ইউক্রেনে রুশ অভিযান নিয়ে রবিবার জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভোটদানে বিরত ছিল ভারত। বেলারুশ সীমান্তে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যকার আলোচনার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছে দিল্লি।
শুক্রবার রাতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ওঠা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত ছিল ভারত। অর্থাৎ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবে সায় দেয়নি দিল্লি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ইউক্রেন ইস্যুতে কেন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ভারত? এর পেছনে কয়েকটি কারণের কথা উঠে এসেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে।
ভারতের জন্য ইউক্রেন সংকট একটি জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে। এখানে একদিকে দিল্লির ‘পুরনো বন্ধু রাশিয়া’, অন্যদিকে ‘পশ্চিমের নতুন বন্ধুরা।’ এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে দেশটিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।
রাশিয়া ভারতের প্রতিরক্ষা সামগ্রীর বৃহত্তম সরবরাহকারী। দিল্লিকে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনও সরবরাহ করেছে মস্কো।
ভারত রাশিয়ার তৈরি ২৭২ এসইউ ৩০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। এটিতে আটটি রাশিয়ান কিলো ক্লাস সাবমেরিন এবং এক হাজার ৩০০টিরও বেশি রাশিয়ান টি-৯০ ট্যাংক রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার সবচেয়ে উন্নত দূরপাল্লার সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভারত ২০১৮ সালে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়াও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যাবতীয় বিষয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও জোরালো জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলাকে ‘পূর্ব পরিকল্পিত, প্ররোচনাহীন এবং অন্যায় হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ভারতের কাছ থেকে একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখতে চায় দিল্লির নতুন বন্ধু ওয়াশিংটন।
প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীন-ভারত বিবাদে দিল্লির পক্ষ নিয়েছে ওয়াশিংটন। জাতিসংঘে ফ্রান্সও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক রয়েছে। এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভারতীয়র বসবাস। এমন বাস্তবতায় ইউক্রেন ইস্যুতে কোনও একটি পক্ষ নেওয়া ভারতের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের ভোটাভুটিতেও তাই কোনও একটি পক্ষে ভোট দেওয়ার বদলে নীরব থাকার নীতি নিয়েছে দিল্লি। যদিও এমন অবস্থান আদতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের বিপরীতে রাশিয়ার পাশে থাকার বার্তা দেয়। সূত্র: এনডিটিভি।









