখাবেন।
কিন্তু দেখা যায় পুরো উল্টো। বরং এখন কৌশলে কাউকে কাউকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে শোনা যায় এবং বলতে শোনা যায় আগেই ভালো ছিলাম অর্থাৎ পাকিস্তান প্রেমের বিচ্ছেদ স্মরণ করেন। আর দায়িত্বশীলরা সেটা নীরবে সয়ে যান। ওদের কেউ কেউ তো আবার এও বলেন, আগের মতো থাকলে কত শক্তিশালী থাকতাম! অর্থাৎ পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার মালিক বা অংশীদার থাকতেন। কিন্তু ৭১ পূর্ব সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত যাবার ইতিহাস থেকে এরা শিক্ষা নেয় না যে হয়তো বোমার মালিক এই প্রেমিকেরা হতেন, কিন্তু সেই বোমার পরীক্ষা পাকিস্তান ঠিকই করতো বাংলার বুকে।
লোক প্রবাদ আছে—সুখে থাকলে ভূতে কিলায়। বাঙালির ক্ষেত্রে এই সুখ কেড়ে নিয়ে কিল ঘুষি খাবার দৌড়ে যে ভেতর ও বাইরের শক্তিগুলো বেশ কৌশলে কাজ করছে সেটা বেশ স্পষ্ট। যার ছোট্ট ইঙ্গিত ঐক্য এবং এগিয়ে যাবার সংস্কৃতি থেকে বাংলাকে বিচ্যুত করার ফন্দি। আর এর জন্যই চারিদিকে ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং বিভাজনের সংস্কৃতি চালু করবার উৎসুক তৎপরতা। তবে এই আচরণকেও রুখে দেওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে যারা বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও রাজনীতি করছেন-করবেন তাদের বাংলার সহজিয়া সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রদীপ্ত প্রত্যয়ের প্রবাদ পুরুষ বঙ্গবন্ধুকে মেনেই রাজনীতি করতে হবে এমন পরিবেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে।
আর এই পুরো বিষয়টি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব তারুণ্যের চৌকস অংশগ্রহণের দ্বারা। আর এতে তাদের নেতৃত্ব সারথি শান্ত সাহস শেখ হাসিনা। তবে এক্ষেত্রে অন্যান্য শ্রেণিরও সেই পরিবেশের সহায়ক হয়ে উঠতে হবে।
খুব বড় করে নয় প্রথমে নিজের ঘরের সন্তানদেরই বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, সহজিয়া সংস্কৃতি এবং বহুত্ববাদ সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি চোখ বুজে নয় বরং মানসিক সুস্থতা নিয়ে শৈশবে বাবা-মার সেই তুলনামূলক বিবেচনাকে সামনে এনে প্রশ্ন উত্থাপন করতে হবে। পাকিস্তানের মতো এশিয়ার ক্যানসার, মৌলবাদের উর্বর ভূমি কিংবা ভবিষ্যৎ ব্যর্থ রাষ্ট্রের অংশীদার না দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্বের ইমাজিন টাইগার, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দাবিদার ‘বাংলাদেশ-বঙ্গবন্ধু’, কোন অস্তিত্ব সম্মানের এবং গৌরবের।
লেখক: প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ
[email protected]

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ