ইউক্রেনে রণক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের গতি ও যুদ্ধের জন্য অর্থের সংস্থান কমানোর লক্ষ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কিরগিজস্তানের ১২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি সাংবাদিকদের বলেছেন, যত দিন যুদ্ধ চলমান থাকবে আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখব। এটিই শেষ নিষেধাজ্ঞা নয়। আগামী দিনগুলোতে আরও উপযুক্ত নিষেধাজ্ঞা জারির উপায় আমার বিবেচনা করব।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, রাশিয়ার খনি, প্রযুক্তি ও গোলাবারুদ প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক ব্যাংককে লক্ষ্য করে। পাশাপাশি কিরগিজস্তানভিত্তিক একটি ইলেক্ট্রনিকস প্রতিষ্ঠান এবং এর মালিকদের নিষেধাজ্ঞায় রাখা হয়েছে। এই কোম্পানিটি রাশিয়ায় বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী ও প্রযুক্তি রফতানি করে আসছিল।
রাশিয়ায় ইলেক্ট্রনিকসের একাধিক চালান পাঠানো সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি প্রকৌশলী কোম্পানিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়া সর্বাত্মক হামলা শুরুর করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, রাশিয়ার ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং অবৈধ যুদ্ধকে সমর্থনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। যত দিন প্রয়োজন হবে আমরা ইউক্রেনের পাশে থাকব।
মে মাসে জাপানে যুক্তরাষ্ট্র ও শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট জি-৭ যে নিষেধাজ্ঞার ধারা শুরু হয়েছে সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞা সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হোয়াইট হাউজ বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের মতো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের বর্ষপূর্তিতে রাশিয়ার ধাতু ও খনি খাত নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী লক্ষ্য হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেলের সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দিয়ে জ্বালানি খাত থেকে দেশটির রাজস্ব কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্রদের।









