ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ফোনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
ফোনালাপে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান প্রত্যাখ্যান করেছে। এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করে আঙ্কারা।
ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক ঐক্য এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি তুরস্ক তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান মেভলুত কাভুসোগলু।
ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ, ন্যাটো, ইউরোপীয় কাউন্সিল এবং অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ (ওএসসিই)-তে এই ইস্যুতে চলমান প্রক্রিয়া নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানান, ফোনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় জোরালো সমর্থনের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
টুইটারে দেওয়া পোস্টে ব্লিঙ্কেন জানিয়েছেন, ইউক্রেনে বিনা উসকানিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ন্যাটো মিত্র হিসেবে নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক।
এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে আঞ্চলিক শান্তির ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, আমরা রাশিয়ার সামরিক অভিযান প্রত্যাখ্যান করছি। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এটি এই অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের আঘাত।
সংকট উত্তরণে অবিলম্বে সব পক্ষকে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। আঙ্কারা ইউক্রেনের জেলেনস্কির সরকারকে সমর্থন করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালি দিয়ে রাশিয়ার জাহাজ যেন কৃষ্ণসাগরে ঢুকতে না পারে সেজন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন।









